ভারতের বেশ কয়েকটি বড় মিডিয়া সংস্থা যেমন ABP Group, Network18, HT Media, Times Group, Aaj Tak সম্প্রতি এদের কর্মী ছাঁটাই বা পুনর্গঠনের খবরের শিরোনামে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে Aaj Tak-এর হিন্দি ওয়েব টিমে। এছাড়া ক্যামেরা, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স, ফ্যাক্ট-চেকিং, Data Intelligence Unit, Aaj Tak Radio এবং India Today-এর ইংরেজি ডিজিটাল টিমের কিছু কর্মীও ছাঁটাইয়ের আওতায় এসেছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১২০ জন কর্মীকে একসঙ্গে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, অনেককে হঠাৎ জানানো হয় যে সেদিনই তাদের শেষ কর্মদিবস।
কেন এই ছাঁটাই?
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে:
* টিভি ও প্রিন্টের বিজ্ঞাপনের আয় কমে যাওয়া।
* ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শক ও বিজ্ঞাপন সরে যাওয়া।
* AI ও অটোমেশন ব্যবহার করে কম জনবল দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা।
* বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের ব্যয়সংকোচন (cost rationalisation)।
এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক সংকট নয়। ভারতীয় মূলধারার টিভি নিউজ ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে তিনটি বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে।
১. ব্যবসায়িক মডেল ভেঙে পড়ছে
এক সময় টিভি নিউজের মূল আয় ছিল বিজ্ঞাপন। এখন সেই বিজ্ঞাপনের বড় অংশ Google, Meta, YouTube এবং OTT প্ল্যাটফর্মে চলে যাচ্ছে। দর্শকের সময়ও টিভি থেকে মোবাইলে সরে গেছে। ফলে নিউজ চ্যানেলগুলোর আয় কমছে, কিন্তু স্টুডিও, স্যাটেলাইট, রিপোর্টিং নেটওয়ার্কের খরচ প্রায় একই রয়ে গেছে।
ফলত প্রথমে বেতন বৃদ্ধি বন্ধ, তারপর নিয়োগ কমানো, শেষে ছাঁটাই।
২. বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট
এটি আরও গভীর সমস্যা।
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় বহু মূলধারার টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের “গোদি মিডিয়া” বলে বিক্ষোভকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই ঘটনা দেখায় যে সমাজের একটি বড় অংশ মূলধারার টিভি সংবাদকে আর নিরপেক্ষ মনে করছে না।
একটি সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস দুর্বল হলে দর্শক বিকল্প খোঁজে—YouTube সাংবাদিক, স্বাধীন ডিজিটাল পোর্টাল, নিউজলেটার বা সোশ্যাল মিডিয়ায়।
৩. AI, এটি তর্কসাপেক্ষ , মূল কারণ নয়
অনেকে বলেন, “AI চাকরি খেয়ে ফেলছে।”
আংশিক সত্য।
বাস্তবে AI এমন কাজগুলো দ্রুত করছে যেগুলো আগে জুনিয়র কর্মীরা করতেন—ট্রান্সক্রিপশন, অনুবাদ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিডিও ক্লিপিং, প্রাথমিক স্ক্রিপ্ট লেখা, থাম্বনেইল ইত্যাদি। তাই যেসব প্রতিষ্ঠানের আয় আগেই কমছিল, তারা AI ব্যবহার করে আরও কম লোক নিয়ে কাজ চালাতে পারছে। বিশ্বজুড়েই কর্পোরেট সংস্থাগুলো AI-নির্ভর পুনর্গঠন করছে।
সাংবাদিক বন্ধুরা সতর্ক হন। সরকারের তৈরী করা ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচার করতে হয়, পেটের তাগিদে। এটা কেউ বোঝে না তা নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে সরকার বিরোধী হাওয়া প্রবল বইছে ভারত ও বঙ্গপসাগর উপকূলে। সুতরাং সরকারের ধামাধারী হওয়াও আপনার ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করবে না। যারা চাকরি হারিয়েছেন ভেঙে না পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সামাজিক দায়িত্ব এবার পালন করুন। সবাই মিলে হাত লাগিয়ে ধাক্কা দিলে বিশ্বাস রাখুন এই জগদ্দল পাহাড় নড়ে যাবে, যাবেই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন