শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

বই পাড়ানো ~ সোমনাথ রায়

ফুটপাথে উই ধরে কত বই পড়ে থাকে, ক্রমে
রোদে ও বৃষ্টিতে গলে যায়
বইমাত্রেই তা অপাপবিদ্ধ হবে কেন?
রেসের বুকির বই, সূচীকার্যে গাঁথা ধর্ষকাম
কাহিনির সংকলন- তাকেও কি প্রণাম করবে? 
অথবা যে বুকলেটগুলি
ঘৃণার বেসাতি করে, দাঙ্গার আহ্বান আনে
নয়তো ন্যায্যতা দেয় শোষণ বৈষম্য ও সন্ত্রাসকে
তাকে যদি ঘৃণাভরে ছিঁড়েখুরে ফেলি-
সেটাও তো রাজনীতি হতে পারে

তবুও মুদ্রিত পাতা যদি পায়ে ঠেকে
অজান্তে হলেও দেখি আঙুল কপালে রাখি আমি
কেন রাখি? কী আছে মুদ্রণে?
কী আছে কালির দাগে কিংবা সদ্য লিপি শেখা শিশুর পেনসিলে-
আমরা বুঝি না কেন এই লিপি
এক সমগ্রকে গেঁথে তোলে চোখের ওপর-
গ্রন্থের শরীরে কী বা থাকে?
এখন ভিডিও কত- কত রিল, জীবন্ত বক্তৃতাগুলি
কত অনায়াসে দুরূহ তাত্ত্বিক বস্তু কত স্পষ্ট করে তোলে
তবু কেন আমি- আমার ছাত্রছাত্রীকে
বলি- টেক্সট বই পড়ো, টেক্সট বই-
বইয়ের অন্তরে লেখকের আত্মা মিশে যায় বিষয়ের শরীরে
অনন্তের খণ্ড থেকে কোনও এক সমগ্রকে
বাঁধেন লেখক- দুই মলাটের ফাঁকে
খুব হেলাভরে হোক, অথবা অপটু হাতে
যদি ব্যাকরণে ভুল মুদ্রণে প্রমাদ থাকে তবুও সমগ্র থাকে বইয়ে
অনন্তের কোনও প্রতিরূপ
লেখক দেখেন যাকে, তারপর মরে যান তিনি
লেখকের শবের উপর আসীন বর্ণমালা
কেতাবে বিস্তার করে-
কী করিতে হইবে আর রামের সুমতি সব বই
গেরিলা যুদ্ধ অথবা ধ্যানের ভারত
অথবা ওসব নয়, অতি ক্ষীণবপু, একফর্মা-
সাধারণ প্যামফ্লেট তিনভাঁজে
এমনকি চটি বই, অশ্লীল ছবির বই
পোকাকাটা ঝুরঝুরে পাতে পুরোনো নভেল
প্রুফ রিডারের পরে তাকে কেউই পড়েনি হয়তো- সেই বই
সেখানেও সে অনন্ত জাগে

তাই যতবার ছিঁড়ে ফেলি, পা দিয়ে মাড়িয়ে ফেলি ঘেন্নাভরে
অনন্তের প্রতিরূপ ওই
আমি আরও বিচ্যুত হই- 
আমি মরে যাই লেখকের আত্মা না ছুঁয়েই!

Uploaded Image

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন