শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
তুরতুরি টি এস্টেট ~ শৈবাল বিষ্ণু
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কাল্ট তৈরী ~ অরিজিত মুখার্জী
১৯৩৩ সালের মার্চ মাসে, হিটলারের ৪৪তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে মানহাইমের এক পরিবার থেকে একটা চিঠি এসে পৌঁছয় হিটলারের দপ্তরে। তাতে লেখা - "আমাদের ছোট্ট রিটা তার প্রিয় ফ্যুরারকে সম্মান জানাতে চায় হাইল হিটলার বলে। সেই জন্যে আমরা তার একটা ছবি পাঠালাম জার্মান স্যালুট করা অবস্থায়। রিটার বয়স দশ মাস, আমাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। ওকে যখনই আমরা প্রিয় অ্যাডল্ফকাকুর ছবি দেখাই, ও স্যালুট করে।"
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয় কি অমূলক ? ~ অরিজিত মুখার্জী
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এআই কি সত্যিই বিপজ্জনক ~ অনির্বাণ অনিক
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
কোথাও মানুষ ভালো রয়ে গেছে ~ সুব্রত ঘোষ
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
মিডিয়া তে ছাঁটাই ~ অনির্বাণ মাইতি
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
দিল্লি ডাইরি: যন্তর মন্তরের ইন্ডিয়া ~ শময়িতা চক্রবর্তী
দিল্লি ডাইরি: যন্তর মন্তরের ইন্ডিয়া
না লিখে রাখলে ভুলে যাব, তাই...
সোমবার, ২০ জুলাই: প্রথম টিয়ার গ্যাস জনপথে। প্রেস কার্ড সঙ্গে থাকলে পুলিশের লাঠি থেকে বাঁচা যায়। টিয়ার গ্যাস আবার প্রেস কার্ড বোঝে না। দম যখন প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে, একটা বাচ্চা মেয়ে (২২-২৪ বছর হবে) তার ওড়না খুলে অর্দ্ধেকটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, নাক মুখ চেপে রাখো। চোখ খুলো না। বাকি হাফ দিয়ে নিজের নাকে জড়িয়ে রাখল। ব্যাগ থেকে ছোট জলের বোতল বের করে খানিকটা নিজের চোখে দিল। বাকিটা আমার মুখে ছেটাল। ধোঁয়া কমলো, মিষ্টি হেসে ভিজে ওড়না উড়িয়ে চলে গেল।
পরের টিয়ার গ্যাস। আরেকজন বাচ্চা ছেলে হাত ধরে দৌড়ে নিয়ে গেল রাস্তার পাশে রাখা জলের ট্যাঙ্কে। বলল, 'জিতনা হোসাকে পানি দিজিয়ে।' চোখ খুলে দেখলাম, সে হাওয়া।
জনপথে যখন অটো চলতে শুরু করলো, তখন অফিস যাওয়ার তাগিদ হল। পাঁচজন অটোওয়ালা রিফিউজ করার পরে একজন রাজি হলেন। বললেন, 'যারা আজ মিছিলে এসেছে তাদের জন্যই আজ অটো বের করেছি। নাহলে বাড়ি থাকতাম।"
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই: কেরালা হাউসের সামনে থেকে আমি আর ক্যামেরাপারসন অভিরাজ (সবাই পার্থ হয়না, কেউ কেউ অভিরাজ হয়। একই রকম হার না মানা, অভিরাজ) যন্তর মন্তরের মঞ্চের দিকে এগোচ্ছি। ব্যারিকেডে ব্যারিকেডে ছয়লাপ। আগের দিন পুলিশের সঙ্গে ওই সাংঘাতিক যুদ্ধ যেন আগুনে ঘি দিয়েছে। ভিড় বেড়েছে বহুগুণ। মঞ্চের দিক থেকে স্লোগান জোরদার হচ্ছে। একটু কাছে গিয়ে শুনলাম, 'গোদি মিডিয়া হায় হায়।' চোখের সামনে দেখলাম, এক হিন্দি ন্যাশানাল চ্যানেলের সংবাদ প্রতিনিধি এবং তার সহকর্মী ক্যামেরাপারসেনকে ব্যারিকেডের বাইরে বের করে দেওয়া হল। বলা হল, বাইরে থেকে রিপোর্টিং করতে। অভিরাজের ক্যামেরা সাক্ষী। একই সঙ্গে আমাদের ঢুকিয়ে নেওয়া হল। স্বাভাবিক ভাবেই আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কী হল? কেন এটা করলে? রিপোর্টার তার চাকরি করতে এসেছে। এই বৈষম্য ভাল না, ইত্যাদি। হাঁটুর বয়সী ভলান্টিয়ার বলল, 'এদের গত ৩০ দিনের প্রতিবেদন দেখে এসো। তার পর তোমার কথা শুনব।' এর পরেও এই নিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বললাম। বুঝলাম, মূলধারার মিডিয়ার উপর এদের যতটা রাগ, তা সরকার বিরোধী ক্ষোভের থেকে কোনো অংশে কম না। এদের বক্তব্য, যে মিডিয়া ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে ভুলে যায়, সেই মিডিয়া অপ্রাসঙ্গিক।
এদিন সন্ধেয় যখন বেরলাম তখন আরেক কাণ্ড। কনট প্লেসের দিকের রাস্তায় পিটিসি দিচ্ছি। ভুল হচ্ছে যেমন হয়। আবার দিচ্ছি। এমন সময় হা রে রে রে রে রে... আবার পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে দৌড়চ্ছে। আবার জনতা ছুটছে। আবার টিয়ার গ্যাসের ওয়াগন ধেয়ে আসছে। আবার ক্যামেরাপারসন অভিরাজ ক্যামেরা নিয়ে ছুটছে। সঙ্গে ছুটছি আমিও। এমন সময় ইট বৃষ্টি। কনট প্লেসের দোকান বন্ধ হয়ে গেল ঝপাঝপ। আমি, অভিরাজ অন্যদের সঙ্গে মাথা বাঁচিয়ে সেই খণ্ডযুদ্ধ দেখে গেলাম। পরে শুনলাম, বাইরের লোক ইট পাথর মারছে। এদিন যে অঘটন ঘটেনি সেটাই আশ্চর্যের।
বুধবার, ২২ জুলাই: সকাল থেকে ছাত্র নেতাদের ইন্টারভিউ করছি। এদিন একা। সব শেষে আবার যন্তর মন্তর যাব। সঙ্গী হলেন এক ছোট আইসা কর্মী। তার আবার দুই পায়ে দুই রকম চটি। আগের দিন পুলিশের সঙ্গে ঝামেলায় এক পাটি হারিয়েছিল। তার পর যা পেয়েছে তাই পরে কাজ চালাচ্ছে। আজ টলস্টয় মার্গ দিয়ে ঢোকা। সেই কর্মী আমাকে তার চেনা রাস্তা চেনাচ্ছে। দেখলাম, ভিড় এড়াতে প্রতিদিনের কর্মীরা কত রাস্তা চেনেন। কীভাবে যেন সব ভিড় এড়িয়ে সরু গলি পেড়িয়ে চারটে গেট টোপকে মঞ্চের সামনে পৌঁছে গেলাম। একদম হ্যারি পটারের ম্যাজিক। এর পর আর কোনোদিন ওই রাস্তা চিনতে পারব কিনা জানি না।
আরো মজা হলো বেরোনোর সময়। এক অল্পবয়সী উকিলের সঙ্গে দেখা। একটা বাইট নেব। তার চোখ আমার জুতোয়। বলে, এটা তো থিয়েটারের জুতো। ওরা ফালতু দাম নেয়। তুমি বরং অমুক অমুক জায়গায় জুতো দেখো। স্টাইলের জুতো। কম দাম। বাইট এবং জুতোর দোকানের সন্ধান, এক ঢিলে দুই পাখি মারা হল আমার।
প্রসঙ্গত, এদিন রাতেও খণ্ডযুদ্ধ আটকানো যায়নি।
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই: আমার ফেরার কথা। হয়নি। টিকিট ক্যানসেল করতে হয়েছে। এদিন উত্তেজনা শুরু দুপুর থেকে। দুপুরে কনট প্লেস চত্বরে সমস্ত দোকান বন্ধের নির্দেশ আসে। আমরা চত্বরে পৌঁছতেই দেখই পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। অন্যান্য দিনের তুলনায় ২০ গুন বেশি পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। সকলেই যুদ্ধসাজে রেডি। মাথায় হেলমেট, গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হাতে শিল্ড। সাংবাদিকদের আলোচনায় তখন অফিস থেকে হেলমেট আর জ্যাকেট আনার পরিকল্পনা। সহকর্মী অন্য শহর থেকে ফোনে বলছেন ব্যাগে তোয়ালে আর জলের বোতল রাখতে। ছাত্রনেতারা মোটামুটি রেডি। সারা রাত যন্তর মন্তর পাহারা দিতে। বন্ধুবান্ধবদের থেকে ক্রিকেটের হেলমেট জোগাড় করে রাখছে। একজন বলল, শুধু মাথাটাই বাঁচাতে চেষ্টা করব। রাবার বুলেট বাঁচাতে পিঠে ব্যাগ থাকবে। জল, তোয়ালে, এই সব তো আছেই।
প্রথম অ্যান্টিক্লাইম্যাক্স, দিল্লি পুলিশ পরিষ্কার জানালো, আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর অন্তত এদিন রাতে কোনো 'ক্র্যাকডাউন' হবে না। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক। একেবারে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে জল।
শুক্রবার, ২৪ জুলাই: ফেরার দিন। তার আগে পর্যন্ত যন্তরেই। আজও ভিড়। একই রকম। বরং বেশি। অভিজিত দিপকের জ্বর। তখনও টাইফয়েডের রিপোর্ট আসেনি। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। ভিড় ঠেকে ঢুকতে গিয়ে আমি অল্পের জন্য মিস করেছি। ব্যাস। সে মঞ্চের মাঝে চলে গেছে। তখন জেদ, একটা বাইট পেতেই হবে। ফাইনালি বলল, 'সোনামজি অনশন ভেঙেছেন। ভালো হয়েছে। ওনার প্রাণের দাম অনেক বেশি। তবে আমরা আন্দোলন চালাব যতদিন না ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন।' জেদ জিতেছে, এই টুকুই।
এর পরেও যা যা মনে রাখার, তা হল, যন্তর মন্তরের অনেকখানি জুড়ে জ্যামার লাগানো থাকায়, এবং আমার ভি-এর এর নেটওয়র্ক থাকায় খুব ঝামেলা হয়েছে। অনেক দূর গিয়ে স্টোরি, বাইট, পিটুসি পাঠিয়ে আবার ফিরতে হয়েছে।
এসব কিছুর পরেও যা থেকে গেল: যন্তর মন্তর জুড়ে এই পাঁচদিনে যা দেখেছি তা আমার বেড়ে ওঠার ভারতের সঙ্গে মিলে যায়। গুরুদ্বোয়ারা থেকে খাবার, মসজিদের থেকে জল, এনআরআইদের ফুড ডেলিভারি, বৃষ্টি পড়লে প্লাস্টিকের রেনকোট, না পড়লে অচেনাদের হাতপাখার হাওয়া, জলের বোতল, স্যানিটারি প্যাড, হিন্দু, মুসলিম, শিখ, বিদেশি, দেশি স্বেচ্ছাসেবক, গান, ডাফলি, নাচ, স্লোগান, ডাক্তারদের ক্যাম্প, ক্যালপল, ওআরএস, স্ট্রিট প্লে , কস প্লে, কস্টিউম স্পাইডারম্যান, এভেরিথিং এভরিহোয়ার অল অ্যাট ওয়ান্স -- আমার স্বপ্নের দেশ।
যন্তর মন্তর যেন একটা ছোট ভারতবর্ষ হয়ে গেল এই কয়েকদিনে।
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
'প্রতীক উর' প্রশ্ন ~ বিভাস সাহা
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদ ~ অবীন দত্তগুপ্ত
শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
হরিয়ানা ও একটি মেয়ে ~ সমীক মুখোপাধ্যায়
বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩
ভোট ~ অমিতাভ প্রামাণিক
একপক্ষ – আগে জোট করে তোদের হারিয়েছি, এখন একাই হারালাম। ফোট!
অপরপক্ষ – আগে ব্যবধান ছিল দেড় লাখ, এখন মাত্র ক'হাজার। দাঁড়া, নেক্স্ট্ ভোট আসুক!
অর্থাৎ চরিত্র কিছুই বদলায়নি।
আমি জিতেছি, মানে মাথা কিনে নিয়েছি। যারা ভোট দিয়েছিস আমাদের, তারা তো আমাদেরই। যারা দিসনি, এবার দাঁড়া তোদের কেমন টাইট দি! জিতেছি, মানে যা খুশি করব। মানুষ আমাদের জিতিয়েছে, মানে বাংলাদেশের বর্ডারে পাকিস্তান। মাই জার্মান ফ্রেণ্ড, টাটাদের তাড়িয়েছি, পকেট গড়ের মাঠ, আপনারা ইনভেস্ট করছেন তো? জাপানী বন্ধু, কথা বলছেন না যে, হাঁপানি হল নাকি? বাংলা জানেন না তো বাংলায় কী করতে এসেছেন?
আমি হেরেছি, তাতে কী! গ্যাপ কমে গেছে। আর একটু এদিক সেদিক করতে পারলেই নেক্স্ট্ টাইমে, বলা যায় না ... আবার গদিতে। সেই পুরনো মসনদ, সেই লাল খাতার আস্ফালন, সেই ক্ষমতার চর্বিত-চর্বণ।
জনতা, কে জিতছে? তুমি তো হেরেই চলেছ হে! আর কদ্দিন?
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১
এ এম আর আই ~ উৎসব
মনুষ্যজাতির কলঙ্ক কিছু শিক্ষিত চকচকে শুয়োরের বাচ্চার সাথে এক সারি তে দাঁড়িয়ে আমরা শাইনিং ইন্ডিয়ানরা শপিং মল, রাস্তা, কফি শপের নতুন মেকওভারের কলকাতাবাসী যখন বস্তিবাসীদের দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকোই, বস্তি উচ্ছেদ হলে নোংরা ঝেটানোর সম আনন্দ লাভ করি, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ওরা। আজ কয়েকটি দগ্ধ মৃতদেহের জ্বলন্ত আভায় শাইনিং কলকাতার মধ্যে বেমানান গাঁজা, পাতা, ডেন্ড্রাইটের ঠেক পঞ্চাননতলার বস্তি, আর তার বস্তিবাসীদের লাল সেলাম!
কেননা তুমি তো ফেটে পড়ছো না রাগে
এখনো তোমার ভন্ডামি ভালো লাগে
ভন্ডামি কিছু আমারও মজ্জাগত
শ্রেনীর সুবাদে আমিও তোমার মত
কেননা তুমি তো ইচ্ছে করেই অন্ধ
চেয়েছ বলেই তোমার দুচোখ বন্ধ
আমিও অন্ধ তোমার মতন সখা
শ্রেনীর সুবাদে তোমারই মতন বোকা
অথবা চালাক সেয়ানে সেয়ানে দুই
তুমি আর আমি এসো পাশাপাশি শুই
সুবিধের খাটে আমাদের খুনসুটি
শ্রেনীর সুবাদে সমঝোতা লুটোপুটি
চুলোয় যাকগে যা আছে চুলোয় যাবার
আমাদের আছে অঢেল খাবারদাবার
কেননা তুমি তো ফেটে পড়ছো না রাগে
এখনো তোমার ভন্ডামি ভালো লাগে
ভন্ডামি কিছু আমারও মজ্জাগত
শ্রেনীর সুবাদে আমিও তোমার মত
~ কবীর সুমন
মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০১১
রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১১
অতি সংক্ষিপ্ত সংবাদ ও স্বাধিনতা
সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১১
রক্তে ভেজা কোলাজ ~ সদানন্দ কারিগর
রক্তে ভেজা কোলাজ
-সদানন্দ কারিগর
ঘটনা ১ : বাঁকুড়া সন্মিলনি মেডিকেল কলেজের মর্গ-এর উল্টো দিকের চা'য়ের দোকান। বহুদিন পর হঠাৎ দেখা এক কমরেড-এর সাথে। চিৎকার করে ডাকি- আরে কমরেড, কি খবর? এখানে? সেই চেনা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে দু-হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। মুখটা একটু শুকনো। মনটা খচখচ করে উঠল। তাহলে কি কোন আত্মীয়-স্বজন…
অদ্ভুত ক্ষমতা এদের অন্যের মনের কথা বোঝার। হাতটা চেপে ধরে বললেন, বাড়িতে সব ভালই। পার্টী থেকে দায়িত্ব দিয়েছে মর্গ সামলানোর। সারেঙ্গা বা বাঁকুড়া জেলা লাগোয়া অঞ্চলে প্রায় রোজই কমরেডরা খুন হচ্ছেন। 'বডি'গুলো এখানেই আসছে। আমরা সাহায্য না করলে গ্রামের মানুষ আরও বিপদে পরবে। তাই…
শহুরে মধ্যবিত্ত - অবাক চোখে আকাশটাকে আঁকড়ে ধরে পালাতে চায়। পারেনা। আবার সামাল দেয় সেই কমরেড। পকেট থেকে একটা কালো সুতোর বিড়ি বাড়িয়ে দিয়ে বলে, ছাড়ো ওসব। মুহূর্তে স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে বলি, এখনও কতো এসেছে? উনি বললেন- প্রথম প্রথম হিসেব থাকতো। এখন আর থাকেনা। তবে জান কমরেড, একটা ঘটনা কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারছিনা। রাতে শুতে গেলেই মনে পড়ে। ঘুমাতে পারিনা। সেপ্টেম্বর- এর ১০ তারিখ। সারেঙ্গাতে খুন হন ৭১ বছরের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক কৃষ্ণ কুণ্ডু। পরের পরের দিন, মানে ১২ তারিখ ওনার ছেলে এসেছে। আমরা দাঁড়িয়ে আছি। ছেলেটা আমার পাশে। খেয়াল করিনি, কখন আমার কাঁধে মাথাটা রেখেছে। 'বডিটা' বের করা হচ্ছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি লাল পতাকাটা নিয়ে। ঢেকে দিতে হবে। হঠাৎ ছেলেটা বলে উঠল- 'কাকু, বাবার মুখটা একটু পরিষ্কার করে দেবে? এত রক্ত, ভাল করে দেখাই যাচ্ছে না।' বিশ্বাস করো কমরেড, ঘুমোতে গেলেই কথাটা কানে বাজে। মনে হয় ছুটে যাই জঙ্গল মহলে। দেখি একবার ওদের কত শক্তি। পার্টী হাত বেঁধে রেখেছে, আমাদের কিচ্ছু করার নেই।
ঘটনা-২ : ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের শেষ সমাবেশ। একটু আগে লালগড়ের বিনপুর জোনাল কমিটির মিছিল এসে ঢুকেছে। উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সহযোদ্ধাদের স্বাগত জানিয়েছে মাঠ। ওঁরা বসলেন মাঠের এক কোণে। মঞ্চে বুদ্ধদেব ভাষণ দিচ্ছেন। আমি থাকতে না পেরে চলে গেলাম ওদের কাছে। বললাম- 'লাল সেলাম কমরেড, দারুণ লড়ছেন আপনারা'। প্রত্যুত্তরে হাতের মুঠি শক্ত করে লাল সেলাম জানালেন। কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। আবার অবাক হই। ভাবি তাহলে কি আমার পোশাক বাধা হ'য়ে দাঁড়াল? আমাকে কি কমরেড ভাবতে পারছেন না? বসে পরি ওদের পাশেই।
বক্তৃতা শেষ করলেন বুদ্ধদেব। পাশের মানুষগুলো উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন। বছর পঁচিশের এক যুবক শূন্যে হাতটাকে ছুঁড়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন- 'ই ই ই ইনকিলাব', চারপাশ কাঁপিয়ে আওয়াজ উঠলো 'জি ই ই ই ন্দা বা আ আ দ'।
এক মাঝবয়সী কমরেড এবার তাকালেন আমার দিকে। জানতে চাইলেন আমি সাংবাদিক কিনা। বললাম না না তেমন কিছু না। এবার তাকালেন সোজা। বললেন, লেখেন নিশ্চয়ই? কিছু জানতে চান? আমতা আমতা করে বললাম- 'ইয়ে মানে পেপার পড়েতো সব ঠিকমতো জানা যায় না। আপনাদের মুখেই তাই শুনতে এসেছি আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা'।
-আপনারা শহরের লোক, পারবেন শুনতে ওসব? আমার বাড়ী শালবনী। ২০০৯ সালের জুন মাসে, ১০ জন কমরেড কে ধরে নিয়ে গেছিল ওরা। দীনবন্ধু সরেন, প্রবীর মাহাত, মলয় মাহাত, সঞ্জয় মাহাত, কেশবচন্দ্র মানা, ধীরজ মানা, মোহন সিং, দেবব্রত সরেন, অসিত সামন্ত আর নাড়ু সামন্ত। হাত-পা বেঁধে রোদের মধ্যে ফেলে রেখেছিল সারাদিন। প্রচন্ড তেষ্টায় জল চাইলে মুখে পেচ্ছাব করে দিয়েছিল মাওবাদীর দল। তারপর একটা ছোটো ঘরে লঙ্কার বস্তায় আগুন ধরিয়ে সেখানে সবাইকে ঢুকিয়ে দম বন্ধ করে মেরে লাশগুলো গায়েব করে দিয়েছে। শালবনী হাইস্কুলের মাষ্টার মশাই, একমাত্র ছেলে মলয় মাহাত-র ছবি নিয়ে আজো জনে জনে জিজ্ঞেস করে তার ছেলের কথা। মা-বাবা দুজনেই আজ সন্তান শোকে পাগল।
বৈতার স্নেহাশীষ দাস। ওর বৌটার সেদিন 'সাধ'। ভজালি দিয়ে গলাটা কেটে আনন্দে চীৎকার করেছিল ওরা। পাগল বৌটার একমাস বাদে একটা মেয়ে হয়েছিল।
কানাই দিগনায়েক। বৌ-ভাতের দিন ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে গুলি করে মারে। সদ্য বিয়ে আর একই সাথে বিধবা হওয়া বৌটা এখন শুধু তাকিয়ে থাকে। কথা বলেনা।
আকাশ বেজ আর তাপস মণ্ডল। গুঁড়ি গ্রামে বাড়ি। মকর সংক্রান্তির নতুন জামা কাপড় কিনতে গেছিল ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনপুর হাটে। গুলি করে মেরে দেয় ওরা।
বেলাটিকরি অঞ্চলের জামদা হাইস্কুলের শিক্ষক কার্ত্তিক মাহাত। পড়াচ্ছিল। ছাত্রদের সামনেই গুলি করে মারে। দুজন ছাত্র তারপর থেকে ভয়ে বোবা হয়ে যায়।
আমার ভেতরটা গুলিয়ে ওঠে। থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করি, এর পরেও লড়ছেন, ভয় করেনা? অদ্ভুত হাসি হেসে ওঠেন উনি। হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করেন- 'একটু আগে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কি বলল শুনলেন? এভাবে আমাদের শেষ করা যায় না। জয় আমাদের হবেই'।
গোটা দলটা উঠে দাঁড়ায়। এবার ওদের ফিরতে হবে। মরার জন্য, নাকি অনেককে বাঁচাতে? উত্তরটা অজানাই থেকে যায়।
ঘটনা ৩ : সন্ধ্যে ৭টার প্রেস ক্লাব। কোণের TV তে প্রাক্তন নকশাল নেতা কতিপয় বুদ্ধিজীবী পরিবেষ্টিত হ'য়ে 'রেজিমেন্টেড পার্টী-র' বাপান্ত করছেন। একটু আগেই বামফ্রন্টের আসন্ন পরাজয়-এর সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষন করে আসা ক্লান্ত সাংবাদিক কেরাম-এর বোর্ড থেকে ঘার ঘুরিয়ে এক ঝলক সেটা দেখে নিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন 'শালা রেড-বুকটাও পড়েনি। শংকর দুটো লার্জ বিপি আর সোডা দিস্'।।
************
সাত্রে'র নাটকটা মনে পড়ে? কিভাবে একজন সাংবাদিক একটু একটু করে Pathological liar-এ পরিণত হয়? যদিও তারা জানে, তারা যা লিখছে তা আসলে মিথ্যে। একসময় তারাই সেটাকে সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।
এই মুহুর্তে আমরাই বা কম যাই কিসে? আপাদমস্তক মিথ্যেয় মোড়া অর্ধশিক্ষিত এক ছিটেল মহিলার পেছনে মনে মনে একবারো কি দৌড়াইনি? একবারও কি মনে হয়নি, জঙ্গলে রক্ত ঝরছে কারন অনুন্নয়ন? যেন শ'খানেক গরিব মানুষ মরলেই ওখানে উন্নয়নের বন্যা বয়ে যাবে? একবারও কি মনে হয়নি, যাক না একবার বামফ্রন্ট সরকারটা বছর খানেকের জন্য? সেই মুহুর্তে মনে হয়েছিল কি, গোটা রাজ্যটাই জঙ্গলমহল বানিয়ে দিতে পারে ওরা? সপাটে নিজের গালে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে হয় কি তার জন্য?
এখনও সময় আছে। অথবা এই তো সময়। লাল পতাকাটাকে আরো উঁচুতে তুলে ধরুন। এ লড়াই জিততেই হবে।
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০০৯
সুজনকে নিয়ে মিথ্যা-লিখন মুছল প্রশাসন
উল্লেখ করা যেতে পারে যে ডঃ সুজন চক্রবর্তীর website থেকে নেওয়া তথ্য অনুযায়ীঃ
The actual figure of MPLAD Fund expenditure of Dr. Sujan Chakraborty is varying with Loksabha website and MPLAD website www.mplad.nic.in.
This is to be noted the in the website www.mplad.nic.in the MPLAD Fund expenditure mentioned is a consolidated report since 1993.
The mentioned unspent amount of Rs. 4.71 Crore is not in the part of Dr. Sujan Chakraborty during his tenure as MP of Jadavpur. The figure is a carry forwarded figure from past MPs’ of Jadavpur Constituency.
There is no flaw in the figure of expenditure of Dr. Sujan Chakraborty as mentioned in the website www.sujan.info as certified by the District Development and Planning Department, South 24 Parganas District. Only an amount of Rs. 10 Lac is not included in that certificate as it was released centrally for Bihar Flood Relief Fund.
Actual Figures of MPLAD Fund of Dr. Sujan Chakraborty is as follows:
Total approved Scheme: Rs. 10 Crore 50 Lac
Total Released Amount: Rs. 8 Crore 52 Lacs
Details here: http://sujan.info/mplad_tab.html

