যতই দিন যাচ্ছে ততোই বুঝছি যে ৩৩ বছর আগে ডাক্তারী পড়ার শেষে যা যা শিখেছিলাম বা যেভাবে শিখেছিলাম সবই আজ প্রায় unlearn করতে হচ্ছে বিজ্ঞানের উন্নতির কৃপায়। যে biochemistry বা physiology র বিষয় গুলো মুখস্থ করে পাশ করে গেছি সেগুলোর গুরুত্বই বুঝিনি তখন বা শিক্ষকেরাও জানতেন না বলে বোঝাতেও পারেননি, আর আজকের মহামারী মেটাবোলিক সিনড্রোম এবং ক্যান্সার এর মহামারী ও তখন ছিলো না।। আজও সেই যুগ পুরাতন শিক্ষা চলছে - যদিও একজন সচেতন বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমার সীমিত সাধ্যের মধ্যেই ছাত্র দের সেগুলোর বিষয় চোখ ফোটানোর চেষ্টা করছি, স্বাস্থ্য নিয়ে নানান ভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করে চলেছি।
বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তা চেতনায় আমাদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো আমরা মানুষরা আদতেই অন্তর থেকে পরিবর্তন বিরোধী, একটা নতুন কিছু শেখার বা জানার আগ্রহ ভীষণ কম এবং যদিও বা শেখা গেলো তবুও আমাদের পুরানো চিন্তা বা mindset এর জাল কেটে বেরিয়ে সেই নতুন সত্য কে মেনে নেওয়া বা প্রয়োগ করার মানসিকতাও অত্যন্ত বিরল। রাজনীতিতেও একথা কিন্তু সু প্রযোজ্য। চিকিৎসক ও সাধারণ রোগীদের একটা বিরাট অংশের ক্ষেত্রেও আমি দেখছি এই অনড় মানসিকতা, যেটা তাদের সুস্থতা অর্জনের পক্ষে এক বিশাল বাধা বলেই আমার মনে হয়।
এরকমই এক বিষয় হলো কোষে কোষে চলতে থাকা পলিওল পথ (Polyol pathway) ও ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদনের বিষয়টি – যেটা কোনদিন মন দিয়ে পড়তামই না সেটা আজ আমাদের মেটাবোলিক অসুস্থতার একটি বড়ো উপায় হয়ে দেখা দিয়েছে, এটা চিকিৎসক দেরও যেমন বুঝতে হবে তেমনি এযুগের স্টুডেন্টস দের ও তেমনি মাথায় ঢোকাতে হবে। তাই এ প্রসঙ্গের অবতারণা করতে বসেছি - সহজ, সরল ভাষায় সব্বার জন্যে। বিজ্ঞানের দ্রুত বদলে যাওয়া দিগন্তের সাথে আমাদের ও পুরানো mindset, পুরানো শিক্ষার খোলস পাল্টাতেই হবে - না হলে ওষুধস্য কৃপা হি কেবলম বলতে বলতেই শ্মশানে পৌঁছে যাবো তাড়াতাড়িই।
একজন শিক্ষকের অন্তর্দৃষ্টি থেকে বুঝি যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের টেক্সটবই বা পুরনো কারিকুলাম প্রায়শই আমাদের রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রেসক্রাইব করার "প্রোটোকল" শেখায়, কিন্তু তার পেছনের মূল বায়োকেমিস্ট্রি বা মেটাবলিক মেকানিজম (মেটাবলিক শারীরবৃত্ত) কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—তা অনেক সময়ই বাদ পড়ে যায়। তাই মুসুর ডাল, টোম্যাটো, খাসীর মাংস খাওয়া যে ইউরিক অ্যাসিড বাড় বাড়ন্তের আসল কারণ নয়, গাদা গাদা ভাত, রুটি খেতে থাকলে যে পলিওল পাথওয়ে দ্রুত গতিতে চলে এবং ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ে - এসব সাম্প্রতিক গবেষণা র ফলাফল আমাদের জানতেই হবে, অন্যকে জানাতেও হবে। এসব তথ্য আপনার কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব যাদের তারা চুপ করে বসে আছি, প্রাচীন চিন্তার গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে ভেসে দিন নির্বাহ করার জন্য আর উল্টোদিকে বৃহত্তর অংশের মানুষ ক্রমেই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে - এর চাইতে দুঃখের বিষয় আর কী হতে পারে? অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞানী / শিক্ষকরাই যখন এই ধরনের পুরনো মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষার্থীদের চোখ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন, তখনই চিকিৎসার প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হয় এবং মানুষ তার সুস্বাস্থ্যের অধিকার ফিরে পেতে শুরু করেন ওষুধ নির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে।
পলিয়ল পাথওয়ে (Polyol Pathway) কী এবং কেন এটি জানা দরকার?
সহজ কথায়, পলিয়ল পাথওয়ে হলো শরীরের কোষ গুলির মধ্যে ঘটে চলা একটি বিকল্প মেটাবলিক পথ, যার মাধ্যমে আমাদের শরীর গ্লুকোজকে (Glucose) সরবিটলে (Sorbitol) এবং পরবর্তীতে ফ্রুক্টোজে (Fructose) রূপান্তরিত করে।

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের রক্তে থাকা গ্লুকোজের ৯৫% বা তার বেশি ব্যবহৃত হয় শক্তি তৈরির কাজে (Glycolysis ও Krebs Cycle-এর মাধ্যমে)। পলিয়ল পাথওয়েতে স্বাভাবিক অবস্থায় মাত্র ৩-৫% গ্লুকোজ প্রবেশ করে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ (Hyperglycemia) থাকে কিংবা শরীরে প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত ফ্রুক্টোজ প্রবেশ করে।
(অতিরিক্ত গ্লুকোজ)
│
▼ (Aldose Reductase এনজাইম - NADPH খরচ করে)
(সরবিটল (Sorbitol)) ───► (কোষে আটকে যায় ও টিস্যু ড্যামেজ করে)
│
▼ (Sorbitol Dehydrogenase এনজাইম)
(ফ্রুক্টোজ (Fructose)) ───► (ফ্যাটি লিভার ও মেটাবলিক সিন্ড্রোম বাড়ায়)
কেন এটি মেটাবলিক অসুস্থতার মূল "খলনায়ক"?
বহু বছর ধরে বায়োকেমিস্ট্রিতে পলিয়ল পাথওয়েকে শুধু ডায়াবেটিসের কিছু জটিলতার (যেমন: ছানি পড়া বা নিউরোপ্যাথি) কারণ হিসেবে একটি একঘেয়ে চক্র মনে করে মুখস্থ করানো হতো। কিন্তু আধুনিক মেটাবলিক সায়েন্স দেখাচ্ছে—এটি আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রার মারাত্মক রোগের মূল চালিকাশক্তি:
১. সেলুলার অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খালি হওয়া: গ্লুকোজকে সরবিটলে ভাঙতে শরীরের NADPH নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অণু খরচ হয়। এই NADPH-এর কাজ হলো আমাদের শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট Glutathione (গ্লুটাথিয়ন)-কে পুনরায় সক্রিয় রাখা।

পলিয়ল পাথওয়ে অতিরিক্ত সক্রিয় হলে শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কভার শেষ হয়ে যায়। ফলে কোষে প্রাবল্য পায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, যা ভাস্কুলার ড্যামেজ, ইনফ্ল্যামেশন এবং দ্রুত বার্ধক্যের দিকে নিয়ে যায়।
২. সরবিটলের "অসমোটিক ট্র্যাপ" (Osmotic Trapping)
সরবিটল এমন এক যৌগ যা সহজে কোষের পর্দা (Cell Membrane) পার হয়ে বাইরে বের হতে পারে না। ফলে এটি কোষের ভেতরে জমতে থাকে এবং জল টেনে নেয় (অসমোসিস)।
চোখে: চোখের লেন্সের ভেতরের কোষ ফুলে যায়, ফলে প্রাক-প্রৌঢ়ত্বেই ছানি (Cataract) পড়ে।
স্নায়ুতে: নার্ভ সেল ড্যামেজ হয়ে নিউরোপ্যাথি (পায়ে জ্বালা-যন্ত্রণা, অনুভূতিহীনতা) তৈরি হয়।
৩. এনডোজেনাস বা শরীরের ভেতরে ফ্রুক্টোজ প্রোডাকশন ও ফ্যাটি লিভার
আমরা ভাবি ফ্রুক্টোজ শুধু কোল্ড ড্রিঙ্কস বা মিষ্টি খেলেই শরীরে ঢোকে। কিন্তু রক্তে গ্লুকোজ বেশি থাকলে পলিয়ল পাথওয়ের মাধ্যমে শরীর নিজের ভেতরেই ফ্রুক্টোজ তৈরি করতে শুরু করে (Endogenous Fructose Production)। এই ভেতরে তৈরি হওয়া ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে সরাসরি ফ্যাটি লিভার (NAFLD/MASLD), ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ইউরিক এসিড বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপ ঘটায়।
তাহলে পলিয়ল পাথওয়ে আপনার শরীরে জেগে উঠেছে কিনা সেটা বুঝতে কোন টেস্ট করা ভালো - Fasting বা খালিপেটে সুগার নাকি ইউরিক অ্যাসিড টেস্ট?
ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS) আমাদের শরীরে গ্লুকোজের উপস্থিতির একটি স্থির চিত্র (static snapshot) প্রদান করে, কিন্তু এটি প্রায়শই পলিয়ল পাথওয়ের (polyol pathway) অতি-সক্রিয়তা (hyperactivation) শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।
প্রথমত, উপরে দেওয়া Flow chart টি দেখলে ভালো বুঝবেন, অ্যালডোজ রিডাক্টেজ শান্টিং (aldose reductase shunting) প্রক্রিয়াটা প্রধানত খাবার খাওয়ার পরের গ্লুকোজ স্পাইক বা পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল গ্লুকোজ বৃদ্ধির (>১৪০–১৮০ mg/dL) কারণে ঘটে।
এই অতিরিক্ত গ্লুকোজ হেক্সোকাইনেজ (hexokinase) এনজাইম বা উৎসেচক কে সমপৃক্ত (saturate) করে ফেলে, ফলে normal Glucose metabolism এর রাস্তা উপচে পড়ে বাড়তি glucose হু হু করে aldose reductase shunting প্রক্রিয়া নামের bypass রাস্তায় ঢুকে পড়ে, আর excess Fructose এবং Uric acid production কে বাড়িয়ে কোষের খেল খতম করতে থাকে —এমনকি যেসব লোকেদের সকালের ফাস্টিং গ্লুকোজ স্বাভাবিক বা সামান্য বেশী (১০০–১১০ mg/dL), তাদের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে। (নীচের ছবি দেখুন )
দ্বিতীয়ত, FBS কোষের ভেতরের মেটাবলিক স্ট্রেস পরিমাপ করতে পারে না। অন্যদিকে ইউরিক এসিড কোষের ভেতরের ATP নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, ফ্রুক্টোলাইসিস (fructolysis) এবং Xanthine Oxido Reductase উৎসেচকের -মধ্যস্থতায় তৈরী ROS (রিয়্যাক্টিভ অক্সিজেন স্পিসিস) – এগুলোর দ্বারা ঘটতে থাকা মেটাবলিক ক্ষতির মাত্রা সরাসরি নির্ধারণ করে যথেষ্ট ভালোভাবে।
তৃতীয়ত, যেহেতু ইউরিক এসিড সক্রিয়ভাবে অ্যালডোজ রিডাক্টেজকে upregulate বা ত্বরান্বিত করে, তাই সিরাম ইউরিক এসিডের উচ্চ মাত্রা নির্দেশ করে যে পলিয়ল পাথওয়েটি প্রাইজড (primed) এবং অতি-সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ফলস্বরূপ, শুধুমাত্র FBS-এর তুলনায় সিরাম ইউরিক এসিডকে পলিয়ল পাথওয়ের প্রাথমিক অতি-সক্রিয়তা এবং এনডোজেনাস ফ্রুক্টোজ-জনিত মেটাবলিক সমস্যা শনাক্ত করার জন্য একটি অনেক উৎকৃষ্ট ও কার্যকর মার্কার (functional marker) হিসেবে গণ্য করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং সামগ্রিক এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ সৃষ্টি পথের গতিশীলতা
পলিয়ল পাথওয়ের অতি-সক্রিয়তার খারাপ প্রভাব বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে ভিন্ন হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং সামগ্রিক পূর্ব ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর জিনগত ও মেটাবলিক প্রবণতা (susceptibility) অনেক বেশি দেখা যায়।
জিনোমিক পর্যায়ে বদলের ফলে অ্যালডোজ রিডাক্টেজের mRNA এক্সপ্রেশন এবং লোহিত রক্তকণিকায় এই এনজাইমের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এপিডেমিওলজিক্যাল বা মহামারী সংক্রান্ত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে পূর্ব এশীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং উত্তর ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই জেনেটিক উস্কানিদাতা র প্রাদুর্ভাব বেশ বেশি।
যাদের মধ্যে CT বা TT জেনোটাইপ রয়েছে, তাদের শরীরে এনজাইমের এই উচ্চমাত্রার উপস্থিতির কারণে পলিয়ল শান্টিং শুরু হওয়ার জন্য গ্লুকোজের প্রয়োজনীয় থ্রেশহোল্ড (threshold) কমে যায়। এর ফলে ফাস্টিং গ্লুকোজের মাত্রা ১০০–১১০ mg/dL-এর মতো কম থাকলেও অ্যালডোজ রিডাক্টেজ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ, এশীয় জনগোষ্ঠীর যেসব ব্যক্তির মধ্যে এই -106T অ্যালিল রয়েছে, তাদের মাইক্রোভাস্কুলার জটিলতা—যেমন প্রোলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিক কিডনি ডিজিজ এবং পেরিফেরাল পলিনিউরোপ্যাথির ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।
এই জিনগত সংবেদনশীলতা এশীয়দের নির্দিষ্ট এশিয়ান মেটাবলিক ফেনোটাইপ -এর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করে। এই ফেনোটাইপের বৈশিষ্ট্য হলো—কম BMI থাকা সত্ত্বেও (>২৩ kg/m²) শরীরে ভিসেরাল ফ্যাটের (পেটের মেদ) উচ্চ শতাংশ, প্রাথমিক ধাপে ইনসুলিন নিঃসরণের অক্ষমতা এবং খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের দ্রুত ও অত্যাধিক ওঠানামা (postprandial glucose variability)।
উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত রিফাইন বা প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় (>১৮০ mg/dL), যা হেক্সোকাইনেজ এনজাইমকে সংপৃক্ত করে ফেলে। ফলে সকালের ফাস্টিং গ্লুকোজ সামান্য বেশি থাকলেও বারবার পলিয়ল শান্টিং ঘটতে থাকে। এর সাথে স্থানীয় হাইপারইউরিসেমিয়া (উচ্চ ইউরিক এসিড) এবং ফ্যাটি লিভারের (NAFLD/MASLD) উচ্চ হার যুক্ত হয়ে এমন এক মেটাবলিক পরিবেশ তৈরি করে, যা পলিয়ল পাথওয়েকে ক্রমাগত সক্রিয় রাখতে ইন্ধন জোগায়।
জিন এবং পরিবেশের এই মিথস্ক্রিয়া (gene-environment interaction) বিভিন্ন ক্লিনিকাল ট্রায়ালে চিকিৎসাগত কার্যকারিতার পার্থক্যের একটি ব্যাখ্যা প্রদান করে। যেমন, অ্যালডোজ রিডাক্টেজ ইনহিবিটর (ARIs)—ইপালরেস্ট্যাট (epalrestat)— ওষুধটি জাপানি, চীনা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ডায়াবেটিস রোগীদের মাইক্রোভাস্কুলার রোগবালাই বিলম্বিত করতে ধারাবাহিকভাবে চমৎকার ক্লিনিকাল সুবিধা দেখিয়েছে কিন্তু আবার অন্যদিকে, ককেশীয় বা শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ওপর করা ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলোতে এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত পাওয়া গেছে—কারণ তাদের মধ্যে এই -106T জেনেটিক ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি কম এবং তাদের মেটাবলিক সিন্ড্রোম প্রধানত ম্যাক্রোভাস্কুলার ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ দ্বারা পরিচালিত হয়।
কীভাবে এই পাথওয়েকে শান্ত রাখা সম্ভব?
বিজ্ঞানের এই আপডেট আমাদের স্পষ্ট শিক্ষা দেয় যে, শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে আসল কারণ দূর করতে হবে:
রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও চিনি বর্জন: লাইফস্টাইল থেকে অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমালে রক্তে গ্লুকোজের অতিরিক্ত বৃদ্ধি থামে, ফলে পলিয়ল পাথওয়ে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায় না।
প্রসেসড ফ্রুক্টোজ এড়ানো: সফট ড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত জুস এবং হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাফ বন্ধ করা।
টাইম-রেস্ট্রিক্টেড ইটিং / ফাস্টিং: শরীরকে গ্লুকোজ ও ইনসুলিন স্পাইক থেকে বিরতি দেওয়া, যাতে কোষগুলো নিজেকে মেরামত (Autophagy) করতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপোর্টিং ফুড: যা শরীরের Glutathione এবং NADPH লেভেল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
নীচের ছবি গুলো ভালো করে দেখুন / পড়ুন : মূল কথা যা মনে রাখুন,গাদা গাদা ভাত, রুটি খাবেন না। চিঁড়ে, মুড়ি, বিস্কুট, চাউমিন, ময়দা র খাবার এড়িয়ে চলারই চেষ্টা করুন। Low carbohyrate - high fat - moderate protein diet এ যতো তাড়াতাড়ি পারেন ঢুকে পড়ুন, মাছ, মাংস, ডিম ( কিডনির শেষ দশা না হলে রোজ ৬টা করে ডিম খাওয়া দিয়ে শুরু করুন ), ঘি, নারকেল তেল প্রাণ ভরে খান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে সপ্তাহে কাঁচা রান্না করা অবস্থায় প্রায় ৩৫০–৫০০ গ্রাম) খাসীর মাংস খাওয়া নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে এটা আপনি স্বাভাবিক শর্করা ডায়েটে আছেন ধরে নিয়ে, কিন্তু যদি আপনি আমার মতো low carbohydrate ডায়েট এ অভ্যস্ত হন তাহলে আরামসে সপ্তাহে ৭০০-৮০০ গ্রাম খাসীর মাংস( দৈনিক গড়: এটি গড়ে দিনে প্রায় ১০০ গ্রাম-এর মতো পড়ে) খেতে পারবেন, সাথে ডিম, মাছ ও। লাভ কী হবে এতে? ইউরিক অ্যাসিড কমবে, ট্রাইগ্লাইসেরাইড কমবে, সুগারও নিয়ন্ত্রণে আসবে, কারণ আপনি পলিওল pathway কে বন্ধ করে ফেলেছেন এভাবে। তাহলে খাবারের বিজ্ঞান টা কি বোঝা গেলো?
মনে রাখবেন আপনার রক্তের ইউরিক অ্যাসিড ৪. ৫ এর ওপরে থাকা মানেই লাল সিগন্যাল - এর মানে আপনার খাবারে বাড়তি শর্করা ঢুকছে এবং তা পলিওল পথে shunt হয়ে যাচ্ছে - তাই তখনই কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ কমিয়ে মাছ, মাংস ডিম বাড়িয়ে দিতে হবে।
আশা করি আমার এই সামান্য প্রচেষ্টা এবং চিন্তাভাবনা আমার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মেটাবলিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত রহস্য বুঝতে সাহায্য করবে।