শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বিষয় - আয়ালান কুর্দি ~ জাগরী ব্যানার্জী

" সমুদ্রে ফিরিয়ে দিলে !!!! ওহে আফলাতুন !"
কহিলেন ইমাম গাজ্জালী ।
"পাঠালাম মাতৃ হস্তে নিরাপদ তোমাদের দেশে !
দর্শনে , পঠনপাঠনে , গুরুকুলে ক্যাফেটেরিয়ায় ,
মহা তর্কে বহুদিন যাপন করিবে এই আশে ! বড়ো হয়ে উঠতে সেখানে ।
পাঠালাম তিন বর্ষীয় যে বালক !
ওহে আফলাতুন! সমুদ্রে ফিরিয়ে দিলে !!
দেখ দিকি কত যত্ন করে , কিনে দিনু লাল রঙা জামা
দেখ দিকি অভিমান ভরা পিঠ , ফিরে শুয়ে আছে আনমনা ।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বন্ধ ~ পুরনদর ভাট

বন্ধ নিয়ে ন্যাকাচোদা মধ্যবিত্বের নাকি কান্না চলছে। 
খিস্তি মারলাম বলে খারাপ লাগলো? শাট শাট! কি করবো বলুন, সারা বছর একবারের জন্যেও যারা মজুর, কৃষকদের কথা বলে না তাদের হঠাত করে বন্ধের দিনে শ্রমিক কৃষকদের কি হবে বলে নাকি কান্না দেখে খিস্তি ছাড়া কিছুই আসছে না। শালা একের পর এক কারখানায় তালা ঝুলে যাচ্ছে, চা বাগানে না খেয়ে লোকজন টপাটপ মরে যাচ্ছে, সারা বছর তা নিয়ে রা কাড়া নেই, বন্ধ হলেই "কর্মনাশা" বলে ঢ্যামনামো। এমন হাবভাব যেনো বাকি ৩৬৪ দিন একেবারে কাজ করে ফাটিয়ে দিচ্ছে আর মাইনের টাকা পেলেই তা নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে গরিবের সেবা করতে। 

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

খাদ্য আন্দলন ~ শতদ্রু দাস


"মা! একটু ফ্যান দিবি?"
মানিক, সন্দীপন বা কমলকুমার প্রভৃতি সাহিত্যিকের লেখায়, গায় কাঁটা দেওয়া এই আর্ত চিতকার অনেকে শুনেছেন। গ্রামে খাবার না পেয়ে, ক্ষুদার্ত মানুষের ভিড় ৫-এর দশকে আকছার দেখা যেতো কলকাতায়। তাঁরা হাতে এলুমিনিয়ামের পাত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরতেন ভাতের ফ্যান (মাড়) চেয়ে। আমি বাংলা সাহিত্যে পড়বার অনেক আগেই বাবার কাছে এই গল্প শুনেছিলাম। কিন্তু সেই মানুষ শুধু ভিক্ষে করেনি, মরতে মরতেও খাদ্যের দাবিতে এক ঐতিহাসিক লড়াই করে গেছিলেন যাকে আমরা বলি "খাদ্য আন্দোলন।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫

হীরক রানী

রাজা = ব্যারিকেড ভাঙলো কেন! কোথায় ছিলো প্যায়াদাদের চোখ!
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ বুঝতে পারিনি সমাবেত হবে এতো লোক।
রাজা = তবে কি প্যায়াদা ছিলো না যথেষ্ট!
রক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে প্যায়াদারা লাঠি হাতে ছিলো সর্বদা সচেষ্ট।
রাজা = মিছিলের কন্ঠ স্তব্ধ করাই প্যায়াদাদের একমাত্র কাজ।
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ টেবিলের নিচে, ফাইলের তলে লুকায় নি কেউ আজ।
রাজা = নিরীহ লোকেদের উপর লাঠি চালানো মোটেই নয় দৃষ্টি কটু।
রক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে সে কাজে প্যায়াদারা যথেষ্ট পটু।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

নবান্ন ~ অনির্বাণ মাইতি

তারপর সেলিম যাহা করিলেন তাহা কহতব্য নহে, ইতিহাসের স্বর্নাক্ষরে সে বীরত্বের কাহিনী লিপিবদ্ধ থাকিবে। এক পকটে থান ইট ও ওপর পকটে পরমানু বোমা লইয়া (ইহা শঙ্কু নির্মিত, নাকি কালাম নির্মিত সে বিষয়ে নিশ্চিত কেহ নহে) পুলিশের পশ্চাতে ধাবমান হইলেন । পাঠককে স্মরণ করাইয়া দিবার প্রয়োজন নাই আমাদিগের পুলিশ সচরাচর এই ধরনের আক্রমণের ক্ষেত্রে টেবিলের তলদেশ অথবা ফাইলের আড়ালকে বাছিয়া লয়। কিন্তু পথমধ্যে টেবিল অথবা ফাইল অপ্রতুল থাকিবার হেতু তাহারা পলায়নকেই শ্রেয় মনে করিয়া, এস এস কে এম অবধি তীব্রগতিতে ধাবমান হইলেন এবং সেইখানে পৌছোনমাত্রেই সরকারী চিকিৎসক গন তাহাদিগকে ভর্তি করিয়া লইলেন। দীর্ঘ পথ ধাবিত হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ বোধ করিতেছিলেন কিনা তাই।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০১৫

ক্ষুদিরামের ফাঁসি ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য়্য

​১৯০৮ সালে আজকের দিনে ফাঁসি হয় ক্ষুদিরামের।কতই বা বয়স তখন, এমন অনেকের প্রাণদান,আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেলাম ১৯৪৭ সালে। তারপর থেকে তো লুণ্ঠন চলছে দেশের সম্পদ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সবকিছুর। তবে স্বাধীনতা দিবস আমরা খুব ধুমধাম করে পালন করি, সকালে পতাকা উত্তোলন, পাড়ার কাউন্সিলর ভাষণ দেন, টফি বিলি করা হয়, দুপুরে মাংস ভাত, বিকেলে বিগবাজার ব্যাপক সেল দেয়, আর রাতে পিকনিক, বক্স বাজিয়ে, সাথে নাচ। সকালে অবশ্য মাইকে একবার বিদায় দে মা, সারে জাহাসে আচ্ছা বাজাই...

আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু ~ পরিচয় পাত্র

​বাদুড় বলে, ওরে ও ভাই সজারু
আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু।
আজকে হেথায় রামদা হাতে পেঁচারা
আসবে সবাই, মরবে ব্লগার বেচারা।
কাঁপবে ভয়ে বাঙালি সব ব্যাঙাচি,
ঘামতে ঘামতে ফুটবে তাদের ঘামাচি,
ছুটবে জঙ্গি লাগবে দাঁতে কপাটি
দেখবে তখন মস্ত ঢ্যাঙা চাপাতি।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র রাজনীতি ~ অনিমেষ বৈদ্য

এক বন্ধুর বাবার মৃত্যু হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে শোক সভা। সদ্য প্রয়াত কাকু ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অবসর নিয়েছেন কিছু বছর আগেই। যাই হোক সেই শোক সভা উপলক্ষ্যে বর্ধমান যাওয়া।
এই সেই বর্ধমান। এই সেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। হঠাৎ করে বর্ধমান এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে মনে করিয়ে দেওয়ার কী প্রয়োজন? প্রয়োজন আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ছবিটাকে বোঝার জন্যই প্রয়োজন আছে।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫

ঈশ্বর ~ অনির্বান মাইতি


একটা ঈশ্বর থাকা না খুব জরুরি জানেন ? মানে ধরুন আমি যে কথাগুলো বলতে চাইছি লোকে সেগুলো বুঝতে চাইছে না, আমি যদি টুক করে আমার লেখার নিচে একটা ঈশ্বরের নাম লিখে দেই তা হলেই বেশ একটা জনসমর্থন জুটে যাবে। ধরুন আমি লিখলাম
ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে ।
নাস্তিক সেও পায় বিধাতার বর ,
ধার্মিকতার করে না আড়ম্বর ।
শ্রদ্ধা করিয়া জ্বালে বুদ্ধির আলো ,

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

​ শিল্প বিচার ~ কৌশিক সেনগুপ্ত

সিংহাসনে বসল রানি, বাজলো কাঁসর ঘন্টা,
ছটফটিয়ে উঠল কেঁপে সুব্রতদার মনটা,
রানি বলে, 'মন্ত্রী আমার রাজ্যে নেইকো শিল্প?'
মন্ত্রী বলে, 'ল্যাংচা সেটা শিল্প তো নয় অল্প।'
রানি বলেন 'অল্প বেশি দেখুক গিয়ে ববি',
ববি বলে 'আমার কেবল চেতলাটুকুই লবি'।
রানি হাঁকেন 'বোলাও তবে...বেহালার ঐ পার্থ',

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫

কদিন হল – শুভাশিষ আচার্য্য

কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে
কেন্নো যেন কুঁকড়ে থাকি, বুকেতে হাত, বল নেইতো
পণ্য জন্ম হয়েছে কবে, কে জানে কখন লুঠ চলছে
জন্ম ভর দাস জন্ম, মাথাটা নুয়ে নিচের দিকে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

ওর চোখ দিয়ে – শুভাশিষ আচার্য্য

-- হ্যালো বাবা..
-- হ্যাঁ মা বল
-- কি করছিলে বাবা
-- এই একটু শুয়ে আছি একটু ক্লান্ত লাগছে তাই
-- ... তুমি ভাল আছ বাবা
-- হ্যাঁ রে মা ভাল আছি তুই চিন্তা করিস না
-- হ্যালো বাবাইরে
-- হুমম

না-মানুষের উপকথা - সুদীপ্ত চক্র

স্কুল থেকে ছেলে ফিরতেই বুকের ভিতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল স্কুলের সাদা জামাটায় লাল ছোপ ছোপ দাগ, চুলগুলো সব এলোমেলো কাঞ্চন দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে ছেলেকে
- কি হয়েছে বাবা ? জামায় এত রক্ত এলো কোথা থেকে !
ছেলে চুপ করে থাকে
কাঞ্চন কি বলবে ভেবে পায় না তার ছেলেতো এমন নয় শান্ত স্বভাবের ছেলের আজ হঠাত্ কি হলো ! ভেবে পায় না কাঞ্চন
- কি হয়েছে বাবা বল আমায়, কেউ কি তোকে মেরেছে ? রাস্তায় কোন দুর্ঘটনা হয়েছে ? চুপ করে থাকিস না বল আমায়

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫

মেঘমুলুকে ঝাপসা পথে... - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

সোঁদা সোঁদা গন্ধ, ভিজে ভিজে রাস্তা, ঝিম ঝিমে নিস্তব্ধতা আর গোল গোল চোখ নিয়ে দেখি ওই উঁচুতে মেঘের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসেছে আস্ত একখানা আইফেল টাওয়ার। স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে আমার জ্ঞানগম্যির উচ্চতা পেয়ারাগাছ পেরোয় না। পাথর বা ইঁটের তৈরি স্তম্ভ মানেই কলকাতা ময়দানের মনুমেন্ট আর লোহা বা ইস্পাতের তৈরি উঁচুপানা কিছু দেখলেই আইফেল টাওয়ার, এর বাইরে অন্য কিছুর তুলনা টানতে পারিনা। আর এখানা দেখতেও অনেকটা আইফেল টাওয়ারেরই মত। ইয়াব্বড় হাঁ করে তাকিয়েছিলুম। গোটা দুয়েক সাহসী পাহাড়ি মাছি হাঁয়ের ভেতর ঢুকে সরেজমিনে দেখে নিয়ে আবার উড়ে বেরিয়ে গেল। শেষে ভাঙ্গা রাস্তার ঝাঁকুনিতে চোয়াল বন্ধ হয়ে কটা কথা বেরিয়ে এল – ওটা ওখানে উঠলো কি করে?  

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫

সাংসদ ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

​সংসদে কেউ গলা ফাটাবেন আম জনতার স্বার্থে
প্লেনে চড়ে তাঁরা যাতায়াত করে কর দাতাদের অর্থে,
কেউ থাকে শুধু চুপচাপ বসে, বলেন যৎসামান্য
বিস্বয়ে কেউ হতবাক হন, বলেন জীবন ধন্য-
পেছন বেঞ্চে বসে দেন কেউ সামান্য দিবানিদ্রা
গালি দেন কেউ, মন দিয়ে শোনে দিকপাল ভাষাবিদরা;
গরম লাগছে ভয়ানক স্যার, অভিযোগ যায় স্পিকারে
কেউ ঘন ঘন পায়চারি করে গলা ভেজালেন লিকারে,
সংসদে কেউ বক্সিং লড়ে, চলে হাতাহাতি কুস্তি

​অনুগল্প ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য


রোজকার মত দোকান বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরতে আজও ১১ তা বেজে গেল কাজলের। স্টেশানের পাশে ছোট চায়ের দোকান কাজলের, গ্রাজুয়েশান করে কিছুদিন টাইপ, শর্টহ্যান্ড শিখে বা সরকারি চাকরির পরীক্ষাও দিয়েছিল কিছু, তারপর এই চায়ের দোকান।বেশ চলে দুজন কর্মচারী, চা, বিস্কুট চায়ের আবার হরেক রকম লাল চা, লেবু চা, দুধ চা, চিনি ছাড়া যার যা পছন্দ।অনেকে খবরের কাগজ পড়ে, খেলা , রাজনীতি নিয়ে মত দেয়, তর্ক চলে বেশ লাগে কাজলের।

​কাল ছিল ডাল খালি ~ প্রকল্প ভট্টাচার্য্য

​কাল ছিল ডাল খালি (ভাত আর ডাল, ব্যাস?)
আজ ফুলে যায় ভরে (হোলো তো পেটেতে গ্যাস?)
বল দেখি তুই মালি (অন্তরা? ও কী জানে!)
হয় সে কেমন করে? ( বোঝো! কোনও হয় মানে!)
গাছের ভিতর থেকে ( জাইলেম, না কি যেন?)
করে ওরা যাওয়া আসা (ওরা কারা? যাবে কেন?)

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

নীল সাদা, সাদা নীল ~ অমিতাভ প্রামাণিক


ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি বেশ।
দু:খ হয়, জহরলাল জেনে যেতে পারলেন না
তার একটা জুড়ুয়া ভাই ছিল,
কুম্ভমেলায় নয়, সাঁওতাল বিদ্রোহে সে
হারিয়ে গেছে ভীড়ে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫

তেরো - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


রাত এখন কোপার কোপে। যাঁরা জানেন, তাঁরা তো জানেনই। আর যাঁরা আমার মত, বুঝতে না পারলে মুচকি মুচকি হাসেন, আর ভান করেন যেন সব বুঝেছেন, তাঁদের বলি, কোপা হলো কোপা আমেরিকা। আমেরিকা কাপ। ফুটবলের আসর। লাতিন ফুটবলের ধুন্ধুমার লড়াই। গেল হপ্তায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বার্সিলোনা জুভেন্তাস ঘটে গেছে। শেষ রাতে সেই নিয়ে ফোনে মেসেজ চালাচালি করতে গিয়ে দেখলুম, অনেক বড় বড় ফুটবলপ্রেমীই কেমন যেন আড়ো আড়ো ছাড়োছাড়ো করছেন। সকালে বাসে অফিস যাবার সময় নিত্যযাত্রিদের জোরদার আলোচনায় দেখলুম বার্সিলোনা, কোপা, এমন কি হিউমের আতলেতিকো কলকাতায় যোগদানের আলোচনাও কেমন যেন ঝিমিয়ে। শেষে বলেই ফেললুম, হলোটা কি? কোপা তে মেসি-নেইমার-সাঞ্চেজ-সুয়ারেজ, আর সবাই এত ঠান্ডা? হই হই করে উত্তর এলো বেলো টা চলে গেল যে, বল্লুও নাকি যাবে যাবে করছে...। অন্য দিক তাক করেই ছিলো, এবার দাগল তোদের সঞ্জয় সেন তো আছে রে ভাই, ওটাই আসল, কাতু-সোনি উপরি। ব্যাস। বুঝলুম ফুটবল আছে ফুটবলেই। শুধু টিভির পাশে, পাশের মাঠের ছোঁয়ার আরো রঙিন হবার চেষ্টা চলছে মাত্র।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

ডেসপাইট বিয়িং এ উওম্যান ~ অরুণাচল দত্তচৌধুরী

মানে পাতি মেয়েছেলে হয়েও 
যে'ভাবে তুমি সন্ত্রাস রুখেছ… 

ইতিহাসে শূন্য পাওয়া
ভোটে জেতা লোকটা জানতই না
মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও, আজ্ঞে হ্যাঁ, মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও,
ক্যুরি বাড়ির মেয়েটা, দু' দু'বার নোবেল মঞ্চ আলো করেছিল।
কোনও শিশ্নউদ্ধত পুরুষ যে' সাফল্য ভাবেনি কখনও
একবার ফিজিক্সে অন্যবার কেমিস্ট্রিতে
কী সাহস ভাব একবার
মহামহিম ঐশ্বরিক প্রভু অবশ্য সে ঔদ্ধত্য মেনে নেয় নি
সওগাত পাঠিয়েছিল মৃত্যুমাখা রক্তরোগ

শনিবার, ৬ জুন, ২০১৫

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

ভেজাল ~ সুশোভন পাত্র

​আপনি কি চিৎকার করে মজা পান ? হিন্দি গানের সুরে সিটি মারতে পারেন ? আপনি কি বিয়ে বাড়িতে 'উলু' স্পেশালিষ্ট ? কিম্বা শাঁখ বাজানোর এক্সপার্ট ?
কানের গোঁড়ায় শিঙা ফুঁকুন, ধুমধাড়াক্কা রিপাবলিক ডে-তে সবাই মিলে ড্রাম পিটুন, কালীপূজোয় বাজি ফাটিয়ে লোকের পিলে চমকে দিন, দিস-টাইম ফর আফ্রিকা'র ফুটবলে ভুভুজেলা কে মিশিয়ে দিন, ধর্ম-কম্মের দোহাই দিয়ে অন্যের কানের লতিতে মাইক বেঁধে গাঁতিয়ে কেত্তন শোনান, মনুমেন্টের ঘাড়ে মাইক বেঁধে গাঁকগাঁক করে আজান পড়ুন.. ঐ ডবল ডিমের অমলেটের ওপর ল্যাদ ছিটিয়ে স্যানক্স করা ভদ্রলোকের ডিমদের, ঘুম থেকে তুলে, আড়মোড় ভাঙ্গিয়ে দেখিয়ে দিন, এই যুগটা অযথা শব্দ করারই, যুগটা হুজুগের, যুগটা নিজের ঢাক নিজে পেটানোর, যুগটা বিজ্ঞাপনের, যুগটা ভেজালের।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫

ভালোবাসার টুকরো ছবি - শুভাশিষ আচার্য্য


জীবনের কিছু মোড় আছে কিছু সিদ্ধান্ত আছে যা যে মানুষ টা নিচ্ছে তাঁর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সেরকমই তার চারপাশের জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে তা হয়ে ওঠে প্রভাবিত করার উপকরণ। আর একটা ব্যাপার আর সবথেকে মুল ব্যাপার হল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সিদ্ধান্ত সময়োচিত হলে তিনি সফল আর তা না হলে সেটা আর সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়না। আর একটা ব্যাপার হল আমাদের দেশ কাল সমাজ। এ এমন এক মৈত্রীমণ্ডল এমন এক ছায়া যুদ্ধ এমন এক অপরিবেশ বান্ধব যে আজ রাতে রুটির সাথে পেঁয়াজ পাতে থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে থাকেনা অনেক সময়। এরকম একটা বিষম সময় হুট করে তিনি সেই ভুবনজয়ী সিদ্ধান্তটা কত অনায়াসে নিয়েছিলেন। এক জ্ঞান তিতিক্ষু মন নিয়ে মাঝ রাতে ঠিক হয়ে গেল সরকারি চাকরির দরকারি কাজ গুল ছুড়ে দিয়ে কাল সকাল থেকে হবে শুধু লেখা লেখির কাজ। ভুবনজয়ী সিদ্ধান্ত। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আর আমরা প্রভাবিত হলাম।

সোমবার, ১১ মে, ২০১৫

বাঁচার গান - শুভাশিষ আচার্য্য

ফুল ছোঁড়গো পুষ্প দয়াল মাঝরাতে।
আসর যাব ব্যান্ড বাজছে শিশুর মন,
এলোমেলো কথা বারতা দিগদিশাহীন,
আর কত গো পুড়বো আমি আত্মতেজে,
বাঁচব আমি আরও বাঁচব মধুরবেদন,
যাক ছিঁড়ে যাক সব-ভাবনা গরল দহে,
ফুল ছোঁড়গো পুষ্প দয়াল মাঝরাতে।

শনিবার, ৯ মে, ২০১৫

শেষ হয়েও ... - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


টেবিলের কোনায় পড়ন্ত বিকেলের একটুকরো রোদ এসে পড়েছে। দক্ষিন পূর্ব বাভারিয়ায় গ্রীষ্মের তুলনা হয়ত পৃথিবীর কোথাও নেই। ঝিরিঝিরে হাওয়া, নরম সোনালি রোদ। গাছের পাতা গুলো মনে হচ্ছে হালকা সবুজ মাখনের তৈরি, যেন আর একটু রোদ পেলেই গলতে শুরু করবে। এ অঞ্চলের লোকজন ভারি হাসিমুখ। একটু গাঁইয়া বটে, কিন্তু হাঁদা হবার সুবিধে আছে। যাই বোঝানো হোক, ঝটপট বুঝে যায়। বিংশ শতকের শুরু থেকেই জীবনের লয় দ্রুত হতে শুরু করেছে। এই ১৯৩৭ সালের কেজো পৃথিবীর সঙ্গে গত শতকের অভিজাত ধীরলয়ের জীবনের অনেক পার্থক্য। সে জীবনে গতি ছিলোনা বটে, কিন্তু আভিজাত্য ছিলো, চিন্তার খোরাক ছিলো, মাথা খাটাবার জায়গা ছিলো, সুক্ষতা ছিলো, শিল্পের ছোঁয়া ছিলো সব কিছুর মধ্যেই, এমনকি অপরাধ ও অনেক......।

শুক্রবার, ৮ মে, ২০১৫

রাজপ্রাসাদ - শুভাশিষ আচার্য্য

আমাদের একটা রাজপ্রাসাদ আছে। এর নানা রঙ। নানা মহিমা। যখন উচ্ছ্বাস পিছলে বেরয় হৃদয় থেকে আমরা প্রাসাদের এই কক্ষ টাতে যাই। এখানে থরে থরে রয়েছে তাঁর হাতে সাজান আনন্দের উপঢৌকন। যেমন খুশি হাতে নেয়া যায় তা। মনে হয় "আনন্দধারা বহিছে ভুবনে"। ভুবন আলো করা কক্ষ এটা আমাদের রাজার রাজপ্রাসাদে। অন্য দিকে যখন আমরা শোক পাই তখন ওই বিশাল থাম টাকে আঁকড়ে ধরি। মনে হয় সমস্ত শোক তাপ ওখানে প্রাজ্ঞ হয়ে থামটা দাঁড়িয়ে আছে গাছের মত। আমরা যারা কাজ করি, রোদ্দুরে ঘাম ঝরে ক্লান্ত হই, আমাদেরও এক কক্ষ আছে। সেখানে দেখতে পাই আমাদেরই শ্রম এখানে হয়ে আছে নানা কারুকার্য। যারা খেলতে থাকি সারাদিন আর এক দম পড়তে ভালবাসিনা  তাদেরও কঠিন কঠিন পড়া সহজ পাঠ হয়ে খেলা ঘর হয়ে আছে প্রাসাদের ভিতর। আরও কত কক্ষ যে রয়েছে এখানে এক জীবনে তা প্রদক্ষিণ করা মুশকিল।


বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫

হিট অ্যান্ড রান - কৌশিক সেনগুপ্ত

কারো বুক ধড়ফড়,
কারো আনচান,
কেন আজ জেলে যায়
সাল মান খান?

হাপুস হুপুস - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

       - খামোখা ঝগড়া করলেএত রাগ করতে আছে? 

- আমি তো ঝগড়া করিনি, বরং একটা ভালো কথা বোঝাতে চেয়েছিলাম।

- ভারি তো বোঝানো হলো, মাঝখান থেকে রাগারাগি করে খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলে

- আমাকে এরকম করতে দেখেছো কখনো?

শনিবার, ২ মে, ২০১৫

ভরসা থাকুক - অবিন দত্তগুপ্ত

সমীরদাকে , প্রথম দেখেছি , ঢাকুরিয়া জোনাল অফিসে । আমাদের বিকল্প বায়স্কোপের মিটিং ছিল । ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি বস্তি অঞ্চলে একসাথে সিনেমা দেখানো হবে । প্রথম এক্সপেরিমেন্ট । জায়গা বাছার জন্য , সমীর মন্ডল এসছিলেন । মিটিং-এ এক মধ্যবিত্ত কমরেড বলেছিলেন , " ওরা কি এগুলো বুঝবে ? "

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

সক্কলকার পয়লা মে - শ্রেয়সী রায়

গতকাল শেষ , খুচরো হিসেব -
পান্তা ফুরোয় নুন আনতে ;
আজ শুরু হলো , রোদ উঠলেই
বাসনওয়ালীর পয়লা মে...

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৫

May Day - ভরসা দিবস - শুভাশিষ আচার্য্য

আপনি কথা বললে মুখে সুরভিত জোতদারের গন্ধ ছোটে।
রাস্তায় হেঁটে চললে মুঘল বাদশার জুতো শব্দ করে।
হাত নাড়লে, ঠাণ্ডা গাড়ির পেছন সিটের জানলা থেকে,
তেজি ঘোড়ার পিঠের থেকে চাবুক ঘোরে দলিত পিঠে।

একটি রঙিন গল্প ~ অরুণাচল দত্তচৌধুরী

গত মঙ্গলবার দুপুর বারোটা সাতচল্লিশে আচমকা আমাকে দলে ডেকে নিল ওরা। আমি কোনও পার্টি করতাম না। তাই দলত্যাগ বা দলবদল জাতীয় মহান শব্দ আমার বেলা উচ্চারণ করা যাবেনা। দলে ভেড়াল বা দলভুক্তি ঘটল বলা যেতে পারে।

চাকরি পাই নি। কলকাতায় সেজপিসির বাড়িতে অনাহুত আশ্রিত। চাকরির পরীক্ষা দিই আর ফাইফরমাশ খাটি। মান্তুকে ইস্কুলবাসে পৌঁছে দেওয়া, দোকান বাজার মায় কাজের দিদি না এলে ইদানীং এমন কী কাপড়কাচা বাসনমাজাও। কী করা? দাদা বৌদি দু'জনেই অফিস যায়। পিসি বাতে শয্যাশায়ী। আমাকে যে থাকতে দিয়েছে এই ঢের। পরিবারটাকে সব মিলিয়ে মহানুভবও বলা যায়। 

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৫

এক পশলা বিপ্লব জেগে উঠছে আবার - গোধুলি মিত্র


এক পশলা বিপ্লব জেগে উঠছে আবার
ভেঙ্গে যাওয়া শপথ,
মুচড়ে দেওয়া শিরদাঁড়া জুড়ে জুড়ে
আগুন জ্বালাচ্ছে দধীচি

​বিজয়োৎসব ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

আমাদের মুখ কালচে কালচে – মাটির মত
মাঠে ময়দানে, পুজো-পার্বনে খুশিরা ডাকতো
বারোয়ারি খানা, ভোগের খিচুড়ি, তপ্ত সুবাস
ছোট্ট পাড়াটা আরো ছোটোদের কান্না ঢাকতো

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৫

দুপয়সার রবি - গোধুলি মিত্র

              
আমরা যারা রবি ঠাকুর বলি, শুনি, পড়ি বা গাই- আমাদের সাথে রবীন্দ্রনাথের প্রথম আলাপ হয় মা-বাবা, শিক্ষক কিম্বা নিছক পড়ার বইয়ের হাত ধরে। কেউ উপহার পেয়েছি, কেউ বাড়িতে পরম্পরায়, কেউ শখে ,কেউ বা লাইব্রেরীতে। যে মেয়েটার কথা এখন বলব, তার সাথে রবির আলাপ কিছুটা অন্যরকম, কিছুটা ব্যতিক্রম।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৫

আমোদিনীর হালকা পালক ~ সংগীতা দাশগুপ্তরায়

আমার বড়মাসি ছিল তুমুল সুন্দরী। যাকে বলে ফাটাফাটি সুচিত্রা সেন টাইপ সুন্দরী। তখন ওটাই সৌন্দর্যের মাপকাঠি হিসেবে নাকি ধরা হত। তো মাসিমনি জামালপুরের সুচিত্রা সেন হয়ে বহু উত্তম মধ্যম ও অধমের বুকে দোলা লাগিয়ে চলেছে নিয়মিত। হেনকালে আমার বড়মামুর প্রাণের বন্ধু ভীমমামু মাসিমণির প্রেমে পড়ে একদম হাপুস হুপুস দশা । মুশকিল একটাই যে বন্ধুর বোনকে এভাবে ভাল লাগাটা ঘোরতর নিয়মবিরুদ্ধ। এদিকে বেচারা যত ভাবে ভুলে যাবে 'মনো মানে না' । শেষে মরিয়া হয়ে আগে বড়মামুর কাছেই কনফেস করল। বড়মামুর শুনে আপত্তি নেই কারন বন্ধুটিও বদ্যি (এটা একটা মারাত্মক ক্রাইটেরিয়া) এবং ভারি পরোপকারী ভালমানুষ ধরনের। হালত দেখে বড়মামুই হাল ধরল। মাসিমণিকে একদিন কথায় কথায় বলল "বুঝলি, ভীমের তোকে খুব পছন্দ" ।

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৫

দুনিয়া কাঁপানো ১ দিন - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


(পাঠকের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ, লেখাটি পুরো পড়বেন। নয়ত পড়বেন না)

৩০শে এপ্রিল ১৮৮৬, শুক্রবার

----------------------

আনন্দ –

ü  ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের দাবিতে ৪ঠা মে শিকাগো তে বড় জমায়েতের ডাক দিলো মজদুর ইউনিয়ন।

ü  হুমকি ধর্মঘটের, নৈরাজ্যবাদী হামলার আশংকা মার্কিন সরকারের

ü  দাবী অন্যায্য, ধর্মঘট ক্ষতি করছে মার্কিন কর্মসংস্কৃতির – দাবী শিল্পপতি মহলের

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৫

দুষ্টু তিনু ~ প্রকল্প ভট্টাচার্য্য

দুষ্টু তিনু (সম্পুর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রচনা; শ্রী যোগীন্দ্রনাথ সরকারের কবিতা অবলম্বনে)
গড় গড় ঘড় ঘড় চৌত্রিশ সাল
তিন লাফে এল তিনু বদলাতে হাল।
ফাঁকি দিয়ে ট্যাঁকি ভরা এই তার কাজ;
মনে ভাবে, ভারি মজা করিবে সে আজ।
চেপেচুপে বসে তিনু হয়ে গদিয়ান,
কিছুদিন পরে তার স্বরূপ দেখান।
ছড়িগাছা ল'য়ে সিবিয়াই ঘাড়ে চড়ে,
মনে মনে হাসে তিনু, ভয় নাই ধড়ে।
হামা দিয়া সিবিয়াই গুটি গুটি যায়,
ঝুপ করে নেমে তিনু ঢুকিল ডেলোয়।
হেঁট হয়ে সিবিয়াই দেখে চারি ধার,
কোথা গেল তিনুগুলো, খোঁজ মেলা ভার!
রেগে জ্ব'লে জনগণ থর থর কাঁপে,
তিনু গুলো তর্‌ তর্‌ গদি 'পরে চাপে।
সিবিয়াই ভ্যাবাচ্যাকা, সারা গায়ে ঘাম,
মহা খুশি তিনুগুলো ধরিল লাগাম!
তারপরে গেল গোটা রাজ্য চুলোতে,
টাকা, সম্মান সব লুটোল ধুলোতে!

বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৫

একটু খবর নিলে হয় - শুভাশিষ আচার্য্য

তোমাদের কস্টের বেঁচে থাকা মনে জাগায়
অনেক বিস্ময়।
টিভি তে খবরাখবর সকালের বাজার আর
সরকারে প্রত্যয়।
সোম থেকে শুক্র খাটুনি দিন শেষে এসি বা নন এসি
বাসে করে বাড়ি ফিরে বাচ্চার খুনসুটি
এবার একটা গাড়ি কিনলে হয়।
গাড়ির কত হবে ই এম আই সে আবার হিসাবের ব্যাপার
মাস গেলে স্যালারি ক্রেডিট তারপর একে একে সাবার।
সবকিছু ই এম আই জীবনের বীমা নিজস্ব ঘর আনন্দের পার্টি
অতটুকু পয়সা সেই বা আর কি কি সয়।
এদিকে সারাদিন ব্যস্ততা তার মাঝে লাইক ডিস্লাইক হয়নি
কত ছবি শেয়ার হয়নি নিজের কথা বলা হয়নি একেবারে জেরবার
কে জানে কে হল আভিমানি বা কেকে অভিমানিনী।
তোমাদের কস্টের বেঁচে থাকা মনে জাগায়
অনেক বিস্ময়।
ভালবাসা শেয়ার হয় বা নিদেন ই এম আই
একটু খবর নিলে হয়।

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৫

গোগ্রাস - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


পুঁচকে বলে পুঁচকে? একদম এইটুকুনটি। কোলের ছেলে অস্কার। তা বাপ-মায়ের আর দোষ কি? ছেলের চাঁদপানা মুখটি দেখে বাবা বলে বসলেন ছেলে আমার বড় হয়ে অমুক হবে। ব্যাস। ক্ষুদে ছেলে গোঁসা করে ঠিক করল আর বড় হবে না। তা একটু গোঁয়ার হয় বটে জার্মানরা। তাও আবার যেমন তেমন শহরের জার্মান নাকি? এ হলো ডানৎসিগ (Danzig)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির থেকে ছেঁটে নিয়ে যে শহরকে স্বাধীন বলে ঘোষনা করেছিল মিত্রপক্ষ সেই ডানৎসিগ। অস্কার আর বড় হয়নি। ওই তিন বছরেই আটকেছিলো। তিন বছরের জন্মদিনে বাবার দেওয়া একখানা টিনের ড্রাম পিটে পিটে তার যত ডানপিটেমো। টিন-ড্রাম উপন্যাসটি লিখেছেন গুন্টার গ্রাস। ছবিও হয়েছে এই উপন্যাস নিয়ে। অস্কারের মত গুন্টার গ্রাসের জন্মও ওই ডানৎসিগ শহরে।

ছবি এঁকেছেন, লিখেছেন, মূর্তি গড়েছেন। আরো কত কি যে করেছেন!! সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন ১৯৯৯ সালে। ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রচুর। শান্তি আন্দোলনের দূত হয়ে ভ্রমন করেছেন একের পর এক দেশ। ১৯৮৬ সাল। গায়ে সাদা ফতুয়া, পরনে নীল-সাদা চেক কাটা লুঙ্গি। মুখে বিড়ি। গ্রাস বাবু হেঁটে চলেছেন কলকাতার রাস্তায়। এ শহরে কাটিয়ে গেছেন বেশ কিছুদিন। কালীঠাকুর তাঁকে বড়ই আশ্চর্‍্য্য করেছিলো। ওই জিভ কাটা মূর্তি নিয়ে পরে লেখালিখি করেছেন গ্রাস বাবু। কলকাতায় তাঁর বেশ আপন আপন লাগত।
 

একটু বাঁয়ে হেলেই থাকতেন। যদিও সাদা কে সাদা, কালোকে কালো বলতে দ্বিধা করেননি কখনো। ইরান, ইজরায়েল, আমেরিকাই হোক, বা হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত ট্যাঙ্ক, তাঁর কলমের গ্রাসে সব্বাই পড়েছে। দুই জার্মানি এক হওয়াও তাঁর মনঃপুত হয়নি। বলেছিলেন দুজনের আলাদা রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাক, নইলে একজন অন্যজন কে গিলে খাবে। আলাদা স্বতন্ত্র সত্বায় বিশ্বাস করতেন, কিন্তু কাঁটাতারে কখনো বিশ্বাস করেন নি। চাইতেন সারা বিশ্বের সব জাতের মানুষ এসে জার্মানিতে থাকুক। মেলামেশা হোক, নতুন মানব সমাজ গড়ে উঠুক। জীবনের প্রথম দিকে নাৎসি ওয়াফেন এসএসের সৈনিক ছিলেন। ১০ নম্বর ট্যাঙ্ক ডিভিশানে থেকে বিশ্বযুদ্ধ শেষ করেন। সে কথা লুকোন নি। কিন্তু পরবর্তিকালে ভিলি ব্রান্ডটের সোসাল ডেমোক্রাসির একনিষ্ট সমর্থক। তা সত্বেও তিনি যেন ছিলেন আধুনিক জার্মানির বিবেক।

ঝুঁপো-গুঁফো হুঁকোমুখো দেখতে বটে সাহেব কে, কিন্তু রসবোধটি মোক্ষম। জীবনের শেষ দিকে এসে, আত্মজীবনী লেখায় হাত দিলেন যখন, সে লেখার নাম দিলেন – বাইম হাউটেন ডার ৎসুইগেল, মানে পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো। ভেবে দেখুন। ঝাঁঝে চোখে জল আসবে। রান্নার সময় সে খোশার খোশবাইতে পাড়া মাত হয়ে যাবে। আপনি একের পর এক ছাড়িয়েই যাবেন। কিন্তু ভেতরে? স্রেফ ফক্কা।

মানুষটা চলে গেলেন গতকাল। ৮৭ বছর বয়সে। পেঁয়াজ রেখেই গেছেন। পড়ে দেখতে পারেন। গোগ্রাসে।
 
** ছবি ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত