বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বর্ষাকাল, পাহাড়, আর একজন সাহেব ভূত ~ শৈবাল বিষ্ণু

দার্জিলিং এর ম্যাল রোডে ঠিক যেখানে এখন শ্যালেট হোটেল আছে, সবুজ রঙা বাড়িটা, নিচে বইয়ের দোকান, ঠিক সেখানেই থাকতেন এন্ডারসন সাহেব। পেশায় ডাক্তার, নেশায় পর্বতপ্রেমী। সে একশো বছরেরও আগের কথা। 

তবে যদি আপনি গহীন বর্ষায়, এই ধরুন জুলাইয়ের মাঝামাঝি, যখন টানা সাত দিন ধরে বর্ষা চলছে, যেন মনে হচ্ছে কেউ বালতি বালতি জল ঢালছে ছাদের ওপরে, সেই সময়ে গিয়ে পড়েন ওইখানে, আর রাত্তিরের দিকে এই ধরুন এগারো সারে এগারোটা নাগাদ ওইদিকে ভুল করেও তাকিয়ে দেখেন, খুব সম্ভব আপনি এন্ডারসন সাহেব কে পায়চারি করতে দেখতে পাবেন। উইন্ডামেয়ার হোটেলের সামনের চাতালটা থেকে দেখাই নিরাপদ। সাহেব ভূত বলে কথা, বেশী কাছে না যাওয়াই ভাল। তাও আবার ওনার সান্ধ্যভ্রমন হয়নি, তাই নিচের বারান্দাতেই পায়চারি করতে হচ্ছে, মনটা ওনার নিশ্চই তিতকূটে হয়েই আছে।

কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখবেন, এন্ডারসন সাহেব পায়চারি করছেন ঠিকই কিন্তু ওনার গোড়ালি আর নিচে পায়ের পাতা দেখা যাচ্ছে না। জুতোর দেখা নাই।

আসলে কি হয়েছে। উনি আগের বারান্দাটার ওপরেই পায়চারি করে চলেছেন। উনি তো আর জানেন না যে, বারান্দাটা ওনার মৃত্যুর পরে আরো এক থাক ইঁটের স্তর দিয়ে অনেকটা উঁচু হয়ে গেছে। 

ওনার এতসব জানার কথা নয়। তাই উনি আগের ছয় ইঞ্চি নিচু বারান্দার ওপরেই পায়চারি করেন। আর তাই ওনার গোড়ালির নিচের অংশ আর জুতো মোজা, পায়ের পাতা দেখা যায়না ইদানিং। বিশ্বাস না হলে এই জুলাইতেই চেষ্টা করে দেখতে পারেন!