শ্রমজীবী মানুষের প্রাণের উৎসব আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস উদযাপন। শ্রমজীবী মানুষের শোষণ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির শপথ নেওয়ার দিন আন্তর্জাতিক মে দিবস । শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।
১৪০ বছর ধরে শ্রমজীবি মানুষের মুক্তির লড়াই চলছে।
এই সময়ে আমাদের রাজ্যে একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম চলছে ,নির্বাচনী সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের অংশ হিসেবে আমরাও ছিলাম তার অংশ।আর ৩-৪ দিন পর তার ফলাফল প্রকাশ হবে, আমরা সবাই তার প্রতীক্ষায় আছি।
প্রথমত একটা কথা প্রথমেই বলা ভাল, প্রত্যেকে অবাধে নিজের ভোট দিয়েছে , সাথে একথাটা আমাদের উচ্চারিত করতে হবে বারবার যে আমাদের সহ নাগরিকের একটি অংশ শাসককুলের চক্রান্তে মতদান দেওয়ার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। রাষ্ট্র নিজের পিঠ চাপড়ে বলে যাচ্ছে,’ দেখলে কেমন নিরপেক্ষতার সাথে ভোট করালাম। “ আমরা শ্রমজীবিরা এই প্রচারে এই ভেবে আত্মতৃপ্ত হতে কখনও পারি না, যেখানে একদিকে কোটি কোটি টাকা নির্বাচনে খরচ , নির্বাচনী বন্ডে মনোপলির ইনভেস্টমেন্ট ভবিষ্যতে আরো শোষণের রাষ্ট্রীয় লাইসেন্স পাওয়ার জন্য, মিডিয়ার একপেশে সংবাদ - অন্যদিকে কুড়িয়ে, বাঁচিয়ে শ্রমজীবিদের ঘাম ঝড়ানো উপার্জনের খড়কুটো কখনো নিরপেক্ষ সম লড়াই হতে পারে না। এই ব্যবস্থায় নির্বাচনী লড়াই অসম। সবাই নিজের ভোট দিলেও অসম লড়াই। নির্বাচনে শ্রমজীবিরা জিতলেও লড়াই অসম ।
নির্বাচনকে আমরা আমাদের মুক্তির লড়াইয়ের পথে আল্টিমেট ভেবে নেওয়া যায় না, এই নির্বাচনে মানুষ নিজের ভোটাধিকার দিয়ে দিয়েছে , মানে গণতন্ত্র ,সমানাধিকার এর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে গেছি , এটা সর্বৈব মিথ্যে। এই ব্যবস্থায় নির্বাচন সবসময়ই শ্রমজীবীদের স্বার্থের পক্ষে অসম লড়াই । আর গোটা সমাজকুল শ্রমজীবীদের ধোঁকা দিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে গনতন্ত্রের এক্সারসাইজ করা হলো এসো তাতে সবাই ডুবে থাকি । আর তাতে যদি আমরা ভেসে থাকি তো তবে দাশু রায় এর লেখা সখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা / দোষ কারো নয় গো মা- ই আমাদের ভবিষ্যত।
ছোটদের একটা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে হয় , বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ।
তেমনি নির্বাচনী ব্যবস্থার দুটো দিক আছে ।নির্বাচনকে আমরা শ্রমজীবীরা কি চোখে দেখি? আমাদের কাছে নির্বাচন একটা শুধু সুযোগ যাতে আমাদের সমস্যার কথা , সমাধানের পথ আমরা মানুষের কাছে , অসংখ্য শ্রমজীবীদের কাছে তুলে ধরতে পারি।
যেমন আমাদের সামনে আমাদের কথা সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ এনে দেয় অন্যদিকে যেহেতু এই শোষণ ব্যবস্থা বদলায় না, নির্বাচনের পর শ্রমজীবী মানুষের ওপর আক্রমণ বাড়ে শাসক এর পক্ষ থেকে । জিতলেও এই আক্রমণ শেষ হয়ে যাবে না, কারণ মনোপলি তার ইনভেস্টের রিটার্ণ দ্রুত চায়। আক্রমণ নতুন ভাবে শুরু হয়ে গেছে ।নয়ডায় আক্রমণ ও লড়াই আমাদের বার্তা দিচ্ছে।দাবী কি ছিল? অস্বাভাবিক গ্যাসের দাম সহ মূল্যবৃদ্ধির বৃদ্ধির ফলে জীবনযাপনের খরচ ওঠে না মজুরী বাড়াও, শ্রমের দাম লুঠের বিন্দু ফেরত দাও আর তা পাল্টা রাষ্ট্রের পুলিশের হিংস্র আচরণ একদম কর্পোরেটের বিনাবেতনের গুন্ডার মত , শিকাগো থেকে নয়ডা এই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে।শিকাগো থেকে নয়ডা ১৪০ বছর ধরে সারা পৃথিবীর মেহনতি মানুষকে লড়তে হচ্ছে , এ লড়াই লড়ে হবে , আজকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবসে এই শপথ আমাদের নিতে হবে।কী কী আক্রমণের সম্মুখীন আমরা হবো?
গতকালই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১০০০ টাকার মত বাড়িয়েছে। সমস্ত ছোট ব্যবসায়ী যারা ফুটপাতে চপ বা চা বেচে সংসার চালায় তাদের ওপর সরাসরি আঘাত! কোনো প্রাক্তন চা ওয়ালা এর থেকে মুক্তি দিতে পারবে না , মূল্যবৃদ্ধির সমস্ত বোঝা চাপবে গরিব মধ্যবিত্তের ওপর। কেন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া আর আমাদের দেশের মানুষের ওপর বোঝা বেড়ে যাওয়ার যখন হচ্ছে তখন কেন দেশের মানুষের স্বার্থের উল্টোদিকে সেই সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন কোনো নির্বাচনি ফলে স্বীকৃত হয়ে যাবে না। আরও চেষ্টা হবে শ্রম কোড এ রাজ্যে লাঘু করার, এ রাজ্যে তা আমরা লাঘু হতে দেব না, গোটা দেশে একে ছুড়ে ফেলার লড়াইয়ে আমরা থাকবো। বিধিবদ্ধ পেনশন প্রকল্প এ রাজ্যে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে সর্বশক্তি দিয়ে লড়বো। সরকারী ক্ষেত্রে শূণ্যপদে নিয়োগ পুঁজি চায় না আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে নিয়োগ করার দাবিতে। চুক্তিবদ্ধ কর্মচারী বন্ধুদের নিয়মিত কর্মচারীদের মত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার আমাদের ঘোষিত দাবী অর্জনের লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে, এবং আর্থিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই লড়াই আমাদের চলবে । আপনি নির্বাচনে জিতলেও এই আক্রমণ বন্ধ হবে না এটা নিশ্চিত। ভারতবর্ষের বাস্তবতা এখন এটাই যে এই লড়াই লড়তে শ্রমজীবি মানুষ শিখছে যে এই ব্যবস্থা না পাল্টালে এর আক্রমণসমূহ থেকে চিরকালীন মুক্তি নেই।
এটা নিশ্চিত যতদিন এই শ্রেণীবিভক্ত সমাজ ব্যবস্থা থাকবে ততদিন আন্তর্জাতিক মে দিবসে আমাদের নতুন নতুন আক্রমণ ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পন্থা শ্রমজীবী মানুষকে অন্বেষণ করে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস জিন্দাবাদ।