রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৫

এক সন্ধ্যের গল্প (উদ্ভুট্টে সিরিজ) - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

( লিখছি তো উদ্ভুট্টে সিরিজ, তাহলে উদ্ভট লিখবোনা কেন? )

শীতের বিকেল বড্ড তাড়াতাড়ি শেষ হয়। আর চায়ের তেষ্টাও পায় বেশী। ১৮৯৪ শকাব্দ শেষ হয়ে আসছে, আর মাত্র কয়েক দিন, তার পরেই ১৮৯৫ শকাব্দ শুরু হবে। কিন্তু আজকাল ভারতে সরকারি শকাব্দ কেউই আর মনে রাখেনা। সাল জিজ্ঞেস করলে ১০০ জনে ১০০ জন ভারতীয়ই বলবে এটা ১৯৭২ সাল, মানে ১৯৭২ খ্রীষ্টাব্দ। আহমেদাবাদের উপকণ্ঠের এই নতুন মহল্লায় সব বাড়ির বাসিন্দারাই বাড়ির সঙ্গে একটু করে বাগান রেখেছেন। শেষ বিকেলের ঝিরি ঝিরি ঠান্ডা হাওয়া আসছে জানলা দিয়ে। গায়ে কাজকরা কাশ্মিরি শালটা ভাল করে জড়িয়ে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসলেন অধ্যাপক। সামনে চশমা চোখে নবীন ছাত্রটিকে তাঁর বেশ পছন্দ। তার প্রশ্নের শেষ নেই খুঁটিয়ে জানতে চায় সব কিছু

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৫

দলিতদের শিক্ষা ও আর এস এস ~ পুরন্দর ভাট

কাল ফরিদাবাদে দুটি দলিত শিশুর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে রাজপূতরা। রাজস্থানের রাজপূতরা এককালে মৃগয়া করতে গিয়ে হরিন, বরাহ শিকার করার সঙ্গে সঙ্গে ভিল উপজাতির মানুষদেরও "শিকার" করতো বলে শোনা যায়। সেই ক্ষাত্রতেজ বোধয় জাগ্রত হয়ে উঠেছিলো ফের, তাই দুটি শিশুকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দিলো। আসলে দলিতদেরই দোষ। খবরের খুটিনাটি পড়ে যা বুঝলাম যে মাস কয়েক আগে এক রাজপূতের মোবাইল ফোনটি ফসকে নর্দমায় পড়ে যায়। রাজপূতের মোবাইল নর্দমায় পড়ে গেলে দলিতদের তো ডিউটি সেটা উদ্ধার করে দেওয়া, হিন্দু শাস্ত্রমতে তো সেটাই সঠিক। দলিত উপস্থিত থাকতে রাজপূত ক্ষত্রিয় নর্দমায় হাত দেবে!! এরকম ঘটনা রাম রাজ্যে কখনো ঘটতেই পারে না। অগত্যা কয়েকজন দলিতকে "অনুরোধ" করা হয় নর্দমায় নামতে, বোধয় টাকা পয়সা দিতেও অরাজি ছিলো না তবুও দলিতদের সকলে নর্দমায় নামতে অস্বীকার করে দেয়। কি আস্পর্ধা ভাবা যায়!! দলিতদের শিক্ষা দিতে এক দল রাজপূত চড়াও হয় দলিত বস্তিতে। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে দলিতরা মাথা নোয়াবে না ঠিক করে, রুখে দাঁড়ায় রাজপূতদের গুন্ডাবাহিনীর বিরুদ্ধে, বাড়ির মেয়েরাও হেঁসো আর বঁটি নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং গণপিটুনিতে তিনজন রাজপূত গুন্ডার অকাল মৃত্যু ঘটে। পুলিশ এগারো জন দলিতের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে এবং গ্রেফতার করে। কিন্তু রাজরক্ত কি এতে শান্ত হতে পারে? তা ছাড়া আসল অপরাধের জন্যে তো কোনো শাস্তিই হলো না - নর্দমা থেকে মোবাইল তুলে দেওয়ার "অনুরোধ" উপেক্ষা করেছে দলিতরা। আর ঠিক মতো সায়েস্তা না করা গেলে যদি দিকে দিকে দলিতরা এরকম সাহসী হয়ে ওঠে? তাহলে? নাহ এ বরদাস্ত করা যায় না। তাই রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে, দলিত বস্তিতে আক্রমন করে, শিশুদের হত্যা করে নিজের ক্ষাত্রশক্তির প্রমান দেওয়ার খুব প্রয়োজন ছিলো। এরকম আক্রমন যে হতে পারে তা দলিতরা সন্দেহ করেছিলো এবং সেই অনুযায়ী পুলিশী পাহাড়া চেয়েছিলো আগেই, দলিত বস্তির ওপর কড়া নজর রাখার কথা ছিলো পুলিশের। কিন্তু রাজপূতরা দলিতদের হাতে অপমানের বদলা নেবে আর তাতে পুলিশ বাধা দেবে, এতো বড় অনর্থ কখনো হিন্দু হৃদয় সম্রাটের রাজত্বে হতে পারে? রাম রাম!


হরিয়ানা এবং তার সংলগ্ন পশ্চিম উত্তর প্রদেশ, ও উত্তর রাজস্থানে, দলিতদের ওপর নানা রকমের অত্যাচারের ঘটনা গত এক বছর ধরে হু হু করে বেড়েছে। খুবই স্বাভাবিক, দেশব্যাপী বর্ণ হিন্দুর ক্ষমতার পুনর্জাগরণ চলছে, সেখানে এরকমই হবে। কোথাও মুসলমান তো কোথাও দলিতদের এই ক্ষমতার বলি হতে হবে। হরিয়ানায় মুসলমান ৫%-এরও কম, তাদেরকে মেরে খুব একটা শক্তিপ্রদর্শন হবে না, বরং দলিত মারলে বর্ণ হিন্দুদের বেশ এককাট্টা করা যাবে। সোনেপাতে তিন চার মাস আগেই একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেলো। দলিত বস্তির কতগুলি শিশু ক্রিকেট খেলতে খেলতে বল গিয়ে পড়ে আরএসএসের জেলা দফতরের ভেতর। সেখান থেকে বল আনতে গেলে একটি শিশুকে মেরে খোঁড়া করে দেয় হিন্দু বীরেরা। শিশুটির মা বাবা ঘটনাটি নিয়ে দফতরে অভিযোগ জানাতে এলে বেদম মারা হয় তাদের, শিশুটির বাবা দুটি হাতের একাধিক জায়গায় হাঁড় ভাঙ্গে। সেখানেই থেমে থাকেনি, এরপর আরেসএসের দফতর থেকে ৪০-৫০ জনের বাহিনী দলিত বস্তিটিকে আক্রমন করে, যথেচ্ছ মারা হয় লাঠি, হকি স্টিক, শাবল দিয়ে। ১০ জনেরও বেশি দলিত হাসপাতালে ভর্তি হোন মারের চোটে। এরপর তারা পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাদেরকে আরএসএসের সাথে মিমাংসা করে নিতে চাপ দেয়। বস্তির পাশেই একটি দোকানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় আরেসএসের হনুমানদের তান্ডবের ফুটেজ থাকা সত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেওয়া হয়নি। পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় যে বস্তিবাসীরা আরএসএসের সাথে নিজেরাই মিটমাট করে নিয়েছে কিন্তু বস্তিবাসীরা স্পষ্ট বলে যে পুলিশের চাপে পড়েই তারা বাধ্য হয়েছেন। 
এখন এরকমই চলবে, কথায় কথায় মুসলমান ও দলিতদের মারধোর খুন করা হবে। আমার তো মনে হয় খুব শীঘ্রই এই তালিকায় খৃষ্ঠান আদিবাসীরাও সামিল হবেন। 
একটু ভেবে দেখুন তো যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগের দশ বছর কি নিয়ে মানুষ চিন্তিত ছিলো? কি নিয়ে সংবাদপত্রগুলো খবর করতো? মনে পড়ে? চাষী আত্মহত্যা, বেসরকারিকরণ, জমি অধিগ্রহণ, খাদ্যের অধিকার, অরণ্যের অধিকার, কেন্দ্র সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারগুলোর চুরি জোচ্চুরি, মূল্যবৃদ্ধি এসবগুলোই আলোচ্য বিষয় ছিলো তাই না? গত এক দের বছর ধরে তার জায়গা নিয়েছে গোমাংশ, লাভ জিহাদ, ধর্মান্তকরণ, মুক্তমনাদের হত্যা। 
প্রশ্ন হচ্ছে যে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামাতাম সেগুলো কি আর নেই? 
চাষী আত্মহত্যা বন্ধ? বরং উল্টে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঞ্জাবে তুলা চাষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এই বছর, আত্মহত্যার মহামারী লাগতে চলেছে আগামী কয়েকদিনের ভেতর। একই অবস্থা মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, অন্ধ্রে। 
অথবা মূল্যবৃদ্ধি? পেঁয়াজের দাম কমতে না কমতেই হু হু করে বাড়ছে ডালের দাম। সবজির দামও কমার নাম গন্ধ নেই। 
ভ্রষ্টাচার? কেন্দ্র সরকারের সবে এক বছর হয়েছে, প্রথম ৫ বছর তো কংগ্রেসের চুরিও ধরা পড়েনি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে একের পর এক কান্ড বেরিয়ে চলেছে। ব্যাপাম কেলেঙ্কারীর পর এখন বেরোচ্ছে চাষীদের ঋণ নিয়ে বিশাল কেলেঙ্কারী। 
জমি অধিগ্রহণ আইন কেন্দ্র সংসদে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলেও রাজ্যগুলো তাদের আইন বদলাতে শুরু করে দিয়েছে। জমি রাজ্যের আওতায় পড়ে তাই রাজ্যে আইন বদলেই জমি লুঠ করা যায়। দেশের ৭-৮ টি বড় রাজ্য বিজেপির শাসনে, তারা জমির আইন বদলে পুঁজিপতিদের সুবিধে করে দেবে। বাকি রাজ্য থেকে শিল্পপতিরা চলে যেতে থাকবে ওই রাজ্যগুলিতে আর তাই বাকি রাজ্যগুলিও এরপর বাধ্য হবে তাদের জমির আইন বদলাতে। কে কতো পুঁজিপতিদের হয়ে জমি লুঠ করতে পারে তার অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হবে রাজ্যগুলোর মধ্যে। হবে কি হয়ে গেছে। 
শ্রম আইন বদলানোর পরিকল্পনা চলছে, চালু হতে চলেছে ইচ্ছে খুশি মতো "হায়ার এন্ড ফায়ার", চাকরির সুরক্ষা, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ক্ষমতা সবই খর্ব হবে। তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেসরকারীকরণ চলছে, রেলকে বেসরকারী হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা পাকা, লাইনে আছে স্টেট ব্যাংক এবং এলআইসি। 
এবং এরই সঙ্গে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোয় লাল বাতি জ্বালানো শুরু হয়েছে। প্রথম ইউপিএ সরকার অনেক ভুল কাজ করলেও নতুন বেশ কয়েকটি জনকল্যাণ প্রকল্প শুরু করেছিলো। যেমন ১০০ দিনের কাজ, গ্রাম সডক যোজনা, ইন্দিরা আওয়াস যোজনা, জাতীয় গ্রামীন স্বাস্থ্য মিশন প্রভৃতি। তারই সঙ্গে বাজপেয়ীর আমলে শুরু হওয়া সর্ব শিক্ষা অভিযানে বরাদ্দ টাকা বাড়ানো হয়েছিলো অনেকটাই, কেন্দ্রীয় সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাগারগুলোতেও টাকা বরাদ্দ বেড়েছিলো অনেকখানি। কিন্তু এই সরকার শুরু থেকেই সব রকম জনকল্যাণ প্রকল্পে টাকা ছাঁটাই করার প্রতিজ্ঞা করেছে। আইআইটি, এনআইটি গুলোর পড়াশুনোর সমস্ত খরচ ছাত্র ছাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে যার ফলে এসব কলেজে পড়বার খরচ ৪ বছরে ৮-১০ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ কমিয়েছে সরকার। এসব জায়গার সায়েন্টিস্টরা আশংকায় ভুগছেন ভবিষ্যত সম্পর্কে। আজকেই তার ওপর ঘোষণা করেছে যে নেট-জেআরএফ বাদ দিয়ে আর কোনো স্কলারশিপ সরকার দেবেনা। এর ফলে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বহু ছাত্র ছাত্রী বিপদের মুখে, কারণ খুব কম ছাত্র ছাত্রীই জেআরএফ পান। ইউপিএ আমলে নিয়ম চালু হয়েছিলো যে নেট-জেআরএফ না থাকলেও পিএচডি ছাত্র ছাত্রীদের মাসে ৫ হাজার টাকা স্কলারশিপ দেওয়া হবে। সেই ব্যবস্থা উঠে গেলো। অনেক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়তে এর পাশাপাশি ছিলো মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ, অর্থাৎ গরিব ঘরের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কিছু মাসোহারা দেওয়া হতো যাতে হোস্টেলে থেকে পড়তে তাদের অর্থকষ্ট না হয়। উঠে যাবে তাও। উচ্চশিক্ষায় খরচ কমিয়ে এই টাকা যদি প্রাথমিক শিক্ষায় দিতো তাহলেও একটা কথা ছিলো কিন্তু বাজপেয়ীর তৈরী সর্ব শিক্ষা অভিযানের টাকাও কমানো হচ্ছে। এমনকি হাত পড়েছে মিড ডে মিলেও! কেন্দ্র বাজেটে শিক্ষা খাতে খরচ মোট খরচের শতাংশ হিসেবেই কমিয়ে দিয়েছে সরকার, এর আগে এই কাজ আর কোনো সরকার বোধয় করেনি, এরাই প্রথম। সরকারের উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট, শিক্ষাকে সরকারের ঘাড় থেকে নামিয়ে বেসরকারী হাতে তুলে দেওয়া। পাল্লা দিয়ে কমেছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে খরচ। গত বাজেটে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশু ও নারীর পুষ্টির পরিকল্পনাগুলো। অবস্থা এতোই শোচনীয় যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধী প্রতিবাদে সরব হয়েছেন, থাকতে না পেরে। কিন্তু মানেকা হয়তো জানেন না যে এই কাজগুলো করার জন্যই এই সরকার এসেছে। পুঁজিপতিরা তাদের ভাঁড়ার খুলে টাকা ঢেলেছিলো এদের নির্বাচনী প্রচারে। দেশে উচ্চবর্ণ ও ধনী যারা (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুটো সমার্থক) তাদের একনায়কতন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র আর এই দেশে নেই। মুশকিল হলো ভোটে গরিব মানুষের ভোটটাও প্রয়োজন হয়, শুধু তো আর শাইনিং ইন্ডিয়ানদের ভোটে জেতা যায় না। তাই কখনো ধর্ম আর কখনো জাতের নামে চলছে মেরুকরণ। 
এই বিষবৃক্ষকে শেষ করতে হলে শুধুমাত্র ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললে হবেনা, শুধুমাত্র সংবেদনশীলতার কথা বা বহুত্ববাদের কথা বললে চলবে না। কয়েকটা ডালপালা কাটলেই বিষবৃক্ষ মরে না, ফের ডালপালা গজিয়ে যায়। যদি এই বিষবৃক্ষকে শেষ করতে হয় তাহলে তার জল ও সারের যোগান আটকাতে হবে। যে পুঁজিপতি এবং ব্যবসায়ীরা এই বিষবৃক্ষকে জল ও সার দিয়ে লালন পালন করছে লড়তে হবে তাদের বিরুদ্ধে, তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে। ধর্মনিরপেক্ষতার লড়াই, দলিতদের লড়াইকে মেলাতে হবে জমির অধিকারের লড়াই, বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে লড়াই, জনকল্যাণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমানোর বিরুদ্ধে লড়াই, ছাত্র ছাত্রীদের স্কলারশিপ কমানোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে। তা যদি করা না যায় এই বিষবৃক্ষকে ধ্বংশ করা অসম্ভব।

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৫

আব্বুলিশ ~ অনামিকা মিত্র

মরতে থাকিস প্রাণের ভয়ে
তবুও তোরা কী সংশয়ে
ইভিএমএর বোতাম ছুঁতে
ভিড় করে যাস পাড়ার বুথে?

ডেমোক্রেসির কারখানাতে
ব্যস্ত আমরা ভোট বানাতে।
গণতন্ত্রের পিণ্ডি চটকে
বাগে আনব সবার ভোটকে।

কমিশনটা পোষ্য চাকর
খুব প্রতিবাদ করবি? তা' কর।
শিডিউলড সবই, ঘটবে কী কী।
ওর যা' করার করবে ঠিকই

অবাধ্য সব সাংবাদিককে
রামপিটুনির দিলাম শিক্ষে।
সবটাই খুব ভদ্র শালীন
চ্যানেল চেঁচাক, সান্ধ্যকালীন।

জয় শাঁওলির শ্রীমুখ বন্ধ
বিদ্দজ্জন… দেখেও অন্ধ
ঘাড়ের ওপর বসল ডাইনি।
খুব পস্তায়… এমন চাইনি।

ভার্টিব্রেট দু'একখানার
জন্য ধার্য বুলেট দানার
হিসেব না হয় রাখবে পুলিশ
খেলবি না আর? কী, আব্বুলিশ?

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

"ইন্টারনেট.অর্গ" - জুকার্বার্গের মহানুভবতা? - পুরন্দর ভাট

"ডিজিটাল ইন্ডিয়া" নিয়ে ফেসবুক সরগরম। অনেকেই ফেসবুক কর্তা জুকারবার্গের দেখাদেখি নিজেদের প্রফাইল পিকচারে তেরঙ্গা লাগিয়েছেন এই প্রকল্পের সমর্থনে। আবার অনেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ অভুক্ত শিশু বা আত্মঘাতী কৃষকের ছবি লাগিয়েছেন তাঁদের প্রফাইলে। প্রথমেই বলে নি যে আমি মনে করি না যে দেশে অভুক্ত শিশু রয়েছে বলে ইন্টারনেটের প্রয়োজন নেই। ইন্টারনেটের মাধ্যমে, ফেসবুকে বসে, যখন অভুক্ত শিশুদের কথা বলছি তখন স্বীকার করে নেওয়ার সৎ সাহস থাকা উচিত যে ইন্টারনেট একটা প্রয়োজনীয় জিনিস। ইন্টারনেট মানুষকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বহু গুন। গত ৫০ বছরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্ঠি হলো ইন্টারনেট। যে যুক্তিতে লোকে বলে যে লক্ষ লক্ষ অভুক্ত শিশু যেখানে রয়েছে সেখানে "ডিজিটাল ইন্ডিয়া"-র কি প্রয়োজন তারা ভেবে দেখবেন যে একই যুক্তিতে কেউ বলতে পারে যে যদ্দিন না সবাই খেতে পরতে পাচ্ছে তদ্দিন শিক্ষা দীক্ষার কি প্রয়োজন। ইন্টারনেটের অধিকার শিক্ষার অধিকারের মতোই একটা মৌলিক দাবি হওয়া উচিত আমার মতে। হ্যা এটা হতে পারে যে অনেকেই অভুক্ত শিশুদের ছবি লাগাচ্ছেন এটা মনে করিয়ে দিতে যে ভারতবর্ষের মানে সিলিকন উপত্যকায় বসবাসকারী প্রযুক্তি তারকারা নয় ভারতবর্ষ মানে হলো অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, নিরক্ষর নারী এবং ঋণগ্রস্ত কৃষক। তাদের সাথে আমি একমত, সরকারের হাবভাব দেখে মনে হয় আজকাল যে সেটা তারা ভুলেই গেছে। এটা মনে করিয়ে দেওয়া দরকার কিন্তু "ডিজিটাল ইন্ডিয়া"-র বিরোধিতা অভুক্ত শিশুদের জন্যে করবো না। তাহলে ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তাকে সকলেরই সমর্থন করা উচিত?

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হাড়হিম হিমবাহ - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

আমার খুব ইচ্ছে, জীবৎকালে একটিবার, লালমোহনবাবুর মত একখানা রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস লিখবপারব না ভাবছেন? আরে দাদা, এই যে দর্জিপাড়া লেনের সেদিনের ছোকরা গিরিশ চাকলাদারসে কিনা নিশাচর নাম নিয়ে ক্যাপটেন স্পার্ক আর র‍্যাক্সিট সমেত রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস নামিয়ে দিতে পারলআর আপনি আমার উচ্চাশা শুনে ......? নাহয় আমার এডিশনও “তিন মাসেও কিস্যু হবেনা”। তবে খটকা অবিশ্যি একটা আছেই। ভাবছেন ফেলুদা থাকতে হঠাৎ জটায়ু কেন? একটু ভেবে দেখুন দিকি। এই অধমের দ্বারা ফেলুদা হওয়া কি কখনো সম্ভব? মগজাস্ত্র অনেক দুরের কথা, শিশুকাল থেকে আমার মগজের উপস্থিতি নিয়েই অসংখ্যবার অসংখ্য মানুষ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফেলুদা তো কোন ছার, তোপসের তুলনায়ও আমি নেহাতই পানসে। কিন্তু লালমোহন গাঙ্গুলির সঙ্গে এই চাটুজ্যের অনেক মিল। কু-লোকে বলে আমি নাকি কিঞ্চিত লাল, আবার এদিকে আমি মোহন(বাগান) ও বটে যদিও উটে চড়ে আরব বেদুইন হবার কথা ভাবলে রোমাঞ্চের বদলে তলপেটটা কেমন জানি ......কিন্তু ইংরিজি বলুন, সাধারন জ্ঞান বলুন (নর্থপোলে সিন্ধুঘোটক, বা উটের পাকস্থলি), গরম কচুরি প্রেম বলুন, এই সব ব্যাপারে জটায়ুর সঙ্গে আমার যাহারপরনাই মিল রয়েছে।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

"violent" ছবি ~ পুরন্দর ভাট


পিজার বিজ্ঞাপনের পাশে পথশিশুর যে ছবিটি আমার দেওয়ালে পোস্ট করেছিলাম সেটা অনেকেই দেখেছেন, ছবিটি দের হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। আজকে দেখছি কেউ একজন এটা ফেসবুকে রিপোর্ট করেছে "violent" বলে এবং এখন ছবিটি ফেসবুকের বিবেচনাধীন, তারা যদি মনে করে যে ছবিটি ফেসবুকে থাকার যোগ্য না সেটা তারা মুছে দেবেন।

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

সখী নীর ভরন ক্যায়সে যাউঁ ? - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

সখী নীর ভরন ক্যায়সে যাউঁ ?
সখীরি মোরি ডগর চলত মোসে করতহর
চঞ্চল চপল নটখট
মানতি নেহি কউ কি বাত
বিনতি করত ম্যাঁয় তো গেয়ি রে হার
সখী নীর ভরন ক্যায়সে যাউঁ?

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

শিক্ষক দিবস ~ স্বাতী ব্যানার্জী

সকাল থেকে শুধু শুভেচ্ছা স্তুতি আর ভালোবাসায় ভেসে যাচ্ছে হৃদি অলকনন্দা জলে ..... আলবাত ভালো লাগে.... শিক্ষক দিবস..... আমাদের জন্য .......সুমনের গানের মতো .....শুধু আমাদের জন্য ...... তবুও কিছু ভিন্ন খন্ডদৃশ্য গড়ে তোলে আমার শিক্ষক দিবস.... অন্য রকম....

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বেসিক্যালি আমি 'অ্যাপোলিটিকাল' ~ সুশোভন পাত্র


বেসিক্যালি আমি 'অ্যাপোলিটিকাল'। মোটা দাগে 'অরাজনৈতিক'। শ্রী শ্রী বব মার্লে আমার গুরু আর শাকিরা আমার রাধে মা। আমার বাথরুমের পাশে ষ্টার-জলসা। জীবন মানেই জি-বাংলা। আমি গাছেরও খাই, তলারও কুড়োই। ডালে-ঝোলে-অম্বলে সবেতেই আমি আছি। আদা আর কাঁচকলা দুটোই আমার সমান পছন্দের। আমি সাপের মাথায় চুমু খাই, নেউলের গায়েও হাত বোলাই। চায়ের দোকানে দেশ-দুনিয়ার খবর শুনে, জীবন ও জীবিকার সমস্ত সমস্যার দায়, সিস্টেমের উপর চাপিয়ে, পিছনে দুটো ইংলিশ গুঁজে, চায়ের কাপে ঝড় তুলে, একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলি "ডার্টি পলিটিক্স। দিস হোল ব্লাডি সিস্টেম ইস ক্র্যাপ।"... উফ কি শান্তি যে পাই! ঐ যে বললাম, বেসিক্যালি আমি 'অ্যাপোলিটিকাল'। 

শিক্ষক দিবস ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

বলতো দেখি সরস্বতী বানান

ব্যাসবাক্য সমাস বীণাপানি
পানিপথের যুদ্ধ কত সালে
পলাশী,ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি?

হ্ব্র্স ই না দীর্ঘ ঈ কার হবে?
কোন স হবে আন্দাজে ঢিল ছুড়ি
সন্ধি সমাস কারক বিভক্তি তে
আমার মাথায় শুধুই লাটাই ঘুড়ি….

মলিন পোশাক পায়জামা পাঞ্জাবি
সিঁড়িভাঙ্গা বোঝান হাজার বার
ভালোবাসা আদর বেত্রাঘাতে

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বিষয় - আয়ালান কুর্দি ~ জাগরী ব্যানার্জী

" সমুদ্রে ফিরিয়ে দিলে !!!! ওহে আফলাতুন !"
কহিলেন ইমাম গাজ্জালী ।
"পাঠালাম মাতৃ হস্তে নিরাপদ তোমাদের দেশে !
দর্শনে , পঠনপাঠনে , গুরুকুলে ক্যাফেটেরিয়ায় ,
মহা তর্কে বহুদিন যাপন করিবে এই আশে ! বড়ো হয়ে উঠতে সেখানে ।
পাঠালাম তিন বর্ষীয় যে বালক !
ওহে আফলাতুন! সমুদ্রে ফিরিয়ে দিলে !!
দেখ দিকি কত যত্ন করে , কিনে দিনু লাল রঙা জামা
দেখ দিকি অভিমান ভরা পিঠ , ফিরে শুয়ে আছে আনমনা ।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বন্ধ ~ পুরনদর ভাট

বন্ধ নিয়ে ন্যাকাচোদা মধ্যবিত্বের নাকি কান্না চলছে। 
খিস্তি মারলাম বলে খারাপ লাগলো? শাট শাট! কি করবো বলুন, সারা বছর একবারের জন্যেও যারা মজুর, কৃষকদের কথা বলে না তাদের হঠাত করে বন্ধের দিনে শ্রমিক কৃষকদের কি হবে বলে নাকি কান্না দেখে খিস্তি ছাড়া কিছুই আসছে না। শালা একের পর এক কারখানায় তালা ঝুলে যাচ্ছে, চা বাগানে না খেয়ে লোকজন টপাটপ মরে যাচ্ছে, সারা বছর তা নিয়ে রা কাড়া নেই, বন্ধ হলেই "কর্মনাশা" বলে ঢ্যামনামো। এমন হাবভাব যেনো বাকি ৩৬৪ দিন একেবারে কাজ করে ফাটিয়ে দিচ্ছে আর মাইনের টাকা পেলেই তা নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে গরিবের সেবা করতে। 

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

খাদ্য আন্দলন ~ শতদ্রু দাস


"মা! একটু ফ্যান দিবি?"
মানিক, সন্দীপন বা কমলকুমার প্রভৃতি সাহিত্যিকের লেখায়, গায় কাঁটা দেওয়া এই আর্ত চিতকার অনেকে শুনেছেন। গ্রামে খাবার না পেয়ে, ক্ষুদার্ত মানুষের ভিড় ৫-এর দশকে আকছার দেখা যেতো কলকাতায়। তাঁরা হাতে এলুমিনিয়ামের পাত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরতেন ভাতের ফ্যান (মাড়) চেয়ে। আমি বাংলা সাহিত্যে পড়বার অনেক আগেই বাবার কাছে এই গল্প শুনেছিলাম। কিন্তু সেই মানুষ শুধু ভিক্ষে করেনি, মরতে মরতেও খাদ্যের দাবিতে এক ঐতিহাসিক লড়াই করে গেছিলেন যাকে আমরা বলি "খাদ্য আন্দোলন।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫

হীরক রানী

রাজা = ব্যারিকেড ভাঙলো কেন! কোথায় ছিলো প্যায়াদাদের চোখ!
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ বুঝতে পারিনি সমাবেত হবে এতো লোক।
রাজা = তবে কি প্যায়াদা ছিলো না যথেষ্ট!
রক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে প্যায়াদারা লাঠি হাতে ছিলো সর্বদা সচেষ্ট।
রাজা = মিছিলের কন্ঠ স্তব্ধ করাই প্যায়াদাদের একমাত্র কাজ।
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ টেবিলের নিচে, ফাইলের তলে লুকায় নি কেউ আজ।
রাজা = নিরীহ লোকেদের উপর লাঠি চালানো মোটেই নয় দৃষ্টি কটু।
রক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে সে কাজে প্যায়াদারা যথেষ্ট পটু।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

নবান্ন ~ অনির্বাণ মাইতি

তারপর সেলিম যাহা করিলেন তাহা কহতব্য নহে, ইতিহাসের স্বর্নাক্ষরে সে বীরত্বের কাহিনী লিপিবদ্ধ থাকিবে। এক পকটে থান ইট ও ওপর পকটে পরমানু বোমা লইয়া (ইহা শঙ্কু নির্মিত, নাকি কালাম নির্মিত সে বিষয়ে নিশ্চিত কেহ নহে) পুলিশের পশ্চাতে ধাবমান হইলেন । পাঠককে স্মরণ করাইয়া দিবার প্রয়োজন নাই আমাদিগের পুলিশ সচরাচর এই ধরনের আক্রমণের ক্ষেত্রে টেবিলের তলদেশ অথবা ফাইলের আড়ালকে বাছিয়া লয়। কিন্তু পথমধ্যে টেবিল অথবা ফাইল অপ্রতুল থাকিবার হেতু তাহারা পলায়নকেই শ্রেয় মনে করিয়া, এস এস কে এম অবধি তীব্রগতিতে ধাবমান হইলেন এবং সেইখানে পৌছোনমাত্রেই সরকারী চিকিৎসক গন তাহাদিগকে ভর্তি করিয়া লইলেন। দীর্ঘ পথ ধাবিত হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ বোধ করিতেছিলেন কিনা তাই।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০১৫

ক্ষুদিরামের ফাঁসি ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য়্য

​১৯০৮ সালে আজকের দিনে ফাঁসি হয় ক্ষুদিরামের।কতই বা বয়স তখন, এমন অনেকের প্রাণদান,আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেলাম ১৯৪৭ সালে। তারপর থেকে তো লুণ্ঠন চলছে দেশের সম্পদ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সবকিছুর। তবে স্বাধীনতা দিবস আমরা খুব ধুমধাম করে পালন করি, সকালে পতাকা উত্তোলন, পাড়ার কাউন্সিলর ভাষণ দেন, টফি বিলি করা হয়, দুপুরে মাংস ভাত, বিকেলে বিগবাজার ব্যাপক সেল দেয়, আর রাতে পিকনিক, বক্স বাজিয়ে, সাথে নাচ। সকালে অবশ্য মাইকে একবার বিদায় দে মা, সারে জাহাসে আচ্ছা বাজাই...

আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু ~ পরিচয় পাত্র

​বাদুড় বলে, ওরে ও ভাই সজারু
আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু।
আজকে হেথায় রামদা হাতে পেঁচারা
আসবে সবাই, মরবে ব্লগার বেচারা।
কাঁপবে ভয়ে বাঙালি সব ব্যাঙাচি,
ঘামতে ঘামতে ফুটবে তাদের ঘামাচি,
ছুটবে জঙ্গি লাগবে দাঁতে কপাটি
দেখবে তখন মস্ত ঢ্যাঙা চাপাতি।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র রাজনীতি ~ অনিমেষ বৈদ্য

এক বন্ধুর বাবার মৃত্যু হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে শোক সভা। সদ্য প্রয়াত কাকু ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অবসর নিয়েছেন কিছু বছর আগেই। যাই হোক সেই শোক সভা উপলক্ষ্যে বর্ধমান যাওয়া।
এই সেই বর্ধমান। এই সেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। হঠাৎ করে বর্ধমান এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে মনে করিয়ে দেওয়ার কী প্রয়োজন? প্রয়োজন আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ছবিটাকে বোঝার জন্যই প্রয়োজন আছে।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫

ঈশ্বর ~ অনির্বান মাইতি


একটা ঈশ্বর থাকা না খুব জরুরি জানেন ? মানে ধরুন আমি যে কথাগুলো বলতে চাইছি লোকে সেগুলো বুঝতে চাইছে না, আমি যদি টুক করে আমার লেখার নিচে একটা ঈশ্বরের নাম লিখে দেই তা হলেই বেশ একটা জনসমর্থন জুটে যাবে। ধরুন আমি লিখলাম
ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে ।
নাস্তিক সেও পায় বিধাতার বর ,
ধার্মিকতার করে না আড়ম্বর ।
শ্রদ্ধা করিয়া জ্বালে বুদ্ধির আলো ,

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

​ শিল্প বিচার ~ কৌশিক সেনগুপ্ত

সিংহাসনে বসল রানি, বাজলো কাঁসর ঘন্টা,
ছটফটিয়ে উঠল কেঁপে সুব্রতদার মনটা,
রানি বলে, 'মন্ত্রী আমার রাজ্যে নেইকো শিল্প?'
মন্ত্রী বলে, 'ল্যাংচা সেটা শিল্প তো নয় অল্প।'
রানি বলেন 'অল্প বেশি দেখুক গিয়ে ববি',
ববি বলে 'আমার কেবল চেতলাটুকুই লবি'।
রানি হাঁকেন 'বোলাও তবে...বেহালার ঐ পার্থ',

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫

কদিন হল – শুভাশিষ আচার্য্য

কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে
কেন্নো যেন কুঁকড়ে থাকি, বুকেতে হাত, বল নেইতো
পণ্য জন্ম হয়েছে কবে, কে জানে কখন লুঠ চলছে
জন্ম ভর দাস জন্ম, মাথাটা নুয়ে নিচের দিকে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

ওর চোখ দিয়ে – শুভাশিষ আচার্য্য

-- হ্যালো বাবা..
-- হ্যাঁ মা বল
-- কি করছিলে বাবা
-- এই একটু শুয়ে আছি একটু ক্লান্ত লাগছে তাই
-- ... তুমি ভাল আছ বাবা
-- হ্যাঁ রে মা ভাল আছি তুই চিন্তা করিস না
-- হ্যালো বাবাইরে
-- হুমম

না-মানুষের উপকথা - সুদীপ্ত চক্র

স্কুল থেকে ছেলে ফিরতেই বুকের ভিতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল স্কুলের সাদা জামাটায় লাল ছোপ ছোপ দাগ, চুলগুলো সব এলোমেলো কাঞ্চন দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে ছেলেকে
- কি হয়েছে বাবা ? জামায় এত রক্ত এলো কোথা থেকে !
ছেলে চুপ করে থাকে
কাঞ্চন কি বলবে ভেবে পায় না তার ছেলেতো এমন নয় শান্ত স্বভাবের ছেলের আজ হঠাত্ কি হলো ! ভেবে পায় না কাঞ্চন
- কি হয়েছে বাবা বল আমায়, কেউ কি তোকে মেরেছে ? রাস্তায় কোন দুর্ঘটনা হয়েছে ? চুপ করে থাকিস না বল আমায়

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫

মেঘমুলুকে ঝাপসা পথে... - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

সোঁদা সোঁদা গন্ধ, ভিজে ভিজে রাস্তা, ঝিম ঝিমে নিস্তব্ধতা আর গোল গোল চোখ নিয়ে দেখি ওই উঁচুতে মেঘের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসেছে আস্ত একখানা আইফেল টাওয়ার। স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে আমার জ্ঞানগম্যির উচ্চতা পেয়ারাগাছ পেরোয় না। পাথর বা ইঁটের তৈরি স্তম্ভ মানেই কলকাতা ময়দানের মনুমেন্ট আর লোহা বা ইস্পাতের তৈরি উঁচুপানা কিছু দেখলেই আইফেল টাওয়ার, এর বাইরে অন্য কিছুর তুলনা টানতে পারিনা। আর এখানা দেখতেও অনেকটা আইফেল টাওয়ারেরই মত। ইয়াব্বড় হাঁ করে তাকিয়েছিলুম। গোটা দুয়েক সাহসী পাহাড়ি মাছি হাঁয়ের ভেতর ঢুকে সরেজমিনে দেখে নিয়ে আবার উড়ে বেরিয়ে গেল। শেষে ভাঙ্গা রাস্তার ঝাঁকুনিতে চোয়াল বন্ধ হয়ে কটা কথা বেরিয়ে এল – ওটা ওখানে উঠলো কি করে?  

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫

সাংসদ ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

​সংসদে কেউ গলা ফাটাবেন আম জনতার স্বার্থে
প্লেনে চড়ে তাঁরা যাতায়াত করে কর দাতাদের অর্থে,
কেউ থাকে শুধু চুপচাপ বসে, বলেন যৎসামান্য
বিস্বয়ে কেউ হতবাক হন, বলেন জীবন ধন্য-
পেছন বেঞ্চে বসে দেন কেউ সামান্য দিবানিদ্রা
গালি দেন কেউ, মন দিয়ে শোনে দিকপাল ভাষাবিদরা;
গরম লাগছে ভয়ানক স্যার, অভিযোগ যায় স্পিকারে
কেউ ঘন ঘন পায়চারি করে গলা ভেজালেন লিকারে,
সংসদে কেউ বক্সিং লড়ে, চলে হাতাহাতি কুস্তি

​অনুগল্প ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য


রোজকার মত দোকান বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরতে আজও ১১ তা বেজে গেল কাজলের। স্টেশানের পাশে ছোট চায়ের দোকান কাজলের, গ্রাজুয়েশান করে কিছুদিন টাইপ, শর্টহ্যান্ড শিখে বা সরকারি চাকরির পরীক্ষাও দিয়েছিল কিছু, তারপর এই চায়ের দোকান।বেশ চলে দুজন কর্মচারী, চা, বিস্কুট চায়ের আবার হরেক রকম লাল চা, লেবু চা, দুধ চা, চিনি ছাড়া যার যা পছন্দ।অনেকে খবরের কাগজ পড়ে, খেলা , রাজনীতি নিয়ে মত দেয়, তর্ক চলে বেশ লাগে কাজলের।

​কাল ছিল ডাল খালি ~ প্রকল্প ভট্টাচার্য্য

​কাল ছিল ডাল খালি (ভাত আর ডাল, ব্যাস?)
আজ ফুলে যায় ভরে (হোলো তো পেটেতে গ্যাস?)
বল দেখি তুই মালি (অন্তরা? ও কী জানে!)
হয় সে কেমন করে? ( বোঝো! কোনও হয় মানে!)
গাছের ভিতর থেকে ( জাইলেম, না কি যেন?)
করে ওরা যাওয়া আসা (ওরা কারা? যাবে কেন?)

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

নীল সাদা, সাদা নীল ~ অমিতাভ প্রামাণিক


ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি বেশ।
দু:খ হয়, জহরলাল জেনে যেতে পারলেন না
তার একটা জুড়ুয়া ভাই ছিল,
কুম্ভমেলায় নয়, সাঁওতাল বিদ্রোহে সে
হারিয়ে গেছে ভীড়ে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫

তেরো - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


রাত এখন কোপার কোপে। যাঁরা জানেন, তাঁরা তো জানেনই। আর যাঁরা আমার মত, বুঝতে না পারলে মুচকি মুচকি হাসেন, আর ভান করেন যেন সব বুঝেছেন, তাঁদের বলি, কোপা হলো কোপা আমেরিকা। আমেরিকা কাপ। ফুটবলের আসর। লাতিন ফুটবলের ধুন্ধুমার লড়াই। গেল হপ্তায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বার্সিলোনা জুভেন্তাস ঘটে গেছে। শেষ রাতে সেই নিয়ে ফোনে মেসেজ চালাচালি করতে গিয়ে দেখলুম, অনেক বড় বড় ফুটবলপ্রেমীই কেমন যেন আড়ো আড়ো ছাড়োছাড়ো করছেন। সকালে বাসে অফিস যাবার সময় নিত্যযাত্রিদের জোরদার আলোচনায় দেখলুম বার্সিলোনা, কোপা, এমন কি হিউমের আতলেতিকো কলকাতায় যোগদানের আলোচনাও কেমন যেন ঝিমিয়ে। শেষে বলেই ফেললুম, হলোটা কি? কোপা তে মেসি-নেইমার-সাঞ্চেজ-সুয়ারেজ, আর সবাই এত ঠান্ডা? হই হই করে উত্তর এলো বেলো টা চলে গেল যে, বল্লুও নাকি যাবে যাবে করছে...। অন্য দিক তাক করেই ছিলো, এবার দাগল তোদের সঞ্জয় সেন তো আছে রে ভাই, ওটাই আসল, কাতু-সোনি উপরি। ব্যাস। বুঝলুম ফুটবল আছে ফুটবলেই। শুধু টিভির পাশে, পাশের মাঠের ছোঁয়ার আরো রঙিন হবার চেষ্টা চলছে মাত্র।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

ডেসপাইট বিয়িং এ উওম্যান ~ অরুণাচল দত্তচৌধুরী

মানে পাতি মেয়েছেলে হয়েও 
যে'ভাবে তুমি সন্ত্রাস রুখেছ… 

ইতিহাসে শূন্য পাওয়া
ভোটে জেতা লোকটা জানতই না
মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও, আজ্ঞে হ্যাঁ, মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও,
ক্যুরি বাড়ির মেয়েটা, দু' দু'বার নোবেল মঞ্চ আলো করেছিল।
কোনও শিশ্নউদ্ধত পুরুষ যে' সাফল্য ভাবেনি কখনও
একবার ফিজিক্সে অন্যবার কেমিস্ট্রিতে
কী সাহস ভাব একবার
মহামহিম ঐশ্বরিক প্রভু অবশ্য সে ঔদ্ধত্য মেনে নেয় নি
সওগাত পাঠিয়েছিল মৃত্যুমাখা রক্তরোগ

শনিবার, ৬ জুন, ২০১৫

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

ভেজাল ~ সুশোভন পাত্র

​আপনি কি চিৎকার করে মজা পান ? হিন্দি গানের সুরে সিটি মারতে পারেন ? আপনি কি বিয়ে বাড়িতে 'উলু' স্পেশালিষ্ট ? কিম্বা শাঁখ বাজানোর এক্সপার্ট ?
কানের গোঁড়ায় শিঙা ফুঁকুন, ধুমধাড়াক্কা রিপাবলিক ডে-তে সবাই মিলে ড্রাম পিটুন, কালীপূজোয় বাজি ফাটিয়ে লোকের পিলে চমকে দিন, দিস-টাইম ফর আফ্রিকা'র ফুটবলে ভুভুজেলা কে মিশিয়ে দিন, ধর্ম-কম্মের দোহাই দিয়ে অন্যের কানের লতিতে মাইক বেঁধে গাঁতিয়ে কেত্তন শোনান, মনুমেন্টের ঘাড়ে মাইক বেঁধে গাঁকগাঁক করে আজান পড়ুন.. ঐ ডবল ডিমের অমলেটের ওপর ল্যাদ ছিটিয়ে স্যানক্স করা ভদ্রলোকের ডিমদের, ঘুম থেকে তুলে, আড়মোড় ভাঙ্গিয়ে দেখিয়ে দিন, এই যুগটা অযথা শব্দ করারই, যুগটা হুজুগের, যুগটা নিজের ঢাক নিজে পেটানোর, যুগটা বিজ্ঞাপনের, যুগটা ভেজালের।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫

ভালোবাসার টুকরো ছবি - শুভাশিষ আচার্য্য


জীবনের কিছু মোড় আছে কিছু সিদ্ধান্ত আছে যা যে মানুষ টা নিচ্ছে তাঁর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সেরকমই তার চারপাশের জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে তা হয়ে ওঠে প্রভাবিত করার উপকরণ। আর একটা ব্যাপার আর সবথেকে মুল ব্যাপার হল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সিদ্ধান্ত সময়োচিত হলে তিনি সফল আর তা না হলে সেটা আর সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়না। আর একটা ব্যাপার হল আমাদের দেশ কাল সমাজ। এ এমন এক মৈত্রীমণ্ডল এমন এক ছায়া যুদ্ধ এমন এক অপরিবেশ বান্ধব যে আজ রাতে রুটির সাথে পেঁয়াজ পাতে থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে থাকেনা অনেক সময়। এরকম একটা বিষম সময় হুট করে তিনি সেই ভুবনজয়ী সিদ্ধান্তটা কত অনায়াসে নিয়েছিলেন। এক জ্ঞান তিতিক্ষু মন নিয়ে মাঝ রাতে ঠিক হয়ে গেল সরকারি চাকরির দরকারি কাজ গুল ছুড়ে দিয়ে কাল সকাল থেকে হবে শুধু লেখা লেখির কাজ। ভুবনজয়ী সিদ্ধান্ত। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আর আমরা প্রভাবিত হলাম।

সোমবার, ১১ মে, ২০১৫

বাঁচার গান - শুভাশিষ আচার্য্য

ফুল ছোঁড়গো পুষ্প দয়াল মাঝরাতে।
আসর যাব ব্যান্ড বাজছে শিশুর মন,
এলোমেলো কথা বারতা দিগদিশাহীন,
আর কত গো পুড়বো আমি আত্মতেজে,
বাঁচব আমি আরও বাঁচব মধুরবেদন,
যাক ছিঁড়ে যাক সব-ভাবনা গরল দহে,
ফুল ছোঁড়গো পুষ্প দয়াল মাঝরাতে।

শনিবার, ৯ মে, ২০১৫

শেষ হয়েও ... - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


টেবিলের কোনায় পড়ন্ত বিকেলের একটুকরো রোদ এসে পড়েছে। দক্ষিন পূর্ব বাভারিয়ায় গ্রীষ্মের তুলনা হয়ত পৃথিবীর কোথাও নেই। ঝিরিঝিরে হাওয়া, নরম সোনালি রোদ। গাছের পাতা গুলো মনে হচ্ছে হালকা সবুজ মাখনের তৈরি, যেন আর একটু রোদ পেলেই গলতে শুরু করবে। এ অঞ্চলের লোকজন ভারি হাসিমুখ। একটু গাঁইয়া বটে, কিন্তু হাঁদা হবার সুবিধে আছে। যাই বোঝানো হোক, ঝটপট বুঝে যায়। বিংশ শতকের শুরু থেকেই জীবনের লয় দ্রুত হতে শুরু করেছে। এই ১৯৩৭ সালের কেজো পৃথিবীর সঙ্গে গত শতকের অভিজাত ধীরলয়ের জীবনের অনেক পার্থক্য। সে জীবনে গতি ছিলোনা বটে, কিন্তু আভিজাত্য ছিলো, চিন্তার খোরাক ছিলো, মাথা খাটাবার জায়গা ছিলো, সুক্ষতা ছিলো, শিল্পের ছোঁয়া ছিলো সব কিছুর মধ্যেই, এমনকি অপরাধ ও অনেক......।

শুক্রবার, ৮ মে, ২০১৫

রাজপ্রাসাদ - শুভাশিষ আচার্য্য

আমাদের একটা রাজপ্রাসাদ আছে। এর নানা রঙ। নানা মহিমা। যখন উচ্ছ্বাস পিছলে বেরয় হৃদয় থেকে আমরা প্রাসাদের এই কক্ষ টাতে যাই। এখানে থরে থরে রয়েছে তাঁর হাতে সাজান আনন্দের উপঢৌকন। যেমন খুশি হাতে নেয়া যায় তা। মনে হয় "আনন্দধারা বহিছে ভুবনে"। ভুবন আলো করা কক্ষ এটা আমাদের রাজার রাজপ্রাসাদে। অন্য দিকে যখন আমরা শোক পাই তখন ওই বিশাল থাম টাকে আঁকড়ে ধরি। মনে হয় সমস্ত শোক তাপ ওখানে প্রাজ্ঞ হয়ে থামটা দাঁড়িয়ে আছে গাছের মত। আমরা যারা কাজ করি, রোদ্দুরে ঘাম ঝরে ক্লান্ত হই, আমাদেরও এক কক্ষ আছে। সেখানে দেখতে পাই আমাদেরই শ্রম এখানে হয়ে আছে নানা কারুকার্য। যারা খেলতে থাকি সারাদিন আর এক দম পড়তে ভালবাসিনা  তাদেরও কঠিন কঠিন পড়া সহজ পাঠ হয়ে খেলা ঘর হয়ে আছে প্রাসাদের ভিতর। আরও কত কক্ষ যে রয়েছে এখানে এক জীবনে তা প্রদক্ষিণ করা মুশকিল।


বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫

হিট অ্যান্ড রান - কৌশিক সেনগুপ্ত

কারো বুক ধড়ফড়,
কারো আনচান,
কেন আজ জেলে যায়
সাল মান খান?

হাপুস হুপুস - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

       - খামোখা ঝগড়া করলেএত রাগ করতে আছে? 

- আমি তো ঝগড়া করিনি, বরং একটা ভালো কথা বোঝাতে চেয়েছিলাম।

- ভারি তো বোঝানো হলো, মাঝখান থেকে রাগারাগি করে খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলে

- আমাকে এরকম করতে দেখেছো কখনো?

শনিবার, ২ মে, ২০১৫

ভরসা থাকুক - অবিন দত্তগুপ্ত

সমীরদাকে , প্রথম দেখেছি , ঢাকুরিয়া জোনাল অফিসে । আমাদের বিকল্প বায়স্কোপের মিটিং ছিল । ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি বস্তি অঞ্চলে একসাথে সিনেমা দেখানো হবে । প্রথম এক্সপেরিমেন্ট । জায়গা বাছার জন্য , সমীর মন্ডল এসছিলেন । মিটিং-এ এক মধ্যবিত্ত কমরেড বলেছিলেন , " ওরা কি এগুলো বুঝবে ? "

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

সক্কলকার পয়লা মে - শ্রেয়সী রায়

গতকাল শেষ , খুচরো হিসেব -
পান্তা ফুরোয় নুন আনতে ;
আজ শুরু হলো , রোদ উঠলেই
বাসনওয়ালীর পয়লা মে...