এস আই আর প্রসঙ্গে এক শ্রেনীর বামপন্থীর মতামত হলো, সি পি আই এম ভোটার হেল্পডেস্ক করে ঠিক করে নি। তাতে নাকি আদতে এস আই আর, যা বিজেপির মানুষকে ডিস ফ্র্যাঞ্চাইজ করার একটি নক্কার জনক প্ল্যান, তাকে লেজিটিমাইজ করা হয়।
এই একি লোকজন এস আই আর এর বিরুদ্ধে তৃণমুলের প্রথম মিছিলকে বাহবা জানালেও,এইটা কোথাও লিখছেন না যে
১. বাংলায় এস আই আর হেল্পডেস্ক সবচেয়ে বেশি চালিয়েছে তৃণমুল এবং
২. এস আই আর প্রগ্রেসন দেখে তারা সারা রাজ্যে ইয়েস স্যার নামক ফ্লেক্সে মুড়ে দেয়।
এবার আসা যাক এস আই আর হেল্পডেস্ক এর কথায়। বাংলায় একমাত্র একটি দল ভোটার হেল্পডেস্ক চালায় নি। সেটা বিজেপি। সি পি আই এম ব্যাপক ভাবে চালিয়েছে, তৃণমুল চালিয়েছে আরো বেশি, কংগ্রেস - আই এস এফ প্রত্যেকে চালিয়েছে। কেন চালিয়েছে? এবং ভোটার হেল্পডেস্ক চালানো মানেই সি পি আই এম এস আই আর সমর্থন করছেন এ কথা যারা বলছেন,তারা তৃণমুলের নাম মুখে আনছেন না কেন? তৃণমুল আপনাদের ভাসুরঠাকুর হয়?
তৃণমুল কেন করেছে আমি জানি না। আমাদের হেল্পডেস্ক কেন চলেছে আমরা জানি। সি পি আই এম হেল্পডেস্ক চালিয়েছে, যাতে একজন বৈধ ভোটারের নাম-ও ডকুমেন্টাল মিসম্যাচের কারণে বিজেপির ইলেকশন কমিশন না কাটতে পারে৷ এবং একি সাথে ভুয়া ভোটার (ডেড সিফটেড ডুপ্লিকেট) যাতে সরানো সম্ভব হয়।(আমাদের তথাকথিত প্রবল বামেদের এতে অসুবিধে আছে। কেন ভুয়া ভোটার কমবে?) তৃণমুল কিছুদিনেই বুঝে যায় যে এই একি কাজ তাদের ও করতে হবে, এবং রীতিমতো এপ নামিয়ে এই কাজ করে। তো তার ফলস্রুতিতে ৫৮ লাখ ভুয়া নাম বাদ যায়, যার মধ্যে বেশির ভাগ অ বাঙালি।
এই পুরো হেল্পডেস্ক প্রসেসে সি পি আই এম এস আই আর নিয়ে তাদের বিরোধিতা বজায় রাখে, এবং হেল্পডেস্ক ব্যবহার করে মানুষকে জানাতে কেন বিরোধিতা করা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন, এই অবস্থা পর্যন্ত, মানুষের বেশির ভাগ এস আই আর নিয়ে কোন অভিযোগ ছিল না। সং্খ্যালঘু অঞ্চলে প্রায় ১০০% ম্যাপিং ছিল। এই পর্যায়ের পরে বিজেপি যখন দেখলো দেড় কোটি রোহিঙ্গার ফানুস ফেটে গেছে, যখন দেখল মতুয়ারা (যাদের সি এ এ র গাজর দেখানো হয়েছিল) তারাই সবচেয়ে বেশি এফেক্টেড, যখন দেখল ডুপ্লিকেট ভোটারের মধ্যে অবাংালি বিজেপির ভোটার বেশি, তখন তারা স্ট্র্যাটেজি পাল্টালো।
২০০২ এর সাথে ম্যাপিং থাকলে কাউকে হিয়ারিং এ ডাকা হবে না, নিজেদের এই স্টেটমেন্ট কে নাল এন্ড ভয়েড করে দিয়ে, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নাম লাখ লাখ মানুষকে আক্রমণ করা শুরু করলো। মূলত সং্খ্যালঘু মানুষ টার্গেট হলেও, সংখ্যাগুরুরাও আক্রান্ত হলেন। এবং একটা প্যাটার্ন ফলো হলে। যেখানে বিজেপি নেই সেই বুথে ভোটার কমাও। এবার প্রতিটা দল-ই গিয়ার চেঞ্জ করল। এতদিন ডেপূটেশন, বক্তব্য,লিফ্লেট দিয়ে যে বিরোধিতা ছিল তা আক্রমনাত্মক হলো। সি পি আই এম একের পর এক বিডিও অফিস ঘেরাও করতে আরম্ভ করলো।
এইবার সেইসব 'বামপন্থীরা' লাইন নামালেন,সি পি আই এম প্রথম থেকে বিরোধিতা করলো না কেন? এই ক্রনোলজি তাদের বোঝার জন্য। পিট সিগারের একটা গান আছে ,যার মূল কথা 'দেয়ার ইজ আ টাইম ফর এভ্রিথিং '। আ টাইম ফর লাভ এন্ড আ টাইম ফর হেট। সি পি আই এম প্রথম থেকেই এস আই আরের বিরধিতা করেছিল। সেন্সাস ছাড়া এস আই আরের প্রসঙ্গ, ভোটার লিস্টের সাথে নাগরিকত্ব জুড়ে ঘুর পথে এন আর সির প্রচেষ্টা, কারা কারা বিপদে পড়বে - সবটাই। কিন্তু এগসিস্টিং ফ্রেমওয়ার্ককে ব্যবহার করে আক্রমণ ভোতা করে দিতে পেরেছিল। মানুষের মধ্যে এস আই আর নিয়ে অসন্তোষ না থাকলে তো আন্দোলনের পারদ বাড়বে না। যখন আক্রমণ বেড়েছে তখন প্রতিরোধ ও বেড়েছে।

না বোঝার মতো কঠিন কিছু নয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন