বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

তোমাকে লেখা শেষ কবিতা ~ শবনম ব্যানার্জী

শহরের বৈশিষ্ঠহীন কানাগলি
রঙ ওঠা দেওয়াল, দো'তলা বাড়ি,
পারিপার্শিকের সাথে মানিয়ে নিতে
বদ্ধপরিকর, নিরন্ত গতানুগতিক
মধ্যবিত্ত অস্তিত্বের কারাগারে বন্দি
সকালের খবর আর সন্ধের নিউজ
লোহার গরাদের ফাঁক দিয়ে দেখা বিশ্ব...
লেখার উপাদান ছিলো না,
তাই কবিতা লিখতাম না।

তারপর তোমার সাথে দেখা, মুক্তির স্বাদ...
সত্যি বলি, সেই আমার লেখালেখির শুরু,
প্রথম কবিতা লেখা - তোমাকে নিয়ে।
তারপর... তারপর কবিতাই আমাকে জগত চেনালো
দেখালো শহরের নৈশব্দের নিচে বয়ে চলা চোরা জনস্রোত...
দেখালো প্রতিদিন অপমানের বোঝা টানতে টানতে একদিন
কিভাবে মানুষ দাবানলে পরিনত হয়...
দেখালো তোমার পরেও কিভাবে বেঁচে থাকা যায়...
এই শেষেবার আমি তোমাকে কবিতা লিখছি...
তাই, আমার কবিতা লেখা আজ'ই শুরু হোল।।

মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১

রাজি? ~ দুর্জয় রায়

চাপা সন্ত্রাসে গুমরায় রাত, রবীন্দ্র-গানে মোড়া
মনের ভিতর যন্ত্রনা হয়, আগুন হৃদয়-জোড়া
লুঠ হয়ে যায় ভাতের থালা, বুলেট ছিঁড়ছে পেশী
লাল লাল চোখে সবুজ শাসানি...'কথা বলবিনা বেশী।"
জীবন-জীবিকা বিপদের মুখে, ইজ্জত রেখে বাজি
প্রতিবিম্বকে শুধাও সাথী, পাশে দাঁড়াতে কি রাজি?

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০১১

তোর আমার হাতে... শবনম ব্যানার্জী

ব্যাকপ্যাকেতে বই খাতা
আরেক গোছা প্যাম্ফলেট
মুড়ির ঠোঙায় স্বপ্ন মাখা
মিশে নেই regret
বাজারের সাথে আপোষ না মানা
শিরদারা টানটান
শক্ত মুঠিতে ধরা পতাকায়
লাল তারা অম্লান
ক্যাম্পাসে রাজপথে রোজই
দেখা হয় তোর সাথে
নতুন পৃথিবী গড়া হবে
তোর আমার হাতে হাতে...

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১১

অতি সংক্ষিপ্ত সংবাদ ও স্বাধিনতা


প্রাসাদ গাত্রে মুতিব, ভাঙিব আইন
ফরসা ধুতির গাড়ি দেখিলে, সমুখে পাতিব দুপিস মাইন
নকু বলিয়া সকলে মিলিয়া, দিদির পিছনে মারিব লাইন
প্রণামান্তে 
- আকাশ গাইন
- বাতাস বাইন
স্বাধিনতা দিবসের প্রাক্কালে ঠিক সন্ধে সাতটা বেজে চুয়ান্ন মিনিটে এই মর্মে শেষ ইস্তেহারটি লেখা হয়ে  গেল। ভাঙাভাঙি ভাগাভাগির খেলা সেই ১৯৭২ সাল থেকে চলছিল, আপাতত খেলা শেষের বাঁশি বেজে গেছে। কংকাল বাবুদের মহান নেতা জেলে গেছেন, তাত্ত্বিক নাড়ুদাকে লাইবাড়িতে ফাঁসানোটা শুধুই সময়ের অপেক্ষা এখন। বাকিরা নাটক লিখবেন অথবা রিটায়ার করবেন। তাই সামনে মেকি বিপ্লবের ধ্বজাধারিরা হাওয়া হাওয়া, তাই আজ খুশির দিন কারণ বিপ্লব এবারে হবেই, আজ নাহোক কাল, বিপ্লবের মূল শত্রু  খতম, খতমের তালিকা প্রকাশের ইতি হোল অবশেষে। এই আনন্দঘণ পরিবেশে একটু রবীন্দ্রসঙ্গীত তারস্বরে পাড়ার মোড়ে  বাজানো হোক। মানে বাজাতে হবে। মানে ওটাই আজকের আইন। যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজবে, সে  জায়গাতে  সাধারন মানুষ থাকেন, যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত তারস্বরে বাজছে না, সেখানেই কংকাল অথবা অস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা। 
ইতিমধ্যে ভারতের রাষ্ট্রের ঋণের বোঝা কমে গেছে। এত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এই কয়েক  মাসে যে সামনের দশ বছরে আর নতুন অস্ত্রের বরাত  দিতে হবে না কাউকে, তা নিয়ে ঘ্যাম  চাচা একটু ক্ষার খেয়ছে    যদিও শত্তুরের বিনাশে তিনিও খুশি। ঘ্যাম চাচাকে আনবিক চুক্তি দিয়ে ঠান্ডা করা গেছে, আর ইস খুসি মে দিদিও নেমন্তন্ন পেয়েছেন। শুধু জানা যায়নি দিদি জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন কিনা। খবরে প্রকাশ,  হনু সিং ঘ্যাম চাচা কে বরাত দিয়েছে ওদেশে জর্জিয়া নামক এক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে, যারা দিদিকে অনারারি ডাক্তারএর শংসাপত্র প্রদান করবে। তাই নিয়ে ঘ্যামচাচার দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে, এই কাজটা কোন দেশকে আউটসোর্স করা যায়। 
এদিকে বন্যার তোড়ে ঘর বাড়ি ভেসে গিয়ে, বাপ মা ভাই বোন হারিয়ে ন্যাংটা ছেলেটা স্বাধিনতা দিবসের সকালে  গান ধরেছেঃ
দিদিমনি যায়
লাল সুতো
নীল সুতো
হলুদ সুতো
সবুজ সুতো 
নেই  তার গায়ে
আসলে হয়ত ন্যাংটা ছেলের ন্যাংটাকে ন্যাংটা বলতে ভয় করে না। 
পাগলু ড্যান্স! 
   

শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১১

পরিবর্তন আসিলো ~ সায়ন্তন চট্টোপাধ্যায়

পরিবর্তন আসিলো গুরু-র,
সার্ধ-শত-বর্ষে;
বঙ্গ মজিলো মমতা-মায়ায়,
"অভূত-পূর্ব" হর্ষে।

পরম শ্রদ্ধা - শহীদ-উৎসবে,
সাংস্কৃতিক প্লাবন,
"হ্যাপি বাড্ডে টু কবিগুরু",
কামিং বাইশে শ্রাবন!

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

আসিল বদল ~ সায়ন্তন চট্টপাধ্যায়

শাসক চেয়ার পাইতে কতই,
যাত্রা থ্যাটার করিচি,
যেইনা আসিলো বদল, অমনি,
বামে-দের টুঁটি ধরিচি।

হাড়োয়া? সেথা তো ঘরোয়া পুলিশে,
পিটায়েছে কটা চাষা,
press-রে কইনু, বেটাচ্ছেলেরা,
আস্ত বদের বাসা!

একদা বঙ্গে, সাথে ছিলো মাও,
লাগিয়াওছিলো কাজে,
এখন তো আমি মালিক-পক্ষ,
লেজুর কি পোষা সাজে?

শুন সমগ্র বং-"জেনেগেন",
একখান কথা দামী,
সবার উপরে ডলার সত্য,
তাহার পিছনে আমি!

বি. দ্র. : স্থান-কাল-পাত্রে-র সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজিলে নিজ দায়িত্বে খুঁজিবেন... Subject to market risk!!

বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

“এ মা, রাজা ন্যাংটা” – উলঙ্গ রাজা ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

বল্লে নাকি হুল দিবস। সেরেচে,  সে আবার কি গো? মেরে মুক পরোটা করে দেবে বল্লে, শুনিচি। কিলিয়ে কাঁটাল পাকাবে, সে ও নাহয় দেকিচি। তাই বলে ভাই হুল ফোঁটাবে? তুমি কি ভাই মৌমাচি? দেকে তো মানুষ বলেই ঠাওর হচ্চে। বেশ তেল চুকচুকে, পাকা সোনা বরন। একখানা নেয়াপাতি ইয়ে ও আচে দেকচি। গায়ে কি একটা মেকেচো বলোতো? পার্ক অ্যাভেনিউ কি? না কি কি ওই যে যেটা মাকলে কয়েকটা ধিঙ্গি মতো মেয়ে দৌড়ে আসে, সেইটে? না না, হুল টুল বড্ডো খারাপ কতা। সে ছিলো মেজোতরফের লাটু কত্তা। খেঁটে একগাছা লাঠি নিয়ে কত্ত পিটিয়েচে এককালে। গনা গুন্ডাকে তো সেবার হেদো পার করে দিয়ে এলো ওই লাঠি পেটা করে। তা সে লাটু কত্তাও হুল টুল নিয়ে কাজ কারবার করেনিকো।

 

কি বল্লে? সাঁওতালদের হুল? ও বাবা। ওদের হুল আচে নাকি? অ সেই হুল নেই বলচো? ওরা খেপে গেচিলো গোরাদের ওপর? তা সে তো আমাদের বটঠাকুদ্দাও গোরাদের ওপর খেপেগেছিলো। খেপে গিয়ে স্বদেশী হয়ে গেল। দেশের স্বাধীনতা এনেচে। এক গোরা সায়েব বটঠাকুদ্দা কে - ইউ ইস্টুপিড বলেছিলো। সে কি রাগ। রেগে মেগে ঠাকুদ্দা চরকা কিনে আনলো স্বদেশী মেলা থেকে। সুতো কাটলো, তাই দিয়ে গামচা বুনেও ফেল্লো। সেই গামচা একটু ফাঁকফাঁক বলে অনেক কিচু দেকা যেত, কিন্তু কে শুনবে সে কতা। ওই গামচা পরেই বটঠাকুদ্দা রোজ সক্কাল বেলা পায়...।

 

পিটিয়েচিলো? গোরাদের? ওই সাঁওতালরা? ও বাবা। পুলিস ধরবে তো? ফাটকে দেবে। আর সে কি যে সে ফাটক? গোরাদের জেলে কেউ ঢুকলে আর বেরোয়? ভয় ডর নেই গা? তা কেন গেল এমন খেপে? ইস্টুপিড বলেচিলো নাকি? কেনো মারামারি করে বাপু বুঝিনা। চরকা কেটেও তো স্বদেশী হয়। সেটা করলেই হতো। আর গোরাদের খেপানো কি সোজা কতা? গোরার মার সইতে পারবে? পারেনি? মরে গেচিল? অনেক লোক? তা তো যাবেই। যেমন কম্ম তেমনি ফল। বেশ হয়েচে। ও, হয়নি? ওই মারামারিটাই হুল? ওইটার দিবস? তা ভালো। চাঁদা চাই? বেশি দিতে পারবোনাকো। এই সেদিন দিয়েচি। ভোটে জিতে ফিস্টি কল্লে ছেলে গুলো। বল্লে কাকু ২ কিলো রেওয়াজি মাল আর এক খাম্বা বিলিতির দাম ফেলে দিন, আর আসবোনা। তা দিলাম। আবার চাই? বেশি দিতে পারবোনাকো বলে রাকলুম হ্যাঁ।

 

অ, চাঁদা চাই না? তা চাই টা কি? তুমি, মানে আপনি সরকারি আপিসার? ওরে বাবা। বলেন কি স্যার ? বসুন বসুন। কি খাবেন বলুন। একটু চা বলি? খাবেন না? তাহলে একটু ঠান্ডা? আর চাচা থেকে দু খানা কাটলেট আনাই? ওরে... কে আচিস? না না স্যার, না বল্লে শুনচি না। এ বাড়ি থেকে শুদু মুকে কেউ কখনো যায়নি। আগে একটু ঠান্ডা হোন। ওরে, ও জহর, পাকা টা জোরে করে দে না বাবা। দেকচিস নে, স্যারের মুক খানা লাল হয়ে গেচে গরমে। এ পাকা টা স্যার আমার জ্যাটামশায় কিনেচিলেন অকশনে। খাঁটি বিলিতি। কেবল একটু অয়েলিং করানো হয়নি অনেক দিন। আপনি ভালো করে উঠে বসুন স্যার। পা তুলে দিন।

 

ও কে ডাকবো? জহর কে? ও তো আমার চাকর। বহুকাল আচে এবাড়ি। ওর বাপ দাদারাও ছিলো। বাড়ি? তা থাকে তো এখানেই। মানে, দেশ আচে একটা। ওই পুরুলিয়ার ওদিকে কোতায় যেন। কিচু পবলেম নাকি স্যার? আমি ছাপোষা গেরস্ত মানুষ। ধনেপ্রানে মারা যাবো স্যার। না মানে, ওর নাম ই তো জহর। ডহর? না না, ডহর না স্যার। পদবি? ওর পদবি কি আর মনে রেকিচি আমি স্যার? ও মামনি, দেখ না মা, জহরের পদবি কি? স্যার জিজ্ঞেস করচেন। কি বললি? দাস? জহর দাস? ও, তা হবে। ডহর? না স্যার ডহর বলে তো কাউকে চিনি না। শুনিনি। ওই হুল এর একটা সাঁওতাল নেতা? একটা না? তিনটে নেতা? সিদো, কানহো আর ডহর? তিনজনেই শহিদ হয়েচিলো? বলেন কি স্যার? সে তো আমাদের বিনয় বাদল দিনেশের মতো ব্যাপার। ভারি সাহস তো। ও আপনি সেই ডহর বাবুর পরিবারের লোকজন কে খুঁজছেন? তারা কি স্যার কিচু পাবে সরকারের থেকে? আমাদের জহরের পদবি টা দাস কিনা একটু দেকে বলবো স্যার। বলা তো জায়না, হয়তো ও ই ডহর। যদি হয় , একটু মনে রাকবেন স্যার। আমার নামটা, ওই যে ওকেনে দরজায় লেকা। খাঁটি পেতলের নেমপ্লেট স্যার।

 

এখন তো ছোট পরিবার স্যার। আমার গিন্নি আচেন, আর এই টি আমার কন্যা। নাম বলো মা। কি বললে মামনি? ডহর মানে রাস্তা? না না, শুনলে না স্যার কি বলচেন? ডহর একজন মহাবীর শহীদ। হুল করেচেন। ওই যে শোন, স্যার কি বলচেন। আমাদের মুক্কুমন্ত্রী ও বলেচেন। ডহরের কতা। তাই তো আমাদের স্যারের মতো সরকারি আপিসার রা ডহর বাবুর পরিবার কে খুঁজচেন। না না স্যার। ওর কতায় কান দেবেন না। বাচ্চা মেয়ে, কি বলতে কি বলেচে, তার ঠিক নেই। বলে কিনা, সিদো কানহোর নামে রাস্তা বলে ওটার নাম সিদো কানহো ডহর। ডহর মানে নাকি রাস্তা। আজকাল ইস্কুলে কিচ্চু সেকায় না স্যার। আমাদের শিক্কা-দিক্কা শেষ করে দিয়ে গেচে সব। আপনি ভাববেন না স্যার।ডহর বাবুর কোনো খবর পেলেই আপনাকে দিয়ে আসবো আমি নিজে গিয়ে। শুদু যদি কোন পুরস্কারের ব্যাপার থাকে, একটু দেকবেন স্যার।

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

খেরোর খাতা ~ অবিন দত্তগুপ্ত


"কখনো সময় আসে জীবন মুচকি হাসে/ঠিক যেন পড়ে পাওয়া চো‍‍‌দ্দো আনা"

     মাঝে মাঝে এমনটা হয়।ফেলে আসা কোনো কিছু ফিরে পেতে ইচ্ছে করে।অনেক দিন না ছোয়া কোনো পুরোনো ভালোলাগাকে ছঁুয়ে দেখতে ইচ্ছা করে।আমার ক্ষেত্রে এই ইচ্ছেগুলো মূলত দিনান্তের ক্লান্তির পর আমায় জুড়ে বসে।

      আজ সেরকমই একদিন।সারাদিনের ক্লেদ সঞ্চনের শেষে আজ হঠাৎই সেই পেছন ফেরার ক্যারাটা মাথার ভেতর তাণ্ডব নেত্ত আরম্ভ করলো।এখন সমস্যা হলো এাই যে এই নির্বাসনা,যেখানে আমার জামা-জুতো আর দু চারটে বই ছাড়া নিজস্ব বলতে কিছুই নেই,সেখানে "পুরানো" পাই কোথায়।হঠাৎ চোে পড়লো একটা ধুলো মাখা লাল ডায়েরি।কোনো কোনো শীতের সকালে কুয়াশাঢাকা সমস্ত কিছু নিজের বড় নিের বলে মনে হয়;তেমনি ওই ডায়েরিটা -- আড়াই বছরের নির্বাসনে যার উপর কোনোদিন
ও চোখ পড়েনি,ওকেই বড্ডো আদরের মনে হলো।হাতে তুলে নিলাম।

     পাতা ওল্টাতে গিয়ে প্রথমেই লক্ষ্য করলাম অনেকগুলো পেজ স্টেপল করা।তারপর বাবার হাতের লেখা।আর কি লেখা তাতে -  না কোন অসুখের জন্য ঠিক কোন ওষুধটা খাওয়া উচিত। বাঁদরের থেকে উদ্ভুত প্রজাতি আমরা,সুতরাং বাঁদরেরই মতো অকারণ অনুসন্ধিৎসা শিরায় শিরায়।ছিঁড়ে ফেল্লাম স্টেপল করা পেজগুলো।
লেখা রয়েছে ;
পূজা ২০০৪
২০/০৯;
--------
গুড্ডুর প্যান্ট -> ৬৫০
গুড্ডুর টি-শার্ট-> ০২৫০
গুড্ডুর শার্ট -> ৩৫০
গুড্ডুর (ইনার্স) -> ৪০
শাড়ি বাবদ নাড়ুকে (ফার্স্ট ইনস্টলমেন্ট) -> ৩০০০
মাতৃবস্ত্রালয় (তুতুন) -> ১৫০০
মায়ের শাড়ি -> ৫০০
বাবার ফতুয়া + লুঙ্গি -> ০৩৫০
.
.
.
সোনালি রেস্টুরেন্ট -> ৭৫
বাসফেয়ার -> ২০
রিক্সা -> ৫
বেশ কিছুদূর পরে এসে পুজোর দিনের খরচগুলো পড়লাম।অক্ষরে অক্ষরে তুলে দিচ্ছি
০৬/১০/০৪ (আজ সপ্তমী)
--------------
১.রিক্সা -> ২৪.০০
২.বাস ->৫.০০
৩.মিষ্টি -> ৫৩.০০
০৭/১০/০৪ (আজ অষ্টমী)
--------------
১.কাগজ ->৩.০০
২.সিগারেট ->২২.০০
৩.মাংস ->১২০
৪.মদ ->২০০
৫.গুড্ডু ->৫০
৬.গুড্ডু (ওর মাকে দেওয়া ও জানেনা) -> ২০০
এরপর আরো অনেক অনেক।
             পড়তে পড়তে ফিরে গেছিলাম আমাদের পুরানো দিনগুলিতে।পোদদার-পার্কের দু কামরার ঘর।দাদু-ঠামি একটায় আর আমরা তিনজন আরেকটায়।সত্য যুগ থেকে কাঠের দরজায় লাগানো 'U'শেপের ছিটকিনিটা তখনো বিশ্বস্ত।অফিস ফেরতা বাবা পকেটের আধুলি-চারআনা-একটাকা গুলোকে ক্যামেরার ফিল্মের কৌটোয় ভরে রাখতো।আর ওই ফিল্মের কৌটোগুলোকেই পাখির চোখ করতাম-আমি..বাপের সুপুত্র।তখন প্রেম চলছিল যে!বাড়ি থেকে ফোন করা মানা সুতরাং পাবলিক বুথ।প্রচুর
কয়েনের দক্কার।

             কিন্তু সব ছাপিয়ে মনে পড়ে যায় ওই েমে নেয়ে আসা মানুষটার একা ডায়েরিতে নিত্য দিনের হিষেব লিখে রাখার  ঘটনাটা।আমি ছোটবেলায় মাকে জিগ্যেস করেছি " মা...বাবা অত কি লেখে?". মা হেসে উত্তর দিয়েছিলো " আগে বিতা লিখতো,স্বপ্ন লিখতো....এখন খেরোর খাতা"
             স্বচক্ষে কোনোদিনও  সেই মহামূল্যবান খাতাটি দেখে উঠতে পারিনি।সব সময়েই তা রেখে দেওয়া হয়েছিল,আমার চোখের আড়ালে।আজ দেখতে দেখতে অনেক কথা স্বচ্ছ হলো।প্রতিদিন বাঁচতে গিয়ে রোজ দুপুরের স্বপ্নগুলো কেন হারিয়ে যাচ্ছে,বুঝতে পারিনি.............বুঝলাম।মাসের শেষে গোল্ড ফ্লেক যখন শুধুই ফ্লেক হয়ে গেছে তখন কপালে হাত দিয়ে ভেবেছি " কি বাজে খরচাটাই না করলাম!!"।বুঝলাম..আমার কোনো হিষেবই ছিল না।আসলে আমরা বেহিষেবির মতো খরচা করেছি এমন অনেক কিছু..যা কিভাবে পেয়েছি,খরচের ব্যস্ততায় তা মনে রাখার প্রয়োজন-ও বোধ করিনি।একটা দুটাকার নোট বাঁচানোর জন্য যে লোকটা পিচের রাস্তায় রীতিমতো ডাইভ মেরেছিলো.....তাররি সন্তান,তার "সব পেয়েছি" সন্তান অবলীলায় হারাতে পারে মোবাইল,মূল্যবোধ,প্রেম,সম্পর্ক্য..........

            বাবার হাতের লেখায় ডুবে যাছ্ছিলাম।খেরোর খাতাও-যে এত্তো রোম্যান্টিক হতে পারে,এমন ধারণা ছিলনা! ডুবতে ডুবতে  হিষেব করলাম নিজের জীবনে 'চোদ্দ আনা' স্বপ্নকে নিলাম তুলে দিয়ে ভদ্রলোক খরিদ করেছেন তার সন্তানের দু-আনা বেঁচে থাকা।
                                  বড্ড বেহিষেবি বাবা আমার

বুধবার, ২২ জুন, ২০১১

গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাই আজ সবচেয়ে বড় চ্যাতলেঞ্জ ~ অজয় দাশগুপ্ত

গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতেই পশ্চিমবাংলায় গঠিত হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারগত ৩৪ বছর ধরে গোটা দেশে বামফ্রন্টের পশ্চিমবাংলাই ছিল গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুরক্ষিত ও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ। বামফ্রন্ট সরকার ছিল মানুষের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী।
  
কৃষকের জমি ও ফসলের অধিকার, ক্ষেতমজুরের মজুরি অধিকার, বর্গাদার-পাট্টাদারের চাষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষায় বামফ্রন্ট সরকারই ছিল গ‌্যারান্টি। শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, মালিকপক্ষের সঙ্গে বেতনসহ বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের জন্য দর কষাকষির অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক-অধ‌্যাপকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছিল বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টের পশ্চিমবাংলায় শ্রমিকের দাবি ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে মালিকের হয়ে পুলিস গিয়ে গুলি চালায়নি, বরং সরকার শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর দাবি আদায়ে বাধ্য করেছে মালিককে। সংখ‌্যালঘু মানুষের সম্প্রীতির পরিবেশে সমমর্যাদায় জীবন অতিবাহিত করার নজিরবিহীন নিশ্চয়তা দিয়ে ছিল এই বামফ্রন্ট সরকার। আদিবাসী জনগণ, তফসিলী জাতি, আর্থিক ও সামাজিকভাবে অনগ্রসর মানুষকে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে, অরণ্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের অরণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গোটা দেশে সামনের সারিতে ছিল বামফ্রন্ট সরকারই। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুব-মহিলাসহ সমাজের সব অংশের মানুষের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, তাকে সম্প্রসারিত করা এবং অর্জিত অধিকার রক্ষা করাই ছিল বামফ্রন্ট সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য।

        কী ছিল বামফ্রন্টের আগের পশ্চিমবাংলা? মানুষের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকারকে কেড়ে নিয়েছিল আজকের তৃণমূলের পূর্বসুরী কংগ্রেসের নেতৃত্বে সরকার। স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষকে নিয়ে লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন, লাঠি-গ‌্যাস-গুলি খেয়েছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন বামপন্থীরাই। দীর্ঘ কংগ্রেস শাসনে বামপন্থীরাসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার কখনই পায়নিপ্রতিটি অধিকারই লড়াই করে অর্জন করতে হয়েছে। তার জন্য এমনকি  জ্যোতি বসুসহ কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাম দলগুলির শীর্ষনেতাদের, এমনকি বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামীদেরও কংগ্রেস আমলে বারবার বিনা বিচারে কারাযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছরে বিরোধীদের প্রতি এই ধরণের অগণতান্ত্রিক আচরণের একটিও নজির নেই।

   কৃষকদের জমির অধিকার, নিজের জমিতে ফসলের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে লড়াই বামপন্থীরা লড়েছে, তা আজো পশ্চিমবাংলাসহ দেশের গণ-আন্দোলনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তেভাগার আন্দোলন হয়েছিল বামপন্থীদের নেতৃত্বেই। ছয়ের দশকে জমির আন্দোলন আরো তীব্র আকার নেয়। ১৯৬৭ সালে প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার এবং ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার সেই জমির আন্দোলনকে সহায়তা করেছিলো। ক্ষমতা দখল করার জন্য জমি নিয়ে যারা বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করেছে, সেই তৃণমূল বা তাদের পূর্বসুরীরা কখনো জমির আন্দোলনের ধারেকাছে ছিল না, ছিল উল্‌টোদিকেই। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারে এসেই পাট্টা রেকর্ড করে, বর্গা রেকর্ড করে ভূমিহীনদের জমির অধিকারকে আইনসম্মত করেভূমি সংস্কারের সেই কর্মসূচী গত ৩৪ বছর ধরেই চলেছে। এমনকি সপ্তম বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও প্রায় ১২ হাজার একর জমি গরিব ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিলি হয়েছে। সারা দেশে সবচেয়ে বেশি ভূমি সংস্কার হয়েছে পশ্চিমবাংলায়। তথ্যেই প্রমাণিত বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিসংস্কার কর্মসূচীর ফলে আদিবাসী, তফসিলী জাতি এবং সংখ্যালঘু মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন।

     বামপন্থীদের নেতৃত্বে বাস্তুহারা মানুষের আন্দোলন, খাদ্য আন্দোলন, ট্রামভাড়া বৃদ্ধি আন্দোলন, শিক্ষক আন্দোলন, জমির আন্দোলন, আধা-ফ‌্যাসিবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এরাজ্যে গঠিত হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। এরাজ্যে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকেও তাই প্রতিষ্ঠিত করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এরাজ্যে কংগ্রেসী আধা-ফ্যাসিস্ত সন্ত্রাসে খুন হয়েছিলেন প্রায় ১১০০ সি পি আই (এম) নেতা ও কর্মী। ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক আইন প্রয়োগে, মিথ্যা মামলায়, হাজার হাজার সি পি আই (এম) নেতা ও কর্মীকে বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়। শিক্ষক, অধ্যাপক, উপাচার্য, সরকারী কর্মচারী, খেতমজুর, কৃষক, শ্রমিক, মহিলা, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ সব অংশের মানুষের ওপর নেমে আসে খুন, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা, বরখাস্ত হন অনেক সরকারী কর্মী ও শিক্ষক। সন্ত্রাসের জন্য অনেকে কাজে যোগ দিতে পারেননি। ১৯৭৫ সা‍‌লে অভ্যন্তরীণ জরুরী অবস্থার ২০ মাসে বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, বাক্‌ স্বাধীনতা হরণ, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ, যথেচ্ছ পুলিসী অত্যাচার, সভা-মিছিল-আন্দোলন নিষিদ্ধ করা ইত্যাদি গণতন্ত্র-ধ্বংসের কোনো আয়োজনই কংগ্রেস বাকি রাখেনি। সমাজবিরোধী, পুলিস, কারখানার মালিক ও জোতদার ও কায়েমী স্বার্থের ছিল পোয়াবারো। রাজনৈতিক ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের ব্যাপক হারে ছাঁটাই করা হয়। পুলিসের সাহায্যে কংগ্রেসী গুণ্ডারা মালিকদের দ্বারা পুষ্ট হয়ে অনেককে কাজে যোগ দিতে দেয়নি। এই মালিকরা এবং স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুপস্থিতির অজুহাতে তাঁদের ছাঁটাই করে দেয়। কোর্টের আদেশ সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে যোগ দিতেও দেওয়া হয়নি। অসংখ্য ট্রেড ইউনিয়ন অফিস দখল করে নেওয়া হয়। বাসস্থান থেকে উৎখাত হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার বামপন্থী কর্মী-সমর্থক পরিবার।

   কিন্তু ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারে এসে কোনো প্রতিহিংসা যাতে না হয়, তা যেমন সুনিশ্চিত করেছিল, তেমনি বিনা শর্তে রাজনৈতিক মতামত নির্বিশেষে সব দলের রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিয়েছিলমুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ১৭০০ নকশালপন্থী ও কংগ্রেসী বন্দী। ১৯৭২-৭৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অনেককে মিসা ও অন্যান্য আটক আইনে এবং ফৌজদারি মামলায় জেল খাটতে হয়েছিল। এই বন্দী কংগ্রেসীরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে চালু প্রায় ১০ হাজার ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 'মিসা'য় আটক ২১৮ জনকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জরুরী অবস্থার সময় যে সব দমনমূলক ব্যবস্থা জারি করা হয়েছিল সব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বাক্ স্বাধীনতা, মতামত ও বিরোধিতা করার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা; সভা-সমিতি ও সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং আন্দোলনের স্বাধীনতা বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে সুনিশ্চিত করে। রাজনৈতিক কারণে যে সব শিক্ষক ও সরকারী কর্মীদের কংগ্রেস আমলে বরখাস্ত করা হয়েছিল তাদের কাজে পুনর্বহাল করা হয়। বামফ্রন্টবিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার দেওয়া হয়।

ভূমি সংস্কার কর্মসূচী যেমন গরিব ভূমিহীন কৃষকের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, গ্রামের মানুষের আয় বেড়েছে, অর্থনৈতিক অধিকার এসেছে, তেমনি পঞ্চায়েতী ব্যবস্থার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার গোটা দেশের মানুষের সামনে পঞ্চায়েতে নজির গড়েছে বামফ্রন্টের পশ্চিমবাংলাই। আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণেও মডেল হয়েছে এরাজ্য। ১৮বছরের ভোটাধিকার, মহিলাদের পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় আসন সংরক্ষণেও নজির গড়েছে বামফ্রন্টের পশ্চিমবঙ্গ। শান্তি, সুস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব সময় সামনে থেকেছে এরাজ্য।
আজ যখন পশ্চিমবাংলায় বামফ্রন্ট সরকারের বদলে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন গত ৩৪ বছর ধরে তিল তিল করে অর্জিত এই অধিকার রক্ষার লড়াই করাই রাজ্যের মানুষের সামনে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ।

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১১

উন্নয়ন ও রোবোকপ ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

ঢাকের বাদ্যি বাজতে এখনো অনেক দেরি। সবে জষ্টি মাসের শেষ। বঙ্গে পরিবর্তনের বায়ু বেশ দ্রুতগতিতেই বইছেন (এবং চারমূর্তির সেই ভাল্লুকের মতন টপাটপ মানুষ ও গিলছেন)। বাংলায় ভোটপর্ব চুকতে, আমরা আইপিএল নিয়ে কয়েকদিন লাফালাফি করলাম। কিন্তু কোলকাতার দল ইয়ের মতো পরপর দু খানা খেলায় হেরে প্রতিযোগিতার বাইরে চলে গেল। কয়েক দিন হাসপাতাল সুপার এর বরখাস্ত, অস্ত্র উদ্ধার, রেজ্জাক মোল্লার গোলা বর্ষন, রামদেব নিয়ে হইচই করলাম। কিন্তু কোনটাই ঠিক জমলো না। অগত্যা উত্তেজনায় ইতি। ওদিকে দার্জিলিং সমস্যার ও সমাধান  হয়ে গেল একটা সই দিয়ে। মাওবাদীরাও শুনছি নাকি দন্ডকারন্যে ফিরে গেছে। কিষেনজির টিআরপি পড়তির দিকে।

 

তেমন জমকালো ব্রেকিং নিউজ না থাকলে যা হয়, লোকে বাধ্য হয়ে খবরের কাগজে প্রথম পাতায় "ভারতে সর্বাধিক প্রচারিত প্রথম শ্রেনীর বাংলা দৈনিক" থেকে শেষ "প্রফুল্ল সরকার স্ট্রীট থেকে অভিক কুমার সরকার দ্বারা প্রকাশিত" অবধি পড়ে। পড়তে গিয়ে দেখি, ব্রেকিং নিউজ ছাড়াও দেশে অনেক কিছু ঘটে। বিভিন্ন রাজ্যে চাষি রা কেমন মারমুখি হয়ে উঠেছে। উত্তর প্রদেশে তো মার মার কাট কাট হয়ে গেল, মায় আমাদের বীরভূমে পর্যন্ত দেখলাম চাষিরা জমির দখল নিয়েছে। হ্যাঁ, এই পরিবর্তনের হাওয়াতেও। তা এমন করলে তো মহা মুশকিল। কাগজ পড়তে গিয়ে চোখে পড়লো যে সেজ বা এস ই জেড (মার্কিনি এস ই জি) থেকে এবারে আর এক ধাপ এগিয়ে এন আই এম জেড তৈরি করা হবে। সেটা কি?

 

একটা মৌচাক বলতে পারেন। অনেক গুলো এস ই জেড একটা ঘেরাটোপের মধ্যে গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে উৎপাদনের জায়গা, শ্রমিক আবাসন, স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা ঘাট বাজার দোকান সমেত একখানা গোটা শহর। শুধু তফাত হলো, শহরের মতো থাকবে না কোন পৌরসভা। সবকিছুই থাকবে সেখানে যে সব কর্পোরেট সংস্থা থাকবেন, তাঁদের হাতে। তাঁরাই পরিষেবা দেবেন, রাস্তা ঘাট তৈরি করে দেবেন, স্কুল কলেজ বানিয়ে দেবেন। পড়ে বেশ লাগলো। নো পৌরসভা, নো ঘুঘুর বাসা, নো দুর্নীতি। কিছু লাগলে কর্পোরেট গুলো তৈরি করে দেবে। ঠিক সেই রোবোকপ ছবির মতো। রোবোকপ দেখেছেন তো? একটা বিরাট বড় কোম্পানি, ডেট্রয়েট শহর কে কিনে নিলো। পরিকল্পনা হলো, পুরনো শহরটা ভেঙ্গেচুরে নতুন আধুনিক একটা শহর তৈরি করবে তারা। নাম হবে ডেল্টা সিটি। সেই শহরের পুরো পরিচালন ব্যবস্থাই তাদের হাতে। এমন কি পুলিশ পর্যন্ত। লোকজনের বাড়ি ভেঙেচুরে তারা উদবাস্তু দের ব্যারাক বাড়িতে ঢোকালো। অনেক টা নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মত ব্যাবস্থা পত্র সেখানে। লোকে প্রতিবাদ করতে গেলো, খেলো গুলি। অবশ্য শেষে রোবোকপ (রোবট পুলিস, একটা মানবিক হৃদয় সমেত, সে ই এই গল্পের সুপার হিরো ) সমেত পুলিশ বাহিনি বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে কর্পোরেট এর কত্তা দের পিটিয়ে তক্তা করে দিলো। হ্যাপি এনড।

 

এক কর্পোরেট কত্তা বলেছেন, টেরিটোরিয়াল আর্মি গুলোকেও কর্পোরেটের হাতে তুলে দিতে। রনবীর সেনা, সানলাইট সেনা রা এবারে কর্পোরেট পালিশ পাবে, আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র ও সরকারি অনুমোদন সমেত। এস ই জেড এর ভেতরে এমনিতেই সরকারি শ্রম আইন চলেনা। এন আই এম জেডের ভেতরেও চলবে এমন কোনো লক্ষন তো দেখছি না। সেখানে, কর্পোরেট কত্তারা যা বলবেন সেটাই আইন। শুনতে হবে এনাদের কথা। না শুনলে উড়ে পুলিস এসে একুশ দফা হাঁচিয়ে মারতে পারে। তবে সব পুলিস তো উড়ে নয়। তারা কি ভাবে মারবে তার নিশ্চয়তা নেই। গোটা দেশে টুকরো টুকরো এন আই এম জেড। খন্ড বিখন্ড ভারতবর্ষে কর্পোরেট হাউসের নিজস্ব খাশতালুক। সেখানে আইন চলেনা দেশের। মানুষের হাতে ক্ষমতা নেই সেখানে। মানুষের কন্ঠস্বর নেই। আছে শুধু কর্পোরেটের অঙুলিহেলন, আর আছে লক্ষ লক্ষ মূক সেবাদাস। দেশের মানুষ লড়াই করে নিজের হাতে ক্ষমতা এনেছে। পঞ্চায়েত হয়েছে, নগরপালিকা এসেছে। আজ সেই সব কিছুকে বেচে দেওয়া হচ্ছে বানিয়ার হাতে। আবার সেই বনিকের মানদন্ড। সাধু সাবধান।

 

দেশকে টুকরো টুকরো করে বেচে দেওয়ার পরিকল্পনা। সংসদে বিল পাশ করিয়ে, আরো বেশি করে দেশের দরজা বানিয়াদের কাছে খুলে দিতে গেলে এখনো কিছু বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সংখ্যায় খুব কমে গেলেও লাল ঝান্ডাধারীরা এখনো প্রানপনে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলায় তো তাদের কাবু করাই গেছে দিদিমনি কে দিয়ে। কিন্তু তার পরেও নয়ডার প্রতিরোধ হচ্ছে। বীরভুমে চাষীরা বেয়াড়া হয়ে উঠছে। তাই, টুকরো করে বেচো। মানুষ কে ভাগ করে দাও। একদল পরিনত হোক কর্পোরেটের ঘেরাটোপের মধ্যে থাকা সেবাদাসে। যদি বেয়াড়াপনা করে, তার জন্য কর্পোরেট সানলাইট সেনারা তো রয়েইছে। আর রোবোকপ? সিনেমায় সে ছিলো। আর ছিলো তার বিবেক। বাস্তবে কি সে থাকবে? আর অন্য দল পড়ে থাক মাঠে ময়দানে। বেওয়ারিশের মত। বেওয়ারিশ, কারন তারা নিজের অর্জিত অধিকার কে রক্ষা করার , সেই জন্য লড়াইয়ের উত্তরাধিকার কে বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি। তাই বেওয়ারিশ। হয়ত বেওয়ারিশ কুকুর ধরা গাড়ির মত একদিন বেওয়ারিশ মানুষ ধরা গাড়ি ও আসবে। যেমন নাৎসিরা আনতো। তবে এখনো হয়ত অল্প সময় বাকি আছে। প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধের সময় এটা। প্রতিরোধ করুন এদের। না হলে একদিন ওই মূক সেবাদাস অথবা বেওয়ারিশ হবার জন্য তৈরি হোন।

 

বুধবার, ১৮ মে, ২০১১

স্বপ্ন ~ সোমনাথ চট্টপাধ্যায়

পয়লা এবং পঁচিশে , এই দুই সমেত বৈশাখ গত হয়েছেন। জষ্টী মাসের পচা গরমে বাজারে গুটি গুটি পায়ে হিমসাগরের আমদানি শুরু হয়েছে। ভোট পার্বন শেষ। পরিবর্তন বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। ভোরের দিকে মিঠে মিঠে হাওয়ায় ঘুমের আমেজ গাঢ় হচ্ছে। যদিও রাত্রি বেলা পেটে ভিজে গামছা জড়িয়েও হাঁসফাঁস দশা কাটছেনা। তার ওপরে গতকাল বুদ্ধপুর্নিমা ছিল বলে রাত্রে পাতে পড়ল পরোটা আর আলুর দম। সঙ্গে রাবড়ী আর পান্তুয়া। কিঞ্চিত গুরুভোজন হয়েই গেল। তা আর কি করা? লুঙ্গী হাঁটুর ওপর তুলে, পাখার তলায় বসে রইলুম। এগারোটা বাজার পর, আস্তে আস্তে হেলতে লাগলুম। ডান দিকে না বাঁ দিকে সেইটে মনে নেই ঠিক। আস্তে আস্তে বিশ্বচরাচর কেমন তরল হয়ে গেল। দেখলুম আমাদের সেই শিবপুরের পুরোনো বাড়ি, যেটা বিদ্যাসাগর সেতুর জন্য ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। সেই উঠোন, ঠাকুমা কয়লার উনুনে রান্না করছে। মা আর কাকিমা ঘুর ঘুর করছে। বাবা পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘরের দিকে গেল, বোধহয় বুদ্ধির গোড়ায় কিঞ্চিত ধোঁয়া দিতে চায়। কাকু গামছা পরে চৌবাচ্ছায় মাছেদের খাবার দিচ্ছে, ছোটোকাকু এক মনে সাইকেল পরিস্কার করছে। আর দেখি, দালানে চেয়ার পেতে টাক মাথা আর দুধ সাদা দাড়ি নিয়ে বসে আছে আমার দাদু। খবরের কাগজ পড়ছে। প্রথম পাতা। পরিবর্তনের কথা বেশ মন দিয়ে পড়ছে। মাথা তুলে বলল –
-    বেশ হয়েছে
-    কি হয়েছে দাদু?
-    এই যে, পরিবর্তন
-    সে কি দাদু? তুমি না স্বাধীনতার আগে থেকে দলের সদস্য? ভগত সিং এর সঙ্গে ছিলে? এত বছর জেল খাটলে?
-    তাই তো বলছি, বেশ হয়েছে।
-    বামপন্থীরা সরকার থেকে সরে গেল আর বেশ হলো?
-    কার সরকার?
-    কেন? বামপন্থী দের। মানুষ ই তো নির্বাচিত করেছিল।
-    তা তারা আবার নির্বাচিত করলনা কেন?
-    ভুল বুঝলো, ভুল বোঝালো, বামফ্রণ্ট সরকারের কিছু জায়গায় মানুষকে বোঝানো উচিত ছিলো আরো।
-    ভুল বোঝাতেই বুঝে গেলো? ভারি বুঝদার তো মানুষ !!
-    না না, সংবাদ মাধ্যমের প্রচার, ভুল ভাষ্য, বিদেশী শক্তি, সবই আছে এর মধ্যে। মানুষ বিভ্রান্ত।
-    তা বামপন্থীরা ঠিক টা বোঝালোনা কেন?তারা তো ঠিক টা বোঝে
-    আসলে, সিঙ্গুর – নন্দীগ্রাম নিয়ে লোকে বড্ড উত্তেজিত ছিল। মুখ্যমন্ত্রি বললেন যে জোর করে জমি নেওয়া হবে না নন্দীগ্রামে। তাও ওখানে বিরোধী শক্তি কিছু নৈরাজ্যবাদী আর সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে মানুষ খেপালো। প্রশাসন কে ঢুকতে দিলো না। তাই পুলিশ দিয়ে ঢুকতে হলো।
-    মুখ্যমন্ত্রি গেলেন না কেন? তিনি তো ভালো মানুষ। আর নন্দীগ্রামের আগে ওনাকে লোকে রক্তখেকো টেকো বলার সুযোগ পায়নি।
-    কি করে যাবেন? যদি পাবলিক খেপে গিয়ে গনধোলাই দেয়?
-    জ্যোতি তখন যুক্তফ্রন্টের পুলিশ মন্ত্রি। একবার পুলিশ খেপে গিয়ে বিধান সভায় বন্দুক সমেত ওর ঘরের সামনে এসে গিয়েছিলো ওকে মারবে বলে। জ্যোতি ঘরের বাইরে এসে বললো, "কই , কে মারবে আমাকে, সামনে এস দেখি"। ব্যাস, দু মিনিটে সব হাওয়া।
-    সব নেতাই আলাদা। এক এক জন এক এক রকম।
-    বাকি লোক জন কি করে গেলো? বুদ্ধিজীবিরা তো গেছিল। ওদের সঙ্গে তো বুদ্ধ বাবুর ভালই জমতো। ওদের সঙ্গে নিয়েই যেতে পারতেন। ওখানে ওদের সঙ্গে বসে, অভিমান মিটিয়ে, একটা মঞ্চে উঠে আন্দোলন কে স্বীকৃতি দিয়ে চলে আসতেন। মানুষ বুঝতো, তারা না চাইলে কারখানা হবে না, আর এটাও বুঝতো, চাইলে কারখানা হবে। সিঙ্গুরে লোকজন এই দেখে ভরসা পেতো। হোর্ডিং দিয়ে লিখতে হতো না "আমার সরকার আমার পাশে"।
-    তা পারতেন। সে কাসুন্দি এখন ঘেঁটে আর কি হবে? সিঙ্গুরে কিন্তু উলটো। এখানে মিডিয়া কিছুটা সমর্থন করেছিলো। হাজার হোক টাটা কোম্পানি।
-    সমর্থন যখন ছিলো, তখন শক্তি প্রয়োগ করে দিদি কে গ্রেফতার করতেই পারতো। ২১ শে জুলাই তো গুলি চালিয়ে কংগ্রেসী গুণ্ডা দের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছিলো। সরকার পড়েছিলো কি?
-    তাহলে আগুন জ্বলতো।
-    আগুন কি জ্বললো না? দুর্বল শাসক কে কে দেখতে চায়? রাহুলকে মায়াবতী গ্রেফতার করেনি?
-    এখন তো আর কিছু করার নেই। এখন তো সরকার আর নেই। এখন বামপন্থীরা বিরোধী।
-    কার বিরোধী?
-    কেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের।
-    সরকারটা কার?
-    কেন? তৃনমূল আর কংগ্রেস জোটের। যাদের ভোট দিয়ে মানুষ নির্বাচিত করলো।
-    তাহলে তাদের বিরোধীতা মানে তো বেশীর ভাগ মানুষের পছন্দের বিরোধীতা
-    আ মোলো যা, তা হবে কেন? তুমি দাদু আজকের ভাষায় পুরো গাঁট পাবলিক। আরে বাবা, এরা আদতে দক্ষিনপন্থী, আধা ফ্যাসিস্ট, সেটা তো বোঝো? এদের আদর্শের বিরোধী আমরা। মানুষের বিরোধীতা কেন করবো?
-    কিন্তু এরা তো বললো "মা-মাটি-মানুষ"। যেটা আসলে বামপন্থী স্লোগান।
-    সেটা এদের মুখোশ, মেকি স্লোগান। এটা চলবে না বেশীদিন। এদের স্বরূপ উদঘাটিত হবে কয়েক দিনেই।
-    তারপর? ২০১৬ তে অস্টম বামফ্রণ্ট? সে তো ১৯৭৭ সালেও শুনেছিলাম। অল্প দিনেই এই সরকার পড়বে। টিঁকে গেলো ৩৪ বছর। মানে ওরা ভুল করলে তবেই সরকার পড়বে, না হলে নয়?
-    তা কেন? বামপন্থী রা মানুষের কাছে যাবে, তাদের কাজ নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে। মানব বন্ধু সরকার একমাত্র বামপন্থীরাই গড়তে পারে।
-    সে তো আগেও গেছে। হারলো কেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকার আসলে তো ভারত সরকারের একটা অংশ। সে সরকার কে তো পুঁজিবাদী, বুর্জোয়া, সাম্রাজ্যবাদী বলেই জানি। সেই সরকারের একটা অংশ মানে, তার মধ্যেও এই সব ব্যাপারের কিছুটা চরিত্র থেকে যাবেই। যেমন পুলিশ, বা আমলাতন্ত্র। এগুলই তো উদাহরন যে বামফ্রন্ট সরকারের মধ্যে কি চরিত্রের সব লোকজন ছিলো। চাকরি থেকে অবসর নিয়েই তৃনমুলের হয়ে ভোটে নেমে গেলো।
-    তা ঠিক।
-    এই সরকারে ৩৪ টা বছর। পার্টির বামপন্থী চরিত্রে কিছু ভেজাল ঢোকেনি?
-    সেটাও নাহয় মেনে নিলাম। কিন্তু তাই বলে তৃনমূল?
-    নিরুপম সেন একটা বই লিখলেন বিকল্পের সন্ধানে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে থেকে, একটা অঙ্গরাজ্যের বামপন্থী দের মানব কল্যানের চেষ্টা। ভালো লেখা। যুক্তি আছে অনেক। যদিও এ হ  লো আরো ১৫ বছর আগেকার পরিকল্পিত শিল্পায়ন নীতির ব্যাখ্যা। সে গুলো করেছিলো জ্যোতি, পরে সপ্তম বামফ্রন্টের আগে অনিল বিশ্বাস এই শিল্পায়নের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু, যদি সেই পুঁজিবাদকেই মেনে নিয়ে থাকতে হবে, তাহলে পুঁজিবাদীদেরই ক্ষমতায় বসাই। বামপন্থীদের কেন বসাবো?
-    কিন্তু মানুষের ভোট তো ওরা পেলো বামপন্থী স্লোগান দিয়ে।
-    সেটা তো আরো হাস্যকর। স্লোগান চুরি। কেন? বামপন্থীদের কেউ স্লোগান দিতে বারন করেছিলো বুঝি? আজকাল গনসঙ্গীত বাজেনা, আন্তর্জাতিকের কথা বাদ ই দিলাম না হয়।
-    আরে, পার্টি তো স্থানীয় হিসেব নিকেস করে বুঝতেই পেরেছিল যে লোকে খেপছে। কিন্তু তাই বলে তো নিজের সরকারের বিরোধিতা করতে পারে না।
-    কোন সরকার? সে সরকারের কথা আর চরিত্র নিয়ে তো এখুনি বললাম। পশ্চিম বাংলায় সমাজ তন্ত্র, গুজরাটে পুঁজিবাদ, এরকম হয় নাকি? সরকার থেকে পার্টি কে আলাদা করা যায় না? সরকার নাহয় শাষক, পার্টি তো মানুষের।
-    পার্টি নিজের সরকারের বিরোধিতা করবে? তাজ্জব।
-    একটা পপুলার ফ্রণ্ট করুক। যেখানে কম্যুনিস্ট রা নেতৃত্ব দেবে। যে ফ্রন্ট ভোটে দাঁড়াবে। পার্টি সরাসরি ভোট থেকে সরুক। শ্রেনী ভিত্তিক আন্দোলন এবং রাজনীতি করুক। এতে করে সরকারের বিরোধীতা করতেও অসুবিধে থাকবে না। যেমন ছাত্র, যুব, শ্রমীক, কৃষক এবং মহিলাদের গনসংগঠন, তেমনই, ফ্রন্ট হোক নির্বাচন এবং সরকার চালানোর জন্য একটা অস্ত্র। পূঁজিবাদের ক্লেদ তাহলে পার্টির গায়ে সরাসরি লাগবে না। আর তা ছাড়া অন্য বাম শক্তি যারা সিপিআই(এম) এর জন্য বামফ্রন্ট থেকে দূরে, তারাও হয়তো পপুলার ফ্রন্টে প্রতিনিধি পাঠাবে। আর কম্যুনিস্ট ছাড়াও অন্যরা আসতে পারবে।
-    মানে আর একটা পার্টি?
-    না না, পার্টি না। পার্টি মানে ভোট নয়। এটা একটা ফ্রন্ট, ভোট এবং রাজ্য শাষনের জন্য। পার্টি থাকুক পার্টির জায়গায়। যখন ই দেখবে, ফ্রন্টের মধ্যে বিচ্যুতি, পার্টি তাকে লাগাম দেবে। দরকার হলে আন্দোলন করবে। যেখানে যা যা বিক্ষোভ, সেগুলো পার্টি ধরে নেবে এবং আন্দোলন পরিচালনা করবে। অন্য শক্তি কে পা রাখতে দেবে না।
-    দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাদের লোকাল কমিটি কোথায় যাবে? আর আমাদের শাখা সম্পাদক সমর দা? পার্টি তে? না ফ্রন্টে? এই দুটোয় মারামারি হলে?
-    সমর তো গ্রীলের কারখানায় কাজ করে। বাড়ি বাড়ি গনশক্তি দেয়। পার্টি টা তো ওদেরই জন্য। ফ্রণ্টটা না। আর ফ্রন্টে পার্টি তে কামড়াকামড়িটাই ভালো। এটাই দরকার। না হলে লোকে বলবে পার্টি সরকারের দালালি করছে।
-    কিন্তু এসব তো স্রেফ ধারনা। সত্যি তে তো এমন হতে পারেনা। পার্টি সরকারে নিজের স্থান ছাড়তে রাজি হবে কেন?
-    কেন হবে না? না হলে জোর করে লোকে ছাড়িয়ে দেবে। এই তো দিলো। দিলো না?
-    তা দিলো। তবে সেই অর্থে তো পার্টী এখনই সেরকম ভাবে কাজ শুরু করতে পারে।
-    সে তো পারেই। এখান থেকেই শুরু করা যাক। পার্টি থাকুক মানুষের সঙ্গে।
-    তা হলে তো পার্টির ক্ষমতায় থাকা না থাকা টা কোন ব্যাপারই না।
-    ব্যাপার তো নয়ই। পার্টি পার্টির কাজ করেই যাবে। এটাই কাজ। এই ভাবেই একদিন গোটা দেশে বাম আন্দোলন কে নিয়ে যেতে হবে। হতাশার কোন জায়গাই নেই।
এই সময় আবার পরিবর্তন এলো। কর্কশ আওয়াজে তরল অবস্থা টা বায়বীয় হয়ে উবে গেল। ভোর পাঁচটা বাজলো। উঠে পড়তে হবে। নতুন দিন। পরিবর্তন এসেছে। জীর্ন পুরাতন ভেঙ্গে যাক। অনেক কাজ সামনে। অনেক কাজ আমাদের।

[আমার দাদু অবিভক্ত কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন স্বাধীনতার আগে থেকে। শ্রদ্ধেয় জ্যোতি বসু তখন সেখানকার সম্পাদক। বয়সে একটু ছোট বলে, দাদু জ্যোতি বলে ডাকতেন। আমি শুধু দাদুর মুখে সম্বোধন টুকু বসিয়েছি।]

মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০১১

মৃত্যুর মিছিলে লেখা থাক আমারও নাম..

মৃত্যুর মিছিলে লেখা থাক আমারও নাম..
নিজেই লিখলাম।
ঘরের কোনে একটা লাল রঙ এর পতাকা,
খেলার ছলে,
ছোট দু হাতে অজান্তেই উঠে এসেছিল।
কাঁধে নিয়ে পাড়ায় ঘুরতাম,
নিলয় আমার সঙ্গী।
কেউ কেউ ভয় দেখাতো, 'ওটা ধরিস না..
ওই যে খেলার মাঠের কোনে
লাল বেদি,ওই তোর মিন্টু মামা।'

চোখ থেকে জল ঝরেনি,
যতবার আয়নায় মুখ রেখেছি,দেখেছি জ্বলন্ত প্রত্যয়।
শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরেছি,লাল নিশান,
আমার পাড়া তুত মিন্টু মামা।

আমার ঝাণ্ডা সঙ্গী নিলয়,
বারান্দায় বসে কাঁদছে দেখি একদিন…খিদে পেয়েছে।
কাকুর কাজটা চলে গেছে,
ওই লাল নিশান ধরার অপরাধে।

আকাশের তারারা সাক্ষী, শহীদ বেদির দিব্যি,
সব ফোঁটা, মাটি কে লাল করলেও,
ঝাণ্ডা ধরা থাকবে হাত।
স্থবির শরীর মুড়ে দিস কমরেড, ওই পাতাকায়…
মৃত্যুর মিছিলে লেখা হোক আমারও নাম।।

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১১

আপনাকে বলছি স্যার ~ অনামিকা মিত্র

দারুণ কড়া বিবৃতি স্যার, আপনি অভিভাবক।
বেশ ঝেড়েছেন... ঠিক করেছেন... হৃদয়ে ধকধক
আপনি বললে সান্ত্বনা পায়। আপনি জানেন আজও
শঙ্খ ঘোষের বাক্য মানেই বাজো স্বদেশ... বাজো!
সময়টাও কী সাংঘাতিক! বিন্দুমাত্র দেরি
করলে পরেই... নোঙর তুলবে নির্বাচনের ফেরি।
এমন সময় দেরি মানে কয়েক লক্ষ ভোট,
এ'দিক ও'দিক। দেরি মানেই প্রচণ্ড সঙ্কট।
বুদ্ধিজীবির দায়িত্ব তো অল্পটি নয় স্যার!
আপনি জানেন এমন সুযোগ মেলেনা বারবার।

বুদ্ধও যে নিন্দা করবে, করবে প্রতিবাদ
ঠিক জানতেন, সত্যি না স্যার? কোন কায়দায় বাদ
দেবেন তাকে? তার চাইতে অপেক্ষা না করে
মুখ মুখোসের কাব্যচিত্র কুশলী অক্ষরে,
বলতে পারলে লক্ষ্যসিদ্ধি, পাবেন ফোটোসেশন।
হয়তো কয়েক বছর বাদে মেট্রোরেলের স্টেশন...
সেটাও পাবেন। সেই প্রাপ্তি মোটেও নয় ফেলনা।
কিন্তু কিছু বোকা মানুষ... যাদের ভাবেন খেলনা
বোকার মতই তারা সবাই ভাবছে এ'টা ভান।
নইলে একই অসভ্যতা করেছে কল্যান...
তখন ছিলেন বিসদৃশরকম ভাবে... চুপ।
ভাবছে সবাই... আপনি কেন এমন বহুরূপ!

শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১১

শেষ লড়াই ~ অনির্বাণ মাইতি

ছিন্ন ভিন্ন ছড়িয়ে একটা লাশ
জঙ্গল ফেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস
...লাল কাঁকড়ের বুকে জমে থাকা ঋণ
শাল পিয়ালের জন্য নতুন দিন
রক্ত নিশান আবার উড়িয়ে দে না
ট্রিগারে আঙ্গুল মুচলেকা চাইবে না।

লাল মাটি আরও লাল কবে হবে বল ?
বীরসার দেশে বিপ্লব ই সম্বল
শক্ত চোয়াল , কালো পেশীদের ভিড়
গুলি বন্দুক, রুখে দিতে পারে তীর
পতাকায় মুছি সময়ের যন্ত্রণা
হাতে রাইফেল মুচলেকা চাইবে না

আবার নতুন লড়াই শুরুর বেলা
জীবনের সাথে রোজ কানামাছি খেলা
চলো কমরেড আবারো সেদিন গুনি
এদেশের বুকে রণ দুন্দুভি শুনি
থুতু ছুঁড়ে বলি মানছি না, মানবো না
কেন রাষ্ট্রের কাছে মুচলেকা চাইবো না?

স্বপন কোলেকে মনে রেখে ~ সুভাশিস

স্বপনকে তো মারলি তোরা
স্বপ্নটাকে পারবি?
যতই মারিস বাড়বে মিছিল
মার কত মার মারবি।


রক্তে ভেজা নিথর দেহ
অভিজিত আজ শুধুই লাশ,
ভয় দেখিয়ে ঘার বেঁকিয়ে
রাজ্য জুরে শুধুই ত্রাস।

যতই করিস শব সাধনা
মিছেই হাঁকিস হাজার বার,
বুকে আগুন হয়ে জ্বলছে সবার
সায়ন্তিকার অঙ্গিকার।

আমরাও আজ তৈরী আছি
কলম হাতুরি কাস্তেতে,
মানুষই তোদের জবাব দেবে
এগারোয় ভোট বাক্সেতে। ।

শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১১

মানুষ ~ অনামিকা মিত্র

মানুষ বড় বোকা
বসেই আছে শুকনো চোখে
কখন ফেরে খোকা।

তোমরা চেনো তা'কে।
জানো সে খুব অন্ধকারেও
সূর্য জ্বেলে রাখে।

সূর্য কোথায়?... মনে।
ভয় মেঘের আড়াল থেকে
ওঠে এতক্ষণে।

ভয় কীসের? কাকে?
ভাই বন্ধু যার বুলেটে
রক্তে শুয়ে থাকে।

ভয় কীসের? কাকে?
যে হানাদার আগুন জ্বেলে
পুড়িয়ে মারে মাকে।

ভয় কীসের? কাকে?
যার মুখোস চোখ রাঙায়
প্রতি কথার ফাঁকে।

মানুষই ভয় তাড়ায়।
রাতপাহারা চলতে থাকে
ছন্নছাড়া পাড়ায়।

মানুষ বড় জেদী।
ভালোবাসার ফুলে সাজায়
ভাঙা শহিদ বেদী!

প্রতিভা ~ অনামিকা মিত্র

অঙ্কন শেখা শুভাদার কাছ থেকে
আমার বেলায় বাঁকা হাসি? অবহেলা?
রবিঠাকুরওতো এঁকেছে প্রচুর ছবি
কোনও আপত্তি করিসনি তার বেলা।

রবিঠাকুরেরই মতন লিখেছি বই।
বেশি নয় ঠিকই, দুইচার খানা কম
নোবেল পাইনি। পাব না বলেছে কেউ?
পোড়ালেও হয় দিব্যি দুধ গরম।

গান জানি, জানি বাজাতে সরগরম।
সুর ভুল? সে'তো লতা মঙ্গেশকরও
প্রথম প্রথম নার্ভাস হয়ে গিয়ে...
শুধু শুধু একা আমাকেই কেন ধরো?

আরও নানাবিধ প্রতিভা রয়েছে হাতে।
জলের মতন মিথ্যে বলতে পারি,
লোকসভাতেও মিথ্যে পিএইচডিটা 
দাখিল করেছি। ছিঁড়ে পড়ি নয়া শাড়ি।

আর কী কী পারি চ্যালারা বুঝিয়ে দেবে
নিজেও হয়তো বুঝে যাবি হাড়ে হাড়ে!
যদি না বুঝিস? তারও ব্যবস্থা আছে।
মিডিয়ারা পারে। সবটা বোঝাতে পারে।

যে করেই হোক ছলে বলে কৌশলে
গদী দখলের হুকুম পেয়েছি আমি।
আপাতত তাই তোদের সইতে হবে
প্রতিভা এবং মাপাজোকা পাগলামী।

চ্যানেল কিনেছি ছবি আঁকা টাকা দিয়ে
ছবি কিনে নিল মেহতা ও নেওটিয়া।
এ'বার চ্যানেলে ভাগ্য গণনা শুরু। 
ঠোঁট দিয়ে ঠিক তাস টেনে নেও টিয়া!

বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১১

আত্মকথা ~ অনামিকা মিত্র


তৃণমূল ক্যাডার ~ অনামিকা মিত্র

আমি তৃণমূল কর্মী, আমার পরিচয় দিতে চাইনে।
চেনবার যারা চিনে যাবি ঠিকই বোমা বন্দুক মাইনএ।

সিভি আপলোড করা আছে... জানে নেত্রীর দপ্তর।
তা' দেখে নেত্রী বলেছে,লড়ে যা,এ'পাড়ার "তোলা" সব তোর!

আগে করতাম ক্ষুদ্র ব্যবসা, ছ্যাঁচরামি তোলা ছিনতাই।
নেত্রী চাইছে বৃহৎ ব্যবসা, কাটছেনা আর দিন তাই।

পাঁচটা দশটা খুনটুন করা আজকাল জলভাত তো!
থিয়োরেটিক্যাল সাপোর্ট দিচ্ছে, অর্পিতা জয় ব্রাত্য।

আমি হতে চাই... রাজার জামাই। প্রকাশ্যে... ফিসফিসিয়ে...
রটনা করছি সিপিএম দেবে টালাজলে বিষ মিশিয়ে!

অপেক্ষা শুধু, দিদি একবার পৌঁছলে মহাকরণে,
সিওর বলবে... জোলো দুধ নয়... আয় বাছা আয়... সরও নে।

তনয়কাহিনি--মুকুলপর্ব ~ অনামিকা মিত্র


বড়দি'মনি


তনয়কাহিনি ~ অনামিকা মিত্র

শুধুই সেলএর চাকরি ছেলের পোষাচ্ছিল না মোটেও।
তাই অভিজিৎ ভুলে হিতাহিত, দাঁড়িয়ে গিয়েছে ভোটে ও!

সবাই বলল "আগামীকল্য, না খেয়ে মরবি শেষটা!"
বলে বাছাধন "আছে পেনশন, সুবিধার ভিআরএসটা।

বলছে লোকরা রাহুল ছোকরা খুব নাকি তালেবর সে!
আমি কীসে কম? মেলছি পেখম উদার ভারতবর্ষে!

চাকরি না ছাই, ক'টা টাকা পাই? এর চেয়ে পলিটিকসে
নামলে আমার বহু রোজগার। জেনে গেছি আমি ঠিক সে।

প্রণবপুত্র... সে'টাই সূত্র। এ'দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ডে...
হলেই এমএলএ উৎকোচ মেলে, ডলার এবং পাউন্ডে!

হামাগুড়ি দিতে শিখি নাই আজও, তবু চাহিতেছি... হাঁটিতে।
হাত ধর বাপা... হাঁটি হাঁটি পা পা, রোডশোতে... নলহাটিতে! "

সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১১

কার্যকারণ ~ অনামিকা মিত্র

টিভির ভিতর মিথ্যে ভাষণ দিচ্ছে বাছা পার্থ
(ভাষণ কোথায়? হাসাচ্ছে লোক। ওইটা নেহাত ভাঁড় তো।)

পাগল ছাগল ছদ্মবেশে মিথ্যে এবং ভুলকে

সত্যি বলে রটাচ্ছে ওর নিরেট মাথা চুলকে।

সবাই শুধোয় পার্থ এমন মিথ্যে কেন বলছ?
কবর থেকে চমকে ওঠে বাপরে গোয়েবলস-ও!

শুভেন্দুরা সেই সুযোগে রক্তে ভাসায় পাড়া 

ভুল বুঝি না। কিছুই কি হয় কার্যকারণ ছাড়া?


কর্পোরেটের অন্ধ গোলাম। শেকল বাঁধা গলায়।
এমনি কি আর বলছে কথা? নগদ টাকাই বলায়।

তাই নাকি হে? কারা এখন ঢালছে এমন অর্থ?
হিজ মাস্টার্স ভয়েস মানেই গোপনতম শর্ত।

গোপন তো নয়! ব্যাপার যত ঘটছে তা' প্রকাশ্যে!
সাম্রাজ্যের নির্দেশে আর মনমোহিনী ভাষ্যে।


টাটকা আজও পরমাণুর অপমানের গল্প।
আর তা'ছাড়া বিশ্ববাজার সেটাও তো নয় অল্প।

বামরা নিকেশ হলেই এ'দেশ না ঘরকা না ঘাটকা

পেনশনে আজ রাহুর ছোঁয়া খেলুক পুঁজি ফাটকা

এনডিএ বা ইউপিএ হও মানতে হবে চুক্তি 

গরীব আরও গরীব হলেই অর্থনীতির মুক্তি।

সেই জন্যেই জ্বলবে বসত। মারবে ভুখা লোককে।
খুনসন্ত্রাস... খেলতে হবে সাম্প্রদায়িক লক্ষ্যে। 


এ'সব কিছু ছাপ যেন না ফেলতে পারে চিত্তে

তার জন্যেই চলছে প্রচার হিংস্র ... এবং মিথ্যে। 


আসছে টাকাও। ভাগ করছেন প্রচারকারী পার্থ।
ভিক্ষে কুড়োয় বিদ্দ্বজ্জন... শাঁওলি বা জয়... ব্রাত্য।

পার্থ শোনো,যাদের কেনা সহজ, তাদের কিনো।
মানুষ খালি যায়না কেনা। গুণছে তারা দিনও।

হুজুরের মানহানি ~ অনামিকা মিত্র


মানের হানি। মামলা করুন। জিতুন কিম্বা হারুন।
ব্রাত্য হুজুর, আপনি কিন্তু সত্যবাদী দারুণ!

নাটক করেন। রাজনীতিও। মদ্যে ভেজান ওষ্ঠ।
রেলের টাকায় বেলের পানায় শুদ্ধ রাখেন কোষ্ঠ।

ঋতব্রতর বড্ড সাহস, চাইছে এ'সব ধরতে।
এ'বার বুঝুক। সেলাম করুক একদম নিঃশর্তে।

মঞ্চ থেকে দেদার টাকা, কলেজ থেকে মাইনে।

রেলের টাকাও? বেশ করেছেন। বাধলে বাধুক আইনে।

আসল কথা সম্মান। আর এমন সাম্মানিককে,
ঋতব্রত কায়দা করে বলছে নাকি ভিক্ষে!

রেল কি কারও মামার বাড়ি? কাজ করলে খাদ্য

তবেই মেলে। গর্দভদের বোঝানো দুঃসাধ্য।

জয়দা বলুন, শাঁওলি বলুন, লাভের কড়ি যার যার।
মামলাটা হোক। ঝুলির থেকে নির্গত হোক মার্জার।

যেই সম্মান ছিলনা তার হচ্ছে বেজায় হানি।
মামলা করুন। ঋত এবার টানুক জেলের ঘানি।


রক্তে ভেজা কোলাজ ~ সদানন্দ কারিগর

রক্তে ভেজা কোলাজ

-সদানন্দ কারিগর

ঘটনা ১ : বাঁকুড়া সন্মিলনি মেডিকেল কলেজের মর্গ-এর উল্টো দিকের চা'য়ের দোকান। বহুদিন পর হঠাৎ দেখা এক কমরেড-এর সাথে। চিৎকার করে ডাকি- আরে কমরেড, কি খবর? এখানে? সেই চেনা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে দু-হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। মুখটা একটু শুকনো। মনটা খচখচ করে উঠল। তাহলে কি কোন আত্মীয়-স্বজন


অদ্ভুত ক্ষমতা এদের অন্যের মনের কথা বোঝার। হাতটা চেপে ধরে বললেন, বাড়িতে সব ভালই। পার্টী থেকে দায়িত্ব দিয়েছে মর্গ সামলানোর। সারেঙ্গা বা বাঁকুড়া জেলা লাগোয়া অঞ্চলে প্রায় রোজই কমরেডরা খুন হচ্ছেন। 'বডি'গুলো এখানেই আসছে। আমরা সাহায্য না করলে গ্রামের মানুষ আরও বিপদে পরবে। তাই


শহুরে মধ্যবিত্ত - অবাক চোখে আকাশটাকে আঁকড়ে ধরে পালাতে চায়। পারেনা। আবার সামাল দেয় সেই কমরেড। পকেট থেকে একটা কালো সুতোর বিড়ি বাড়িয়ে দিয়ে বলে, ছাড়ো ওসব। মুহূর্তে স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে বলি, এখনও কতো এসেছে? উনি বললেন- প্রথম প্রথম হিসেব থাকতো। এখন আর থাকেনা। তবে জান কমরেড, একটা ঘটনা কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারছিনা। রাতে শুতে গেলেই মনে পড়ে। ঘুমাতে পারিনা। সেপ্টেম্বর- এর ১০ তারিখ। সারেঙ্গাতে খুন হন ৭১ বছরের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক কৃষ্ণ কুণ্ডু। পরের পরের দিন, মানে ১২ তারিখ ওনার ছেলে এসেছে। আমরা দাঁড়িয়ে আছি। ছেলেটা আমার পাশে। খেয়াল করিনি, কখন আমার কাঁধে মাথাটা রেখেছে। 'বডিটা' বের করা হচ্ছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি লাল পতাকাটা নিয়ে। ঢেকে দিতে হবে। হঠাৎ ছেলেটা বলে উঠল- 'কাকু, বাবার মুখটা একটু পরিষ্কার করে দেবে? এত রক্ত, ভাল করে দেখাই যাচ্ছে না।' বিশ্বাস করো কমরেড, ঘুমোতে গেলেই কথাটা কানে বাজে। মনে হয় ছুটে যাই জঙ্গল মহলে। দেখি একবার ওদের কত শক্তি। পার্টী হাত বেঁধে রেখেছে, আমাদের কিচ্ছু করার নেই। 

 

ঘটনা-২ : ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের শেষ সমাবেশ। একটু আগে লালগড়ের বিনপুর জোনাল কমিটির মিছিল এসে ঢুকেছে। উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সহযোদ্ধাদের স্বাগত জানিয়েছে মাঠ। ওঁরা বসলেন মাঠের এক কোণে। মঞ্চে বুদ্ধদেব ভাষণ দিচ্ছেন। আমি থাকতে না পেরে চলে গেলাম ওদের কাছে। বললাম- 'লাল সেলাম কমরেড, দারুণ লড়ছেন আপনারা'। প্রত্যুত্তরে হাতের মুঠি শক্ত করে লাল সেলাম জানালেন। কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। আবার অবাক হই। ভাবি তাহলে কি আমার পোশাক বাধা হ'য়ে দাঁড়াল? আমাকে কি কমরেড ভাবতে পারছেন না? বসে পরি ওদের পাশেই।

বক্তৃতা শেষ করলেন বুদ্ধদেব। পাশের মানুষগুলো উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন। বছর পঁচিশের এক যুবক শূন্যে হাতটাকে ছুঁড়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন- 'ই ই ই ইনকিলাব', চারপাশ কাঁপিয়ে আওয়াজ উঠলো 'জি ই ই ই ন্দা বা আ আ দ' 


এক মাঝবয়সী কমরেড এবার তাকালেন আমার দিকে। জানতে চাইলেন আমি সাংবাদিক কিনা। বললাম না না তেমন কিছু না। এবার তাকালেন সোজা। বললেন, লেখেন নিশ্চয়ই? কিছু জানতে চান? আমতা আমতা করে বললাম- 'ইয়ে মানে পেপার পড়েতো সব ঠিকমতো জানা যায় না। আপনাদের মুখেই তাই শুনতে এসেছি আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা'

-আপনারা শহরের লোক, পারবেন শুনতে ওসব? আমার বাড়ী শালবনী। ২০০৯ সালের জুন মাসে, ১০ জন কমরেড কে ধরে নিয়ে গেছিল ওরা।  দীনবন্ধু সরেন, প্রবীর মাহাত, মলয় মাহাত, সঞ্জয় মাহাত, কেশবচন্দ্র মানা, ধীরজ মানা, মোহন সিং, দেবব্রত সরেন, অসিত সামন্ত আর নাড়ু সামন্ত। হাত-পা বেঁধে রোদের মধ্যে ফেলে রেখেছিল সারাদিন। প্রচন্ড তেষ্টায় জল চাইলে মুখে পেচ্ছাব করে দিয়েছিল মাওবাদীর দল। তারপর একটা ছোটো ঘরে লঙ্কার বস্তায় আগুন ধরিয়ে সেখানে সবাইকে ঢুকিয়ে দম বন্ধ করে মেরে লাশগুলো গায়েব করে দিয়েছে। শালবনী হাইস্কুলের মাষ্টার মশাই, একমাত্র ছেলে মলয় মাহাত-র ছবি নিয়ে আজো জনে জনে জিজ্ঞেস করে তার ছেলের কথা। মা-বাবা দুজনেই আজ সন্তান শোকে পাগল।


বৈতার স্নেহাশীষ দাস। ওর বৌটার সেদিন 'সাধ'। ভজালি দিয়ে গলাটা কেটে আনন্দে চীৎকার করেছিল ওরা। পাগল বৌটার একমাস বাদে একটা মেয়ে হয়েছিল।


কানাই দিগনায়েক। বৌ-ভাতের দিন ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে গুলি করে মারে। সদ্য বিয়ে আর একই সাথে বিধবা হওয়া বৌটা এখন শুধু তাকিয়ে থাকে। কথা বলেনা।


আকাশ বেজ আর তাপস মণ্ডল। গুঁড়ি গ্রামে বাড়ি। মকর সংক্রান্তির নতুন জামা কাপড় কিনতে গেছিল ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনপুর হাটে। গুলি করে মেরে দেয় ওরা।


বেলাটিকরি অঞ্চলের জামদা হাইস্কুলের শিক্ষক কার্ত্তিক মাহাত। পড়াচ্ছিল। ছাত্রদের সামনেই গুলি করে মারে। দুজন ছাত্র তারপর থেকে ভয়ে বোবা হয়ে যায়।


আমার ভেতরটা গুলিয়ে ওঠে। থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করি, এর পরেও লড়ছেন, ভয় করেনা? অদ্ভুত হাসি হেসে ওঠেন উনি। হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করেন- 'একটু আগে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কি বলল শুনলেন? এভাবে আমাদের শেষ করা যায় না। জয় আমাদের হবেই'


গোটা দলটা উঠে দাঁড়ায়। এবার ওদের ফিরতে হবে। মরার জন্য, নাকি অনেককে বাঁচাতে? উত্তরটা অজানাই থেকে যায়।


ঘটনা ৩ : সন্ধ্যে ৭টার প্রেস ক্লাব। কোণের TV তে প্রাক্তন নকশাল নেতা কতিপয় বুদ্ধিজীবী পরিবেষ্টিত হ'য়ে 'রেজিমেন্টেড পার্টী-র' বাপান্ত করছেন। একটু আগেই বামফ্রন্টের আসন্ন পরাজয়-এর সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষন করে আসা ক্লান্ত সাংবাদিক কেরাম-এর বোর্ড থেকে ঘার ঘুরিয়ে এক ঝলক সেটা দেখে নিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন 'শালা রেড-বুকটাও পড়েনি। শংকর দুটো লার্জ বিপি আর সোডা দিস্‌'।।   


************


সাত্রে'র নাটকটা মনে পড়ে? কিভাবে একজন সাংবাদিক একটু একটু করে Pathological liar-এ পরিণত হয়? যদিও তারা জানে, তারা যা লিখছে তা আসলে মিথ্যে। একসময় তারাই সেটাকে সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।


এই মুহুর্তে আমরাই বা কম যাই কিসে? আপাদমস্তক মিথ্যেয় মোড়া অর্ধশিক্ষিত এক ছিটেল মহিলার পেছনে মনে মনে একবারো কি দৌড়াইনি? একবারও কি মনে হয়নি, জঙ্গলে রক্ত ঝরছে কারন অনুন্নয়ন? যেন শ'খানেক গরিব মানুষ মরলেই ওখানে উন্নয়নের বন্যা বয়ে যাবে? একবারও কি মনে হয়নি, যাক না একবার বামফ্রন্ট সরকারটা বছর খানেকের জন্য? সেই মুহুর্তে মনে হয়েছিল কি, গোটা রাজ্যটাই জঙ্গলমহল বানিয়ে দিতে পারে ওরা? সপাটে নিজের গালে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে হয় কি তার জন্য?


এখনও সময় আছে। অথবা এই তো সময়। লাল পতাকাটাকে আরো উঁচুতে তুলে ধরুন। এ লড়াই জিততেই হবে।

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১১

লং মার্চ

কিসের ভয় সাহসী মন লালফৌজের
লাফিয়ে হই পার।
থাকনা হাজার অযুত বাধা
দীর্ঘ দূরযাত্রার কিসের ভয়?

হাজার পাহাড়, লক্ষ নদী কিছুই নেই ভাবার
শিখর পাঁচ - যেন বুঝি ছোট্ট নদী
ঢেউ বাহার, ঢেউ বাহার,
ওমুম পাহাড় মাটির টিলা কি সবুজ আহা
লাফিয়ে হই পার।

আকাশ ছোঁয়া পাহাড় আগুন
আঘাত হানে সোনালি স্রোত যার
লোহার সাঁকো তাতুর বুকে হিম শীতল
পথেই হই পার

তুষার ঝড়ে নিযুত শিখর।
রোদে ঝলোমল
মিঙ পাহাড় লাফিয়ে পার লাল ফৌজ আহা
হাসির মেজাজ সবার

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০১১

দিবারাত্রির কাব্য ~ রাত্রি ও সায়ন্তন

অনিমেষকে…

অনিমেষ, তুমি কমন আছো আজ?...গিটারে কি বাজে "পরশপাথর" সুর ??
সেই ক্লাস এইট ; প্রথম কবিতাগুলো… জং ধরে গিয়ে আজ তারা ভঙ্গুর ।
স্কুলজীবনের একলা বেঞ্চি-কোণ, কতবার তুমি দেখা করেছিলে diary-র page-এ এসে;
ধোঁয়ার টানে ঘুলিয়ে ওঠে মন, জলে যেভাবে একফোঁটা কালি নরম হয়ে মেশে…
অনিমেষ, তোমায় প্রথম দেখি মানিকতলার বাসে, তুমিও হয়ত কোচিং-এই যাচ্ছিলে।
আমিও তখন সদ্য এগারো ক্লাসে, চোরাদৃষ্টিতে ঊষ্ণতা রেখেছিলে…
অনিমেষ, আজ বছর আটেক হলো, যাওয়া হয়না বহুদিন ওইদিকে,
স্কুল-কলেজেতে রঙীন গণ্ডী ছিলো, স্যুটেড ব্যুটেড মোড়কে তা আজ ফিকে।
অনিমেষ, হয়ত এখন অফিস ফাঁকা… অবসরে তুমি জানলার এক কোণে;
আমি তো রোজ-ই রাস্তা পেরোই একা, diary-তে নিয়ে তোমায় সঙ্গোপনে…
অনিমেষ, রোজ ঘুম ভেঙে উঠে দেখি, bank statement দিনে-দিনে হয় ম্লান;
কান্নারা আজ দলা পাকায় না ঠিকই, জীবন-পাশায় কৈশর খানখান।
অনিমেষ, খুব মনে পড়ে সেই দিন… ব্ল্যাকবোর্ড-এ ছিলো উপপাদ্যের নকশা,
উঠে দাঁড়িয়ে পড়া না পারার scene, শাস্তি পেলেই চোখের জলে ঝাপসা…
অনিমেষ, বড়ো একলা হয়েছি আমি ; হারিয়ে ফেলে ছোট্ট টিফিন-বাক্স,
কাড়াকাড়ি হত, ছিলো এমনই দামি, সেই বন্ধুরা রোজ এসে পাশে বসত ।
অনিমেষ, এই চিঠিখানা রইলো, মায়া লাগছিলো হঠকারিতাটি করতে…
শেষ করলাম মাঝপথে এই প্রাণ, শূন্য থেকেই আবার শুরু করতে।। 


মাধবীকে ...


মাধবী, তুই কি হারিয়ে গেছিলি,
আমার ভেতর-বাইরে মনের উল্টোদিকে?
মাধবী, তুই তো বলেছিলি কবে,
কাগজ নৌকো ভাসিয়ে দিবি
সদ্য বিকেল সাক্ষী রেখে!
মাধবী, তুই কি এখনো তেমনই,
কাটা কাটা কথা, আবেগে তেমনই
আগের মতই পাগলামি তোর?
মাধবী, তোর কি মনে আছে সেই -
পায়ে পা মিলিয়ে মিছিলে স্লোগান
মন জুড়ে থাকা "ইনকিলাব"কে?
মাধবী, তোকে যে খুব খুঁজে পাই,
এই শহরের রাজপথ থেকে,
পার্ক স্ট্রীট হয়ে আউট্রামেও।
মাধবী, আমারও বয়স বেড়েছে -
গোঁফে রুপোলি ঝিলিক-
আফটার শেভ মাখলে এখন ঘুম আসে!
মাধবী, জানিস, মাঝে মাঝে যেন
শুনে ফেলি তোর হঠাৎ করেই নিঃস্তব্ধতা
ভেঙ্গে পাগল করা 'রবীন্দ্রনাথ' - তুই ই পারতিস!
মাধবী, তুই কি সত্যিই ছিলি?
নাকি পুরোটাই কৈশোরে লেখা
metamorphic চিত্রনাট্য? 


অনিমেষকে... কিছু প্রশ্ন...

অনিমেষ, কিছু প্রশ্ন ছিলো তোমায়, বহুদিনের অপেক্ষা আজ ক্লান্ত,
থিতিয়ে গিয়েছে ঘলা জলের মাটি, উপেক্ষিত হয়ে সে আজ শান্ত।
অনিমেষ, সেই সোনালী দিনের স্কেচ, কোনো এক ট্রামে পাশেই দাঁড়িয়ে দুজন ;
বৃষ্টিরা সব অকারণ ছিলো বেশ…. বড় নিশ্চুপে ভিজে গেলো দুটি মন ।
অনিমেষ, রোজ কলেজ শেষের পর; বন্ধুরা মিলে তোমাদের গোলটেবিল,
হঠাৎ ছোঁয়ায় শিহরণ তারপর, বাস্তব থেকে বহু দূরে তার মিল…
কলেজে তখন ছাত্রনেতা তুমি, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ, ছেঁড়া জিনস্… পাঞ্জাবি,
একগাল দাড়ি, হাসিমুখ হলো বিষ… পান করে আরো নিলচে হলাম আমি।
একদিন ছিলো মনখারাপের দুপুর, ক্যান্টিনেতে এক কাপ চা, আমি একা…
ঝড়ের বেগে দিয়েই চলে গেলে, সেই চিঠিখানা আজও ডাইরিতে রাখা ।
অনিমেষ, সত্যি কিছুই জানিনা আমি, দিশেহারা আমি বুঝতে চাইনা কিছু ;
বেঁচেই যেতাম হলে অন্তর্যামী, মায়াবী শহরে আমি যে এখনও শিশু…
পেশা জানা নেই, নেশায় বাউল জানি… বুঝিনি ঝড়ে একলা পড়ে তুমি,
একা দাঁড়িয়ে আউট্রামের পাড়ে, ক্লান্ত….. তবুও তোমারই দিন গুনি ।
ভাঙা দেওয়ালেতে তোমার স্লোগান আজও, ঢেকে যায়নি বিজ্ঞাপনের পাশে,
প্রশ্নগুলো আজকে বরং থাক ; বোবা দৃষ্টিতে এখনও স্বপ্ন আসে… 



মাধবী কে - যে জবাব চায়নি কোনদিন

একেকটা দিন কলেজে যখন স্কোয়াড করেছি,
মনে আছে তোর? বুকে রাগ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি।
সেই দিন গুলো, যখনই চেয়েছি পাশে পেয়ে গেছি তোকে,
সঙ্গিনী ছিলি, বিপ্লব আনতে, সর্বনাশের ঝোঁকে।
সেই মাধবীটা খুব চেনা ছিলো খুব খুব চেনা,
বদলেছে দিন, এই বদলটা ভাল লাগছেনা।
বুঝতে পেরেছি সেদিন আবেগে ঠোঁট কেঁপেছিল,
উত্তেজনায় ছল ছল চোখে, পরিণত মেয়ে হাত ধরেছিল।
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে নিজেই নিজের মুখোমুখি,
চারমিনারের ধোঁয়া - বয়সের নিয়মেই সুখী!
পালিয়েছিলাম তোর কাছ থেকে, তোর চোখে দেখা স্বপ্নের থেকে,
নীরব চাহনি অনেক কথাই বলতে চাইত ক্যানভাসে এঁকে।
পরিচিত কিছু অভিব্যক্তি কখনো কখনো ভাষায় প্রকাশ,
কখনো দেখেছি তোর চোখ দিয়ে, খুঁজতে চেয়েছি ইচ্ছে-আকাশ।
এখন রাত্রি, আরেকটা ভোর দেখবো আবার একটু পরে,
তোকেই যে কেন দিইনি আমার সবটুকু 'আমি' উজার করে!


আরেকবার অনিমেষকে…

অনিমেষ,আজ নিজেকেই ছোট মনে হয়,দূরদৃষ্টিতে হেরেছি তোমার কাছে,
দেখব আবার মিছিলে স্লোগানে তোমায়, অবুঝ প্রেম এই আশা করে আজো বাঁচে..
অনিমেষ, সেই কবেকার ফোন-নম্বর,রিসিভার ধরে মেঘলা দু'চোখে জল,
ছেড়ে গেছ বুঝি একতলা ভাড়াবাড়ি, একা দাঁড়িয়ে ঠায় সে টিউব-কল।
কড়া বাস্তব সহজপাচ্য নয়, অ্যান্টাসিড-এ তিক্ততা বাড়ে শুধু…
অফিস-ফেরত রোজ স্যারিডন নেশা, ভাবের জগতে ওষুধেরা ঢালে মধু।
রাতের বালিশে মাথা রাখলেই দেখতাম… রঙীন স্বপ্ন; গেলাস ভর্তি শরাব;
গভীর ঘুম আর আসেনা কেন যে আজ, ফাঁকা ঘরে তাই স্বেচ্ছাবন্দী খোয়াব।
অনিমেষ,কত দ্রুত পাল্টালো সব; নয় নয় করে বছর দশেক হবে,
ছেড়ে এসে সেই গলির মুখের বাঁক… কেন বারেবারে ফিরে চাই যে নিরবে…
ভিড়ে,বাজারে আমি তোমায় দেখি রোজ, তোমারি মতন দাড়ি-মুখ, হাসি চোখ;
যে বিপ্লব তুমি শুরু করেছিলে সেদিন; কিশলয় থেকে মহিরূহে পৌঁছোক।
অনিমেষ, কেন সত্যিই মনে হয়, "রঞ্জনা" আর "বেলা বোস" আজ আমি…
কাজলেতে ঢাকি প্রাত্যহিকের ক্লান্তি, চশমায় ঢাকি স্বপ্নের হাতছানি।
কি-বোর্ড চালিয়ে ক্ষয়াটে আঙুল আমর, লালিমা হারিয়ে হয়েছি কর্পোরেট…
যে মাধবীর সঙ্গী ঝর্ণা-কলম,দূর থেকে অস্ফুটে বলে… 'চেকমেট' !!!
শুকনো পাতারা সমব্যাথী বুঝি আমার, যেখানেই যাই টুপটাপ খসে পড়ে,
দিনে রোদ্দুর… রাতে বৃষ্টি-ঝড়… বোবা চাউনিতে স্বপ্নরা পুড়ে মরে। 


মাধবীকে - খোলা খামে...

আমার শহর - একলা কোণ,
বারোয়ারী এক ফালি উঠোন,
দশ ফুট বাই বারো ফুট জোড়া ঘর -
দিন আসে দিন চায়ের গ্লাস,
জীবন-যাপনে মিডল ক্লাস,
ভিতর-সত্ত্বা যান্ত্রিক যাযাবর।

সকাল এখনো আলি আকবরে,
শুরু হয়ে - চলে ঘুর পথ ধরে;
মন চোরাস্রোতে হারাতে দিইনি কিছু।
দিনান্তে রাত চোখে ঘুম আনে,
অনেক টুকরো কথা বাজে কানে;
ফেলে আসা পথে সময় নিয়েছে পিছু।

কলেজ ফেরত বাইপাসে হাঁটা,
লাল রঙে লেখা পোষ্টার সাঁটা,
বাপিদা-র চায়ে চুমুকে তুলেছি ঝড়।
কলেজ জীবন স্বপ্ন দেখাতো,
দিন-যাপনের সূত্র শেখাতো,
হিসেব মেলেনি - বছর সাতেক পর।

এখনো যখন কেরালার গ্রামে,
"কমরেড", বলে দৃঢ় গলা থামে,
তাদের চোখেও সে আগুন দেখি - যেমনটা ছিলো তোর।
অনিমেষ আজও এ'ভাবেই বাঁচে,
পুড়তে পুড়তে আগুনের আঁচে;
মাধবীলতার জন্য থাকুক "অন্য গানের ভোর"।




ফিরে দেখলাম তোমায়…

মাধবী আজ আর জবাব চায় না, ঠান্ডা স্রোতে স্তব্ধ,
শরীর জুড়ে ক্লান্ত ভীষণ, মনের জানলা বন্ধ।
অনিমেষ, তুমি একই রয়ে গেলে, উদ্ধত; বিপ্লবী…
মধ্যবিত্ত সহজ বুনোটে খামখেয়ালের ছবি।
দিন কাটে তোমার মিটিংএ-মিছিলে জবাবী স্লোগান দিয়ে-
শ্রমিক স্বার্থে আগ্রাসী তুমি আগুনের রূপ নিয়ে।
যে আগুনে আমিও প্রদীপ জ্বালিয়ে ছিলাম কোথাও-
নিভে গিয়ে শেষে জ্বললো না আর,পরম ব্যর্থ তাও।
অনিমেষ, বড় হিংসে হচ্ছে, কেন তুমি সংগ্রামী?
কিসে জিতলাম; কি চেয়েছলাম; কিইবা পেলাম আমি।
অনিমেষ, আমি হেরে গেছি আজ "মাধবীলতার" কাছে,
তোমার মাধবী "শ্রেণী" খুইয়েছে বহুজাতিকের পাশ-এ।
মাধবীর ঘর শ্মশান- স্তব্ধ, জ্বলে টিমটিমে দীপ..
চাওয়া-পাওয়ার শরিকের মাঝে জীবন্ত শহীদ।
স্বপ্ন ছিলো ধরব আকাশ সাথের সাথীকে নিয়ে;
বালি হয়ে তা ঝরেছে কখন আঙুলের ফাঁক দিয়ে…
মাস কেটে যায় রুটিনমাফিক, মেশিনের মত ঠিক।
কুয়াশায় ঢাকা ভাবুক চোখের শূন্যস্থানে শীত। 

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০১১

আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ৮ই মার্চ, ২০১১

 বামফ্রন্ট সরকার আর পশ্চিমবঙ্গে মা-বোনেরা


ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার

l রাজনৈতিক ক্ষমতায়নই মানুষকে সমাজ পরিচালন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেয়ভারতের মধ্যে পঞ্চায়েতে পৌরসভায় পশ্চিমবঙ্গের মহিলারাই এই ক্ষমতা প্রথম পেয়েছেনপঞ্চায়েত পৌরসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকার করার পরে বামফ্রন্ট সরকার এই রাজ্যে সেটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করে

l ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে সব আসন মিলিয়ে হিসেব করলে ৩৮.৪৮% সদস্যই মহিলাঅর্থাৎ, সংরক্ষিত আসনের চেয়ে অনেক বেশি

l রাজ্যের ১৮টি জেলার মধ্যে ৯টি জেলায় সভাধিপতি মহিলা

l গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ৪১.৭৩% প্রধান মহিলা

l পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে ৩৯.৬৯% মহিলা

l সপ্তম বামফ্রন্ট সরকার পঞ্চায়েতের সব স্তরেই মহিলাদের জন্য ৫০% আসন এবং পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে

l পৌরসভাতেও মহিলাদের জন্য ৫০% সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে নিয়েছে রাজ্য সরকার

l এই রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের সংখ্যা ৩৭ জনশতাংশের হারে ১২ শতাংশের বেশি

 

মহিলা কমিশন

l ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশন

 

শিক্ষায় অগ্রাধিকার

l মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা এখন বেশি২০১০ সালে লক্ষ ৬৫ হাজার ছিলো ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিলো লক্ষ ৮৩ হাজার ১৫৮ জনচলতি বছরেও রাজ্যের ১০লক্ষ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছাত্রী

l উচ্চমাধ্যমিকে ২০১০- পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের ৪৪.৫৬% ছিলেন ছাত্রী

l এম এস কে-গুলিতে পড়ুয়াদের ৫৪.২৭% ছাত্রী এবং এস এস কে- পড়ুয়াদের ৫০.১৬% ছাত্রী

l মাদ্রাসার পড়ুয়াদের ৬৫% ছাত্রী

l উচ্চশিক্ষায় স্নাতকস্তরে (উচ্চশিক্ষা দপ্তর অনুমোদিত ‍‌শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসেব) ছাত্রীর সংখ্যা শতকরা ৪০.১৭ ভাগস্নাতকোত্তর স্তরে শতকরা ৪৫.২২ ভাগ

l অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত তফসিলী জাতি আদিবাসী ছাত্রীদের মেধা বৃত্তি প্রদান

 

চার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

l প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, সিদো-কানু-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপদে এখন মহিলারাই

 

বিদ্যালয় শিক্ষিকা

l ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে ৪১.১০ শতাংশই শিক্ষিকা


সংখ্যালঘু ছাত্রীদের সাহায্যে

l সংখ্যালঘু বিষয়ক মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মাদ্রাসার পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর সকল ছাত্রীদের পোশাক বিতরণ, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীদের বছরে ১২০০ টাকা উৎসাহভাতা প্রদান, ছাত্রছাত্রীদের বই কেনার জন্য বছরে ২৫০ টাকা অর্থপ্রদান

l স্নাতক স্নাতকোত্তর স্তরে গরিব সংখ্যালঘু পরিবারের ছাত্রীদের উৎসাহ ভাতা দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার বছরই৪০% নম্বর পেলেই এই ভাতা পাওয়া যাবেস্নাতকস্তরের ছাত্রীরা পান বছরে ৯০০০ টাকাস্নাতকোত্তর স্তরে বছরে ১৪৪০০ টাকা

l সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে একগুচ্ছ বৃত্তিপ্রাক্ মাধ্যমিক (উপকৃত হবেন লক্ষ), মাধ্যমিকোত্তর (উপকৃত হবেন ৯০ হাজার), মেধাসঙ্গতি বৃত্তি (উপকৃত হবেন হাজার), বিশেষ মেধা বৃত্তি, হাজী মহঃ মহসীন বৃত্তি (উপকৃত হবেন ১০ হাজার) এছাড়া আছে শিক্ষাঋণএই বৃত্তি প্রাপকদের শতকরা ৩০জনই ছাত্রীএছাড়া দুঃস্থ ইমাম মোয়াজ্জিনদের ছেলেমেয়েদের বৃত্তি দেওয়া হয়

l মুসলিম ছাত্রীদের জন্য ১১টি হস্টেল রয়েছেআর‍‌ ১১টি ছাত্রী হস্টেলের কাজ চলছেপার্ক সার্কাসের দিলখুশা স্ট্রিটে কর্মরতা মহিলাদের জন্য একটি হস্টেল তৈরি করা হচ্ছে

l আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ভোকেশনাল স্টাডিজ একগুচ্ছ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের কোর্স চালু করেছেএর মধ্যে কয়েকটি কোর্স মূলত সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্যইযেমনজরির কাজ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতিপ্রশিক্ষণের জন্য যে টাকা লাগে তার ৯০% দেয় রাজ্য সরকারমাত্র ১০% টাকা দেয় প্রশিক্ষণ প্রার্থীরা১১০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে

 

সংখ্যালঘু মহিলা ক্ষমতায়ন কর্মসূচী

l সংখ্যালঘু মহিলা ক্ষমতায়ন কর্মসূচী সপ্তম বামফ্রন্ট সরকারের অসামান্য উদ্যোগস্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করা ছাড়াও নানা ধরনের কর্মসূচী রূপায়ণ করা হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতায়

l পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর কোথাও সংখ্যালঘু মহিলাদের স্বনির্ভরগোষ্ঠীকে ৫০% ভরতুকি দেওয়া হয় না

l বয়স ২০-৪৫ বছরের মধ্যে হলে ব্যক্তিগতভাবে অন্ততপক্ষে 'জন সংখ্যালঘু মহিলাকে নিয়ে গঠিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ঋণ দেওয়া হয়সুদ বার্ষিক মাত্র % হারে

l পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগমের মাধ্যমের বিভিন্ন ধরনের ঋণদান প্রকল্পে এযাবৎ ৫১,৩৮৩ জন মহিলাকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ৯৯ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে

l সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত দরিদ্র মহিলাদের বিশেষত বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বিপন্ন অবস্থায় যাঁরা রয়েছেন তাঁদের জন্য আবাসন, প্রশিক্ষণ, ছেলেমেয়েদের বৃত্তি প্রদানের কাজ শুরু হচ্ছে২০১০-১১ সালে জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছেএছাড়া বিধবা বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হয়

l রোকেয়া গ্যাস ওভেন প্রকল্প : সংখ্যালঘু মহিলাদের পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা এবং স্বাচ্ছন্দ্য সুবিধার দিকে নজর দিতে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগমের মাধ্যমে প্রায় হাজার মহিলাকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করে গ্যাস উনুন দেবার ব্যবস্থা হয়েছে

 

সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার

l বালিকা সমৃদ্ধি যোজনায় কন্যা সন্তানের পরিচর্যায় বিশেষ নজর, দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনায় অনুদানের ব্যবস্থা এবং এককালীন ৫০০ টাকা সহায়তা যা ব্যাঙ্কে জমা রাখা হয়

l পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন বিভাগ, সমাজকল্যাণ বিভাগ, অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, ক্ষুদ্র ছোট উদ্যোগ এবং বস্ত্রদপ্তর কর্তৃক বার্ধক্যভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে মহলিাদের প্রতি বিশেষ নজর

l রাজ্যের সমাজকল্যাণ বিভাগ বিধবা ভাতা দেয় দীর্ঘদিন যাবৎদুঃস্থ বিধবাদের জন্য এই ভাতা চলতি আর্থিকবর্ষ থেকে মাথাপিছু মাসে ১০০০ টাকা করা হয়েছে

l জাতীয় বিধবা পেনশন প্রকল্প : ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা ভাতা প্রকল্প রাজ্যে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী ৪০-৬৪ বছর বয়সী বিধবা মহিলাদের জন্যমাসে ৪০০ (চারশত) টাকা পেনশন পাওয়া যায়২০০ টাকা দেয় রাজ্য সরকার, বা‍‌কি ২০০ টাকা কেন্দ্রীয় সরকার

l ইন্দিরা আবাস যোজনায় গৃহনির্মাণে পুরুষ মহিলাদের যৌথ মালিকানা প্রদান

 

জমির পাট্টা

l রাজ্যে ভূমিসংস্কারের মারফত বণ্টিত জমির প্রায় ৩০% পেয়েছেন মহিলারাই

l নারী পুরুষ যৌথ পাট্টা লক্ষ ১৪ হাজারের বেশি

l শুধুমাত্র মহিলাদের পাট্টা লক্ষ ৬১হাজারেরও বেশি

 

কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার

l একশো দিনের কাজে মহিলা অংশগ্রহণ ২০০৮-০৯ সালে ছিলো ২৬.%। ২০০৯-১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪২%।

l ১২লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোটি ২০ লক্ষ সদস্যের ৯০ শতাংশই মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাঙ্কঋণ শোধে ভরতুকি দিচ্ছে রাজ্য

l বাংলা স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্পে ১৫.৭৮% উদ্যোগপতি মহিলা

l প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গে উদ্যোগীদের ২৫% মহিলা (২০০৯-১০ অর্থবর্ষ)। প্রকল্প রূপায়ণ করে ক্ষুদ্র ছোট উদ্যোগ এবং বস্ত্রদপ্তর

l স্বর্ণজয়ন্তী শহরী রোজগার যোজনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র সঞ্চয় ঋণদান গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছেএই প্রকল্পে উপকৃত শহর এলাকার প্রায় লক্ষ ৬৫ হাজার বি পি এল পরিবারভুক্ত৮১,৭০৪ জন কারিগরি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন

l আদিবাসী মহিলা স্বশক্তিকরণ যোজনা: অনগ্রসর শ্রেণী বিভাগের অধীন পশ্চিমবঙ্গ তফসিলী আদিবাসী উন্নয়ন বিত্ত নিগম পরিচালিত এই প্রকল্পে আদিবাসী মহিলারা সর্বাধিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেনসুদের শতকরা হার টাকাচলতি আর্থিকবর্ষে ২৫০০ জনকে প্রায় কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে

l পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন বিত্ত নিগমের প্রতিষ্ঠা ১৯৯৫ সালে বি সি সম্প্রদায়ভুক্ত মহিলাদের জন্য মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা রূপায়ণ করা ছাড়াও মেয়াদী ঋণ দেয় এই নিগমদেয় শিক্ষাঋণ

l রাজ্যের গ্রাম উন্নয়ন সমিতিগুলিকে বছরে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়প্রতি ১০০০ জন পিছু জন মহিলা (আশা) এখন প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং স্বাস্থ্যচেতনার মৌলিক বার্তাগুলো তাঁদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেনএখনও পর্যন্ত ২১ হাজার ৭৬৩ জন প্রশিক্ষণ পেয়ে এই কাজ শুরু করেছেন১৭টি জেলার ২৩৫টি ব্লকে এই কর্মসূচী রূপায়ণের কাজ চলছে

l মৎস্য বিভাগ কর্তৃক জাল বোনা হাঁস পালনের জন্য প্রকল্প

l প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগ কর্তৃক মহিলাদের পশুপালন হাঁস-মুরগী পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী

l রেশম পালন বিভাগ কর্তৃক মহিলাদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচীযৌথ বনসংরক্ষণ কমিটিগুলির প্রায় অর্ধেক সদস্যই মহিলা

l স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (এস জি এস ওয়াই) দেখভাল করার জন্য প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে দুজন করে সম্পদকর্মী নিয়োগ করা হয়েছেএই দায়িত্বে মহিলাদেরই নিয়োগ করা হয়, মূলত স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকেইমাসে ভাতা ৫০০টাকাগ্রেডে পাস করার পর ৭৫০ টাকা

l স্বনির্ভর প্রকল্পের সদস্যাদের মাধ্যমেই সহায় প্রকল্পে অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেবার কাজ হয়এর ফলেও একটি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে

 

 

নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইনী ব্যবস্থা

l কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সম্ভ্রম মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ আইনের প্রয়োগনারীপাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণে রাজ্য সরকার বিশেষভাবে সক্রিয় রয়েছে

 

স্বাস্থ্যরক্ষায় অগ্রাধিকার

l মা শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষায় বিশেষ নজর দিতে সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প (আই সি ডি এস)-এর রূপায়ণ‍‌শ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত সুসংহত ‍‌শিশু বিকাশ প্রকল্পের সংখ্যা ৪১৪ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা , ১০,৭০০এই কেন্দ্রগুলি থেকে ৬৩ লক্ষ বছরের নিচে শিশু, এবং ১১, ২০,০০০ গর্ভবতী প্রসূতি মায়েদের একগুচ্ছ পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে

l জননী সুরক্ষা যোজনা রূপায়ণএই যোজনার মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি শিশু যাতে হাসপাতালে জন্মায় তা সুনিশ্চিত করা এবং মায়েদের প্রসবকালীন মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করাপ্রকল্পে গর্ভবতী মায়েদের কমপক্ষে তিনবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধি রয়েছেএই প্রকল্পে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মায়েদের এককালীন ৫০০ টাকা এবং শিশু হাসপাতালে জন্মালে আরও ২০০টাকা এবং প্রসবের জন্য হাসপাতালে যাতায়াতের যাবতীয় খরচ দেওয়া হয়

l কন্যা ভ্রণ নষ্ট রোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা

l জানেন কি গড় আয়ু, জন্মহার, মৃত্যুহার এবং প্রসূতি মৃত্যুর হারে পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় হারের চেয়েও অনেক এগিয়েগড় আয়ু জাতীয় স্তরের ক্ষেত্রে মহিলা ৬৮. বছর কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মহিলা ৭০. বছরপ্রসূতি মৃত্যুর হার জাতীয়স্তরের ক্ষেত্রে প্রতি লক্ষে ২৫৪জন; তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ১৪১জনশিশু মৃত্যুর হার জাতীয়স্তরের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৫৩জন; তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ৩৫জন। (রাজ্যের স্থান চতুর্থ) নারী:পুরুষ অনুপাত জাতীয় স্তরের চেয়ে ভালো

l শহরাঞ্চলে রয়েছে মা ‍‌শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনস্বাস্থ্য প্রকল্পশহরাঞ্চলে বস্তিবাসী গরিব শহরবাসীদের মধ্যে একাজে যুক্ত আছেন ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মীবেতন হেলথ ওয়ার্কাররা পাবে মাসে আড়াই হাজার টাকা এবং সুপারভাইজার ২৬৪০ টাকা মাসে

l প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বেড়ে ৬৯.% হয়েছে

l শিশুদের টীকাদান প্রকল্পে হার বেড়ে ৭৫.% হয়েছে