রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
চুনো মাছ ও বাল্যকাল ~ অনিমেষ বৈশ্য
শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
পুলিশের ডাক ~ অনিমেষ বৈশ্য
সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সেবার শীতকালে - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পেট্রোল - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫
ভালোবাসার টুকরো ছবি - শুভাশিষ আচার্য্য
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫
হাপুস হুপুস - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
শনিবার, ২ মে, ২০১৫
ভরসা থাকুক - অবিন দত্তগুপ্ত
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৫
দুপয়সার রবি - গোধুলি মিত্র
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৫
গোগ্রাস - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
জে ইউ ভিসি ~ অমিতাভ প্রামাণিক
ভাংলো বলে তেলের শিশি?
মেরুদন্ড ভাংছে দেখো
ধেড়েখোকা জে ইউ ভিসি,
তার বেলা?
_________________________________________
ভিসি হাঁকেন, ওরে, আমার ল্যাজ গিয়েছে চুরি!
ল্যাজ হারানো? আজব কথা! তাও কি হয় সত্যি?
ল্যাজখানা তো তেমনি আছে, চুল-টুল সব ভত্তি।
সবাই তাঁরে বুঝিয়ে বলে, শুধরে দিয়ে ভুলকে,
আসছে রাণী, ল্যাজ নেড়ে তার চরণ দিও চুলকে ...
রেগে আগুন, তেলে বেগুন, তেড়ে বলেন ভিসি,
ল্যাজ হারালো আমার, তোরা ডাকিস নিরুপিসি!
লতানো পুঁইডাঁটার মত বাঁকানো রামধনু,
এমন ল্যাজ তো রাখতো জানি রামায়ণের হনু।
এ ল্যাজ যদি আমার বলিস, উড়াবো সব খুলি।
এই না বলে ক্যাম্পাসেতে ডেকে নিলেন পুলিশ।

__________________________________________
ছাত্রনিধন-যজ্ঞ চলে, কলকাঠি তার নাড়ছেটা কে?
কোন সাপে খায় দুধকলা সেই মধ্যরাতের বিছনা ফুঁড়ে?
পালিয়ে তোরা বাঁচবি কদিন, ঢিল মেরেছিস যে মৌচাকে -
রাস্তাগুলো সব চিনে রাখ, মিলবে দেখিস যাদবপুরে।
মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
বাঙালনামা - ২ ~ তমাল রাহা
বদলে গেছে অনেক কিছুই, আগে ছিল রেডিও, তারপর সাদা-কালো টেলিভিশন, আস্তে আস্তে তাতে রঙের প্রলেপ পরল। আগে সংবাদপত্রে মতি নন্দী, আর এখন ….. থাক সে কথা। আসলে প্রফেশন ব্যাপারটা কে ভালো-না-বসলে কোয়ালিটি ব্যাপারটায় কম্প্রমাইজ করতেই হয়।
দুর্গাপুরে থাকাকালীন মোহনবাগানী বন্ধু বেশি ছিল। কেন জানি না, এইসব মাচা-লোটা, এই শব্দগুলো অজানা ছিল। বাঙাল-ঘটি আর ইলিশ-চিংড়ি র মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তর্ক। বদলে গেছে সত্যি অনেক কিছুই! তখন ময়দানে দুটো কাগজ বেরোতো, মোহনবাগানের খেলার দিন 'গড়ের মাঠ' আর ইষ্টবেঙ্গলের দিন 'অলিম্পিক'। দলবদল আর ক্লাব কেচ্ছা ছাড়া .... ঐ কাগজ গ্যালারীর কাঠে পেতে বসা আর রোদ ঠেকানোর কাজ-ও হতো। আজকাল তো দেখি না আর ….
পাড়ায় একটাই টেলিভিশন, কল্যাণ-দা দের বাড়িতে। কিন্তু মোহনবাগান গোল খেলেই টেলিভিশন বন্ধ। অগত্যা ভরসা রেডিও। রেডিও তা ছিল বহুদিনের সাথী। বারাকপুর এ আসার পরেও শুরুর দিকে টেলিভিশন ছিল না। দল বেঁধে রেডিও শোনা হতো, বাড়ির উঠোনে। বারাকপুর এ আবার বাঙালের সংখ্যা বেশি। আমি, জেঠু, জেঠুর বন্ধুরা আর পড়ার অনেক পোলাপান। মাঝে মাঝে ঠাম্মা বা জেঠিমা এসে জিগ্যেস করতেন "কেডায় গোল দিসে?" ওদের আগ্রহটা ঐখানেই শুরু আর ঐখানেই শেষ। মনে আছে একবার রেডিও তে গোল শুনে শংকর-দার বাবার কি নাচ, খেয়াল-ই নেই যে পরণের লুঙ্গিটা ভুমিসজ্জা নিয়েছে!
বাংলায় ধারাভাষ্য কোনকালেই খুব একটা উচ্চমার্গের ছিল না , কিন্তু একটা অদ্ভূত ভালো লাগা ছিল।
কতকাল হয়ে গেল, বিকেল তিনটে
কাঠের রেডিও, তার নবটা পাল্টে
বন্ধ হলো সবে অনুরোধের গান,
খেলা ইস্ট বেঙ্গল আর মোহনবাগান।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ছোঁয়া আসার পরেও অনেক কে বলতে শুনেছি "ও: জংলার ফ্রি কিকটা মনে আছে (অবশ্য যে দেখেছে সে জীবনে ভুলবে না)। আমাগো বেকহ্যাম লাগতো না।" পাশ থেকে জেঠু মাথা নাড়তেন আর বলতেন সামাদ সাহেবের গপ্পো। দুবার নাকি বারপোস্ট শট লাগার পর রেফারি কে গিয়ে বলেছিলেন, "বারপোস্ট ছোট", তারপর মেপে নাকি দেখা গেল সত্যি তাই ! অব হযে শুনতুম।
আবেগপ্রবণ বাঙালি। তাই ধারাবিবরণী তে সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটত স্বাভাবিক ভাবেই। সেটা বোধহয় ২০০৬, ওয়ার্ল্ড কাপ চলছে তখন। ব্রেজিল ফ্রান্সের কাছে হেরে গেল। টিভি চ্যানেলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। একটি চ্যানেলে পিকে-র বক্তব্য - ... কাকা এক একটা স্ট্রেচের দৌড়ে চার-পাঁচটা ডজ, এক একটা ডজে ৬০-৭০ গজ টেনে বেরিয়ে যাচ্ছিল ... (ফুটবল মাঠের দৈর্ঘ্য বোধহয় ১২০-১৩০ গজ, ফ্লো-তে পিকে-র সে সব খেয়াল নেই)। প্রসুন বানার্জী কেও একবার ইস্ট-মোহন ম্যাচ এ হেমন্ত ডোরার এক অনবদ্য সেভ নিয়ে বলতে শুনেছিলাম …. 'একটি অবৈধ গোল বাঁচালেন হেমন্ত"। পিকে -কে অনেকবার দেখেছি খেলোয়ারদের সংগ্রামী মনোভাবকে ক্ষুদিরাম, ভগৎ সিংহের আত্মবলিদানের সাথে তুলনা করতে। সবই বাঙালির আবেগ।
তবে এই আবেগের শুরু আরো আগে। অজয় বসু কে মনে পড়ে? কথা বলতে বলতে গলার পারদ চড়তো ক্রমশ।
...ফাউল , ফাউউউউল, ফাউউউউউউউউল ….
হ্যাঁ, আমি তিনবার বললুম বটে, তবে ফাউলটা তেমন গুরুতর কিছু ছিল না, পোর্ট ট্রাস্টের ডিফেন্ডার কৃশানুকে হাল্কা ধাক্কা দিয়েছেন যা রেফারির নজর এড়ায়নি। কিন্তু ফাউল করার সময় খেলোয়াড়দের মনে রাখতে হবে মাঠভরা দর্শকদের আবেগের কথা, মনে রাখতে হবে তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা থেকে ঘটে যেতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, সামান্য প্ররোচনায় দর্শককূল হয়ে উঠতে পারে উন্মত্ত (গলা চড়ছে), মনে রাখতে হবে উনিশশো আশি সালের ষোলই আগস্ট (গলা আরও চড়েছে), সেদিন যে পাপ আমরা করেছি তার ক্ষমা নেই, (ব্যাকগ্রাউন্ডে তুমুল দর্শকোচ্ছ্বাস অগ্রাহ্য করে) নিরীহ নির্দোষ ফুটবলপ্রেমীদের রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল ইডেনের গ্যালারি (গলা এখন তারসপ্তকে) - সে রক্তের দাগ আজও আমাদের হাত থেকে মোছেনি।
(ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়াজ কিছুটা থিতিয়ে এসেছে, গলা ফের মন্দ্রসপ্তকে) এসব বলতে বলতে বোধহয় গোল হয়ে গেল ... কে গোল করলেন সুকুমার?
সুকুমার সমাজপতি: অজয়দা, আমার ঠিক সামনে একটা থাম পড়ে যাওয়ায় আমি ঠিক দেখতে পাইনি কে গোলটা করলেন, তবে খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হল কুলজিৎ।
সুকুমার সমাজপতি আবার ৬০ এর দশকে ইষ্টবেঙ্গলে খেলে গিয়েছেন। তো, উনি যখন ভাষ্য দিতেন, কোনো একটা মুভ, আগেথেকে আঁচ করতে চাইতেন ...... ফলে ওনার ভাষ্যতে প্রচুর 'না' থাকতো ...... যেমন .....
--- প্রবীর (মজুমদার) বল ধরেছেন .... সামনে ফাঁকা জমি .... এগোবেন কি ... না .... হাবিব-কে পাস করলেন । হাবিব এবার কি করবেন .... গোলমুখে সেন্টার করবেন ? .... না না ..... সুভাষকে দিয়েছেন .....
সুকুমার সমাজপতি আবার নিজের গা থেকে ইস্টবেঙ্গল গন্ধটাও ছাড়তে পারেন নি ধারাবিবরণীর সময়েও। ওই যে বলছিলাম, বাঙাল-এর (বা বাঙালীর) আবেগ! খেলার বিবরণী দিতে দিতে হঠাত করে চলে যেতেন স্মৃতিচারণে। কথার ফ্লো তে খেয়াল নেই যে ইষ্টবেঙ্গল গোল খেয়েছে রাজস্থান-এর কাছে। গ্যালারি যথারীতি চুপ। হঠাৎ খেয়াল হতে, 'যা তেরি! এ কি কেলো! ইষ্টবেঙ্গল গোল খেয়ে গেল' । পরের দিন কাগজে কমেন্টেটর-এর পক্ষপাতদুষ্ট বিবরনী নিয়ে সমালোচনা।
তবে এব্যাপারে পিকে কে কেউ ধরতে পারবেন না। ইডেনে বড় ম্যাচ। অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে। পি কে, প্রায় মিনিট দশেক স্মৃতি চারণের পর ... ' ... প্রশান্তর সামনে মনোরঞ্জন কতটা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বুঝাতে না পারলেও, আমার সামনে একটি বিশাল থাম্বা এবং মুশলধারায় বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আবার অলিম্পিকে ফিরে যাই... যে কথা বলছিলাম, ৫৬-তে মেলবোর্নে …
আজ অনেক কথা মাথায় আসছে। আজ CFL এর নির্ধারক ম্যাচ। আমার ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগানী বাবলু ভাত্চার্জির কোচিং এ তৈরী টলিগঞ্জ অগ্রগামী।
আজ ইস্টবেঙ্গল জিতলে পর পর পাঁচ বছর CFL জয়ের হাতছানি, অবশই দারুন ব্যাপার। টলিগঞ্জ অগ্রগামী জিতলেও কলকাতার ফুটবল এর পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান , মোহামেডান এর বাইরে কেউ জিতবে। শেষ হযেছিল ১৯৫৮ সালে। বাঘা সোম এর কোচিং এ পিকে ব্যানার্জির ইস্টার্ন রেল। যদি খেলা ড্র হয়? নেপোয় দই মেরে যাবে , মানে ভোম্বল এর মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল জিতুক মনে প্রাণে চাই। টলিগঞ্জ অগ্রগামী জিতলে "আমি দুঃখ পেলেও, খুশি হব জেনো " ….. চাই না খেলাটা ড্র হোক আর নেপোয় মাঝখান থেকে দই মেরে যাক , আসলে আমি মনে প্রাণে বাঙাল তো !!
রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিছনে ফিরে তাকানো - নিলাঞ্জন গুহমজুমদার
...
...
সেই ইঁটপাতা গলিতে খেলা, স্নিগ্ধ বিকেল গুলোতে, আর সন্ধ্যে হলেই মা-ঠাম্মার বাড়ি ফেরার ডাক। রবিবার গুলো অন্যরকম – বাবার বাড়ি থাকা, দুপুরে খাসির মাংসের ঝোল দিয়ে অনেকটা বেশি ভাত খেয়ে ফেলা, আর তারপর একটা লম্বা ঘুম। সন্ধ্যেবেলা হঠাৎ করে কারুর বাড়িতে আসা, গল্প, আড্ডা – জমজমাট সন্ধ্যে।
তারপর কৈশোর – সেই বড় হবার আনুভুতি, বাঁধন ছেঁড়ার ইচ্ছে, কিছু অন্যরকম করার উত্তেজনা। আর রোমান্টিকতা। সবকিছুতেই ভালো লাগার অনুভুতি, সেই নীল আকাশ, দুরদুরান্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ, শালিক-র কিচির মিচির, বয়ে যাওয়া হাওয়া, তিরতির করে কাঁপা পুকুরের জল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যে পর্যন্ত চলা বন্ধুদের আড্ডা, খোলা আকাশের নিচে। দলবেঁধে পড়তে যাওয়া স্যারেদের কাছে, পড়া, বাড়ি্র লোক-কে লুকিয়ে পড়া-ফেরত আড্ডা, নোটবই দেওয়া-নেওয়া, সেই সুযোগে হাত-র কিছু স্পর্শ, আড়চোখে তাকানো, অল্প লাজুক হাসি, চোখের ভাষায় কথা।
সময় এগিয়ে যায়। যৌবন আসে। দায়িত্ব শব্দটা মাঝে মাঝেই কানে এসে পৌঁছয়, নিজের অজান্তেই বড় হতে থাকি। কৈশোর-র কিছু ভালবাসা পূর্নতা পেতে থাকে, কিছু রয়ে যায় শুধু স্মৃতিতে।কলেজ, অন্য শহর – পৃথিবী-টা বড় হতে থাকে। নতুন মানুষ, নতুন জীবনের স্বাদ, কিছু পুরনো স্বপ্ন, কিছু নতুন। সময় এগিয়ে যায় হু হু করে।
হঠাৎ একদিন, খবর আসে, রোগ আর জ্বরার আমোঘ থাবার গ্রাস করার খবর, হয়েতো বা কোনো প্রিয়জন। বুঝতে পারি, পৃথিবী-টা শুধুই এগোনোর নয় – সেই প্রথম পিছন ফিরে তাকানো। কর্কট রোগ বাসা বাঁধে প্রিয়জন-র শরীরে – জীবনের লড়াই আর তার ক্ষতগুলো সামনে আসতে থাকে।
সংসার বড় হতে থাকে, আর্থিক স্বচ্ছলতাও বাড়তে থাকে। কিন্তু বড় হওয়া জীবন, বড় হওয়া সংসার, কেমন যেন মাঝে মাঝে দুলতে থাকে, ভাঙতে থাকে। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না, এগিয়ে যায়। শুধু দিনগুলো কেন যেন আরো দীর্ঘ হতে থাকে, রাতগুলো আরো নিঃশব্দ হতে থাকে।
আর একদিন, হঠাৎই, আকাশে একটা নতুন তারা জুড়ে যায়। আর হাত-টা যখন ঘুমের মধ্যে সেই চেনা আঁচল-টা খোঁজে, ঘুমটা ভেঙ্গে যায় এক ঝটকায়, জামাটা ভিজে যায় ঘামে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, খুঁজি সেই তারা-টাকে, হয়েতো খুঁজে পাই, জানি না, কিন্তু তার আলো আর ঊষ্ণতা আমাকে স্পর্শ করে না আর। বড় ঠান্ডা লাগে – অন্ধকারে।
আরো তারা জন্ম নেয় আকাশে, অন্ধকার আর ঠান্ডাও বাড়তে থাকে, ঘিরে ধরে চারিদিক থেকে।
এরপর, অনেক অনেক দিন পরে, হঠাৎ একদিন আবার সুর্য ওঠে চারিদিক আলো করে, মেঘ সরে যায়। ফিরে আসে ঊষ্ণতা, ফিরে আসে এগিয়ে চলার তাগিদ। পৃথিবী-টা আবার সেজে ওঠে, দিনগুলো আবার আলোকিত হয়, রাতগুলো হয় বর্নময়। জীবনের লড়াই-টা কেমন যেন সহজ হয়ে যায়। তরতর করে এগিয়ে যায় জীবন, সব ক্ষত কোথায় যেন মিলিয়ে যায়।
সূর্য অস্ত যায়, আবার ওঠে। ঘুম আসে, ঘুম ভাঙ্গে।
একদিন – সূর্য অস্ত গেল।
...
...
খুব মেঘ করেছে। সূর্য-টা আর দেখা যাচ্ছে না।
ফিরে আসছে ঠান্ডা, ঘিরে আসছে অন্ধকার।
সামনের পথ-টা খুব অন্ধকার। কি আছে ওখানে? দুর্বার পাহাড়? অতল খাদ? নির্মম জলহীন মরুভূমি? ঘন কালো অসীম জল?
জানিনা। হারিয়ে গেছে আলো, হারিয়ে গেছে ঊষ্ণতা।
তাই, আজ আবার পিছন ফিরে তাকালাম।
শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
ঝরা পাতা ~ সংগীতা দাশগুপ্তরায়
পুরোনো ব্যাগ ফেলে দেওয়ার আমরা একবার এ পকেট ও পকেট হাতড়িয়ে দেখে নিতাম। মাঝে মাঝে নীলচে মত একটাকা, লাল দুটাকার নোট বা জলতরঙ্গ খাঁজওয়ালা দশ পয়সা পাওয়া যেত। দাদু বলতেন পয়সার ব্যাগ কখনও খালি রাখতে নেই। অন্ততঃ কটা খুচরো পয়সাও থাকা উচিত। তাতে ব্যাগের অভ্যেস থাকে টাকা রাখার। কার্ডে কেনার যুগেও তাই কিছু কাগুজে টাকা বা কয়েন পার্সে রাখাটা অভ্যেসে ঢুকে গেছে। তাতে একটা সুবিধাও আছে। সবসময়েই কোন না কোন ব্যাগে কিছুমিছু টাকা থেকেই থাকে...
নীলকন্ঠ স্যারের কাছে ইংলিশ পড়তাম আমরা। সত্তরোর্ধ মাস্টারমশাইকে ভয় পেতাম না একদম, ভালবাসতাম ভীষণ । ছোট্ট ঘরটাতে ঢুকতাম বিকেলে । একটু পরে জানলার ওদিকে সন্ধ্যে নামত। এদিকে ঘরে ঘরে ধূপ আর প্রদীপের শিখা নিয়ে ঘুরে যেতেন দিদা (স্যারের স্ত্রী) । ধুনোধূপের গন্ধটা ঘরে ঘুরতে ঘুরতেই ঝপ করে লোডশেডিং। দিদা স্যারকে একটা হাতপাখা দিয়ে যেতেন আর আমাদের একটা। গোল হাতলের হাত পাখা আর সে হাতলটা ঢোকানো আর একটা সরু ফাঁপা পাইপের মত হাতলে। দিব্যি হালকা হাতে ঘোরালে তিনশো ষাট ডিগ্রিতে ঘুরত, আমরা সবাই একসঙ্গেই হাওয়া পেতাম। স্যার ওই সময় মুড়ি খেতেন নকুলদানা দিয়ে। একটা ছোট বাটিতে স্যারের মুড়ি আসত আর একটা বড় বাটিতে তেলমাখা মুড়ি আসত আমাদের তিনজনের জন্য। মাঝেসাঝে স্যার হ্যারিকেনের সলতেটা একটু নামিয়ে আমাদের গল্প বলতেন। মানুষের গল্প , মৃত্যুর পরের রহস্যময় জগতের গল্প, বিশ্বযুদ্ধের গল্প কিচ্ছু বাদ যেতনা। কারেন্ট আসার আগেই কোন কোনদিন আমরা পড়া সেরে উঠে পড়তাম । ফেরার পথে একটা বাদামী রঙ্গের ইঁট বার করা বাড়ি ছিল। সে বাড়িতে নাকি নতুন বউ বউভাতের পরদিন গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েছিল। আমি মৌ আর রিনিদিদি নিজের নিজের পছন্দের ঠাকুরের নাম করতে করতে পেরিয়ে যেতাম বাড়িটা । একচিলতে ওই ঘর, প্রত্যেক সন্ধ্যের লোডশেডিং আর ভুতুড়ে তকমাওয়ালা বাড়ি আমায় শিখিয়েছিল হাওয়া, মুড়ি, ভয় সবই ভাগ করে নেওয়া যায়...
জীবন কত কিছু যে শিখিয়েছে তার হিসেব নেই । জীবন জুড়ে যত মানুষের আনাগোনা, তাদের সবার কাছে কিছু না কিছু শিখেছি। শুধু আজকের দিনটাই নয়। প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তেই জীবনের কাছে ঋণী আমি, জীবনের সঙ্গে জুড়ে থাকা বা ছিন্ন হওয়া প্রতিটি মানুষের কাছেও...
শিক্ষক দিবসের শুভকামনা সব্বাইকে ...
