জুলাইয়ের শেষ শুক্রবার। বিংশ শতাব্দী শেষ হতে আর বছর দুয়েক বাকি। সারাদিনটা ঘন কালো মেঘগুলো ঘুম ঘুম অলস ভাব নিয়ে আজ সকাল থেকে একটা ল্যাদ খাওয়া ঢুলু ঢুলু স্থবির অথর্ব নিশ্চলতা হয়ে আছে। আকাশটা আজ মাটির কাছে এসে প্রায় যেন পাড়ার তালগাছটাকে ছুঁয়ে ফেলেছে। একটু পরপরই একঘেয়ে টানা বৃষ্টি। শেষ ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টি নেই। সন্ধের শেষ সীমানা পেরিয়ে, রাত্রির অনিশ্চিত প্রত্যাশা সবে শুরু হয়েছে। দিগন্ত ছুঁয়ে ফেলা রেললাইন গুলো চকচক করছে। প্ল্যাটফর্মের শেষে ডিস্ট্যান্ট সিগনালটার লাল আলো পিছলে যাচ্ছে রেল লাইনের ওপর। বাতাস ভারি হয়ে আছে। পৃথিবীর আজ একটা গুমোট ভাব। গম্ভীর মেজাজ। যেন একটা বড় বিপর্যয় হতে চলেছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। তারই অনন্ত প্রস্তুতি। ভ্যাপসা অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে, জামা কাপড়ের ঘাম শুকাতে দিচ্ছেনা কিছুতেই। সন্ধ্যে থেকে আজ খুব তাড়াতাড়িই রাত্রি হয়েছে। দরকারি গোছগাছগুলো করতে করতেই নিমেষের মধ্যে যেন শেষ সময়টুকু চলে গেল। একটু পরেই পর পর দুটো ট্রেন আসবে কলকাতা থেকে। ১ আপ ২ ডাউন। আর ৩ আপ ৪ ডাউন। এই তিন নাম্বার প্ল্যাটফর্মেই আসবে। ১ আপ কালকা মেল যাবে দিল্লী। ৩ আপ বম্বে মেল যাবে বম্বে। আগে ১ আপ। তার পর ৩ আপ। দুজনে দুই ট্রেনে উঠবে। আর কি তারা দুজনে ঘরে ফিরবে? হ্যাঁ! হয়তো ফিরবে। কিন্তু রিটার্ন টিকিট নিয়ে বাড়ি ফিরবে। সে কি আর সত্যিকারের ঘরে ফেরা?
১ আপে দিল্লী যাবে সাগ্নিক। ৩ আপে বম্বে যাবে সুমেধা।
সে আরেক বর্ষাকাল। আরো অন্তত ছয় বছর আগে। সুমেধা প্রথমবার দেখেছিল সাগ্নিককে। ভালো লেগেছিল। ভালো বেসেছিল। বলেনি। কিন্তু বেসেছিলো। বলতে পারেনি। বলা সম্ভবই ছিলনা। তখন পড়াশোনা ছাড়া বাকি সব বারণ। সুমেধা ভালো মেয়ে। স্কুলের ফার্স্ট গার্ল। এখন পড়াশোনা। প্রেমের জন্যে সময় পড়ে আছে অনেক। কিন্তু একটা সপ্তাহ, ছয় ছটা দিন, শুধু অপেক্ষা। কখন দেখা হবে। টিউশনে আসার বা বেরোবার সময়ে চোখাচোখি হতই। প্রতিদিন দুবার করে। আসার সময়ে, আর ফেরার সময়ে। চোখাচোখি হলেই হাসত। স্মাইল। স্মিতহাস্য। মিষ্টি। মন ভালো করা হাসি। অবশ্য বোধয় এটাই ওর স্বভাব। সব্বার সাথে নিজে থেকেই হালকা করে তাকিয়ে স্মিতহাস্য ওর যেন নিয়ম। ভদ্রতা? সে যাইহোক। ওইটুকু স্মিতহাস্যর স্মৃতি নিয়ে সুমেধার কেটে যেত ছয় ছয়টা দিন। আবার পরের সপ্তাহের টিউশনের দিন পর্যন্ত। ওর হাসি হাসি মুখ মনে আসলেই নিজে থেকেই এমনিতে সিরিয়াস ফার্স্ট গার্ল মার্কা গম্ভীর মুখটাতে স্বতস্ফূর্ত ভাবেই হাসি ছড়িয়ে যেত। অজান্তেই। মনটা ফুরফুরে হয়ে যেত। সুমেধা ভাবতো, বলবে। নাকি বলবে না। যদি না করে। সাগ্নিক নিজেও ওর স্কুলের ফার্স্ট বয়। ওরটা আবার আইসিএসসি স্কুল। শহরের সেরা। সুমেধার স্কুলও খুবই নাম করা। ইংলিশ মিডিয়াম। কিন্তু মাধ্যমিক বোর্ড। ওর স্কুল থেকে অত আইআইটি তে পায়না। ওদের আইসিএসসি স্কুল থেকে প্রতি বছরই বেশ কজন পায়। তাই আরেকটু ভেবে তারপর বলাই ভালো, ভাবে সুমেধা। দুই বছর পেরিয়ে যাক। জয়েন্টের রেজাল্ট ভালো করে ভালো কলেজে চান্স পাক আগে। ততদিনে অন্য কারোর সাথে যদি না দেখা যায় সাগ্নিককে, তাহলে তারপর বলা যাবে। তার আগে সাগ্নিক বলতেই পারে, এখন পড়াশোনার সময়, এখন এসব নিয়ে ভাবতে না। লজ্জার এক শেষ হবে। ফার্স্ট গার্লের ইমেজটা ধাক্কা খাবে। অনেক পরিশ্রম করে তৈরী করা এই ইমেজ এই সামান্য কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যাবেনা। আর তো কয়েক মাসের অপেক্ষা। তাছাড়া প্রতি সপ্তাহেই দেখা হচ্ছে। এই চলুক। আপাতত। কিন্তু এই বলে দেওয়া, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া কি সারা জীবনে কোনোদিনই সহজ হবে সুমেধার পক্ষে?
বারো ক্লাসের পরে সুমেধা যাদবপুরে গেল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। সাগ্নিক গেল খড়গপুরে। সুমেধা জানত না সাগ্নিকের ঠিকানা। তখনও তো মোবাইল আসেনি। না ছিল ফেসবুক, না শুরু হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের যুগ। সুদীর্ঘ চার চারটে বছর। অন্তরে বয়ে বেরিয়েছে সাগ্নিককে। আস্তে আস্তে যেন বিশ্বাস করে ফেলেছে সাগ্নিক একান্ত ওরই। ডায়েরীতে পাতার পর পাতা চিঠি লিখেছে সাগ্নিককে। একটা চিঠিও লেটারবক্সে ফেলেনি। কারণ কোনদিন জানতেও চায়নি দুর্গাপুরে ওদের কোয়ার্টার নাম্বার। অথবা খড়গপুরে হোস্টেলের ঠিকানা। তিনটে ডায়েরী, তাদের পাতা ভরা চিঠি নিয়ে চার বছরের যাদবপুরের জীবন শেষে সেই সন্ধ্যা, বা বলা যায় প্রায় রাত্রির প্রথম লগ্ন, দুর্গাপুর স্টেশনে, সুমেধা আর সাগ্নিকের দেখা হয়ে গেল। সাগ্নিকই প্রথম দেখতে পেল সুমেধাকে। এগিয়ে এল সাগ্নিক।
আরে সুমেধা না? কেমন আছিস? কোথায় যাচ্ছিস?
সাগ্নিক!! আমি বোম্বে জাচ্ছি রে। বোম্বে আইআইটিতে এমটেক করতে। বোম্বে মেল আসছে, ওতেই যাব। আর তুই?
আমি তো দিল্লীর ট্রেন ধরব। কালকা মেল। দিল্লীতে মামার বাড়িতে দিদার সাথে দেখা করে, আশীর্বাদ নিয়ে, ওখান থেকেই ফ্লাইট ধরব। ক্যালিফর্নিয়া। ইউসিএসডিতে এমএস করতে ফুল স্কলারশিপ পেয়েছি।
তারপর কী করবি?
জানিনা, ভাল চাকরী পেলে করব, তবে পিএইচডি করারও একটা ইচ্ছে আছে। আর তুই?
আমি এমটেকের পরে পিএইচডি করব, আরেকটু পড়তে চাই।
গল্প করতে করতেই স্টেশনে অ্যানাউন্স করে দিল ১ আপ কালকা মেল, তিন নাম্বার প্ল্যাটফর্মে আসছে। এত বছর পরে একটা ক্ষণিকের লগ্ন এসেছিল, মনের কথা বলে দেওয়ার। বৃথা গেল।
সাগ্নিক এগিয়ে গেল সুমেধার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, আবার যোগাযোগ হবে, এই কথা দিয়ে। ততক্ষনে ট্রেন প্রায় এসেই গেছে প্ল্যাটফর্মে।
১ আপ কালকা মেলে করে সাগ্নিক চলে গেল দিল্লী, আর কিছুক্ষনের মধ্যেই ৩ আপ বোম্বে মেলে করে বোম্বে গেল সুমেধা। পরেরদিন এলাহাবাদ পর্যন্ত দুজনের রাস্তা এক। তারপর দুজনের রাস্তা দুই দিকে। দুই গন্তব্যে।
সাগ্নিকের ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইটে দেখতে দেখতে সুমেধা পেয়ে যায় সাগ্নিকের ইমেল আইডি, একটা পেপারের নিচে। তাই সেই সন্ধ্যের বছরখানেকের মধ্যেই ইমেলের মাধ্যমে দুজন যোগাযোগ স্থাপন করে ফেলে, বোম্বে আর স্যান ডিয়েগোর মধ্যে। মাসে একটা দুটো হলেও ইমেল চালাচালি শুরু হয়েছে। সুমেধা জানার চেষ্টা করে গেছে সাগ্নিকের মনের ভাব। হালকা করে বলেওছে ওর ভাললাগার কথা।
সাগ্নিক লিখেছে, আমারও ভাল লাগে। সবার সাথে মন খুলে কথা বলতে সঙ্কোচ হয়। তোর সাথে কত বিষয়ে কথা বলা যায়। তুই বেশ ওয়েল রাউন্ডেড।
ততদিনে সুমেধা এম টেক করে ব্যাঙ্গালোরে পিএইচডি শুরু করে দিয়েছে আইআইএসসিতে। ইন্টারনেটের সুযোগ সুবিধে অনেক বেশী। দিন হোক বা রাত্রিবেলা, সুমেধা আর সাগ্নিক ইয়াহু চ্যাটের মাধ্যমে কথাবার্তা চালিয়ে যায়। সাগ্নিকও স্ট্যানফোর্ডে পিএইচডি শুরু করে দিয়েছে।
কয়েক বছর কেটে গেছে।
বাড়িতে সুমেধা বলে দিয়েছে সাগ্নিকের কথা। বলেছে বিয়ে করবে ওরা। এও বলেছে এই সম্পর্ক নিয়ে সাগ্নিকের মা বাবারও আপত্তি নেই। তবে আগে পিএইচডি।
আরেকটা জুলাই। একবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ জুলাই মাস। সাগ্নিক দেশে আসবে। কথা দিয়েছে, এবারে দুর্গাপুরে আসবে সুমেধার সাথে, ওদের বাড়িতে। ওদের ইয়াহু চ্যাটেই সারাক্ষন কথোপকথন চলে।
সুমেধাঃ কবে আসবি, সেই অনুযায়ী আমিও প্ল্যান করব। জুলাই এর মাঝামাঝি ছুটি পাবো।
সাগ্নিকঃ তাহলে জুলাইএর শেষের দিকে দুর্গাপুর যাব। আমার বাবা রিটায়ার করার পরে নরেন্দ্রপুরে ফ্ল্যাট কিনে চলে এসেছে। তাই দুর্গাপুর গেলে থাকব কোথায়?
সুমেধাঃ কেন আমাদের বাড়িতে। আমার বাবাও রিটায়ার্ড। সিটি সেন্টারে বাড়িতেই এবারে আমি যাব। আগের কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে হয়েছে। কত সুন্দর বাগান ছিল। পেছনের উঠনে লিচু আর আম গাছ ছিল। খুবই মিস করব।
সাগ্নিকঃ আমার বাবাও শুনি খুব একটা আনন্দে নেই ফ্ল্যাটে। তবে সামনেই নরেন্দ্রপুরের মিশন গেট। মিশনের ভীতরে অনেক ফাঁকা জায়গা, রোজ বাবা মা ওখানে বেড়াতে যায়।
সুমেধাঃ আমাদের ব্যাপারটা ওনাদের বলেছিস? কী বলছেন ওনারা?
সাগ্নিকঃ ওরা তো ভয়েই ছিল আমি না কোন মেমকে বিয়ে করে ফেলি। বাঙালি, তার ওপরে আবার দুর্গাপুরের মেয়ে শুনে ওরা হেব্বি খুশি। তোর ছবি দেখে তো ওরা আপ্লুত। যখন শুনল যে তুই খুব ভাল গান করিস, ছোট্টবেলা থেকে অনন্ত স্যারের কাছে গান শিখেছিস, মা তো দারুণ খুশি। মায়ের স্কুলের কলিগ ছিলেন অনন্ত স্যার। আর মা নিজেও গান ভালবাসে, গান করতেও পারে, ছোটবেলায় শিখেওছিল, তারপর চর্চা ছিল না বহু বছর।
সুমেধাঃ জানিস, এখানে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্সে অনেক বাঙালি আছে। ওদের একটা ঘরোয়া আড্ডায় আমি গান করেছিলাম। সেই শুনে ব্যাঙ্গালোরে একটা দুর্গাপুজোতে আমাকে ডেকেছিল, গান করার জন্যে। খুব মজা হল। আচ্ছা তুই কি ওদেশেই থেকে যাবি?
সাগ্নিকঃ তুইও চলে আয়। এখানে পুরো ব্যাপারটাই অন্য জাতের, অন্য লেভেলের। একদম সায়েন্স আর টেকনলজির কাটিং এজে কাজ করার সুযোগ এখানে না থাকলে পাওয়া যায়না। দু দশ বছর পরে যা হতে চলেছে, তাই নিয়ে আজ ওরা এখানে রিসার্চ করছে। তোরও খুবই ভাল লাগবে।
সুমেধাঃ তুই কি এরপরে অ্যাকাডেমিয়াতেই থাকবি নাকি ইন্ডাস্ট্রি তে চাকরী করবি?
সাগ্নিকঃ অ্যাকাডেমিয়াতে থাকব না। চাকরীই করব ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রফেসর হওয়ার, ছাত্র পড়াবার থেকে নিজে কাজ করার ইচ্ছেটা বেশি। তবে তুই এখানে এসে একটা পোস্ট ডক্টরাল করে নিস। তারপর এখানে পড়াস। নিশ্চিন্ত জীবন। আমরা ক্যালিফর্নিয়াতেই সেটল করব। এইখানটা না সারা বছরই বসন্ত। আমেরিকার ইস্ট কোস্টে শীতকালে বরফের ঝড় হয়। মারাত্মক ভয়াবহ অবস্থা হয়। তার চেয়ে এই জায়গাটাই ভাল। আচ্ছা তোর বাড়িতে আপত্তি নেই তো যদি আমরা পিএইচডি করতে করতেই বিয়ে করে নিই। আমাদের পিএইচডি শেষ হতে আর বড়োজোর বছর খানেক। আমাকে হ্যাংলা ভাবছিস না তো?
সুমেধা সাগ্নিকের কথোপকথন চলতে থাকে। ইয়াহু চ্যাটে। সুমেধা ওদের কোথায় আলাপ, কবে থেকে আলাপ, এখনকার কথোপকথন সবকিছু জানায় ওর মাকে, ওর মা জানায় ওর বাবাকে। সুমেধার মা বাবা প্রস্তুত হতে থাকেন সাগ্নিকের আসার। কোথায় থাকবে। কী খাবে। কাকে কাকে ডাকবে ওই দুই দিন। হাজার হোক, একমাত্র মেয়ে, এত শুভাকাঙ্ক্ষী, তাদের সাথে হবু জামাইয়ের আলাপ করা দরকার। ওনারা যখন জানতে পারেন এই বছরেই বিয়ের কথা ভাবছে দুজনে, ওনারা তাই এটাও ভেবে নেন বিয়ের সময় কাকে কাকে নিমন্ত্রন করবেন। নেতাজী ভবন ভাড়া নেওয়া যাবে, অনেক নিমন্ত্রিত হবে, বড় যায়গা দরকার। নাকি সিটি সেন্টারে কোথাও বিয়ে বাড়ি ভাড়া নেবেন। নাকি কোন হোটেলই ভাল হবে। আত্মিয় স্বজন কারা কারা আসবেন। মেনু কী হবে। ক্যাটারার কে হবে।
দেখতে দেখতেই জুলাই মাস এসে গেল। বহু কাঙ্ক্ষিত জুলাই মাস। সুমেধা আর সাগ্নিকের একসাথে হওয়ার সময়। জুলাই মাস এল, আবার প্রায় চলেও গেল। সুমেধা এল না। সাগ্নিক এল না। তার বদলে সুমেধার বাড়িতে ফোন এল, তড়িঘড়ি ব্যাঙ্গালোর ছুটলেন সুমেধার মা বাবা।
বাকিটুকু ব্যাঙ্গালোরের নিমহ্যান্স হাসপাতালে। সুমেধা রেস্টে আছে। শুয়ে আছে। একটু ঘুম ঘুম ভাব।
সুমেধাকে চিকিৎসা করছেন ডাক্তার মিসেস অঞ্জলি সেঠি, সাইকিয়াট্রিস্ট। বললেন সুমেধা এখন ভাল, তবে আপনারা নিয়ে যান বাড়িতে। এক মাস ছুটি নিয়ে সুমেধার চিকিৎসা চলুক, ভাল হয়ে যাবে। এক মাস পরে আবার পিএইচডির কাজ শুরু করবে এখানে ফিরে এসে না হয়।
আস্তে আস্তে সুমেধার মা বাবা জানতে পারেন, সুমেধার সাথে সাগ্নিকের কোনই যোগাযোগ হয়নি, পুরো কথোপকথনটাই সুমেধার কল্পনা। সাগ্নিক বলে কেউ নেই। সাগ্নিক বলে কেউ কোনদিন ছিল না সুমেধার জীবনে। সুমেধার প্রেসক্রিপশনে ডাক্তার সেঠি লিখেছেন - স্কিৎজোফ্রিনিয়া। ওষুধ চলবে!
