সত্যিই কি পশ্চিমবঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে একাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে, নাকি মিথ্যা প্রচার দিয়ে সত্য চাপা দেওয়া হচ্ছে?
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্র থেকে একে একে মুছে গেছে ডানলপ, হিন্দুস্তান মোটরস, জেসপ, এমএএমসি (MAMC) বা দুর্গাপুর সার কারখানার মতো বিশালাকৃতি একাধিক প্রতিষ্ঠান। সাধারণ প্রচারের ভাষায় এই সবকিছুর দায় শ্রমিকদের 'জঙ্গি আন্দোলনের' ওপর চাপানো হলেও, বাস্তব তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল সরকারি নীতি, প্রযুক্তির অভাব এবং মালিকপক্ষের অতি-মুনাফা লোটার কৌশলই ছিল এই বিপর্যয়ের মূল কারিগর। তার কয়েকটি নমুনা নিচে দিলাম।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পরিকল্পিত মৃত্যু ও কেন্দ্রের নীতি:
দুর্গাপুরের এমএএমসি (MAMC) বা হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজার (HFCL)-এর মতো সংস্থাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে কোনো শ্রমিক আন্দোলন দায়ী ছিল না। মূলত নব্বইয়ের দশকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিলগ্নীকরণ নীতিই ছিল এর প্রধান কারণ। দুর্গাপুর সার কারখানাটি বন্ধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল—প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাব ও ন্যাপথা-ভিত্তিক প্রযুক্তির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়ে লোকসান হচ্ছে। আসলে এই কারখানা বন্ধের পিছনে ছিল অন্য গল্প— বেসরকারি কোম্পানিদের জায়গা করে দেওয়া। এমএএমসি (MAMC) বন্ধের পিছনেও এই একই কারণ ছিল।
কারখানা চালু রাখার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন (MAMC-র দৃষ্টান্ত):
দুর্গাপুরের MAMC কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ শ্রমিক আন্দোলন অনেকের জানা, অনেকের মতো সেই আন্দোলনের আমিও এক সাথী। কেন্দ্রীয় সরকার লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে এই বিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাটিকে বন্ধ করার তোড়জোড় শুরু করে, তার প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। কারখানাটি সচল রাখার দাবিতে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই গড়ে তোলে এবং বিকল্প প্রস্তাব দেয় যাতে খনি শিল্পের আধুনিক যন্ত্রপাতির দেশীয় চাহিদা মেটাতে এই পরিকাঠামোকে কাজে লাগানো হোক। সরকার শ্রমিকদের দাবি পাত্তা না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়।
আসানসোলের হিন্দুস্তান কেবলস, রূপনারায়ণপুরের কেবল কারখানা বা আসানসোলের সাইকেল কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (Sen-Raleigh)-এর মতো কারখানাগুলো বন্ধের মূলে ছিল প্রযুক্তির বিবর্তন। পৃথিবী যখন ফাইবার অপটিক্সের দিকে এগোচ্ছিল বা আধুনিক ডিজাইনের সাইকেলের চাহিদা বাড়চ্ছিল, তখন এই কারখানাগুলো পুরনো প্রযুক্তিতে আটকে ছিল। ম্যানেজমেন্ট বা সরকার সময়মতো আধুনিক মেশিনে বিনিয়োগ না করায় কারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় হেরে যায়। শ্রমিকরা এখানে কাজ করতে চাইলেও তাদের হাতে দেওয়ার মতো কাজ ছিল না, অথচ প্রচার করা হয় শ্রমিক আন্দোলনের কারণেই এগুলো রুগ্ন হয়েছে।
খনি ও রেলের বেসরকারিকরণ—রাষ্ট্রের দায়বদল:
বর্তমানে খনি ও রেলের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে যে বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া চলছে, তা কোনো আন্দোলনের ফল নয়, বরং সুচিন্তিত সরকারি নীতি। ইসিএল (ECL)-এর বিভিন্ন খনি বা আসানসোল-রানিগঞ্জ অঞ্চলের কোল ব্লকগুলো ‘এমডিও’ (MDO) বা রাজস্ব ভাগাভাগি মডেলে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে রেলের উৎপাদন ইউনিট ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বেসরকারিকরণ করার ফলে স্থায়ী কর্মসংস্থান কমছে। এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যখনই শ্রমিকরা প্রতিবাদ করছেন, তখন তাকে "উগ্র আন্দোলন" বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ হস্তান্তরের কাজ নির্বিশেষে চলে এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলো মুনাফার বাজার দখল করতে পারে।
হিন্দমোটর:
হুগলির উত্তরপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হিন্দুস্তান মোটরস (হিন্দমোটর) ২০১৪ সালে পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা না মিটিয়ে। মালিক পক্ষ আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ না করে এই ঐতিহ্যবাহী কারখানাটিকে রুগ্ণ করে তোলে। মাসের পর মাস শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রাখার প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলন করলে, মালিক পক্ষে অশান্তির গল্প ফেঁদে নিজের দায় আড়াল করে। পরবর্তী সময়ে কারখানা পুনরুজ্জীবিত করার বদলে সেখানকার কয়েকশ একর জমি আবাসন প্রকল্পের জন্য শ্রীরাম গ্র্যান্ড সিটি কোম্পানিকে বেচে দেয়। যদিও ওই জমি শিল্প ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার ছিল বেআইনি।
কাঁচামাল ও বাজারের সমস্যা (চট ও বস্ত্র শিল্প):
হাওড়া ও হুগলির চটকল (Jute Mills) এবং মোহিনী মিলস, বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস-এর মতো বস্ত্র কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে মূলত সিন্থেটিক ফাইবারের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে এবং তুলোর জোগান ব্যাহত হওয়ায়। কাঁচামালের সংকটের সময় যখন মালিকপক্ষ লে-অফ ঘোষণা করেছে, তখন শ্রমিকরা কেবল তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবিকে "উৎপাদন বিরোধী আন্দোলন" বলে চালিয়ে দিয়ে মালিকপক্ষ দায় এড়িয়েছে।
মুনাফা লোটার কৌশল ও অন্য রাজ্যে স্থানান্তর:
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মালিকপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের কারখানাটি বন্ধ করে অন্য রাজ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। ডানলপ (Dunlop)-এর সাহাগঞ্জ কারখানা বন্ধ থাকলেও পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় তাদের উৎপাদন চলছে। অতি সম্প্রতি তারাতলার ব্রিটানিয়া কারখানাটি "পুরনো" তকমা দিয়ে বন্ধ করা হলেও কোম্পানিটি মহারাষ্ট্র সহ অন্য রাজ্যে তাদের আধুনিক ইউনিটে উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে। এর আসল কারণ শ্রমিক আন্দোলন নয়, বরং অন্য রাজ্যে নতুন সরকারি ভর্তুকি (Subsidy) ও কর ছাড়ের সুবিধা নিয়ে অধিক মুনাফা করা।
রিয়েল এস্টেট সিন্ডিকেট ও জমির বাণিজ্যিকীকরণ:
কলকাতার উষা ফ্যাক্টরি, বেঙ্গল ল্যাম্প বা শহরতলির অনেক চটকল ও বস্ত্র কারখানার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কারখানার জমির দাম উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে যাতে শ্রমিকদের নাম দিয়ে কারখানাটি বন্ধ (Lock-out) করে দেওয়া যায় এবং পরে সেই বিশাল জমিতে আবাসন বা শপিং মল তৈরি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা লোটা যায়। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন বা পিএফ-এর ন্যায্য দাবিকে এখানে "জঙ্গি আন্দোলন" বলে অপপ্রচার করা করা হচ্ছে।
মালিকপক্ষের পলায়ন:
জেসপ (Jessop) বা উত্তরপাড়ার হিন্দুস্তান মোটরস-এর মতো কারখানার ক্ষেত্রে দেখা গেছে মালিকপক্ষ ব্যাংকের ঋণ বা শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে কারখানা ছেড়ে পালিয়েছে। যখনই শ্রমিকরা উপযুক্ত বেতনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, মালিকপক্ষ তাকেই "শ্রমিক অসন্তোষ" হিসেবে চিহ্নিত করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। অথচ আসল উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া।
পশ্চিমবঙ্গে কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে শ্রমিক আন্দোলনকে দায়ী করা আসলে একটি সুকৌশলী প্রচার। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা এবং মালিকপক্ষের মুনাফালোভী মানসিকতাকে আড়াল করা হয়। প্রকৃত তথ্য বলছে— রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার যে বৃহত্তর নীল নকশা, তা-ই ছিল এই শিল্প পতনের প্রধান কারণ। শ্রমিকদের প্রতিবাদ ছিল কেবল তাদের অস্তিত্ব ও উপযুক্ত মজুরি রক্ষার শেষ লড়াই।
উদ্বৃত্ত মূল্য ও শোষণ: মালিক কারখানা খোলেন জনসেবা বা চাকরি দেওয়ার জন্য নয়, বরং মুনাফা কামানোর জন্য। শ্রমিক তার শ্রম দিয়ে যে সম্পদ উৎপাদন করে (Value), মালিক তাকে তার চেয়ে অনেক কম মজুরি দেয়। এই দুটির মধ্যে যে পার্থক্য, তাকেই বলা হয় উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus Value)। এই উদ্বৃত্ত মূল্যই মালিকের মুনাফা, যা আদতে শ্রমিকের শ্রমেরই অংশ।
মুনাফার শর্ত: যদি একজন শ্রমিক তার উৎপাদিত পণ্যের পুরো মূল্যই মজুরি হিসেবে পেয়ে যেত, তবে মালিকের হাতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা 'লাভ' থাকত না। লাভ না থাকলে মালিক পুঁজি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হতেন না। অর্থাৎ, পুঁজিবাদের কাঠামোই দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিকের শ্রমের একটি অংশ মালিকের পকেটে যাওয়ার ওপর।
দায় চাপানোর কৌশল: যেহেতু মুনাফাই মালিকের আসল লক্ষ্য, তাই যখনই সেই মুনাফায় টান পড়ে (বাজারের মন্দা, প্রযুক্তির পরিবর্তন বা কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে), মালিক পক্ষ তা মেনে নিতে পারে না। তখন তারা হয় কারখানা বন্ধ করার ছুতো খোঁজে, অথবা শ্রমিকদের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে। আর এই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকরা যখন নিজেদের হকের প্রতিবাদ করে, তখন সেই প্রতিবাদকেই "কারখানা বন্ধের কারণ" হিসেবে প্রচার করা হয়।
মালিকের 'ইচ্ছা' বনাম শ্রমিকের 'অধিকার': কারখানা বন্ধ করে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া বা জমি বিক্রি করে দেওয়া আসলে মালিকের সেই মুনাফা বাড়ানোরই একটি রূপ। যখন অন্য রাজ্যে কম মজুরিতে বা বেশি সরকারি সুবিধায় শ্রমিক পাওয়া যায়, তখন মালিকের "ইচ্ছা" সেখানেই চলে যায়। শিল্পের সংকট আসলে কোনো আন্দোলনের সংকট নয়, বরং এটি পুঁজির চরিত্রের সংকট। যেখানে মানুষের শ্রমের চেয়ে মালিকের মুনাফাই বড় হয়ে ওঠে।
শিল্পায়নের নামে এ রাজ্যে লুটের ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকের পরে রাজ্যে অসংখ্য স্পঞ্জ আয়রন কারখানা গড়ে উঠেছিল, যার মধ্যে অনেকগুলি কিছুদিন পরেই আবার বন্ধ হয়ে যায়। এই কারখানাগুলো কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়নি। মূলত সরকারি ভর্তুকি, সস্তা বিদ্যুৎ ও খনি বরাদ্দের সুবিধা নিয়ে কারখানা গড়ে মালিকরা মুনাফা লুটে চম্পট দিয়েছে। ফলে না থাকল স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, না থাকল চাষযোগ্য জমি বা সুস্থ পরিবেশ। দুর্গাপুর ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল এই 'লুটেরা শিল্পায়নের' বড় উদাহরণ।
অন্য দুটি বিষয়
আইটি ও সিঙ্গুর নিয়ে দু-একটি কথা:
শিল্পের প্রসারে কেবল "সদিচ্ছা" থাকা বা বিরোধিতার অভাবই যথেষ্ট ছিল না, বরং বাজারের চাহিদা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। নব্বইয়ের দশকে যখন আইটি বিপ্লব শুরু হয়, তখন বিশ্ববাজারের প্রয়োজন মেটাতে কয়েক লক্ষ দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারই যথেষ্ট ছিল। ব্যাঙ্গালোর বা হায়দ্রাবাদের মতো গুটিকয়েক শহর থেকেই মালিকরা সস্তায় এবং সহজে প্রয়োজনীয় মেধার জোগান পেয়ে যাচ্ছিলেন। যেহেতু সীমিত সংখ্যক কর্মীর মাধ্যমেই কাজ উঠে যাচ্ছিল, তাই মালিকদের নতুন জায়গায় গিয়ে পরিকাঠামো তৈরির বাড়তি খরচ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
বর্তমানে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা ইন্টারনেটের উন্নতির ফলে যখন দেখা যাচ্ছে বড় বড় অফিস মেইনটেইন করার চেয়ে বাড়ি থেকে কাজ করালে কোম্পানির খরচ আরও কমছে এবং মুনাফা বাড়ছে, তখনই কেবল কাজগুলো অন্য রাজ্যে বা ছোট শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, আইটি হাব গুটিকয়েক শহরে সীমাবদ্ধ থাকা বা এখন তা ছড়িয়ে পড়া—দুটোই শ্রমিকের কর্মসংস্থানের চেয়ে মালিকের খরচ কমানো এবং উদ্বৃত্ত মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। মুনাফার এই অসম লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ছাত্ররা; আইটিতে চাকরি পাওয়ার আশায় বাবা-মায়ের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ডিগ্রি অর্জন করেও তারা আজ বাজারের চাহিদা না থাকায় বেকারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। মালিকপক্ষের সীমিত নিয়োগের এই কৌশলে একদিকে যেমন উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি তৈরি হচ্ছে, তেমনি সস্তা শ্রমের বাজারে বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মালিকরা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করছেন।
প্রসঙ্গ-সিঙ্গুর
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোটেই টাটা-বিরোধী নন, বরং তিনি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতো টাটা-প্রেমী ও মালিকদরদি। টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর ছাড়া অন্য কোথাও কারখানা করতে চায়নি, আর সিঙ্গুরের কৃষকরাও তাদের সোনার ফসল ভরা জমি ছাড়তে চাননি। উন্নয়নের গল্প ফেঁদে টাটার মুনাফার স্বার্থে কৃষক ও খেতমজুরদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অন্যায় হতে যাবে কেন? তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ ন্যায্য ছিল। সিঙ্গুরে মূলত এই জমি অধিগ্রহণ নিয়েই বিরোধ বাঁধে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেস কৃষকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে নিপুণভাবে সরকারি ক্ষমতা দখলে ব্যবহার করে।
যারা বলেন টাটা চলে যাওয়ায় কয়েক হাজার কর্মসংস্থান মার খেয়েছে, তারা সম্ভবত জানেন না যে টাটা থাকলে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ভিটেমাটি ও জীবিকা হারাতেন। উচ্ছেদ হতো হাজার হাজার পরিবার, ধ্বংস হতো উর্বর চার-ফসলি জমি। আসলে সিঙ্গুরে টাটার কারখানা গড়ার পেছনে অন্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল। সেই প্রসঙ্গ এখন থাক। সিঙ্গুর থেকে টাটার কারখানা শেষ পর্যন্ত গুজরাটে গেল ঠিকই, কিন্তু সেখানেও মূল প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন