রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

আনন্দবাজারের দিব্যি ~ মানস দাস

বাল ঠাকরে বাধঁবে রাখী শাহরুখের হাতে
বিন লাদেন আর ওবামা আজ করবে চরুইভাতে ।

সৌরভের দাদাগিরি চ্যাপেল চিফ গেষ্ট
নন্দনের পুকুর পাড়ে মম-বুদ্ধ'র রেস্ট ।

মাওবাদীদের বন্দুকে নয় মানুষে আজ ভরসা
পূর্ব দিকে আজ গোধূলি পশ্চিমে ভোর ---ফরসা ।

শিলা পোতা ছেড়ে দিদির ঝাড়পোছ আজ ট্রেনে
মাথা মহামূল্যবান----------হার্ট'টা থাক না ব্রেনে ।

শ্রেণীর লড়াই অহেতুক মউ'তেই সমঝোতা
ফিদেল আর বিল গেটস---এই দুজন মূল হোতা ।

পুজিঁবাদের সাম্যবাদ আর সাম্যবাদের পুজিঁ'র
অন্য একের পরিপূরক ভয় কি সবার রুজি'র ।

ভাবিস তোরা স্বপ্ন এন্ড'-এ এটাই কনক্লুশন
আনন্দ (!) বাজারের দিব্যি-----এটাই ওদের মিশন ।

একনাগাড়ে লিখছে এসব-----হজম হতে বাধ্য
করবে পরখ ? ঠিক না বেঠিক-----আছে তোমার সাধ্য ?

শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

বেকারের আলপনা ~ অনির্বাণ ঘটক


বিপ্লব তুমি ফিরে এসো খোলা চুলে,
বিপ্লব তুমি ফিরে এসো বারবার,
দেশকাল মোছে স্নানের জলের মত,
বিপ্লব তুমি এখনও নির্বিকার?

কেউ বলে, কবি ফুলের গল্প লেখো,
কেউ বলে কবি নিশুতি রাতের প্রেম,
কবি একমনে এঁকে চলে তার লেখা,
রাস্তায় পড়ে রক্ত কমরেডের...

বিপ্লব তুমি রক্তের সাথে এসো,
বিপ্লব এসো জোয়ার ভাটার সাথে,
বিপ্লব তুমি চৌরাশিয়ায় এসো,
বিপ্লব এসো স্লোগানবদ্ধ হাতে,

ফেলে গেছি মায়া, ভুলে গেছি বহুকাল,
তোর সাথে দিন, আগোছালো, দিশাহীন,
ফের যদি তোকে আলগোছে ডেকে নিই,
বিপ্লব, তুই আসবি তো সেইদিন?

বহুদিন হল স্তব্ধ পেপারব্যাক,
রুটি-রুজি মায়া দুর্বিপাকের জাত,
পিছু ফেরবার চেষ্টাও প্রাণপণ,
(শুধু) মুখ চেপে ধরে শাসকের কালো হাত,

এবার ভুলবো পিছু ফেরবার টান,
এবার রক্ত শিরাতে ও ধমনীতে,
এবার মিছিল শেষ যুদ্ধের শুরু,
বিপ্লব, তোকে আসছি আমরা নিতে...

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

মিছিল ~ অনামিকা

মিছিল থেকে মুখ লুকিয়ে , কোথায় গিয়েছিলাম উধাও
বলব না তা। কিন্তু ফিরে কি দেখছি তা যদি শুধাও ...
বজ্রশব্দে মাইন ফেটেছে। উড়ছে বারুদগন্ধ খালি।
ক্ষমতালোভ পুড়িয়ে দিচ্ছে দুঃখিজনের গৃহস্থালি!
যদিও খুব মেঘ করেছে ... রক্তবৃষ্টি আসছে ঝেঁপে ...
দেখছি চেনা সেই মিছিলই হাঁটছে দৃঢ় পদক্ষেপে।


সময় শুধু নিষ্ঠুর নয়, সেই সাথে সে বড়ই রসিক।
হোর্ডিংএ মুখ প্রকাশ পেলে পাঠায় নানা পারিতোষিক।
মগজ বোঝাই অঙ্কে মেশা নানান শেডের অন্ধকারও।
মধ্যমেধার মধ্যবিত্ত কষছে হিসেব, চাইছে আরও।
মৃত্যুপূজার রাক্ষসীকে বলছে না কেউ "দাঁড়াও ... রোসো" !
সব্বাই চুপ ... অবাক কান্ড ...! পরমপ্রিয় শঙ্খ ঘোষও
বলছেন না, "রক্তে কাদায় ব্যক্ত জীবন যায় না রোয়া !"
মিছিল তবু হাঁটছে। কোনই ভয় নেই তার ... নেই পরোয়া!


খুন হয়ে যায়, ঘাটের ... মাঠের ... হাটের পথের সঙ্গীসাথী।
ছিটকে পড়ছে মাথার ঘিলু, ছিন্ন ব্যাগের আনাজপাতি।
তবু মিছিল এগোয়। আকাশ নতুন আলোয় স্লোগান লেখে।
হতক্লান্ত জীবন ... উঠে দাঁড়ায় ভূমির শয্যা থেকে।
মৃত্যুশীতল সন্ত্রাস আজ করুক যতই হুকুমজারি ...
হার না মানার এই মিছিলে, সারা জীবন থাকতে পারি!
 

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

এই আমি ~ সুকন্যা

ক্ষতর ভীড়ে গতরখাটা তুচ্ছ রসদ,
খরচ করে হিসাব রাখা পাওনা নগদ...
অবুঝ সঙ্গী পেটের জন্য শুধুই ছুটি,
দিনের শেষে ভাগ্যে জোটে একটু রুটি।
তবুও তো ইচ্ছে করে একটু বাঁচার,
জীবন টাকে রাখছি বাজি রোজই আবার...
হোঁচট খেয়ে হেঁটেই চলি সমস্তদিন,
ফিরিয়ে দেবার অঙ্গীকারে সমস্ত ঋন।
গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছে নিদ্রা আমার,
যত্নে রাখা ইচ্ছেগুলো এখন তোমার...
হাত বাড়িয়ে খুঁজেই চলি কাছের মানুষ,
ভালবাসা দূর আকাশের মিথ্যে ফানুস।
নাগরিক মন দেয় পুড়িয়ে সব অপবাদ,
স্তব্ধতায় ঢাকছি আমার অথৈ বিষাদ।
সংগ্রামী মন স্বপ্ন সাজায় দিনপ্রতিদিন,
কালের ঘরে শনি এবার হবেই বিলীন...
আলোর হদিশ মিলবে এবার,আবীর ওড়াই,
মৃত্যুভিক্ষা চাইনা আর...এবার লড়াই।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

মানুষ, তুমি শুনতে পাচ্ছো ~ শ্রদ্ধা

নখের আচঁর ভালবাসলে
শরীরে দাগ- রক্ত রক্ত
কবিতা নয়, কবিতা নয়...
আর্তনাদের শব্দ শুনছো?!


বিপ্লবী মন দেওয়াল লেখে
যুদ্ধে যাবো- যাবোই এবার
বুক পেতে দিই রণক্ষেত্রে
দেখতে পাচ্ছো? শুনতে পাচ্ছো?!


নীরব কোনো একাকীত্মে
সরব কোনো যন্ত্রনামুখ-
অস্থির মন কুচকাওয়াজে
ভুল পা ফ্যালে... বুঝতে পারছো?!


মরক শেষে বেঁচে ফেরা
দু এক জোড়া দোয়েল ফিঙ্গে
সকাল হলেই শিষ দিতে চায়
সভ্যতার ই নিয়ম মেনে;


গুলতি ছোড়ে ওদের দিকে
বদলে যাওয়া ঋতুচক্র
আগুন থেকে ফুল ফোটে না
বুঝতে পারছো? শুনতে পাচ্ছো?!


শুম্ভ নিশুম্ভদের খেলা
মুন্ড নিয়ে কড়চা চলছে
মন গুলো সব মোমের মত
বিষ ঢেলে দে... আগুন গলছে;


হাত টা তো নেই, পা মাথা নেই
বুক, চোখ , মুখ খুবলে গ্যাছে
নিজের কবর খুড়ছি নিজে
পাপ পূন্যের উৎস থেকে............


মানুষ বড় কষ্টে আছে
কান্না কোনো শুনতে পাচ্ছো?!
মানুষ কাঁদছে শুনতে পাচ্ছো?!
শুনতে পাচ্ছো!!!

ঈশ্বরের স্টুডিয়োয়... ~ শ্রদ্ধা

বিলাসবহূল চান ঘরে
মোমের মত শরীর থেকে পিছলে পড়ে জল;
ঠিকরে ওঠে স্বপ্ননীল আলো সেই জলে- হীরের কুচি!


ঠিক এখান থেকে যদি চলে যাই
কোনো ঠিকানাহীন সংসারে
যেখানে খিদের জ্বালায় ক্রন্দনরত শিশু
আর
নিভে যাওয়া উনুনের সামনে বিষণ্ণ মা-


আবার সেখান থেকে
চলে যেতে পারি এমন কোথাও-
যেখানে
পাপ পুন্য, দুর্ভাগ্য সৌভাগ্য, মন্দ ভালো
সব একাকার হয়ে যাচ্ছে
মানুষ পোড়াবার চুল্লীতে।


ঠিক এই দৃশ্যে- ঈশ্বর সাম্যবাদী।।

সাতদিন ~ অনামিকা

সাতটি দিনের আল্‌টিমেটাম
দিয়েছিলেন উনি
জনসভার মিথ্যে ভাষণ
অভ্যেস তাই শুনি।


তারপরে কি? অলীক পথে
রেল গিয়েছে আমতা
ঝাড়্গ্রাম আজ চেঁচিয়ে পড়ে
সাতের ঘরের নামতা।


ওরাই করে রক্ষা রণে-
বনে ও জঙ্গলে
সন্ত্রাসীরা মাসতুতো ভাই
অস্ত্রে কথা বলে।


গ্রাম শহরে গোপন আঁতাত,
মিটিং প্রতিদিনই
সুশীল ওরাই স্বজন এবং
ছদ্ম মাতঙ্গিনী !


ওরা জানেন কয়টি মাথা
রয়েছে কার ঘাড়ে
ভদ্রভাবে রক্তভোজন
মানব অধিকারে-


সে যাক্‌ গে। হোক্‌ কাজের কথা
সাতটি দিনের পরে
নেত্রী গেছেন লালগড়ে?
না- লুকিয়ে আছেন ঘরে?

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১০

অরকুট কবি.... ~ সুকন্যা

অরকুট কবি আমি লিখে যাই পদ্য
অর্থহীন শব্দ শিখছি এই সদ্য.
গাছ তারা জল পাখী মিলেমিশে একাকার
হাত পা চোখ নাক একসাথে ছারখার.
anatomy করে ফেলি কবিতার লাইনে
শব্দগুলো চলে বামে,অর্থ তার ডাইনে.
নাই থাক তার মানে নাই থাক অর্থ
কবিতা আমি লিখি বাপু একদম যথার্থ.
কখনো কবিতা নিয়ে ভালবাসা হয়নি
লেখাগুলো তাই কারো মন ছুঁয়ে যায়নি.
অরকুটে এসে আমার বড় মনে সাধ হয়
আমিও লিখব কিছু, কবি কবি ভাব হয়.
যেই ভাবা সেই কাজ,লিখে ফেলি একরাশ
লেখা শেষে দেখি আমি কবিতার সর্বনাশ.
গাদাগাদা চিন্তা,এলোমেলো কিলবিল
অর্থ আর শব্দের কিছুই পাইনা মিল.
বোঝাতে চাই একমানে, হয়ে যায় অন্য
তবু আমি লিখবই, হব স্বনামধন্য.
নামডাক হবে খুব,হবে ছেলেবন্ধু
কবিতার আড়ালে প্রেমনদী সিন্ধু.
আমার পদ্য পড়ে পাঠকের প্রান যায়
ছেঁড়ে দে মা অনেক হল, পাগল হবার প্রায়.
ধুর,তোমরা বোঝনা কিছু কবিতার মর্ম
মন দিয়ে করে যাই লেখালেখি কর্ম.
এলোমেলো কথা সব, তালকাটা ছন্দ
মাতৃভাষা পালিয়ে বাঁচে, হাওয়াটা আজ মন্দ.
বানানভুলের লেখাগুলো সাবধানে পড়বেন
অরকুট কবি ভেবে মার্জনা করবেন.

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১০

যত দূর মনে পড়ে ~ জ্যোতি বসু



"১৯৪০ সালেই কলকাতা ফিরে আমি এখানকার পার্টিনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। পার্টির নির্দেশ অনুযায়ী আমি আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলাম না - তবে আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা ছিল আমার অন্যতম একটি প্রধান কাজ।

আমি ব্যারিস্টার হিসাবে কলকাতা হাইকোর্টেও নাম লিখিয়েছিলাম। কিন্তু প্র্যাকটিস করিনি কোনদিনই। কারণ আমরা (ভুপেশ, আমি এবং অপর কয়েকজন) লন্ডনে থাকতেই পার্টির সারাক্ষণের কর্মী হিসাবে কাজ করার জন্যে মনস্থির করে ফেলেছিলাম। তবে বাবা এতে খুশি হলেন না; তিনি চেয়েছিলেন আমি প্র্যাকটিস শুরু করি, রোজগার করি। বাবার অবশ্য মনোভাব উদার ছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন না - প্র্যাকটিস করে রাজনীতি করা যাবে না কেন? দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস যদি ব্যারিস্টারি আর রাজনীতি এক সঙ্গেই করতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারব না?" - ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের সাথে মিশে যাওয়া সম্পর্কে, ১৯৪০।


"আমাদের গ্রেপ্তার করে গাড়িতে নিয়ে যেতে যেতে পুলিশ বলল, চীন একতরফাভাবে গুলিবর্ষণ বন্ধ করেছে, তাই আপনাদের বেশিদিন জেলখানায় থাকতে হবে না। যুদ্ধ হলো ১৪ দিনের, কিন্তু আমাদের জেলখানায় এক বছর আটকে রাখা হলো। আমাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ধরা হোল এবং এক বছর জেলে রেখে দেওয়া হলো বিনা বিচারে। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে আমি মুক্তি পেলাম।"  চীন-ভারত যুদ্ধের সময়ে, ১৯৬২- ৬৩।

"দু'বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকার আর তার সহযোগীরা আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা ও কলঙ্ক রটনার এক বিষাক্ত অভিযান চালিয়ে আসছে। আমাদের বিরুদ্ধে সরকার তীব্র দমনকার্য পরিচালনা করে চলেছে। এই সবকিছুরই উদ্দেশ্য হলো একটি, তা হলো একটি বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক বিরোধী দল - যে দল সরকারের জনবিরোধী নীতিগুলিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, এমন একটি দলের বিকাশ ও বৃদ্ধির পথে বাধা দেওয়া। আর  ডাঙ্গে-চক্র পার্টির জীবনে অভূতপূর্ব বিপর্যয় সৃষ্টি করে সরকারের এই কর্মপ্রক্রিয়াকেই সাহাযয় করেছে।" সি পি আই এম গঠন ও তেনালী কংগ্রেস ১৯৬৪।


"বামপন্থি সুবিধাবাদীদের আসলে জনগণকে ঐক্যবধ্য করা, সঠিক রণকৌশল নির্ধারণ করা, সংস্কারপন্থী ও সংশোধনবাদী যারা শ্রমিকশ্রেণীর ও কৃষক জনগণের মনোবলকে ভেঙ্গে দিতে চাইছে, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং শাসকশ্রেণীর জনবিরোধী নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তোলার অত্যন্ত কঠিন কাজগুলিকে অস্বীকার করতে চেয়েছিল। এইভাবে গণ-সংগঠন গড়ে তোলার প্রধান কাজকে উপেক্ষা করে, জনগণের প্রতিটি ছোটখাটো স্বার্থের জন্যেও লড়াইকে অস্বীকার করে, জনগণের আশু দাবি ও সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক চেতনা অর্জনের প্রতি যথাযোগ্য মনোযোগ না দিয়ে, কেবলমাত্র শক্তির সংগঠিত হবার ওপর নিছক নির্ভরশীলতায় কিছু ব্যাক্তি উগ্রপন্থী কার্যকলাপে মেতে উঠেছিল এবং বিপ্লবের নাম করে গণ-আন্দোলনে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী গণ-সংগঠনের কোন ভুমিকা নেই, জনগনকে নাকি জয় করতে হবে কেবল বিপ্লবী কর্মপরিকল্পনার দ্বারা - এসবই মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের মূল শিক্ষার বিরোধী।" নকশাল আন্দোলন সম্পর্কে, ১৯৬৭।

একটি চিঠির কথা উল্লেখ করব। এই সময়েই আমাকে লেখা এই চিঠি আসে আমার হাতে। শিয়ালদা থেকে একজন আমাকে এই চিঠিতে লেখেন - "কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেও আজ আপনাকে এদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে কিছু লিখছি কারণ আপনাকে শ্রদ্ধা করি। বিশ্বাস করুন, আর না করুন একাজ করে এবার প্রচুর টাকা আমি পেয়েছি। আপনাদের এ শোচনীয় পরিণতি হবে ভাবিনি। আমাকে অরা মদ খাইয়েছিল, ওরা অনেক গুন্ডা ঠিক করেছিল। আমাদের ওপর আদেশ ছিল যে সি পি এম কে যেন কেউ ভোট দিতে না পারে। আর রাত্রেই ভোট দেওয়ার কাজ শতকরা ৭০ ভাগ এগিয়ে রাখতে হবে। কোন ভয় নেই। সহযোগিতা করবে সি আর পি। অসুবিধা হলে তারা আছেন।" - ১৩ই মার্চ, ১৯৭২


"সরকার গড়ার পরে এক কঠিন দায়িত্ব আমাদের উপর এসে পড়ল। একটি বুর্জোয়া-জমিদার রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে অঙ্গরাজ্যে সরকার গঠন করে সাধারন মানুষের স্বার্থে তাকে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ, সংবিধান, আইন, প্রশাসন, আমলাতন্ত্র সবই কায়েমীস্বার্থের সুবিধার জন্যে তৈরী। রাজ্য সরকারগুলির হাতে আইনগত এবং আর্থিক ক্ষমতার মধ্যেও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ এসে পড়ে। এই অবস্থায় সরকারে এসে ঘোষিত ৩৬ দফা কর্মসূচীকে রুপায়ণের উপর আমরা জোর দিলাম। আমাদের প্রথম কাজই ছিল সাধারণ মানুষের লুন্ঠিত গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে আনা। মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করা।" ২৫শে জুন, ১৯৭৭

"জনতা সরকার ক্ষমতায় আসায় রাজ্যে শিল্পক্ষেত্রেও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘদিন এই রাজ্যে কোনও বৃহৎ শিল্প হয়নি। কেন্দ্রের বাধা, মাশুল সমিকরণ নীতি, লাইসেন্স রাজের কবলে পড়ে শিল্পজগত কার্যতঃ ধুঁকছিল। আমরা সরকারে এসে প্রথমেই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প্র গুরুত্ব দিই। একই সঙ্গে সরকারী উদ্যোগে বৃহৎ শিল্প গড়ার দিকেও উদ্যোগ নেওয়া হলো। হলদিয়ায় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স এবং সল্টলেকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স গড়ার জন্য কেন্দীয় সরকারের কাছে অনুমোদন চাইলাম। মোরারজী সরকারের আমলেই আমরা হলদিয়ায় পেট্রোকেমিক্যালস গড়ার লেটার-অফ-ইনটেন্ট পাই। কিন্তু পরবর্তীকালে শ্রীমতি গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর আমলে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এবং সল্টলেক ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স প্রকল্পকে নিদারুন বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল দশ বছরের উপর ধরে।" -  বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম বছর, ১৯৭৮।

""১৪ই মে সকালে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি সংখ্যাগরিষ্টের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে। নিজের কথা বলতে পারি, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত আমাকে একদিক থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে হলে এই বয়েসে  ও এই শরীরে আমার ওপর খুব চাপ পড়ে যেত। কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে কোয়ালিশন সরকার চালানো মোটেই সুখের কাজ নয়।" ১৪ই মে, ১৯৯৬

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১০

কমরেড তুমি ঘুমাও ভরসা রেখে ~ দীপ্তানুজ



তোমার সঙ্গে শ্মশানের পথে যাবনা -
ওই পথে যেতে তুমিই করেছ মানা,
শরীর দিয়েছ মানুষ গড়ার কাজে -
তুমি ছিলে তাই কমরেড ষোল আনা।

সকাল যখন ঘন কুয়াশায় ঢাকা -
বন্ধু - স্বজন-ও খন্ডিত ভাগে ভাগে,
হয়তো তোমার ভাল লাগলোনা তাই-
তুমি চলে গেলে 'বারোটা' বাজার আগে।

আমরা যারা এখনো স্বপ্ন দেখি,
সারা দেশ জুরে তারা রইলাম জেগে -
স্বপ্নের কুঁড়ি ফুল হবে যেনো ঠিক,
কমরেড তুমি ঘুমাও ভরসা রেখে!!

মশাল জ্বালো ~ সিদ্ধার্থ


নিভে গেছে আমাদের আলো...
সাথী মশাল জ্বালো
রাত্রি বোধ হয় হবে আরো কালো আরো ক্রুর
আঁধারের হিংস্র প্রেতেরা দেখো বেঁধেছে জটলা
বাতাসে তাই মৃত সাথীর রক্তের গন্ধ আর মাটিতে ক্লেদ
ওই ওরা ভাঙ্গে বেড়া...ওই বুঝি আমাদের ঘরে আসে ঢুকে
সাথী আগুন ধরো ওদের মুখে !
সাথী আরো মশাল জ্বালো...
শত মশালের আলোয় আবার জাগুক আমাদের জ্যোতি

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১০

অরকুট বিপ্লবী ~ তুলি

এখনো পাঁজরের বাম দিকে দাগ আছে,
ছোট্ট ক্ষতের চার পাশে সে' সময়ের স্মৃতি-
মুক্তির দশকের কয়েকটা কাটা কাটা ছবি,
'হ্যান্ডস-আপ' - ১৪৪ এর উদ্ধত অভিব্যক্তি।


শরীরের কোন এক ইঞ্চি তে
শানিত রিভলভারের নল - শক্তির উৎস,
কোষে কোষে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে থাকা-
আত্মরক্ষার হাতিয়ার - 'তিন' অক্ষরে বিশ্বজয়।

মাঝে মাঝে জীপের হুটারে ভেঙ্গে যাওয়া নৈঃশব্দ,
ত্রৈমাসিক বুলেটিনের নিষিদ্ধ ইস্তেহারে আরোহী - 'বিপ্লব';
সমাজচেতনার গভীর চোরাকুঠুরীতে বসবাস - মধ্যবিত্ত বিপ্লবীর,
সে সময়ে চায়ের দোকান - কফি হাউসের কবিচক্র...

আর এখন... "অরকুট"!

হৃদয় থাকে বামদিকটায় ~ সুকন্যা

আমি অন্ধকারের রঙ শুষে নিয়ে
সূর্য্য কে কাছে ডাকি....
আমি স্তব্ধ শিথিল সমুদ্র গভীরে
জীবাশ্ম খুঁজে থাকি.
আমি লিখেছি অনেক ফুটপাথ
আমি শুনেছি মৃত্যুভিক্ষা....
আমি ধ্বংসের পরে সৃষ্টি করবো
অর্থ আমার শিক্ষা.
কুরুর মাঠে কর্ন দাঁড়িয়ে
বীর অর্জুন রথে....
সব হাহাকার পিছনে সরিয়ে
হাত ধরে নামি পথে.
আমি ঢালতে দেখেছি কেরোসিন
বুকফাটা শুধু ক্রন্দন....
আন্দোলনের ঢেউ বয়ে চলে
মঞ্চ মিছিল নন্দন.
কন্ঠ আমার উর্ধে উঠেছে
দৃঢ়তায় বাঁধা মন....
আমি তবুও করিনি চুরমার
শুধু সৃষ্টি সুখের পণ.
অবাক পৃথিবী অজানা অনেক
জুড়ে চলি ছেঁড়া পাল....
হৃদয় থাকে বামদিকে
আর, রক্তের রঙ লাল.

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৯

মহাকাল ~ সাস্বতি


অনেক দুরের সেই সোনালী রোদ,
মাঠ ছোয়া সেই রক্তিম কিন্সুক
সে খানটাতে ছোট্ট উঠোন জুড়ে
স্বপ্নে দোলে এই বাংলার মুখ .
বাংলার মুখ দেখিয়ে ছিলে তুমি
জীবন জুড়ে জীবনানন্দ
সেই বাংলার সোনার ধানের ঘ্রাণে
মিশছে যখন রক্তের গন্ধ -
পোরো চালের পাঠশালা ঘরটাতে
মৃত্যু যখন উদ্ধত হাত বাড়ায়
বেয়নেটের গুলির সামনে এসে
বুক চিতিয়ে 'আট বছুরে ' দাড়ায়
জাপটে ধরে গুরুমাসিকে সে
ছোট্ট দুটো নরম হাতের জোরে
প্রতিরোধে বাংলার মুখ দেখি
কালের চাকা নিজের ছন্দে ঘোরে .
সেদিন যখন পৌষালি সন্ধ্যায়
পুড়তে পুড়তে রাত্রি নেমে আসে
ভাঙ্গা ফ্রেমে ,ভাঙ্গা আপিস ঘরে
বাংলার মুখে লেনিনের মুখ হাসে .
হেসে ওঠে ছেলে দুর্জয় প্রত্যয়ে -
হাত ধরে মাকে টেনে নিয়ে আসে পথে ,
লালে লাল,লালে বিপ্লব বাঙ্ময়
দেখা হয়ে যায় সারা বিশ্বের সাথে .
জেগে ওঠে ছেলে সোনালী ধানের রোদে
কাস্তেটা চেপে শক্ত মুঠোতে ধরে
জীবনানন্দ ফিরে এলে তুমি আবার
জীবন আনন্দ বাংলার ঘরে ঘরে .

মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০০৯

তোমারই জন্য ~ অনামিকা মিত্র

তোমারই জন্য সব সহ্য করিনর্দমাসদৃশ
রাজপথে পা ডোবাইপানপাত্রে বিষও
অকাতরে পান করিভাবি সেটা অমৃতসমান
তুমি নীতিবাক্য দাও মেপে মেপে বিঘতপ্রমান,
তাতেই কৃতার্থ আমিলাথি মেরে ফেলো যদি ড্রেনে,
মহানন্দে নেচে উঠিতুমিতো আমারই সৃষ্টি জেনে,
একশ ভুল মেনে নিইমেনে নিই একলক্ষ চুরি
মেনে নিতে বাধ্য হই অপমান মেশানো চাতুরি!

নীতিবাক্য সরে গেলে আমি দাস তুমি ক্যাপিটাল!
যূথবদ্ধ ... অনায়াসে ডেকে নেবো বিমূঢ় সকাল
প্রেমের উলটো পিঠে ঘৃণা ছিল সে কথাও খাঁটি,
এতদিন যা পারিনি ... পার হবো লক্ষ্মনরেখাটি!
সর্বনাশ এতদিনে ছাড়িয়েছে প্রতিকার সীমা
এইবার ধ্বংস হবো, ভেঙ্গে ফেলবো সাধের প্রতিমা

স্থিতাবস্থা ~ অনামিকা মিত্র

আমরা যারা স্থিতাবস্থার পক্ষে,
টের পাইনি কখন যেন নিতান্ত অলক্ষ্যে
একটু একটু মেঘ জমেছে, জমতে জমতে বেশি,
অভিমানের টুকরো আকাশ, ছাইল এলোকেশী
একটু ভুলে আমার আকাশ আস্তে আস্তে ওর
স্থিতির মধ্যে আবছা হল স্মৃতির একাত্তর
আমরা কোথাও যাবার কথা দিয়েও, চলে যাইনি ...
প্রাসাদচুড়োর প্রসাদগুঁড়ো যেটুকু পাই তাই নিই
বছর গুনে লড়াইগুলো পালটে নিলাম সখ্যে,
আমরা যারা স্থিতাবস্থার পক্ষে!

আমরা যারা স্থিতাবস্থার পক্ষে,
প্রাণপনে সেই অলীক স্থিতি আঁকড়ে ধরি বক্ষে
এইযে স্থিতি রীতি মেনেই লোভের দিশা মাপে
নীতি পিছোয় ভীতিপ্রদ পরিস্থিতির চাপে
জমি মাপার দড়ির পাশে জমতে থাকে পাপ
দক্ষ ঠোঁটে উথলে ওঠে উদ্ধত সংলাপ
কখনও তা আমার এবং কখনও ওর গলায়
মন চায়না, আড়াইটা যুগ আমায় দিয়ে বলায়
মেনে নিয়েছি, মাফিয়াদের দন্ত এবং নখকে
আমরা যারা স্থিতাবস্থার পক্ষে!

আমরা যারা স্থিতাবস্থার পক্ষে ...
সুগ্রীবই আজ দোসর, কারণ রাম করেনি রক্ষে
মাসকাবারি বেতনজীবি খোঁজেন অতিরিক্ত
অফিস পুলিশ বিচারসভা লোভের লালায় সিক্ত
ওষ্ঠাগত জীবন জ্বেলে সে যজ্ঞে দিই যোগান
রুটিনমাপা মিছিল ... আমার ভাঙ্গা গলার স্লোগান ...
মেধার জোরে বাঁচাই রোজই, মাথা এবং পিঠকে

দুইএকখানা নির্বোধ সেই রুটিন থেকে ছিটকে,
অবাক করা কিছু আগুন, যখন জমায় বক্ষে ...
চমকে উঠি ...
আমরা যারা স্থিতাবস্থার পক্ষে!


রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০০৯

তৃনমূলী তরজা ~ তুলি, সমিত

কবিয়াল উবাচঃ ৬
ভারত-খ্যাত "দূর্ব্যো" দলের,
সুপ্রিমো মহাশয়া;
টার্ন-ওভারও ভাগ করে নেন,
আপনার অসীম দয়া।

আপনিই আমার Godsister,
আমার ভরসা আশা,
একটি চালেই বদলে দিলেন
সাজিয়ে ফেলা পাশা।

হে অধিনায়িকা, আপনার সাথে
আছি এবং থাকবো,
১১-র পরে যাহাই আসুক,
টেন পার্সেন্ট রাখবো।

আপনি আমার ইশ্বর আর,
আল্লা আমার কোলে,
আসুন এবার শান্তি খুঁজি,
কচি পাঁঠার ঝোলে।

 নেত্রি উবাচঃ

জানি কে ভরায় কান, অতিবাম না বামায়,
সকলেরই আশ্রয় আমার ডাঙ্গায়।
মাল-কড়ি কম পেলে, মেলবে ডানা-
ফাঁদে পড়ে ডোম তুই, হোসনি কানা।

 সব ছেরে ধর, কিষানজ়ীরে-
CPM রে কর চক্ষুশূল ।
৫-টারে তুই Double কর
তবেই বাঁচবে তৃণমূল।

 কবিয়াল উবাচঃ ৭
 অগ্নিকন্যা দিদিমনির,
আগুন-পাখি ভাই।
বড়দা এলে আসে ছোড়দাও
চাই তো এমনটাই।

কিষাণ কে নিয়ে ভেবেছিলাম
গড়বো "বিল্লি" খামার,
ভেস্তে দিলো দিল্লীর boss
চিদম্বরম চামার।

"আমারও পরাণ" কুট কুট করে
আরো চাহিদার টানে,
অবস্থা খাজা, আমদানী নেই,
জীবনমুখী গানে।

তার থেকে বাবা এই বেশ ভাল,
সিপিয়েম ধরে মারি,
বেঁচে থাক তব brand চপ্পল,
ও বহু-চর্চিত শাড়ী।

 নেত্রি উবাচঃ

 অগ্নিকন্যার আগুনখেকো
আছে ভাই যত গায়ক-নায়ক!
সকলের তো ধান্ধা একই ,
মন্ত্রী, সাংসদবা বিধায়ক।

ছোড়দা, বড়দা সবাই চেনা
দেখেছি কত 'প্রগতি'
Branded ওই চপ্পলেতে
বাঁধা ওদের গতি।

ওনারা সব মস্ত লায়েক-
আসলে তো ধান্ধাবাজ
আপাতত পদলেহনই-
তেনাদের প্রধান কাজ।

 সবার এখন আমার প্রতি
কতই না সম্ভ্রম।
দিন ফুরালে ঠিকানা জানি,
'হরিশ'- 'বৃদ্ধাশ্রম'


কবিয়াল উবাচঃ ৮
 অপরাধ নেবেন না
মম দিদিভাই,
ভাইদের বাড়া ভাতে,
দিতে নাই ছাই।

একদা রাজ্যবাসী
দিয়াছে সাহারা,
এগোবেন ক্যামনে এ
ভাইয়েদের ছাড়া।

হাবে-ভাবে আপনি যে
তুলসীর পাতা,
সাবধানে রাখবেন
সিঙ্গুরের খাতা।

ঝুলি তে বিড়াল রেখে
ভাইয়েদের পানে,
আঙ্গুল তুলিতে নাই,
যেখানে সেখানে।

 নেত্রি উবাচঃ
  
ভাইরা কি জিনিষ ভায়া
ভেবেছো কি নেই জানা ?
দিতে পাকা ধানে মই
তাদেরও তো জুড়ি নেই
দেখলাম কত-শত
হাড়-বজ্জাত যত।
তর্জনি না হেলালে
তারাই দাগবে দানা।

নেত্রী না হ'তে পেরে
এসেছি কংগ্রেস ছেড়ে,
সাথে ছিল ক'টা ভাই !
সেকথা কি জানা নাই?
জেনে নিও তার কাছে
কালীদাস যে হয়ে আছে?
ট্যাক্সি, ট্রামে যুদ্ধ করে
গেছে বসে গো-হেরে।

অনেক হয়েছে কথা
দিয়েছো অনেক ব্যাথা-
এইবারে হও তুমি শান্ত।
এখন না হলে চুপ
করে দেব নিশ্চুপ-
যেমন হয়েছে, নিশিকান্ত।

 কবিয়াল উবাচঃ ৯
 যদি ভাবো যা মিলিবে,
সবই খাবে একা;
পেটোয়া লোকের আঁতে,
লাগবেই ছ্যাঁকা।

দূর কে করিলে নিকট ভাইটু,
ভুলায়ে আপন পর;
দূধের থেকেও বেশী দামী হলো,
আসল দূধের সর।

প্রথম যখন কংগ্রেস আই,
হেলায় ছাড়িয়াছিলে;
তখনই রাজ্যে শুরু হয়েছিল,
দল-বদলের রিলে।

পরিস্থিতি যে বদলিয়া গেছে,
কয়েক বছর গত;
পরিবর্তন পাইয়াছো হাতে,
তিলের নাড়ুর মত।

এই অধ্যায় সেনাপতিদের,
এমনি দিয়োনি হ্যাটা;
হস্ত ধুইয়া পিছনে লাগিবে,
সকল আঁতেল ব্যাটা।

Moral হইলো "মদন-বেচু
ও পার্থ-শুভার দল,
যার সাথে আছে - নড়িবে বাতাসে
তার ধর্মের কল"।

 নেত্রি উবাচঃ
 আছি তাই করছে কামাই
নচি, কীর্তণীয়া,
আমার টানে তোলে তান
পূর্ণ , রসিদ মিঞা।

শ্যামল বরণী কন্যা তিনি
নাম ভাঙ্গানো কাম।
অনাৎবতীরও দিশা এখন
আমার 'হরিশ'-ধাম।

আঁকিয়ে, নাচিয়ে,বলিয়ে কইয়ে
কেহই নয় 'ব্রাত্য '
সবার উপরে, আমি 'সুপ্রিমো
আমিই কেবল সত্য।

আমি বলে তাই
দিয়ে থুয়ে খাই
প্রসন্ন রাখি চিত্ত
করলে বড়াই
ভাতে দিব ছাই
দেখাবো কালীর নেত্য।

 কবিয়াল উবাচঃ ১০
 কামাই করিয়ে, জামাই আদরে,
বসিয়ে রেখেছ পাশে;
সমবেত ভাবে জাগছে বাংলা,
তোমার পৌষ মাসে।

গণতান্ত্রিক বিপ্লব আজ
অদ্ভুত এক বাঁকে,
দাড়িচাচা বসে কাক-seriesএর
নয়া তসবির আঁকে।

শ্যামলা বরন ব্যক্তিত্বের
সফেদ-বর্ণ কেশ,
"মেধাবী" চামচা escort করে,
বন্দোবস্ত বেশ।

আগে থেকে যদি জানতুম,
তবে আম্মো হরিশ-ধাম,
সকলেরে তুমি গুছিয়ে যে দিলে
আমারই বিধি টা বাম।

এসো তবে একসাথে আজ মোরা
নতুন বাংলা গড়ি,
বিদ্রোহীদের supply দিই
কলসী এবং দড়ি।

হে "সুপ্রি-মা" তুমি ই সত্য,
আর সব কিছু মিছে,
কবিয়াল কেই Priority করো,
আর সব্বাই পিছে।

(আগের তরজাঃ তরজা ১ )