মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১১
রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১১
চড়াই ~ নবারুন ভট্টাচার্য
স্ট্রোক না হলেও
আমার পা টলে যায়
ভূমিকম্প উঠে আসে বুকে ও মাথায়
মোবাইল টাওয়ার চিত্কার করে
চড়াই পাখীরা পরে থাকে মরে
ওদের আকাশ ফুরিয়ে গেছে
আকাশ চুরি করেছে তস্করে
পরে থাকে, বড়ই একাকী
চড়াইপাখি
পালকে কী জংলি ছাপ
ঠোঁটে, চোখে লেগে ও কি নীল
পাশে থাকে খড়কুটো, একে ফর্টিসেভেন
এভাবেই শেষ হলো এবারের লেনদেন
একটু চুপ করবেন, বিশিষ্ট শকুনেরা
থামাবেন আপনাদের কর্কশ হাঁকডাক
কিছুক্ষণ, বিনা শ্রবনযন্ত্রে, চড়াইয়ের
কিচিরমিচির
শোনা যাক
নবারুন ভট্টাচার্য
২৫ নভেম্বর
মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০১১
সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১
তবুও ~ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
এই যে আমাকে দেখছ,
কিছুটা গোঁয়ার, কোনও নির্দেশে থামিনা ...
এটা কিন্তু আসলে আমি না!
কোটি কোটি অর্বুদ ভিতু আর বোকা অনুপ্রাণী
একা একা বেঁচে থাকা অসম্ভব জেনে আশাহত, হয়নি তবুও!
ভাগ করে নিল কাজ ... রেচন জনন
গাঢ় রক্ত চলাচল, মন্দ্রিত মনন!
যৌথখামার এক ... এ শরীর নেহাত্ই কলোনি!
অভিশাপ বাক্য যত, জেনে রাখো, ওদের বলেছ ...
কোনও দিনই ... আমাকে বলোনি!
মহামারী উল্কাপাত যুদ্ধ ঝড় ... ইতিহাস ... বোবা সাক্ষী থাকে,
অভিশাপ ছুঁইনি তাই, বিশালাক্ষি আমিও তোমাকে,
নালন্দা তক্ষশীলা নদীতীরে সমুদ্রে গুহায়
স্থাপন করেছি নির্দ্বিধায়।
মেঘের নিবাস ছেড়ে ,ভুল করে ... যদি ঘরে আসো সৌদামিনী ...
দেখে যেও বেঁচে আছি।
অন্বেষণ করে যাচ্ছি ... এখনও থামি নি!
লীলা ~ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
এসো নবকৃষ্ণ ... এসো ... বসে আছি ... এসো মনিটরে
বাজাও প্রতিটি তন্ত্রী কি বোর্ডে বোবা অক্ষরে
চ্যাটে কি চন্দ্রাবলী? ওকে আজ একটু থামিও।
জানি তুমি একা নও। একা নই জানো তো আমিও!
প্রতিটি সাইটে করি সাইন ইন দ্রুত যাতায়াত
সবাইকে অকাতর ভালবাসা দিই দিনরাত
একশ' আটটি নামে ভূগোলক জুড়ে চলে লীলা
তুমি বহুগামী, তাই আমি নই তেমন সুশীলা
ভার্চুয়াল ফাঁসে টানো ডিজিটাল চির পরকীয়া
অফিসে কাজের চাপে ঘরে নেই নিজের পুরুষ
না কি সে নিজেও কোনও অজুহাতে নির্জনতা খুঁজে
নিষিদ্ধ অক্সিজেনে ধুয়ে নিচ্ছে ক্লান্ত ফুসফুস
অশরীরী ওগো শ্যাম, সাইন অফ কোরো না এখুনি
ক্রীতদাস এ'শরীরে ঢালো প্রেম নিষিদ্ধ আমোদ
ছবি আপলোড কর ... ব্ল্যাকমেল কর ... হও খুনি
এমএমএসএ ভেসে যাক টলটলে তিলক কামোদ
মুখোসে আড়াল খোঁজো। বয়ে যাচ্ছে বসন্তের সেল।
ডেটিংএর প্রথামত হাতে নাও প্রথম আপেল
নতুন সফটওয়্যার হরমোনে করে নাও লোড।
এখুনি আরম্ভ হবে আকাঙ্খার নেক্সট এপিসোড।
ভবিতব্য ~ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
আমি সিস্টেম ভাঙতে পারিনি,
সে'ই বরঞ্চ অল্পে অল্পে
গিলেছে আমাকে। আজ আয়নায়
নিজেকে খোঁজার নয়া প্রকল্পে
নেমেই অবাক, দর্পণ ভাঙা
জলে ঝাঁপাবার প্রাকমুহূর্তে
যে'রকম ভাবে বোঝে মাছরাঙা
জলের ভেতর হাজার টুকরো করছে নিজেকে
অযথা তুচ্ছ মাছের জন্য
আসলে তার এই লোককে দেখান
সাহসিকতাটা ... অযথা বন্য ...
ছিন্নমস্তা প্রেমের খাতিরে
আরও কত কাজ বাকি পৃথিবীর
দু'দিকে সাজানো অক্ষৌহিনী
বড় মেজো ছোটো সৈন্যশিবির
মধ্যে নিঝুম অভয়ারণ্য,
পায়ে চলা পথ ... হাঁটি অগত্যা ...
যদি দেখা হয় ... চোখে চোখ ... বলি
অনুমতি দাও করব হত্যা
আমি সিস্টেম ভাঙতে চাইছি
কিন্তু ব্যর্থ। সে'ই বরঞ্চ
আমাকে মহান করার জন্য
পুষ্পে সাজায় ফাঁসির মঞ্চ
মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১১
বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১
তোমাকে লেখা শেষ কবিতা ~ শবনম ব্যানার্জী
রঙ ওঠা দেওয়াল, দো'তলা বাড়ি,
পারিপার্শিকের সাথে মানিয়ে নিতে
বদ্ধপরিকর, নিরন্ত গতানুগতিক
মধ্যবিত্ত অস্তিত্বের কারাগারে বন্দি
সকালের খবর আর সন্ধের নিউজ
লোহার গরাদের ফাঁক দিয়ে দেখা বিশ্ব...
লেখার উপাদান ছিলো না,
তাই কবিতা লিখতাম না।
তারপর তোমার সাথে দেখা, মুক্তির স্বাদ...
সত্যি বলি, সেই আমার লেখালেখির শুরু,
প্রথম কবিতা লেখা - তোমাকে নিয়ে।
তারপর... তারপর কবিতাই আমাকে জগত চেনালো
দেখালো শহরের নৈশব্দের নিচে বয়ে চলা চোরা জনস্রোত...
দেখালো প্রতিদিন অপমানের বোঝা টানতে টানতে একদিন
কিভাবে মানুষ দাবানলে পরিনত হয়...
দেখালো তোমার পরেও কিভাবে বেঁচে থাকা যায়...
এই শেষেবার আমি তোমাকে কবিতা লিখছি...
তাই, আমার কবিতা লেখা আজ'ই শুরু হোল।।
মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১
রাজি? ~ দুর্জয় রায়
মনের ভিতর যন্ত্রনা হয়, আগুন হৃদয়-জোড়া
লুঠ হয়ে যায় ভাতের থালা, বুলেট ছিঁড়ছে পেশী
লাল লাল চোখে সবুজ শাসানি...'কথা বলবিনা বেশী।"
জীবন-জীবিকা বিপদের মুখে, ইজ্জত রেখে বাজি
প্রতিবিম্বকে শুধাও সাথী, পাশে দাঁড়াতে কি রাজি?
সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০১১
তোর আমার হাতে... শবনম ব্যানার্জী
আরেক গোছা প্যাম্ফলেট
মুড়ির ঠোঙায় স্বপ্ন মাখা
মিশে নেই regret
বাজারের সাথে আপোষ না মানা
শিরদারা টানটান
শক্ত মুঠিতে ধরা পতাকায়
লাল তারা অম্লান
ক্যাম্পাসে রাজপথে রোজই
দেখা হয় তোর সাথে
নতুন পৃথিবী গড়া হবে
তোর আমার হাতে হাতে...
রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১১
অতি সংক্ষিপ্ত সংবাদ ও স্বাধিনতা
শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১
শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১১
পরিবর্তন আসিলো ~ সায়ন্তন চট্টোপাধ্যায়
সার্ধ-শত-বর্ষে;
বঙ্গ মজিলো মমতা-মায়ায়,
"অভূত-পূর্ব" হর্ষে।
পরম শ্রদ্ধা - শহীদ-উৎসবে,
সাংস্কৃতিক প্লাবন,
"হ্যাপি বাড্ডে টু কবিগুরু",
কামিং বাইশে শ্রাবন!
বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১
আসিল বদল ~ সায়ন্তন চট্টপাধ্যায়
যাত্রা থ্যাটার করিচি,
যেইনা আসিলো বদল, অমনি,
বামে-দের টুঁটি ধরিচি।
হাড়োয়া? সেথা তো ঘরোয়া পুলিশে,
পিটায়েছে কটা চাষা,
press-রে কইনু, বেটাচ্ছেলেরা,
আস্ত বদের বাসা!
একদা বঙ্গে, সাথে ছিলো মাও,
লাগিয়াওছিলো কাজে,
এখন তো আমি মালিক-পক্ষ,
লেজুর কি পোষা সাজে?
শুন সমগ্র বং-"জেনেগেন",
একখান কথা দামী,
সবার উপরে ডলার সত্য,
তাহার পিছনে আমি!
বি. দ্র. : স্থান-কাল-পাত্রে-র সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজিলে নিজ দায়িত্বে খুঁজিবেন... Subject to market risk!!
বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১
“এ মা, রাজা ন্যাংটা” – উলঙ্গ রাজা ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
বল্লে নাকি হুল দিবস। সেরেচে, সে আবার কি গো? মেরে মুক পরোটা করে দেবে বল্লে, শুনিচি। কিলিয়ে কাঁটাল পাকাবে, সে ও নাহয় দেকিচি। তাই বলে ভাই হুল ফোঁটাবে? তুমি কি ভাই মৌমাচি? দেকে তো মানুষ বলেই ঠাওর হচ্চে। বেশ তেল চুকচুকে, পাকা সোনা বরন। একখানা নেয়াপাতি ইয়ে ও আচে দেকচি। গায়ে কি একটা মেকেচো বলোতো? পার্ক অ্যাভেনিউ কি? না কি কি ওই যে যেটা মাকলে কয়েকটা ধিঙ্গি মতো মেয়ে দৌড়ে আসে, সেইটে? না না, হুল টুল বড্ডো খারাপ কতা। সে ছিলো মেজোতরফের লাটু কত্তা। খেঁটে একগাছা লাঠি নিয়ে কত্ত পিটিয়েচে এককালে। গনা গুন্ডাকে তো সেবার হেদো পার করে দিয়ে এলো ওই লাঠি পেটা করে। তা সে লাটু কত্তাও হুল টুল নিয়ে কাজ কারবার করেনিকো।
কি বল্লে? সাঁওতালদের হুল? ও বাবা। ওদের হুল আচে নাকি? অ সেই হুল নেই বলচো? ওরা খেপে গেচিলো গোরাদের ওপর? তা সে তো আমাদের বটঠাকুদ্দাও গোরাদের ওপর খেপেগেছিলো। খেপে গিয়ে স্বদেশী হয়ে গেল। দেশের স্বাধীনতা এনেচে। এক গোরা সায়েব বটঠাকুদ্দা কে - ইউ ইস্টুপিড বলেছিলো। সে কি রাগ। রেগে মেগে ঠাকুদ্দা চরকা কিনে আনলো স্বদেশী মেলা থেকে। সুতো কাটলো, তাই দিয়ে গামচা বুনেও ফেল্লো। সেই গামচা একটু ফাঁকফাঁক বলে অনেক কিচু দেকা যেত, কিন্তু কে শুনবে সে কতা। ওই গামচা পরেই বটঠাকুদ্দা রোজ সক্কাল বেলা পায়...।
পিটিয়েচিলো? গোরাদের? ওই সাঁওতালরা? ও বাবা। পুলিস ধরবে তো? ফাটকে দেবে। আর সে কি যে সে ফাটক? গোরাদের জেলে কেউ ঢুকলে আর বেরোয়? ভয় ডর নেই গা? তা কেন গেল এমন খেপে? ইস্টুপিড বলেচিলো নাকি? কেনো মারামারি করে বাপু বুঝিনা। চরকা কেটেও তো স্বদেশী হয়। সেটা করলেই হতো। আর গোরাদের খেপানো কি সোজা কতা? গোরার মার সইতে পারবে? পারেনি? মরে গেচিল? অনেক লোক? তা তো যাবেই। যেমন কম্ম তেমনি ফল। বেশ হয়েচে। ও, হয়নি? ওই মারামারিটাই হুল? ওইটার দিবস? তা ভালো। চাঁদা চাই? বেশি দিতে পারবোনাকো। এই সেদিন দিয়েচি। ভোটে জিতে ফিস্টি কল্লে ছেলে গুলো। বল্লে কাকু ২ কিলো রেওয়াজি মাল আর এক খাম্বা বিলিতির দাম ফেলে দিন, আর আসবোনা। তা দিলাম। আবার চাই? বেশি দিতে পারবোনাকো বলে রাকলুম হ্যাঁ।
অ, চাঁদা চাই না? তা চাই টা কি? তুমি, মানে আপনি সরকারি আপিসার? ওরে বাবা। বলেন কি স্যার ? বসুন বসুন। কি খাবেন বলুন। একটু চা বলি? খাবেন না? তাহলে একটু ঠান্ডা? আর চাচা থেকে দু খানা কাটলেট আনাই? ওরে... কে আচিস? না না স্যার, না বল্লে শুনচি না। এ বাড়ি থেকে শুদু মুকে কেউ কখনো যায়নি। আগে একটু ঠান্ডা হোন। ওরে, ও জহর, পাকা টা জোরে করে দে না বাবা। দেকচিস নে, স্যারের মুক খানা লাল হয়ে গেচে গরমে। এ পাকা টা স্যার আমার জ্যাটামশায় কিনেচিলেন অকশনে। খাঁটি বিলিতি। কেবল একটু অয়েলিং করানো হয়নি অনেক দিন। আপনি ভালো করে উঠে বসুন স্যার। পা তুলে দিন।
ও কে ডাকবো? জহর কে? ও তো আমার চাকর। বহুকাল আচে এবাড়ি। ওর বাপ দাদারাও ছিলো। বাড়ি? তা থাকে তো এখানেই। মানে, দেশ আচে একটা। ওই পুরুলিয়ার ওদিকে কোতায় যেন। কিচু পবলেম নাকি স্যার? আমি ছাপোষা গেরস্ত মানুষ। ধনেপ্রানে মারা যাবো স্যার। না মানে, ওর নাম ই তো জহর। ডহর? না না, ডহর না স্যার। পদবি? ওর পদবি কি আর মনে রেকিচি আমি স্যার? ও মামনি, দেখ না মা, জহরের পদবি কি? স্যার জিজ্ঞেস করচেন। কি বললি? দাস? জহর দাস? ও, তা হবে। ডহর? না স্যার ডহর বলে তো কাউকে চিনি না। শুনিনি। ওই হুল এর একটা সাঁওতাল নেতা? একটা না? তিনটে নেতা? সিদো, কানহো আর ডহর? তিনজনেই শহিদ হয়েচিলো? বলেন কি স্যার? সে তো আমাদের বিনয় বাদল দিনেশের মতো ব্যাপার। ভারি সাহস তো। ও আপনি সেই ডহর বাবুর পরিবারের লোকজন কে খুঁজছেন? তারা কি স্যার কিচু পাবে সরকারের থেকে? আমাদের জহরের পদবি টা দাস কিনা একটু দেকে বলবো স্যার। বলা তো জায়না, হয়তো ও ই ডহর। যদি হয় , একটু মনে রাকবেন স্যার। আমার নামটা, ওই যে ওকেনে দরজায় লেকা। খাঁটি পেতলের নেমপ্লেট স্যার।
এখন তো ছোট পরিবার স্যার। আমার গিন্নি আচেন, আর এই টি আমার কন্যা। নাম বলো মা। কি বললে মামনি? ডহর মানে রাস্তা? না না, শুনলে না স্যার কি বলচেন? ডহর একজন মহাবীর শহীদ। হুল করেচেন। ওই যে শোন, স্যার কি বলচেন। আমাদের মুক্কুমন্ত্রী ও বলেচেন। ডহরের কতা। তাই তো আমাদের স্যারের মতো সরকারি আপিসার রা ডহর বাবুর পরিবার কে খুঁজচেন। না না স্যার। ওর কতায় কান দেবেন না। বাচ্চা মেয়ে, কি বলতে কি বলেচে, তার ঠিক নেই। বলে কিনা, সিদো কানহোর নামে রাস্তা বলে ওটার নাম সিদো কানহো ডহর। ডহর মানে নাকি রাস্তা। আজকাল ইস্কুলে কিচ্চু সেকায় না স্যার। আমাদের শিক্কা-দিক্কা শেষ করে দিয়ে গেচে সব। আপনি ভাববেন না স্যার।ডহর বাবুর কোনো খবর পেলেই আপনাকে দিয়ে আসবো আমি নিজে গিয়ে। শুদু যদি কোন পুরস্কারের ব্যাপার থাকে, একটু দেকবেন স্যার।
রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১
খেরোর খাতা ~ অবিন দত্তগুপ্ত
"কখনো সময় আসে জীবন মুচকি হাসে/ঠিক যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা"
মাঝে মাঝে এমনটা হয়।ফেলে আসা কোনো কিছু ফিরে পেতে ইচ্ছে করে।অনেক দিন না ছোয়া কোনো পুরোনো ভালোলাগাকে ছঁুয়ে দেখতে ইচ্ছা করে।আমার ক্ষেত্রে এই ইচ্ছেগুলো মূলত দিনান্তের ক্লান্তির পর আমায় জুড়ে বসে।
আজ সেরকমই একদিন।সারাদিনের ক্লেদ সঞ্চনের শেষে আজ হঠাৎই সেই পেছন ফেরার ক্যারাটা মাথার ভেতর তাণ্ডব নেত্ত আরম্ভ করলো।এখন সমস্যা হলো এাই যে এই নির্বাসনা,যেখানে আমার জামা-জুতো আর দু চারটে বই ছাড়া নিজস্ব বলতে কিছুই নেই,সেখানে "পুরানো" পাই কোথায়।হঠাৎ চোে পড়লো একটা ধুলো মাখা লাল ডায়েরি।কোনো কোনো শীতের সকালে কুয়াশাঢাকা সমস্ত কিছু নিজের বড় নিের বলে মনে হয়;তেমনি ওই ডায়েরিটা -- আড়াই বছরের নির্বাসনে যার উপর কোনোদিন
ও চোখ পড়েনি,ওকেই বড্ডো আদরের মনে হলো।হাতে তুলে নিলাম।
পাতা ওল্টাতে গিয়ে প্রথমেই লক্ষ্য করলাম অনেকগুলো পেজ স্টেপল করা।তারপর বাবার হাতের লেখা।আর কি লেখা তাতে - না কোন অসুখের জন্য ঠিক কোন ওষুধটা খাওয়া উচিত। বাঁদরের থেকে উদ্ভুত প্রজাতি আমরা,সুতরাং বাঁদরেরই মতো অকারণ অনুসন্ধিৎসা শিরায় শিরায়।ছিঁড়ে ফেল্লাম স্টেপল করা পেজগুলো।
লেখা রয়েছে ;
পূজা ২০০৪
২০/০৯;
--------
গুড্ডুর প্যান্ট -> ৬৫০
গুড্ডুর টি-শার্ট-> ০২৫০
গুড্ডুর শার্ট -> ৩৫০
গুড্ডুর (ইনার্স) -> ৪০
শাড়ি বাবদ নাড়ুকে (ফার্স্ট ইনস্টলমেন্ট) -> ৩০০০
মাতৃবস্ত্রালয় (তুতুন) -> ১৫০০
মায়ের শাড়ি -> ৫০০
বাবার ফতুয়া + লুঙ্গি -> ০৩৫০
.
.
.
সোনালি রেস্টুরেন্ট -> ৭৫
বাসফেয়ার -> ২০
রিক্সা -> ৫
বেশ কিছুদূর পরে এসে পুজোর দিনের খরচগুলো পড়লাম।অক্ষরে অক্ষরে তুলে দিচ্ছি
০৬/১০/০৪ (আজ সপ্তমী)
--------------
১.রিক্সা -> ২৪.০০
২.বাস ->৫.০০
৩.মিষ্টি -> ৫৩.০০
০৭/১০/০৪ (আজ অষ্টমী)
--------------
১.কাগজ ->৩.০০
২.সিগারেট ->২২.০০
৩.মাংস ->১২০
৪.মদ ->২০০
৫.গুড্ডু ->৫০
৬.গুড্ডু (ওর মাকে দেওয়া ও জানেনা) -> ২০০
এরপর আরো অনেক অনেক।
পড়তে পড়তে ফিরে গেছিলাম আমাদের পুরানো দিনগুলিতে।পোদদার-পার্কের দু কামরার ঘর।দাদু-ঠামি একটায় আর আমরা তিনজন আরেকটায়।সত্য যুগ থেকে কাঠের দরজায় লাগানো 'U'শেপের ছিটকিনিটা তখনো বিশ্বস্ত।অফিস ফেরতা বাবা পকেটের আধুলি-চারআনা-একটাকা গুলোকে ক্যামেরার ফিল্মের কৌটোয় ভরে রাখতো।আর ওই ফিল্মের কৌটোগুলোকেই পাখির চোখ করতাম-আমি..বাপের সুপুত্র।তখন প্রেম চলছিল যে!বাড়ি থেকে ফোন করা মানা সুতরাং পাবলিক বুথ।প্রচুর
কয়েনের দক্কার।
কিন্তু সব ছাপিয়ে মনে পড়ে যায় ওই েমে নেয়ে আসা মানুষটার একা ডায়েরিতে নিত্য দিনের হিষেব লিখে রাখার ঘটনাটা।আমি ছোটবেলায় মাকে জিগ্যেস করেছি " মা...বাবা অত কি লেখে?". মা হেসে উত্তর দিয়েছিলো " আগে বিতা লিখতো,স্বপ্ন লিখতো....এখন খেরোর খাতা"
স্বচক্ষে কোনোদিনও সেই মহামূল্যবান খাতাটি দেখে উঠতে পারিনি।সব সময়েই তা রেখে দেওয়া হয়েছিল,আমার চোখের আড়ালে।আজ দেখতে দেখতে অনেক কথা স্বচ্ছ হলো।প্রতিদিন বাঁচতে গিয়ে রোজ দুপুরের স্বপ্নগুলো কেন হারিয়ে যাচ্ছে,বুঝতে পারিনি.............বুঝলাম।মাসের শেষে গোল্ড ফ্লেক যখন শুধুই ফ্লেক হয়ে গেছে তখন কপালে হাত দিয়ে ভেবেছি " কি বাজে খরচাটাই না করলাম!!"।বুঝলাম..আমার কোনো হিষেবই ছিল না।আসলে আমরা বেহিষেবির মতো খরচা করেছি এমন অনেক কিছু..যা কিভাবে পেয়েছি,খরচের ব্যস্ততায় তা মনে রাখার প্রয়োজন-ও বোধ করিনি।একটা দুটাকার নোট বাঁচানোর জন্য যে লোকটা পিচের রাস্তায় রীতিমতো ডাইভ মেরেছিলো.....তাররি সন্তান,তার "সব পেয়েছি" সন্তান অবলীলায় হারাতে পারে মোবাইল,মূল্যবোধ,প্রেম,সম্পর্ক্য..........
বাবার হাতের লেখায় ডুবে যাছ্ছিলাম।খেরোর খাতাও-যে এত্তো রোম্যান্টিক হতে পারে,এমন ধারণা ছিলনা! ডুবতে ডুবতে হিষেব করলাম নিজের জীবনে 'চোদ্দ আনা' স্বপ্নকে নিলাম তুলে দিয়ে ভদ্রলোক খরিদ করেছেন তার সন্তানের দু-আনা বেঁচে থাকা।
বড্ড বেহিষেবি বাবা আমার
বুধবার, ২২ জুন, ২০১১
গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাই আজ সবচেয়ে বড় চ্যাতলেঞ্জ ~ অজয় দাশগুপ্ত
শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১১
উন্নয়ন ও রোবোকপ ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
ঢাকের বাদ্যি বাজতে এখনো অনেক দেরি। সবে জষ্টি মাসের শেষ। বঙ্গে পরিবর্তনের বায়ু বেশ দ্রুতগতিতেই বইছেন (এবং চারমূর্তির সেই ভাল্লুকের মতন টপাটপ মানুষ ও গিলছেন)। বাংলায় ভোটপর্ব চুকতে, আমরা আইপিএল নিয়ে কয়েকদিন লাফালাফি করলাম। কিন্তু কোলকাতার দল ইয়ের মতো পরপর দু খানা খেলায় হেরে প্রতিযোগিতার বাইরে চলে গেল। কয়েক দিন হাসপাতাল সুপার এর বরখাস্ত, অস্ত্র উদ্ধার, রেজ্জাক মোল্লার গোলা বর্ষন, রামদেব নিয়ে হইচই করলাম। কিন্তু কোনটাই ঠিক জমলো না। অগত্যা উত্তেজনায় ইতি। ওদিকে দার্জিলিং সমস্যার ও সমাধান হয়ে গেল একটা সই দিয়ে। মাওবাদীরাও শুনছি নাকি দন্ডকারন্যে ফিরে গেছে। কিষেনজির টিআরপি পড়তির দিকে।
তেমন জমকালো ব্রেকিং নিউজ না থাকলে যা হয়, লোকে বাধ্য হয়ে খবরের কাগজে প্রথম পাতায় "ভারতে সর্বাধিক প্রচারিত প্রথম শ্রেনীর বাংলা দৈনিক" থেকে শেষ "প্রফুল্ল সরকার স্ট্রীট থেকে অভিক কুমার সরকার দ্বারা প্রকাশিত" অবধি পড়ে। পড়তে গিয়ে দেখি, ব্রেকিং নিউজ ছাড়াও দেশে অনেক কিছু ঘটে। বিভিন্ন রাজ্যে চাষি রা কেমন মারমুখি হয়ে উঠেছে। উত্তর প্রদেশে তো মার মার – কাট কাট হয়ে গেল, মায় আমাদের বীরভূমে পর্যন্ত দেখলাম চাষিরা জমির দখল নিয়েছে। হ্যাঁ, এই পরিবর্তনের হাওয়াতেও। তা এমন করলে তো মহা মুশকিল। কাগজ পড়তে গিয়ে চোখে পড়লো যে সেজ বা এস ই জেড (মার্কিনি এস ই জি) থেকে এবারে আর এক ধাপ এগিয়ে এন আই এম জেড তৈরি করা হবে। সেটা কি?
একটা মৌচাক বলতে পারেন। অনেক গুলো এস ই জেড একটা ঘেরাটোপের মধ্যে গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে উৎপাদনের জায়গা, শ্রমিক আবাসন, স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা ঘাট বাজার দোকান সমেত একখানা গোটা শহর। শুধু তফাত হলো, শহরের মতো থাকবে না কোন পৌরসভা। সবকিছুই থাকবে সেখানে যে সব কর্পোরেট সংস্থা থাকবেন, তাঁদের হাতে। তাঁরাই পরিষেবা দেবেন, রাস্তা ঘাট তৈরি করে দেবেন, স্কুল কলেজ বানিয়ে দেবেন। পড়ে বেশ লাগলো। নো পৌরসভা, নো ঘুঘুর বাসা, নো দুর্নীতি। কিছু লাগলে কর্পোরেট গুলো তৈরি করে দেবে। ঠিক সেই রোবোকপ ছবির মতো। রোবোকপ দেখেছেন তো? একটা বিরাট বড় কোম্পানি, ডেট্রয়েট শহর কে কিনে নিলো। পরিকল্পনা হলো, পুরনো শহরটা ভেঙ্গেচুরে নতুন আধুনিক একটা শহর তৈরি করবে তারা। নাম হবে ডেল্টা সিটি। সেই শহরের পুরো পরিচালন ব্যবস্থাই তাদের হাতে। এমন কি পুলিশ পর্যন্ত। লোকজনের বাড়ি ভেঙেচুরে তারা উদবাস্তু দের ব্যারাক বাড়িতে ঢোকালো। অনেক টা নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মত ব্যাবস্থা পত্র সেখানে। লোকে প্রতিবাদ করতে গেলো, খেলো গুলি। অবশ্য শেষে রোবোকপ (রোবট পুলিস, একটা মানবিক হৃদয় সমেত, সে ই এই গল্পের সুপার হিরো ) সমেত পুলিশ বাহিনি বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে কর্পোরেট এর কত্তা দের পিটিয়ে তক্তা করে দিলো। হ্যাপি এনড।
এক কর্পোরেট কত্তা বলেছেন, টেরিটোরিয়াল আর্মি গুলোকেও কর্পোরেটের হাতে তুলে দিতে। রনবীর সেনা, সানলাইট সেনা রা এবারে কর্পোরেট পালিশ পাবে, আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র ও সরকারি অনুমোদন সমেত। এস ই জেড এর ভেতরে এমনিতেই সরকারি শ্রম আইন চলেনা। এন আই এম জেডের ভেতরেও চলবে এমন কোনো লক্ষন তো দেখছি না। সেখানে, কর্পোরেট কত্তারা যা বলবেন সেটাই আইন। শুনতে হবে এনাদের কথা। না শুনলে উড়ে পুলিস এসে একুশ দফা হাঁচিয়ে মারতে পারে। তবে সব পুলিস তো উড়ে নয়। তারা কি ভাবে মারবে তার নিশ্চয়তা নেই। গোটা দেশে টুকরো টুকরো এন আই এম জেড। খন্ড বিখন্ড ভারতবর্ষে কর্পোরেট হাউসের নিজস্ব খাশতালুক। সেখানে আইন চলেনা দেশের। মানুষের হাতে ক্ষমতা নেই সেখানে। মানুষের কন্ঠস্বর নেই। আছে শুধু কর্পোরেটের অঙুলিহেলন, আর আছে লক্ষ লক্ষ মূক সেবাদাস। দেশের মানুষ লড়াই করে নিজের হাতে ক্ষমতা এনেছে। পঞ্চায়েত হয়েছে, নগরপালিকা এসেছে। আজ সেই সব কিছুকে বেচে দেওয়া হচ্ছে বানিয়ার হাতে। আবার সেই বনিকের মানদন্ড। সাধু সাবধান।
দেশকে টুকরো টুকরো করে বেচে দেওয়ার পরিকল্পনা। সংসদে বিল পাশ করিয়ে, আরো বেশি করে দেশের দরজা বানিয়াদের কাছে খুলে দিতে গেলে এখনো কিছু বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সংখ্যায় খুব কমে গেলেও লাল ঝান্ডাধারীরা এখনো প্রানপনে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলায় তো তাদের কাবু করাই গেছে দিদিমনি কে দিয়ে। কিন্তু তার পরেও নয়ডার প্রতিরোধ হচ্ছে। বীরভুমে চাষীরা বেয়াড়া হয়ে উঠছে। তাই, টুকরো করে বেচো। মানুষ কে ভাগ করে দাও। একদল পরিনত হোক কর্পোরেটের ঘেরাটোপের মধ্যে থাকা সেবাদাসে। যদি বেয়াড়াপনা করে, তার জন্য কর্পোরেট সানলাইট সেনারা তো রয়েইছে। আর রোবোকপ? সিনেমায় সে ছিলো। আর ছিলো তার বিবেক। বাস্তবে কি সে থাকবে? আর অন্য দল পড়ে থাক মাঠে ময়দানে। বেওয়ারিশের মত। বেওয়ারিশ, কারন তারা নিজের অর্জিত অধিকার কে রক্ষা করার , সেই জন্য লড়াইয়ের উত্তরাধিকার কে বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি। তাই বেওয়ারিশ। হয়ত বেওয়ারিশ কুকুর ধরা গাড়ির মত একদিন বেওয়ারিশ মানুষ ধরা গাড়ি ও আসবে। যেমন নাৎসিরা আনতো। তবে এখনো হয়ত অল্প সময় বাকি আছে। প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধের সময় এটা। প্রতিরোধ করুন এদের। না হলে একদিন ওই মূক সেবাদাস অথবা বেওয়ারিশ হবার জন্য তৈরি হোন।
বুধবার, ১৮ মে, ২০১১
স্বপ্ন ~ সোমনাথ চট্টপাধ্যায়
- বেশ হয়েছে
- কি হয়েছে দাদু?
- এই যে, পরিবর্তন
- সে কি দাদু? তুমি না স্বাধীনতার আগে থেকে দলের সদস্য? ভগত সিং এর সঙ্গে ছিলে? এত বছর জেল খাটলে?
- তাই তো বলছি, বেশ হয়েছে।
- বামপন্থীরা সরকার থেকে সরে গেল আর বেশ হলো?
- কার সরকার?
- কেন? বামপন্থী দের। মানুষ ই তো নির্বাচিত করেছিল।
- তা তারা আবার নির্বাচিত করলনা কেন?
- ভুল বুঝলো, ভুল বোঝালো, বামফ্রণ্ট সরকারের কিছু জায়গায় মানুষকে বোঝানো উচিত ছিলো আরো।
- ভুল বোঝাতেই বুঝে গেলো? ভারি বুঝদার তো মানুষ !!
- না না, সংবাদ মাধ্যমের প্রচার, ভুল ভাষ্য, বিদেশী শক্তি, সবই আছে এর মধ্যে। মানুষ বিভ্রান্ত।
- তা বামপন্থীরা ঠিক টা বোঝালোনা কেন?তারা তো ঠিক টা বোঝে
- আসলে, সিঙ্গুর – নন্দীগ্রাম নিয়ে লোকে বড্ড উত্তেজিত ছিল। মুখ্যমন্ত্রি বললেন যে জোর করে জমি নেওয়া হবে না নন্দীগ্রামে। তাও ওখানে বিরোধী শক্তি কিছু নৈরাজ্যবাদী আর সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে মানুষ খেপালো। প্রশাসন কে ঢুকতে দিলো না। তাই পুলিশ দিয়ে ঢুকতে হলো।
- মুখ্যমন্ত্রি গেলেন না কেন? তিনি তো ভালো মানুষ। আর নন্দীগ্রামের আগে ওনাকে লোকে রক্তখেকো টেকো বলার সুযোগ পায়নি।
- কি করে যাবেন? যদি পাবলিক খেপে গিয়ে গনধোলাই দেয়?
- জ্যোতি তখন যুক্তফ্রন্টের পুলিশ মন্ত্রি। একবার পুলিশ খেপে গিয়ে বিধান সভায় বন্দুক সমেত ওর ঘরের সামনে এসে গিয়েছিলো ওকে মারবে বলে। জ্যোতি ঘরের বাইরে এসে বললো, "কই , কে মারবে আমাকে, সামনে এস দেখি"। ব্যাস, দু মিনিটে সব হাওয়া।
- সব নেতাই আলাদা। এক এক জন এক এক রকম।
- বাকি লোক জন কি করে গেলো? বুদ্ধিজীবিরা তো গেছিল। ওদের সঙ্গে তো বুদ্ধ বাবুর ভালই জমতো। ওদের সঙ্গে নিয়েই যেতে পারতেন। ওখানে ওদের সঙ্গে বসে, অভিমান মিটিয়ে, একটা মঞ্চে উঠে আন্দোলন কে স্বীকৃতি দিয়ে চলে আসতেন। মানুষ বুঝতো, তারা না চাইলে কারখানা হবে না, আর এটাও বুঝতো, চাইলে কারখানা হবে। সিঙ্গুরে লোকজন এই দেখে ভরসা পেতো। হোর্ডিং দিয়ে লিখতে হতো না "আমার সরকার আমার পাশে"।
- তা পারতেন। সে কাসুন্দি এখন ঘেঁটে আর কি হবে? সিঙ্গুরে কিন্তু উলটো। এখানে মিডিয়া কিছুটা সমর্থন করেছিলো। হাজার হোক টাটা কোম্পানি।
- সমর্থন যখন ছিলো, তখন শক্তি প্রয়োগ করে দিদি কে গ্রেফতার করতেই পারতো। ২১ শে জুলাই তো গুলি চালিয়ে কংগ্রেসী গুণ্ডা দের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছিলো। সরকার পড়েছিলো কি?
- তাহলে আগুন জ্বলতো।
- আগুন কি জ্বললো না? দুর্বল শাসক কে কে দেখতে চায়? রাহুলকে মায়াবতী গ্রেফতার করেনি?
- এখন তো আর কিছু করার নেই। এখন তো সরকার আর নেই। এখন বামপন্থীরা বিরোধী।
- কার বিরোধী?
- কেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের।
- সরকারটা কার?
- কেন? তৃনমূল আর কংগ্রেস জোটের। যাদের ভোট দিয়ে মানুষ নির্বাচিত করলো।
- তাহলে তাদের বিরোধীতা মানে তো বেশীর ভাগ মানুষের পছন্দের বিরোধীতা
- আ মোলো যা, তা হবে কেন? তুমি দাদু আজকের ভাষায় পুরো গাঁট পাবলিক। আরে বাবা, এরা আদতে দক্ষিনপন্থী, আধা ফ্যাসিস্ট, সেটা তো বোঝো? এদের আদর্শের বিরোধী আমরা। মানুষের বিরোধীতা কেন করবো?
- কিন্তু এরা তো বললো "মা-মাটি-মানুষ"। যেটা আসলে বামপন্থী স্লোগান।
- সেটা এদের মুখোশ, মেকি স্লোগান। এটা চলবে না বেশীদিন। এদের স্বরূপ উদঘাটিত হবে কয়েক দিনেই।
- তারপর? ২০১৬ তে অস্টম বামফ্রণ্ট? সে তো ১৯৭৭ সালেও শুনেছিলাম। অল্প দিনেই এই সরকার পড়বে। টিঁকে গেলো ৩৪ বছর। মানে ওরা ভুল করলে তবেই সরকার পড়বে, না হলে নয়?
- তা কেন? বামপন্থী রা মানুষের কাছে যাবে, তাদের কাজ নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে। মানব বন্ধু সরকার একমাত্র বামপন্থীরাই গড়তে পারে।
- সে তো আগেও গেছে। হারলো কেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকার আসলে তো ভারত সরকারের একটা অংশ। সে সরকার কে তো পুঁজিবাদী, বুর্জোয়া, সাম্রাজ্যবাদী বলেই জানি। সেই সরকারের একটা অংশ মানে, তার মধ্যেও এই সব ব্যাপারের কিছুটা চরিত্র থেকে যাবেই। যেমন পুলিশ, বা আমলাতন্ত্র। এগুলই তো উদাহরন যে বামফ্রন্ট সরকারের মধ্যে কি চরিত্রের সব লোকজন ছিলো। চাকরি থেকে অবসর নিয়েই তৃনমুলের হয়ে ভোটে নেমে গেলো।
- তা ঠিক।
- এই সরকারে ৩৪ টা বছর। পার্টির বামপন্থী চরিত্রে কিছু ভেজাল ঢোকেনি?
- সেটাও নাহয় মেনে নিলাম। কিন্তু তাই বলে তৃনমূল?
- নিরুপম সেন একটা বই লিখলেন বিকল্পের সন্ধানে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে থেকে, একটা অঙ্গরাজ্যের বামপন্থী দের মানব কল্যানের চেষ্টা। ভালো লেখা। যুক্তি আছে অনেক। যদিও এ হ লো আরো ১৫ বছর আগেকার পরিকল্পিত শিল্পায়ন নীতির ব্যাখ্যা। সে গুলো করেছিলো জ্যোতি, পরে সপ্তম বামফ্রন্টের আগে অনিল বিশ্বাস এই শিল্পায়নের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু, যদি সেই পুঁজিবাদকেই মেনে নিয়ে থাকতে হবে, তাহলে পুঁজিবাদীদেরই ক্ষমতায় বসাই। বামপন্থীদের কেন বসাবো?
- কিন্তু মানুষের ভোট তো ওরা পেলো বামপন্থী স্লোগান দিয়ে।
- সেটা তো আরো হাস্যকর। স্লোগান চুরি। কেন? বামপন্থীদের কেউ স্লোগান দিতে বারন করেছিলো বুঝি? আজকাল গনসঙ্গীত বাজেনা, আন্তর্জাতিকের কথা বাদ ই দিলাম না হয়।
- আরে, পার্টি তো স্থানীয় হিসেব নিকেস করে বুঝতেই পেরেছিল যে লোকে খেপছে। কিন্তু তাই বলে তো নিজের সরকারের বিরোধিতা করতে পারে না।
- কোন সরকার? সে সরকারের কথা আর চরিত্র নিয়ে তো এখুনি বললাম। পশ্চিম বাংলায় সমাজ তন্ত্র, গুজরাটে পুঁজিবাদ, এরকম হয় নাকি? সরকার থেকে পার্টি কে আলাদা করা যায় না? সরকার নাহয় শাষক, পার্টি তো মানুষের।
- পার্টি নিজের সরকারের বিরোধিতা করবে? তাজ্জব।
- একটা পপুলার ফ্রণ্ট করুক। যেখানে কম্যুনিস্ট রা নেতৃত্ব দেবে। যে ফ্রন্ট ভোটে দাঁড়াবে। পার্টি সরাসরি ভোট থেকে সরুক। শ্রেনী ভিত্তিক আন্দোলন এবং রাজনীতি করুক। এতে করে সরকারের বিরোধীতা করতেও অসুবিধে থাকবে না। যেমন ছাত্র, যুব, শ্রমীক, কৃষক এবং মহিলাদের গনসংগঠন, তেমনই, ফ্রন্ট হোক নির্বাচন এবং সরকার চালানোর জন্য একটা অস্ত্র। পূঁজিবাদের ক্লেদ তাহলে পার্টির গায়ে সরাসরি লাগবে না। আর তা ছাড়া অন্য বাম শক্তি যারা সিপিআই(এম) এর জন্য বামফ্রন্ট থেকে দূরে, তারাও হয়তো পপুলার ফ্রন্টে প্রতিনিধি পাঠাবে। আর কম্যুনিস্ট ছাড়াও অন্যরা আসতে পারবে।
- মানে আর একটা পার্টি?
- না না, পার্টি না। পার্টি মানে ভোট নয়। এটা একটা ফ্রন্ট, ভোট এবং রাজ্য শাষনের জন্য। পার্টি থাকুক পার্টির জায়গায়। যখন ই দেখবে, ফ্রন্টের মধ্যে বিচ্যুতি, পার্টি তাকে লাগাম দেবে। দরকার হলে আন্দোলন করবে। যেখানে যা যা বিক্ষোভ, সেগুলো পার্টি ধরে নেবে এবং আন্দোলন পরিচালনা করবে। অন্য শক্তি কে পা রাখতে দেবে না।
- দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাদের লোকাল কমিটি কোথায় যাবে? আর আমাদের শাখা সম্পাদক সমর দা? পার্টি তে? না ফ্রন্টে? এই দুটোয় মারামারি হলে?
- সমর তো গ্রীলের কারখানায় কাজ করে। বাড়ি বাড়ি গনশক্তি দেয়। পার্টি টা তো ওদেরই জন্য। ফ্রণ্টটা না। আর ফ্রন্টে পার্টি তে কামড়াকামড়িটাই ভালো। এটাই দরকার। না হলে লোকে বলবে পার্টি সরকারের দালালি করছে।
- কিন্তু এসব তো স্রেফ ধারনা। সত্যি তে তো এমন হতে পারেনা। পার্টি সরকারে নিজের স্থান ছাড়তে রাজি হবে কেন?
- কেন হবে না? না হলে জোর করে লোকে ছাড়িয়ে দেবে। এই তো দিলো। দিলো না?
- তা দিলো। তবে সেই অর্থে তো পার্টী এখনই সেরকম ভাবে কাজ শুরু করতে পারে।
- সে তো পারেই। এখান থেকেই শুরু করা যাক। পার্টি থাকুক মানুষের সঙ্গে।
- তা হলে তো পার্টির ক্ষমতায় থাকা না থাকা টা কোন ব্যাপারই না।
- ব্যাপার তো নয়ই। পার্টি পার্টির কাজ করেই যাবে। এটাই কাজ। এই ভাবেই একদিন গোটা দেশে বাম আন্দোলন কে নিয়ে যেতে হবে। হতাশার কোন জায়গাই নেই।
এই সময় আবার পরিবর্তন এলো। কর্কশ আওয়াজে তরল অবস্থা টা বায়বীয় হয়ে উবে গেল। ভোর পাঁচটা বাজলো। উঠে পড়তে হবে। নতুন দিন। পরিবর্তন এসেছে। জীর্ন পুরাতন ভেঙ্গে যাক। অনেক কাজ সামনে। অনেক কাজ আমাদের।
[আমার দাদু অবিভক্ত কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন স্বাধীনতার আগে থেকে। শ্রদ্ধেয় জ্যোতি বসু তখন সেখানকার সম্পাদক। বয়সে একটু ছোট বলে, দাদু জ্যোতি বলে ডাকতেন। আমি শুধু দাদুর মুখে সম্বোধন টুকু বসিয়েছি।]
মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০১১
মৃত্যুর মিছিলে লেখা থাক আমারও নাম..
নিজেই লিখলাম।
ঘরের কোনে একটা লাল রঙ এর পতাকা,
খেলার ছলে,
ছোট দু হাতে অজান্তেই উঠে এসেছিল।
কাঁধে নিয়ে পাড়ায় ঘুরতাম,
নিলয় আমার সঙ্গী।
কেউ কেউ ভয় দেখাতো, 'ওটা ধরিস না..
ওই যে খেলার মাঠের কোনে
লাল বেদি,ওই তোর মিন্টু মামা।'
চোখ থেকে জল ঝরেনি,
যতবার আয়নায় মুখ রেখেছি,দেখেছি জ্বলন্ত প্রত্যয়।
শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরেছি,লাল নিশান,
আমার পাড়া তুত মিন্টু মামা।
আমার ঝাণ্ডা সঙ্গী নিলয়,
বারান্দায় বসে কাঁদছে দেখি একদিন…খিদে পেয়েছে।
কাকুর কাজটা চলে গেছে,
ওই লাল নিশান ধরার অপরাধে।
আকাশের তারারা সাক্ষী, শহীদ বেদির দিব্যি,
সব ফোঁটা, মাটি কে লাল করলেও,
ঝাণ্ডা ধরা থাকবে হাত।
স্থবির শরীর মুড়ে দিস কমরেড, ওই পাতাকায়…
মৃত্যুর মিছিলে লেখা হোক আমারও নাম।।
রবিবার, ১ মে, ২০১১
শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১১
বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১১
আপনাকে বলছি স্যার ~ অনামিকা মিত্র
বেশ ঝেড়েছেন... ঠিক করেছেন... হৃদয়ে ধকধক
আপনি বললে সান্ত্বনা পায়। আপনি জানেন আজও
শঙ্খ ঘোষের বাক্য মানেই বাজো স্বদেশ... বাজো!
সময়টাও কী সাংঘাতিক! বিন্দুমাত্র দেরি
করলে পরেই... নোঙর তুলবে নির্বাচনের ফেরি।
এমন সময় দেরি মানে কয়েক লক্ষ ভোট,
এ'দিক ও'দিক। দেরি মানেই প্রচণ্ড সঙ্কট।
বুদ্ধিজীবির দায়িত্ব তো অল্পটি নয় স্যার!
আপনি জানেন এমন সুযোগ মেলেনা বারবার।
বুদ্ধও যে নিন্দা করবে, করবে প্রতিবাদ
ঠিক জানতেন, সত্যি না স্যার? কোন কায়দায় বাদ
দেবেন তাকে? তার চাইতে অপেক্ষা না করে
মুখ মুখোসের কাব্যচিত্র কুশলী অক্ষরে,
বলতে পারলে লক্ষ্যসিদ্ধি, পাবেন ফোটোসেশন।
হয়তো কয়েক বছর বাদে মেট্রোরেলের স্টেশন...
সেটাও পাবেন। সেই প্রাপ্তি মোটেও নয় ফেলনা।
কিন্তু কিছু বোকা মানুষ... যাদের ভাবেন খেলনা
বোকার মতই তারা সবাই ভাবছে এ'টা ভান।
নইলে একই অসভ্যতা করেছে কল্যান...
তখন ছিলেন বিসদৃশরকম ভাবে... চুপ।
ভাবছে সবাই... আপনি কেন এমন বহুরূপ!
বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১১
শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১১
শেষ লড়াই ~ অনির্বাণ মাইতি
জঙ্গল ফেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস
...লাল কাঁকড়ের বুকে জমে থাকা ঋণ
শাল পিয়ালের জন্য নতুন দিন
রক্ত নিশান আবার উড়িয়ে দে না
ট্রিগারে আঙ্গুল মুচলেকা চাইবে না।
লাল মাটি আরও লাল কবে হবে বল ?
বীরসার দেশে বিপ্লব ই সম্বল
শক্ত চোয়াল , কালো পেশীদের ভিড়
গুলি বন্দুক, রুখে দিতে পারে তীর
পতাকায় মুছি সময়ের যন্ত্রণা
হাতে রাইফেল মুচলেকা চাইবে না
আবার নতুন লড়াই শুরুর বেলা
জীবনের সাথে রোজ কানামাছি খেলা
চলো কমরেড আবারো সেদিন গুনি
এদেশের বুকে রণ দুন্দুভি শুনি
থুতু ছুঁড়ে বলি মানছি না, মানবো না
কেন রাষ্ট্রের কাছে মুচলেকা চাইবো না?
স্বপন কোলেকে মনে রেখে ~ সুভাশিস
স্বপ্নটাকে পারবি?
যতই মারিস বাড়বে মিছিল
মার কত মার মারবি।
রক্তে ভেজা নিথর দেহ
অভিজিত আজ শুধুই লাশ,
ভয় দেখিয়ে ঘার বেঁকিয়ে
রাজ্য জুরে শুধুই ত্রাস।
যতই করিস শব সাধনা
মিছেই হাঁকিস হাজার বার,
বুকে আগুন হয়ে জ্বলছে সবার
সায়ন্তিকার অঙ্গিকার।
আমরাও আজ তৈরী আছি
কলম হাতুরি কাস্তেতে,
মানুষই তোদের জবাব দেবে
এগারোয় ভোট বাক্সেতে। ।
শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১১
মানুষ ~ অনামিকা মিত্র
বসেই আছে শুকনো চোখে
কখন ফেরে খোকা।
তোমরা চেনো তা'কে।
জানো সে খুব অন্ধকারেও
সূর্য জ্বেলে রাখে।
সূর্য কোথায়?... মনে।
ভয় মেঘের আড়াল থেকে
ওঠে এতক্ষণে।
ভয় কীসের? কাকে?
ভাই বন্ধু যার বুলেটে
রক্তে শুয়ে থাকে।
ভয় কীসের? কাকে?
যে হানাদার আগুন জ্বেলে
পুড়িয়ে মারে মাকে।
ভয় কীসের? কাকে?
যার মুখোস চোখ রাঙায়
প্রতি কথার ফাঁকে।
মানুষই ভয় তাড়ায়।
রাতপাহারা চলতে থাকে
ছন্নছাড়া পাড়ায়।
মানুষ বড় জেদী।
ভালোবাসার ফুলে সাজায়
ভাঙা শহিদ বেদী!
প্রতিভা ~ অনামিকা মিত্র
অঙ্কন শেখা শুভাদার কাছ থেকে
আমার বেলায় বাঁকা হাসি? অবহেলা?
রবিঠাকুরওতো এঁকেছে প্রচুর ছবি
কোনও আপত্তি করিসনি তার বেলা।
রবিঠাকুরেরই মতন লিখেছি বই।
বেশি নয় ঠিকই, দুইচার খানা কম
নোবেল পাইনি। পাব না বলেছে কেউ?
পোড়ালেও হয় দিব্যি দুধ গরম।
গান জানি, জানি বাজাতে সরগরম।
সুর ভুল? সে'তো লতা মঙ্গেশকরও
প্রথম প্রথম নার্ভাস হয়ে গিয়ে...
শুধু শুধু একা আমাকেই কেন ধরো?
আরও নানাবিধ প্রতিভা রয়েছে হাতে।
জলের মতন মিথ্যে বলতে পারি,
লোকসভাতেও মিথ্যে পিএইচডিটা
দাখিল করেছি। ছিঁড়ে পড়ি নয়া শাড়ি।
আর কী কী পারি চ্যালারা বুঝিয়ে দেবে
নিজেও হয়তো বুঝে যাবি হাড়ে হাড়ে!
যদি না বুঝিস? তারও ব্যবস্থা আছে।
মিডিয়ারা পারে। সবটা বোঝাতে পারে।
যে করেই হোক ছলে বলে কৌশলে
গদী দখলের হুকুম পেয়েছি আমি।
আপাতত তাই তোদের সইতে হবে
প্রতিভা এবং মাপাজোকা পাগলামী।
চ্যানেল কিনেছি ছবি আঁকা টাকা দিয়ে
ছবি কিনে নিল মেহতা ও নেওটিয়া।
এ'বার চ্যানেলে ভাগ্য গণনা শুরু।
ঠোঁট দিয়ে ঠিক তাস টেনে নেও টিয়া!
বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১১
তৃণমূল ক্যাডার ~ অনামিকা মিত্র
চেনবার যারা চিনে যাবি ঠিকই বোমা বন্দুক মাইনএ।
সিভি আপলোড করা আছে... জানে নেত্রীর দপ্তর।
তা' দেখে নেত্রী বলেছে,লড়ে যা,এ'পাড়ার "তোলা" সব তোর!
আগে করতাম ক্ষুদ্র ব্যবসা, ছ্যাঁচরামি তোলা ছিনতাই।
নেত্রী চাইছে বৃহৎ ব্যবসা, কাটছেনা আর দিন তাই।
পাঁচটা দশটা খুনটুন করা আজকাল জলভাত তো!
থিয়োরেটিক্যাল সাপোর্ট দিচ্ছে, অর্পিতা জয় ব্রাত্য।
আমি হতে চাই... রাজার জামাই। প্রকাশ্যে... ফিসফিসিয়ে...
রটনা করছি সিপিএম দেবে টালাজলে বিষ মিশিয়ে!
অপেক্ষা শুধু, দিদি একবার পৌঁছলে মহাকরণে,
সিওর বলবে... জোলো দুধ নয়... আয় বাছা আয়... সরও নে।
তনয়কাহিনি ~ অনামিকা মিত্র
তাই অভিজিৎ ভুলে হিতাহিত, দাঁড়িয়ে গিয়েছে ভোটে ও!
সবাই বলল "আগামীকল্য, না খেয়ে মরবি শেষটা!"
বলে বাছাধন "আছে পেনশন, সুবিধার ভিআরএসটা।
বলছে লোকরা রাহুল ছোকরা খুব নাকি তালেবর সে!
আমি কীসে কম? মেলছি পেখম উদার ভারতবর্ষে!
চাকরি না ছাই, ক'টা টাকা পাই? এর চেয়ে পলিটিকসে
নামলে আমার বহু রোজগার। জেনে গেছি আমি ঠিক সে।
প্রণবপুত্র... সে'টাই সূত্র। এ'দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ডে...
হলেই এমএলএ উৎকোচ মেলে, ডলার এবং পাউন্ডে!
হামাগুড়ি দিতে শিখি নাই আজও, তবু চাহিতেছি... হাঁটিতে।
হাত ধর বাপা... হাঁটি হাঁটি পা পা, রোডশোতে... নলহাটিতে! "
সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১১
কার্যকারণ ~ অনামিকা মিত্র
(ভাষণ কোথায়? হাসাচ্ছে লোক। ওইটা নেহাত ভাঁড় তো।)
পাগল ছাগল ছদ্মবেশে মিথ্যে এবং ভুলকে
সত্যি বলে রটাচ্ছে ওর নিরেট মাথা চুলকে।
সবাই শুধোয় পার্থ এমন মিথ্যে কেন বলছ?
কবর থেকে চমকে ওঠে বাপরে গোয়েবলস-ও!
শুভেন্দুরা সেই সুযোগে রক্তে ভাসায় পাড়া
ভুল বুঝি না। কিছুই কি হয় কার্যকারণ ছাড়া?
কর্পোরেটের অন্ধ গোলাম। শেকল বাঁধা গলায়।
এমনি কি আর বলছে কথা? নগদ টাকাই বলায়।
তাই নাকি হে? কারা এখন ঢালছে এমন অর্থ?
হিজ মাস্টার্স ভয়েস মানেই গোপনতম শর্ত।
গোপন তো নয়! ব্যাপার যত ঘটছে তা' প্রকাশ্যে!
সাম্রাজ্যের নির্দেশে আর মনমোহিনী ভাষ্যে।
টাটকা আজও পরমাণুর অপমানের গল্প।
আর তা'ছাড়া বিশ্ববাজার সেটাও তো নয় অল্প।
বামরা নিকেশ হলেই এ'দেশ না ঘরকা না ঘাটকা
পেনশনে আজ রাহুর ছোঁয়া খেলুক পুঁজি ফাটকা
এনডিএ বা ইউপিএ হও মানতে হবে চুক্তি
গরীব আরও গরীব হলেই অর্থনীতির মুক্তি।
সেই জন্যেই জ্বলবে বসত। মারবে ভুখা লোককে।
খুনসন্ত্রাস... খেলতে হবে সাম্প্রদায়িক লক্ষ্যে।
এ'সব কিছু ছাপ যেন না ফেলতে পারে চিত্তে
তার জন্যেই চলছে প্রচার হিংস্র ... এবং মিথ্যে।
আসছে টাকাও। ভাগ করছেন প্রচারকারী পার্থ।
ভিক্ষে কুড়োয় বিদ্দ্বজ্জন... শাঁওলি বা জয়... ব্রাত্য।
পার্থ শোনো,যাদের কেনা সহজ, তাদের কিনো।
মানুষ খালি যায়না কেনা। গুণছে তারা দিনও।
হুজুরের মানহানি ~ অনামিকা মিত্র
মানের হানি। মামলা করুন। জিতুন কিম্বা হারুন।
ব্রাত্য হুজুর, আপনি কিন্তু সত্যবাদী দারুণ!
নাটক করেন। রাজনীতিও। মদ্যে ভেজান ওষ্ঠ।
রেলের টাকায় বেলের পানায় শুদ্ধ রাখেন কোষ্ঠ।
ঋতব্রতর বড্ড সাহস, চাইছে এ'সব ধরতে।
এ'বার বুঝুক। সেলাম করুক একদম নিঃশর্তে।
মঞ্চ থেকে দেদার টাকা, কলেজ থেকে মাইনে।
রেলের টাকাও? বেশ করেছেন। বাধলে বাধুক আইনে।
আসল কথা সম্মান। আর এমন সাম্মানিককে,
ঋতব্রত কায়দা করে বলছে নাকি ভিক্ষে!
রেল কি কারও মামার বাড়ি? কাজ করলে খাদ্য
তবেই মেলে। গর্দভদের বোঝানো দুঃসাধ্য।
জয়দা বলুন, শাঁওলি বলুন, লাভের কড়ি যার যার।
মামলাটা হোক। ঝুলির থেকে নির্গত হোক মার্জার।
যেই সম্মান ছিলনা তার হচ্ছে বেজায় হানি।
মামলা করুন। ঋত এবার টানুক জেলের ঘানি।
রক্তে ভেজা কোলাজ ~ সদানন্দ কারিগর
রক্তে ভেজা কোলাজ
-সদানন্দ কারিগর
ঘটনা ১ : বাঁকুড়া সন্মিলনি মেডিকেল কলেজের মর্গ-এর উল্টো দিকের চা'য়ের দোকান। বহুদিন পর হঠাৎ দেখা এক কমরেড-এর সাথে। চিৎকার করে ডাকি- আরে কমরেড, কি খবর? এখানে? সেই চেনা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে দু-হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। মুখটা একটু শুকনো। মনটা খচখচ করে উঠল। তাহলে কি কোন আত্মীয়-স্বজন…
অদ্ভুত ক্ষমতা এদের অন্যের মনের কথা বোঝার। হাতটা চেপে ধরে বললেন, বাড়িতে সব ভালই। পার্টী থেকে দায়িত্ব দিয়েছে মর্গ সামলানোর। সারেঙ্গা বা বাঁকুড়া জেলা লাগোয়া অঞ্চলে প্রায় রোজই কমরেডরা খুন হচ্ছেন। 'বডি'গুলো এখানেই আসছে। আমরা সাহায্য না করলে গ্রামের মানুষ আরও বিপদে পরবে। তাই…
শহুরে মধ্যবিত্ত - অবাক চোখে আকাশটাকে আঁকড়ে ধরে পালাতে চায়। পারেনা। আবার সামাল দেয় সেই কমরেড। পকেট থেকে একটা কালো সুতোর বিড়ি বাড়িয়ে দিয়ে বলে, ছাড়ো ওসব। মুহূর্তে স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে বলি, এখনও কতো এসেছে? উনি বললেন- প্রথম প্রথম হিসেব থাকতো। এখন আর থাকেনা। তবে জান কমরেড, একটা ঘটনা কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারছিনা। রাতে শুতে গেলেই মনে পড়ে। ঘুমাতে পারিনা। সেপ্টেম্বর- এর ১০ তারিখ। সারেঙ্গাতে খুন হন ৭১ বছরের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক কৃষ্ণ কুণ্ডু। পরের পরের দিন, মানে ১২ তারিখ ওনার ছেলে এসেছে। আমরা দাঁড়িয়ে আছি। ছেলেটা আমার পাশে। খেয়াল করিনি, কখন আমার কাঁধে মাথাটা রেখেছে। 'বডিটা' বের করা হচ্ছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি লাল পতাকাটা নিয়ে। ঢেকে দিতে হবে। হঠাৎ ছেলেটা বলে উঠল- 'কাকু, বাবার মুখটা একটু পরিষ্কার করে দেবে? এত রক্ত, ভাল করে দেখাই যাচ্ছে না।' বিশ্বাস করো কমরেড, ঘুমোতে গেলেই কথাটা কানে বাজে। মনে হয় ছুটে যাই জঙ্গল মহলে। দেখি একবার ওদের কত শক্তি। পার্টী হাত বেঁধে রেখেছে, আমাদের কিচ্ছু করার নেই।
ঘটনা-২ : ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের শেষ সমাবেশ। একটু আগে লালগড়ের বিনপুর জোনাল কমিটির মিছিল এসে ঢুকেছে। উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সহযোদ্ধাদের স্বাগত জানিয়েছে মাঠ। ওঁরা বসলেন মাঠের এক কোণে। মঞ্চে বুদ্ধদেব ভাষণ দিচ্ছেন। আমি থাকতে না পেরে চলে গেলাম ওদের কাছে। বললাম- 'লাল সেলাম কমরেড, দারুণ লড়ছেন আপনারা'। প্রত্যুত্তরে হাতের মুঠি শক্ত করে লাল সেলাম জানালেন। কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। আবার অবাক হই। ভাবি তাহলে কি আমার পোশাক বাধা হ'য়ে দাঁড়াল? আমাকে কি কমরেড ভাবতে পারছেন না? বসে পরি ওদের পাশেই।
বক্তৃতা শেষ করলেন বুদ্ধদেব। পাশের মানুষগুলো উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন। বছর পঁচিশের এক যুবক শূন্যে হাতটাকে ছুঁড়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন- 'ই ই ই ইনকিলাব', চারপাশ কাঁপিয়ে আওয়াজ উঠলো 'জি ই ই ই ন্দা বা আ আ দ'।
এক মাঝবয়সী কমরেড এবার তাকালেন আমার দিকে। জানতে চাইলেন আমি সাংবাদিক কিনা। বললাম না না তেমন কিছু না। এবার তাকালেন সোজা। বললেন, লেখেন নিশ্চয়ই? কিছু জানতে চান? আমতা আমতা করে বললাম- 'ইয়ে মানে পেপার পড়েতো সব ঠিকমতো জানা যায় না। আপনাদের মুখেই তাই শুনতে এসেছি আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা'।
-আপনারা শহরের লোক, পারবেন শুনতে ওসব? আমার বাড়ী শালবনী। ২০০৯ সালের জুন মাসে, ১০ জন কমরেড কে ধরে নিয়ে গেছিল ওরা। দীনবন্ধু সরেন, প্রবীর মাহাত, মলয় মাহাত, সঞ্জয় মাহাত, কেশবচন্দ্র মানা, ধীরজ মানা, মোহন সিং, দেবব্রত সরেন, অসিত সামন্ত আর নাড়ু সামন্ত। হাত-পা বেঁধে রোদের মধ্যে ফেলে রেখেছিল সারাদিন। প্রচন্ড তেষ্টায় জল চাইলে মুখে পেচ্ছাব করে দিয়েছিল মাওবাদীর দল। তারপর একটা ছোটো ঘরে লঙ্কার বস্তায় আগুন ধরিয়ে সেখানে সবাইকে ঢুকিয়ে দম বন্ধ করে মেরে লাশগুলো গায়েব করে দিয়েছে। শালবনী হাইস্কুলের মাষ্টার মশাই, একমাত্র ছেলে মলয় মাহাত-র ছবি নিয়ে আজো জনে জনে জিজ্ঞেস করে তার ছেলের কথা। মা-বাবা দুজনেই আজ সন্তান শোকে পাগল।
বৈতার স্নেহাশীষ দাস। ওর বৌটার সেদিন 'সাধ'। ভজালি দিয়ে গলাটা কেটে আনন্দে চীৎকার করেছিল ওরা। পাগল বৌটার একমাস বাদে একটা মেয়ে হয়েছিল।
কানাই দিগনায়েক। বৌ-ভাতের দিন ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে গুলি করে মারে। সদ্য বিয়ে আর একই সাথে বিধবা হওয়া বৌটা এখন শুধু তাকিয়ে থাকে। কথা বলেনা।
আকাশ বেজ আর তাপস মণ্ডল। গুঁড়ি গ্রামে বাড়ি। মকর সংক্রান্তির নতুন জামা কাপড় কিনতে গেছিল ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনপুর হাটে। গুলি করে মেরে দেয় ওরা।
বেলাটিকরি অঞ্চলের জামদা হাইস্কুলের শিক্ষক কার্ত্তিক মাহাত। পড়াচ্ছিল। ছাত্রদের সামনেই গুলি করে মারে। দুজন ছাত্র তারপর থেকে ভয়ে বোবা হয়ে যায়।
আমার ভেতরটা গুলিয়ে ওঠে। থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করি, এর পরেও লড়ছেন, ভয় করেনা? অদ্ভুত হাসি হেসে ওঠেন উনি। হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করেন- 'একটু আগে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কি বলল শুনলেন? এভাবে আমাদের শেষ করা যায় না। জয় আমাদের হবেই'।
গোটা দলটা উঠে দাঁড়ায়। এবার ওদের ফিরতে হবে। মরার জন্য, নাকি অনেককে বাঁচাতে? উত্তরটা অজানাই থেকে যায়।
ঘটনা ৩ : সন্ধ্যে ৭টার প্রেস ক্লাব। কোণের TV তে প্রাক্তন নকশাল নেতা কতিপয় বুদ্ধিজীবী পরিবেষ্টিত হ'য়ে 'রেজিমেন্টেড পার্টী-র' বাপান্ত করছেন। একটু আগেই বামফ্রন্টের আসন্ন পরাজয়-এর সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষন করে আসা ক্লান্ত সাংবাদিক কেরাম-এর বোর্ড থেকে ঘার ঘুরিয়ে এক ঝলক সেটা দেখে নিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন 'শালা রেড-বুকটাও পড়েনি। শংকর দুটো লার্জ বিপি আর সোডা দিস্'।।
************
সাত্রে'র নাটকটা মনে পড়ে? কিভাবে একজন সাংবাদিক একটু একটু করে Pathological liar-এ পরিণত হয়? যদিও তারা জানে, তারা যা লিখছে তা আসলে মিথ্যে। একসময় তারাই সেটাকে সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।
এই মুহুর্তে আমরাই বা কম যাই কিসে? আপাদমস্তক মিথ্যেয় মোড়া অর্ধশিক্ষিত এক ছিটেল মহিলার পেছনে মনে মনে একবারো কি দৌড়াইনি? একবারও কি মনে হয়নি, জঙ্গলে রক্ত ঝরছে কারন অনুন্নয়ন? যেন শ'খানেক গরিব মানুষ মরলেই ওখানে উন্নয়নের বন্যা বয়ে যাবে? একবারও কি মনে হয়নি, যাক না একবার বামফ্রন্ট সরকারটা বছর খানেকের জন্য? সেই মুহুর্তে মনে হয়েছিল কি, গোটা রাজ্যটাই জঙ্গলমহল বানিয়ে দিতে পারে ওরা? সপাটে নিজের গালে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে হয় কি তার জন্য?
এখনও সময় আছে। অথবা এই তো সময়। লাল পতাকাটাকে আরো উঁচুতে তুলে ধরুন। এ লড়াই জিততেই হবে।








