রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯
ভিক্টর হারা ~ আর্কাদি গাইদার
মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
বিএসএনএল ~ সুশোভন পাত্র
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এর অর্থনীতি ~ ডঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত
২# দরিদ্র মানুষের অর্থ সম্পদ সংগ্রহ, ব্যয় ও সঞ্চয় এর অভ্যেস বা প্রবণতা নিয়েও ওনার কাজ আছে। যেমন উনি দেখিয়ে ছিলেন যে গরিব পরিবার চেষ্টা করে তাদর্র প্রথম ছেলে সন্তান কে সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করে উচ্চ শিক্ষিত করে তুলতে তাতে তার অন্য সন্তানদের লেখা পড়া বেশিদূর না হলেও চলবে কারণ সেই পরিবারের প্রধানের ধারণা যে তার উচ্চ শিক্ষ প্রাপ্ত বড় ছেলে একটি চাকরি জুটিয়ে সংসারের অভাব ঘোচাবে। বাস্তবে সেই আশা খুব কম সময়েই পূরণ হয়। সেজন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছাড়া গতি নেই। যে বিষয়ে বামফ্রন্ট সরকার পথিকৃৎ ছিল।শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯
কার্নিভাল ~ অনামিকা
শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯
শরৎ ঋতু ~ অর্ক রাজপন্ডিত
বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯
এনআরসি ও আপনি ~ শতদ্রু দাস
বাংলায় এনআরসি ~ সেঁজুতি দত্ত
চিরকুট ~ অবিন দত্তগুপ্ত
বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
বিদ্যাসাগর ~ মধুশ্রী বন্দোপাধ্যায়
বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আদরের আষাঢ় আর অনাদরের ভাদর ~ কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
লাঠির মুখে বাঁশীর সুর ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য
রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
রাজীব কুমারের দৌড় ~ সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সিঙ্গুর থেকে নবান্ন ~ অনির্বান চক্রবর্তী
বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
যদি.... ~ রজত শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ভালোরে ভালো ~ প্রিয়াঙ্কা মুখার্জী
সব লিখেছে ফেসবুকেতে ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য
সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
বুদ্ধবাবু ~ কাজরী বসু
বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
টু কমরেডস ~ অর্ক রাজপন্ডিত
সীতারামের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর এক সহকর্মী। ঠিক বেলা সাড়ে এগারোটায় শ্রীনগর বিমানবন্দরের মাটি ছুঁলো বিমান। বিমান থেকে নামা মাত্রই দুই পুলিশ অফিসার এসে হাজির, একজনের নাম ইমতিয়াজ হোসেন, তিনি পুলিশের সিনিয়র সুপারিটেন্ডেন্ট। ইমতিয়াজ জানালেন সীতারামকে, তিনিই তাঁকে নিয়ে যাবেন তাঁর কমরেড তারিগামির কাছে। ইমতিয়াজ এও জানালেন সীতারামকে সেদিনই ঠিক বিকাল পাঁচটার দিল্লিগামী বিমানে তাঁকে উঠিয়ে দেওয়া হবে।
ইমতিয়াজকে থামালেন সীতারাম। স্পষ্ট বললেন, তিনি সেদিনই ফিরবেন কি না তা নির্ভর করছে কমরেড ইউসুফ তারিগামির স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর। সিংহ গর্জে উঠলো স্বমহিমায়। কনভয়ে তোলা হল সীতারাম এবং তার সহকর্মীকে। আগে পিছে পুলিশি গাড়ি। কনভয় থামলো গুপকার রোডে তারিগামির বাড়ির সামনে।
২৯শে আগস্ট, ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সাড়ে বারোটা। তারিগামির বাড়িতে পৌঁছলেন সীতারাম। ৫ই আগস্ট থেকে সহযোদ্ধাদের দেখেননি তারিগামী। ৫ই আগস্ট থেকে গৃহবন্দী তারিগামী। সীতারামকে দেখে আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠলেন। দুই কমরেড জড়িয়ে ধরলেন পরস্পরকে। উষ্ণ আলিঙ্গনে।
তারিগামির বৈঠক খানায় বসলেন সীতারাম ও তারিগামী। পাক্কা একটি ঘন্টা অনাহুতের মত দাঁড়িয়ে রইলেন পুলিশ কর্তা ইমতিয়াজ। সীতারাম জানতে চাইলেন ইমতিয়াজের কাছে, তারিগামির অপরাধ কি? ইমতিয়াজ বলে উঠলেন তারিগামির বিরুদ্ধে আইনি কোন অভিযোগই নেই, এবং তিনি নাকি ‘মুক্ত’। ইমতিয়াজকে এবার প্রশ্ন তারিগামির। তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তার গাড়ি গুলি কেন উধাও হয়ে গেল? কেন গত ২৫ দিন ধরে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাইরের কেউ যাতে ঘরে আসতে না পারে? কেন তাঁকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি?
তারিগামি সীতারামকে জানান, তিনি শেষ বারের মত শ্রীনগরের ‘শের ই কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স’ চিকিৎসার জন্য যান ৩১শে জুলাই। সেদিনই চিকিৎকরা জানান হার্ট এবং ফুসফুস সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা দরকার।
৫ই আগস্ট এলো কারফিউ। ৫ই আগস্ট থেকে বাইরে শুধুই পুলিশি বুট। আর হাসপাতালে যাওয়া হয়নি তারিগামির। বারংবার তারিগামি এবং তার পরিবার জানিয়েছেন প্রশাসনকে চিকিৎসা করা দরকার। ১৯শে আগস্ট তাঁকে বাড়িতে পুলিশি নিরাপত্তায় দেখতে আসেন একজন কার্ডিওলজিস্ট। বার বার অনুরোধের পর ২৪শে আগস্ট পুলিশি ঘেরাটোপে তারিগামিকে নিয়ে যাওয়া হয় ‘শের ই কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স’এ। তারিগামি হার্ট এবং ফুসফুস জনিত নানান সমস্যায় ভুগছেন। ভুগছেন ডায়াবিটিসের সমস্যাতেও। জানিয়েছেন সহযোদ্ধা সীতারামকে।
বৈঠকখানায় কথা চলতে থাকে। সীতারাম পুলিশ কর্তা ইমতিয়াজকে অনুরোধ করেন ঘরের বাইরে যেতে, ইমতিয়াজ বাইরে গেলেও তারিগামির বাড়ি জুড়ে প্রহরা।
সীতারাম অনড় থাকেন। তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে তাঁর সামনে একজন চিকিৎসককে ডাকতে হবে যিনি তারিগামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পুঙ্খানুপুঙ্খু তাঁকে জানাবেন। পুলিশ কর্তা ইমতিয়াজ সীতারামকে জানান পরের দিন সকালে অর্থাৎ ৩০শে আগস্ট সকালে একন ডাক্তার ডাকা সম্ভব।
সীতারাম পুলিশকে জানান আজ রাতটা তিনি তারিগামির বাড়িতেই থাকতে চান। পুলিশ নাছোড়বান্দা, তারা পাল্টা জানায় তারিগামির বাড়িতে থাকা যাবে না, অন্য কোথাও তাঁকে থাকতে হবে।
এরই মধ্যে বৈঠক খানায় আসেন তারিগামির স্ত্রী। তারিগামি এবং তাঁ স্ত্রী দুজনেই সীতারামকে জানিয়ে দেন তিনি যেন সুপ্রিম কোর্টে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ চালিয়ে যান। সুপ্রিম কোর্ট যদি অনুমতি দেয় তারিগামিকে নিয়ে আসা হবে দিল্লিতে এইমস’এ। তারিগামি এবং তার পরিবার সীতারামকে এও জানান, তাঁর পরিবার এমনকি নাতি নাতনিরাও ‘গৃহবন্দী’। তাঁর বাড়ির ল্যান্ডলাইন, মোবাইল বন্ধ। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের সব পথই বন্ধ করে রেখেছে সরকার। বাড়িতে বন্দী, ফুরিয়ে আসছে টাকাও।
বিকাল সাড়ে চারটের সময় সীতারাম বিদায় নিলেন তারিগামির থেকে। বলে গেলেন কাল সকালে ফের আসবেন। তাঁর সামনেই ডাক্তাররা তাঁকে পরীক্ষা করবেন। সীতারামকে হাত মুঠো করে বিদায় জানালেন তারিগামি।
কনভয় ছুটলো রাস্তায় । ঝিলাম পেরিয়ে সরকারের গেস্টহাউসে সীতারামকে রাত্রিবাসের জন্য রাখা হল। পরের দিন সকাল সাড়ে সাতটায় সীতারাম চলে এলেন তারিগামির বাড়িতে। এসে গিয়েছেন চিকিৎসকও। ডাক্তার তাঁর নাম জানাতে চাননি!
ডাক্তারবাব স্পষ্ট জানালেন এখানে ডায়াবিটিসের চিকিৎসা সম্ভব নয়। ফুসফুস এবং চেস্ট ইনফেকশনের জন্য তারিগামির চিকিৎসা হওয়া উচিৎ এইমস’এ।
সীতারাম সব বুঝলেন, শুনলেন। সেদিন সকাল ১১টা ১০’এ সীতারাম এবং তাঁর সহকর্মী দিল্লিগামী বিমানে উঠলেন শ্রীনগর থেকে।
ও হ্যাঁ। দিল্লি থেকে শ্রীনগরের বিমান ভাড়া তো বটেই ফেরার বিমান টিকিট যা পুলিশ কেটেছিল তারও দাম মিটিয়েছেন সীতারাম।
ঝিলাম নদী পার হওয়া রাত্রিবাসের সরকারি অতিথিশালার বিলটিও মিটিয়েছেন সীতারমই!
আজ ৫ই সেপ্টেম্বর।
আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ প্রশ্নে সব লিবেরালরা ন্যুড হয়েছিলেন।
এই এক মাসে কাশ্মীরে চলছে নিরন্তর অবরোধ। চলছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। পেলেটে মুখে আলপনা আঁকছে কাশ্মীরের যৌবন।
দু দু বার শ্রীনগর এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে এসেছিলেন কমরেড সীতারাম। তৃতীয় বার আর ফিরে আসেননি। কমরেড সীতারামকে রাষ্ট্র আটকাতে পারেনি।
আজ ৫ই সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন তারিগামিকে নিয়ে আসতে হবে এইমস’এ।
জিতলেন সীতারাম। জিতলো সিপিআই(এম)।
ফ্যাসিস্টদের সামনে কোনদিন হাঁটু মুড়ে বসে থাকেননি কমিউনিস্টরা। সীতারামরা হারতে শেখেননি। স্থিতাবস্থাকে মেনে নিতে শেখেননি।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির হলফনামা ভারতের গণতন্ত্র, ফ্যাসিবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
সহযোদ্ধার জন্য এই লড়াইনামা ঠাঁই পাবেই ফ্যাসিবিরোধী দুনিয়া জোড়া লড়াইয়ের মহাফেজ খানায়।
একটি কলঙ্কিত পরম্পরা ~ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
বউবাজারে মেট্রোর দুর্ঘটনা ~ দীপঙ্কর সিংহ
মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
বাকি রাখা খাজনা ~ মধুশ্রী বন্দোপাধ্যায়
সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
অসম - কী ভাবছেন? এনআরসি, অবশ্যই - আর ডাঃ দেবেন দত্তের কথা? ~ বিষাণ বসু
অসম - কী ভাবছেন?
এনআরসি, অবশ্যই - আর ডাঃ দেবেন দত্তের কথা?
খবরটা সবাই জানেন। ঊনিশ লক্ষ, হ্যাঁ, ১৯,০০,০০০ মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে গেলেন। অসমে। সব কাগজের প্রথম পাতায় পড়া গিয়েছে এই খবর - ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও সারাদিন ধরে দেখানো হয়েছে। এই রাজ্যেও এনআরসি করলে কেমন হয়, কথা হচ্ছে সেই নিয়েও। আপনি কি চিন্তিত? ভাবছেন?
একই সময়ে অসমেরই এক চা-বাগানে চিকিৎসা করছিলেন এক ডাক্তার। বয়স পঁচাত্তর। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন আগেই - কিন্তু, চা-বাগানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। তাই, সেই চিকিৎসক, ডাঃ দেবেন দত্ত, দায়বদ্ধতার কারণেই, রয়ে গিয়েছেন - চা-বাগানের মজুর-কামিন-শিশুগুলোর চিকিৎসা করতে।
না, রয়ে গিয়েছেন নয় - রয়ে গিয়েছিলেন। ডাঃ দেবেন দত্ত আর নেই।
পরশু বিকেলে কোনো রোগী মারা গিয়েছেন বলে তাঁর ডাক পড়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছালে, তিনি ক্ষুব্ধ, উন্মত্ত পরিজনের সামনে পড়ে যান। ঘিরে ধরে কয়েকশো মানুষ। হ্যাঁ, পোষাক পরে দুপায়ের উপর তো অন্য প্রজাতি দাঁড়ায় না সচরাচর। প্লাস, মুখে খিস্তি আর হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়েও সাধারণত মনুষ্যেতর প্রাণীরা সঙ্ঘবদ্ধ হয় না। কাজেই, সেই "মানুষেরা" ঝাঁপিয়ে পড়ে ডাঃ দেবেন দত্তের ওপরে।
পুলিশ ছিল - থুড়ি, ছিলেন। তাঁরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছিলেন। দেবেনবাবুকে বাঁচানোর কথা সেভাবে মাথায় ছিল না।
আক্রান্ত, রক্তাক্ত দেবেনবাবু পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি কোণায় - সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে তাঁরই হাতে শুশ্রূষা পেয়েছেন নাম-না-জানা কতজন - জন্ম নিয়েছে কত শিশু - তাদের কেউ কেউ ওই উন্মত্ত মানুষগুলোর মধ্যে ছিলেন কি? দেবেনবাবু অত ভাবছিলেন না, সম্ভবত - তিনি রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে চাইছিলেন - তিনি রক্ত দেখে ঘাবড়ান না, শুধু জানেন, রক্ত বন্ধ না হলে কী হতে পারে।
না,,স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো গোপন কুঠুরি ছিল না। জনতা দেবেনবাবুর খোঁজ পেয়েই যায়। বন্ধ দরজার ওপার থেকে ভেসে আসতে থাকে খিস্তি-হুমকি - কাচের জানলা ভেঙে যায় এলোপাথাড়ি ইঁটে - দেবেনবাবুর শরীরে বিঁধে যায় কাচ - রক্তক্ষরণ বাড়তেই থাকে। দেবেনবাবু ডাক্তার - তিনি রক্ত দেখে ঘাবড়ান না - তিনি শুধু জানেন, ঠিক কতক্ষণ রক্তপাত চললে - তিনি ঘড়ি দেখেন।
উন্মত্ত মানুষগুলোকে থামানোর চেষ্টা হয়নি এমন নয় - পুলিশ বাদ দিয়েও তো বাকি অনেকেই ছিলেন - থামানো যায় নি - আর জোর খাটানোর ক্ষমতা তাঁদের ছিল না - জোর খাটাতে পারতেন যাঁরা, তাঁরা তখনও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন। জনতা জানান, দেবেনবাবুকে একেবারে শেষ করতে পারলেই তাঁরা থেমে যাবেন।
অনেক, অনেকক্ষণ পরে ম্যাজিস্ট্রেট আসেন - সাথে বিশেষ বাহিনী। দেবেনবাবুর ঘড়ি ততক্ষণে ভেঙেচুরে গিয়েছে সম্ভবত - চালু থাকলেও তিনি আর দেখছিলেন না। অচৈতন্য ডাঃ দেবেন দত্তকে নিয়ে যাওয়া হয় জোড়হাট মেডিকেল কলেজে। দেবেনবাবুর অত ধৈর্য ছিল না আর - তিনি, অনেকক্ষণই, চিকিৎসার উর্দ্ধে।
আপনি কি চিন্তিত? ভাবছেন কিছু?
ভাববেন না? দরকার নেই কোনো? সত্যি, ঊনিশ লাখের পাশে এক - হাস্যকর। কিন্তু, সেই এক যখন চিকিৎসক - তখন আক্রান্তের সংখ্যা কত?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেন, হাজার নাগরিকপিছু কমপক্ষে একজন ডাক্তার থাকা জরুরী। দেশে এই অনুপাত ঠিক কত, সেই নিয়ে চাপানউতোর প্রচুর। তবে, কেউই অস্বীকার করেন না, যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার পাওয়া কঠিন। প্রান্তিক অঞ্চলে ডাক্তারের অনুপাত - সম্ভবত ওই কুড়ি হাজারে এক। চা-বাগানে, পরিস্থিতি আরো খারাপ। সেই এক যদি নিহত হন - আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় কুড়ি হাজার এক। এই আতঙ্কে পাশের বাগান থেকেও ডাক্তার চলে গেলে - আক্রান্ত, চল্লিশ হাজার এক। সংখ্যাটা বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে।
এনআরসি নিয়ে ভাবা জরুরী - ঊনিশ লক্ষ মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে যাচ্ছেন, সেই নিয়ে ভাববেন না!!
কিন্তু, ডাঃ দেবেন দত্তকে নিয়েও ভাবুন। না হয় দেবেনবাবুর কথা না-ই ভাবলেন - অন্তত ওই কুড়ি কি চল্লিশ কি ষাট কি আশি হাজার মানুষের কথা ভাবুন। এঁদের চিকিৎসাহীন হয়ে পড়ার কথা ভাবুন।
চা-বাগান কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করেছেন - এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, অনির্দিষ্টকালের জন্যে বাগান লক-আউট। নোটিশে অবশ্য উল্লেখ, কর্মীদের, তাঁদের পরিবারের জন্যে স্বাস্থ্যপরিষেবা চালু থাকবে। বিশ্বাস করুন, এতকিছুর পরে বড্ডো হাসি পেয়ে গেল। ওই স্বাস্থ্যপরিষেবা চালু থাকার কথাটুকু পড়ে। মৃত্যুর ওপারে জীবন আছে কিনা জানা নেই - কিন্তু, সেইখানে কলবুক পৌঁছায় না নিশ্চিত - স্যার, হাসপাতালে ইমার্জেন্সি পেশেন্ট এসেছে, খারাপ কন্ডিশনে লেবার পেশেন্ট স্যার, ডাঃ দত্ত তো ফোনই তুলছেন না।









