শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১২

পোষাকী কথা ~ অরুণাচল দত্তচৌধুরী

আমি অতি পাতি লোক নিজেকে উলঙ্গ জেনে তবু
অশ্লীল সাহস নিয়ে চলাফেরা করি রাজপথে
অন্যরাও ন্যাংটো খুব। পোষাকের গভীরে ভিতরে
আদম ইভের দল বয়ে চলে নিষিদ্ধ আপেল

আপেল নিষিদ্ধ নয় শুধু যদি বেছে খাওয়া যেত
পচা দাগী পোকালাগা সে সকল ধর্মত বারণ
খিদের দাপটে বাবা লুপ্ত হয় সব ধর্মকথা
আমরা আপেল নয় খরিদ্দার আলু পটলের

এলামাটি মাখা আলু রঙ মাখা প্রাচীন পটল
মনোহারি বাজারের মেঝে জুড়ে দেয় গড়াগড়ি
উলঙ্গ মানুষজন খুঁটে খায় ভূত ভবিষ্যত
অনেক ওপরে বসে ঠোঁট চাটে উলঙ্গ রাজারা

আকাশের চাঁদ সূর্য নীহারিকা গ্রহতারারাজি
পোষাকবিহীন এই পৃথিবীকে দেখে হাসে যদি
ওদেরও পোষাক নেই
আমিতো অতীব পাতি, আমি তাই পোষাক খুঁজিনা

তোমাকে ধরে রাখতে পারিনি ~ অনামিকা

আমরা হিমুর সাথে একজন্ম হেঁটে যেতে পারি
মিশির আলির সাথে যেতে পারি শুভ্রদের বাড়ি
অনন্ত নক্ষত্র বীথি আলোবর্ষ অনায়াসে পার
হয়ে যাবো, কেননা তা চেয়েছিলে তুমি বারবার
আমাদের বেঁচে থাকা ওই কলমের কাছে ঋণী

তোমাকে যে ধরে রাখব
সে'টুকুই আজকে পারি নি

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১২

রাধা ~ অমিতাভ প্রামানিক

‎"পায়ে ধরে সাধা, তবু রা নাহি দেয় রাধা -"
সবাই বলে এ উহারে, উল্লুক, না গাধা?
বলেই চলেন, কালাম -
শুধু তারেই জানাই সালাম।
হঠাৎ দেখি পালটিয়ে রং বলেন, প্রণবদাদা!

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১২

বোকা মেঘ ~ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী

উত্তরে খুব বৃষ্টিমেঘের ঝলকানি
দক্ষিণে নেই তেমন উতল জলখানি।

দু'এক বিন্দু জল ঝরেছে। যার সে নিক।
আমরা গরীব। হাতের মুঠোয় আর্সেনিক।

দারুণ নাকাল নিত্যদিনের সার্কাসে
বর্ষাদিনের মেঘ চলে যায় তার কাছে

মেঘের আপন হলেও আমি তার তো পর
একলা সে খুব ভিজতে থাকুক স্বার্থপর

ভিজল বলেই তাকাই না আর ওর দিকে।
ভয় করি প্রেম। ভয় করি জ্বর সর্দিকে।

মধ্যবিত্ত কুষ্ঠি মানেই ডিউ শনি
মাসকাবারের সম্বল ওই টিউশনি।

অবাক কাণ্ড এ'সব জেনেও ডাকলে সে,
বোকার মতই ... মেঘের মতই ... যাই ভেসে।

শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২

ঈশ্বর কণা ~ অরুণাচল দত্তচৌধুরী

ঈশ্বর নিজে নয় তার এক অতিক্ষুদ্র কণা
আমাদের কুঁড়েঘরে উঁকি দিযে গেছে
আমরা বিস্মরণে রোজ তবু কণা নয় 
সমগ্রকে ডাকি
আর রোজই ভুলে যাই কোথাও যাবার কথা ছিল 
কী কথা দিয়েছি তাকে ... ঠিক কী কী কথা

আমার মুহূর্তরা পরবর্তী ধ্রুব মুহূর্তকে 
নিছক প্রকৃতিবশে চিনে নেয়... 
প্রাকৃতিক নিয়মকানুন এড়ানো কঠিন বড় 
এটাই দৈব 
তবু কোনও কোনও অনিশ্চয়তায়
আমার একাকী বিশ্ব অসীম বিশ্বে ভেঙে যায়

অকিঞ্চিত ভর দিয়ে ডেকে নিই অযুত কণাকে
সমস্ত ভালোবাসা ঢেকে দেয় ... লক্ষ কোটি সময়ের ঢেউ ...

আর যদি কেউ
তন্মুহূর্তে এসে বলে ... সাথে যাবো ...
অপলক এই কুঁড়ে ঘর
চিনে নেয় ... 
কণা নয় ... এসেছে ঈশ্বর!

শনিবার, ২ জুন, ২০১২

আমি সেই ম্যারাকাস বাদক ~ অনির্বাণ মাইতি

গণনাট্য সঙ্ঘের সাথে আমার সম্পর্ক, আমার জন্মের ঠিক ৬ মাস আগে। না না মস্করা করছি না, তারিখ দিনক্ষণ আমার মনে নেই, থাকার কথাও না। তবে জায়গাটা ছিল তাহেরপুর, সাম্প্রতিক শাখার "তিতুমীর" নাটক অভিনীত হবে। আমার গর্ভধারিণী ৬ মাসের আমি কে গর্ভে নিয়ে, মঞ্চে ওঠার ঠিক আগে, প্রথমবারের জন্য সাড়া দিয়েছিলাম আমি। খুশীতে পাগল হয়ে মা অভিনয়ে কোনও বাড়তি প্রেরণা পেয়েছিল কিনা জানি না,তবে আজও এই গল্পটা আমায় ভারি তৃপ্তি দেয় । আমায় বলে আমি তো ওদেরই একজন, যারা একসময়ে গ্রামবাংলা কাঁপিয়ে বেড়াতো, যারা আজও ঢেউয়ে ঢেউয়ে তুফান তোলে ...

জন্মের পর থেকে বাবা মায়ের সাথে... না বাবা মা বলব না গণনাট্য সঙ্ঘের সাথে সারা বাঙলা ঘুরে বেড়িয়েছি । হ্যাঁ ততদিনে আমার একটা অধিকার বোধ জন্মেছে । কারণ তখন আমার ভূমিকা এক ম্যারাকাস বাদকের, গানের দলের এক পাশে দাঁড়িয়ে ম্যারাকাস বাজাতাম, বিশেষ পাত্তাতো দূরের কথা একটা মাইকও জুটত না আমার। তাতে আমি থোরাই কেয়ার করি, নিজেই বাজাতাম নিজেই মুগ্ধ হতাম। আবারও একটা তৃপ্তি মনে বাসা বাঁধত , আমিও তো ওদেরই একজন।

একবার মনে আছে বাঁকুড়ার মাঝদায় মুক্তধারা শাখার "ক্রীতদাস"- এর শো , আমার সারা শরীর পোড়া নারেঙ্গায় আক্রান্ত, যন্ত্রণায় ককাচ্ছি, মা আমাকে সহকর্মীদের কোলে দিয়ে মঞ্চে উঠছেন আর নেমে এসে আবার কোলে নিয়ে ভোলাচ্ছেন। এই ভাবেও অভিনয় করা যায় !!! হয়তো শুধু গণনাট্য সঙ্ঘের শিল্পীরাই পারেন। ধুলোতে আমার সারা শরীর বিষিয়ে গেছিলো, ডাক্তারের কাছে জোর বকুনি খেয়েছিলো আমার বাবা মা, তাতে কি? ওদের মণের আগ্নেয়গিরির হদিশ পাওয়া ডাক্তারের কাজ না...

হ্যাঁ আবারও বলছি গণনাট্য সঙ্ঘের কর্মীরাই পারে এমন সব অসাধ্য সাধন করতে, তার প্রতিদান গুলোও ছিলো ভারি অদ্ভুত। কোনও এক প্রত্যন্ত গাঁয়ে সবাই মিলে ডাব খাওয়া হলো, ডাবওয়ালা নিজে হাতে ডাব কেটে সবার মুখে তুলে দিয়ে পয়সা নেবার বেলা একদম মুখপালটি " তুমাদের থিকে পইসা লুবো নি , তুমরা কমরেড না? " কান্নায় গলা বুজে আসে না ? সত্যিই তো আমরা কমরেড তোমাদের সাচ্চা কমরেড। এরকম ছোট ছোট কত ঘটনা, টুকরো স্মৃতি আবছা মণে আসে। কমরেড এসেছে শুনে শুধু সাদা ভাত আর আলুসিদ্ধ নিয়ে গ্রামের মানুষ হাজির , পরম তৃপ্তিতে খাওয়াবে আপনজনকে। আর একটা ঘটনার কথা না বললেই নয়, আমার বোনের জন্মের সময়, সদ্যজাত বোনকে একবার চোখের দেখা দেখে আমাকে নিয়ে বাবা সটান চলে এলেন কলকাতার শিশির মঞ্চের অনুষ্ঠানে। গোটা অনুষ্ঠানটা বাবার ধুতির খুট ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। মনটা খারাপ ছিলো, নতুন অতিথিকে ভালো করে দেখাও হয়নি যে।

শুধুমাত্র পরিবারের কথা বলে যাচ্ছি কারণ এদেরকে কাছ থেকে দেখেছি। এরকম কত পরিবার আছে, কত মানুষ আছে যারা ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে আম আদমির কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। এদেরকে আমরা বিদ্বজ্জন বলে মানি না, সম্মান করিনা। কারণ এরা প্রায় বিনা পারিশ্রমিকে আমাদের কাছে আসেন, আমাদের কথা বলেন, গানে, নাটকে, কবিতায়। নিজের চক্ষে সেদিন গুল প্রত্যক্ষ করেছি, লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন মঙ্গলকাব্য, গম্ভীরা, মহাভারতের যুদ্ধ , সূর্যশিকার, ক্রীতদাস , গণনাট্যের এক একেকটা প্রযোজনা যখন আছড়ে পরছিল , শাসকের বুকে শেল এর মত বিঁধছিল, সেদিন আমি সাক্ষী ছিলাম। সাক্ষী ছিলাম ভোগবাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঘাড় সোজা করে লড়ে যাওয়া মানুষগুলোর লড়াই এর। তাই আজও হুজুগে শিল্পী বুদ্ধিজীবীদের থেকে ওদেরকেই বেশি আপন মনে হয়। আমার কমরেড।

একটা ভারি মজার কথা মণে পড়লো, বীরভূম এর কোন প্রত্যন্ত গ্রামে নির্বাচনী তরজা গানের আসর বসেছিল। যুযুধান দুই পক্ষ বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস । বামফ্রন্ট এর প্রতিনিধিত্ব করছিলেন কম: শুভেন্দু মাইতি আর কংগ্রেস এর হয়ে জবাব দিচ্ছিলেন কম: মন্টু দে । প্রচুর লোক সমাগম ছিলো , বামফ্রন্ট এর চাঁচাছোলা প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে মন্টুকাকু বলে উঠলেন। " আমার লাঠিটা কোথায় রে ব্যাটাকে মেরেই ফেলবো " সাথে সাথে দর্শকাসন থেকে একটা ইঁট উড়ে এলো মন্টু কাকুর বুকে। হতভম্ব সবাই, মন্টুকাকু কিছুটা সন্ত্রস্ত, দর্শকাসন থেকে চীৎকার এর রোল "শালা কমরেড কে মারবে ? মেরেই দেবো শালাকে " এক বৃদ্ধ রাগে কাঁপছিলেন, আশে পাশে অনেকেই উত্তেজিত। সব কমরেডরা এগিয়ে এলেন আড়াল করলেন মন্টু দেকে । বোঝাতে লাগলেন দর্শক দের উনি আমাদের লোক, শুধুমাত্র অভিনয় করছেন, কে শোনে কার কথা ? লোকে এই মারে কি সেই মারে। এবার ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন কম: মন্টু দে, তার দুচোখে অঝোর জলের ধারা , কাঁপা কাঁপা হাত তুলে বললেন "আমার জীবনের সেরা পুরষ্কার নিয়ে যাব আজ এই গ্রাম থেকে, লাল সালাম " ।রাগে ফুঁসতে থাকা মানুষ গুলোর চোখ নরম হয়ে গেল এক নিমেষে, পেশিবহুল হাতগুলো সমস্বরে জবাব দিলো " লাল সালাম"। কি অদ্ভুত জাদু-মাখা দুটি শব্দ। মন্টু দের শেষ যাত্রার শরিক ছিলাম। বড় অনাদরে চলে গেল লোকটা, একটা লাল শালুও জুটলো না । শেষ দিন অবধি বামপন্থার প্রতি বিশ্বাসে অটুট ছিলেন।

এবার কিছু অপ্রিয় সত্যের দিকে দেখা যাক। হঠাৎ করে সব হিসেব ওলট পালট হতে লাগল, সালটা ১৯৮৬, হোপ ৮৬ নামে একটি অনুষ্ঠান হয় যুবভারতী ময়দানে, সংস্কৃতির নামে বেলেল্লাপনার বোধহয় সেই শুরু। সাম্রাজ্যবাদ তার দুই প্রধান অস্ত্র পুঁজি আর সংস্কৃতি কে আগে পাঠায় আগ্রাসনে। পিছনে পিছনে নিজে আসে , দুই ফেউ এর আঘাতে ভেঙে পড়া জাতিকে দখল করতে সুবিধা বেশি হয়। নিছক ই রণকৌশল। প্রসঙ্গে ফেরা যাক, এরপর থেকে দ্বিতীয় অস্তরটি তার কাজ শুরু করে দেয় এবং তা করলো একটি বামপন্থী দলের একাংশের তত্ত্বাবধানে ।ঠিক এর পরপর সব জেলাগুলোতে, সি পি আই (এম) নেতৃত্বের একাংশের ইচ্ছায় এই সংস্কৃতি প্রসার লাভ করতে লাগল। এরা একটা গালভরা নাম ও দিলেন 'পপুলার কালচার' অর্থাৎ মানুষ কে দিশা দেখানো না , মানুষ যা চায় তার সাথে চলো। সেই পথ ধরে মানুষ যেদিন পরিবর্তন চেয়ে বসলেন, তখন অবশ্যই এরা আপত্তি করেছিলেন, কিন্তু তখন একটু দেরি হয়ে গিয়েছিলো। সে কথা থাক, পপুলার কালচার প্রসারিত হলো। বিভিন্ন উৎসব হতে থাকল, তাতে দালাল সমাজ পুষ্ট হলো, সলিল চৌধুরীর নামাঙ্কিত মঞ্চে দালের মেহেন্দির প্রলয় নৃত্য হলো, বাপি লাহিরি, মিঠুন দা, থেকে শুরু করে হালফিলের দেব-কোয়েল সবাই আছেন সেখানে, নেই শুধু আমাদের সেই কমরেড রা, আলোর রোশনাইতে ওরা একটু ফিকে দেখান যে। পপুলার কালচার পুড়িয়ে মারলো গণনাট্য সংঘকে , এটাই উদ্দেশ্য ছিলো।

আজ এত বছর পরে সেই পুরনো মানুষগুলোর সাথে দেখা হলেই মণ তা খারাপ হয়ে যায়। আজও কোনো অমোঘ বিশ্বাসে পতাকা টা আঁকড়ে ধরে আছেন, আমার বাবা মাও তাদের একজন। শেষদিন অবধি থাকবেন হয়তো। কিন্তু সবকিছু কি শেষ হয়ে গেছে ? তাতো হওয়ার নয়, মানুষের শ্রম নিঃসৃত সুর তো হারানোর নয়। সেই সুর সংগ্রহের কাজে আপনার হাতটা বাড়াবেন? পুঁজির সূর্য এখন মধ্যগগনে, আঁধার নামার আগে অনেকটা পথ পেরোতে হবে , জোরসে পা চালান কমরেড।

সোমবার, ২১ মে, ২০১২

পুলিশের পিটুনিতে মরে যাওয়া শিক্ষকের স্মারকলিপি ~ লুৎফর রহমান রিটন

মানুষের জয় হোক, ন্যায় হোক আর শুভ হোক।
আমি এক শিক্ষক, অতিশয় দরীদ্র লোক । 

চিরকাল শিখিয়েছি শুধু হয় সত্যের জয়
মানবের কাছে জানি দানবেরা মানে পরাজয়। 
শিখিয়েছি গুরুজনে চিরকাল দিতে সম্মান
শিখিয়েছি মানবতা নম্রতা মমতার গান।
মানবজন্ম বৃথা যদি তাঁর নাহি থাকে দান— 
শিখিয়েছি দেশ-মাটি-মানুষের কিসে কল্যাণ।

দারিদ্র্য আমাদের চেহারায় এঁকে দেয় ছাপ
পেশাটা মহান তবে এ পেশায় আসাটাও পাপ! 
তাইতো পাপের বোঝা আমাদের কাঁধে চেপে থাকে
নীতি আর আদর্শ আমাদের অনাহারে রাখে।

আমাদের পোশাকেও দারিদ্র্য উঁকি দিয়ে যায়
ছেঁড়া জুতো-স্যান্ডেলে দারিদ্র্য চেপে রাখা দায়!
স্মার্ট নই, বোকাসোকা, ভীতু খুব,শক্তিও কম
চিৎকার করবো যে সে সাহস নাই একদম।

চুপচাপ বেঁচে থাকি, চাওয়া-পাওয়া খুব বেশি নাই 
মানুষ গড়ার কাজ। মাস শেষে সামান্য পাই।
অভাবের দৈত্যটা গরিবের পেটে মারে ঘাঁই। 
কেউ খোঁজ নেয় না তো তিন বেলা খাই কি না খাই! 
একবেলা খেতে পাই! উপোসের আছে অভ্যেস। 
মানুষের ভালো হোক ভালো থাক এই প্রিয় দেশ।

প্রাইমারী শিক্ষক কম দামি খাটো হওয়া লাগে
সবার খাওয়ার পরে ছিটেফোঁটা আমাদের ভাগে!
যুগে যুগে কালে কালে আমরাই অভাবের বলী। 
ভাবলাম আর কতো! এইবার কিছু কথা বলি।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমাদের কোনো গতি নাই 
জায়গা তো একটাই ভাবলাম সেখানেই যাই।
স্মারকপত্র লিখে 'হাসিনা'র কাছে দিয়ে আসি
বলে আসি—মা জননী তোমাকে যে কতো ভালোবাসি!
বিনিময়ে আমরাও সামান্য ভালোবাসা চাই
তা না হলে এজীবনে বাঁচবার কোনো আশা নাই।

অআকখ চিনিয়েছি এবিসিডি শিখিয়েছি যাঁরা
অবজ্ঞা অবহেলা অনাদর কেনো পাবে তাঁরা!
বিনিময়ে কেনো তাঁরা টেনে যাবে অভাবের ঘানি?
জবাব দেবে না কেউ জ্ঞানী আর সুশীলেরা জানি! 

আমার মতোই কিছু শিক্ষক অভাগার দল
ঢাকা এসে জড়ো হই হাতে নিয়ে শেষ সম্বল। 
শহীদ মিনারে এসে সব্বাই সমবেত হই
আমাদেরো দাবি আছে, আমরা আগন্তুক নই।

সামান্য কিছু দাবি মানবিক কিছু কথা লিখে
যাত্রাটা শুরু হলো পিএমের অফিসের দিকে। 
শান্তিপূর্ণ ছিলো আমাদের সেই সমাবেশ 
হইচই ভাঙচুর ছিলো নাকো হিংসার লেশ। 
আচমকা পুলিশের তাণ্ডবে কামানের জল
পথেই ছিটকে পড়ে অনাহারী দেহ দুর্বল!
পুলিশের ছেলেগুলো আমাদেরই প্রিয় সন্তান
শিক্ষক পিতাসম! তাঁহাকেই করে অপমান!
পুলিশের পিটুনিতে শিক্ষক কাঁদে লজ্জায় 
জীর্ণশীর্ণ দেহ রাজপথে গড়াগড়ি খায়!

নির্দয় লাঠিপেটা ভাঙাচোরা শরীরে কী সয়?
জখম আহত গায়ে রক্তের লাল ধারা বয়!
জামার কলার টেনে ঘাড় ধ'রে টানাহেঁচড়ায় 
আমাদের অপমানে রাষ্ট্রের কীইবা আসে যায়?

গরম কামানজল লাঠিপেটা সইতে না পেরে
অপমানে জর্জর অবশেষে গেছি আমি হেরে।
সামান্য শিক্ষক আজিজুর মরে গেছি, হায়-- 
লিখিত এ অভিযোগ পোস্ট করি কোন ঠিকানায়!
প্রধানমন্ত্রী মাগো তোমাকেই চিঠি লিখিলাম
একদিন আমরাই তোমাদের গুরু তো ছিলাম! 

আমাদের ছাত্ররা আছে কতো বড় বড় পদে। 
কেহই তো আসিলি না স্যারদের ঘোর এ বিপদে!
তোদেরকে পিটিয়েছি। বকাঝকা করেছি যে কতো! 
মানুষ হবি রে তোরা একদিন মানুষের মতো।
মানুষ হবি না তোরা? পড়া কেনো রেডি হয় নাই?
বেত দিয়ে পিটিয়েছি, মনে করে আজও ব্যথা পাই। 
আমাদের ছাত্ররা কেউ কেউ আজকে পুলিশ!
মানুষ হলি না তবে! গুরুদের গায়ে হাত দিস!

ক্ষমা করো ঈশ্বর আল্লা ও গড ভাগবান
ছেলেগুলো নাবালক নালায়েক অবুঝ নাদান। 
অভিশাপ দিচ্ছি না, প্রার্থনা করি দুই হাতে-- 
আমাদের ছাত্ররা থাকে যেনো দুধে আর ভাতে... 
অটোয়া ২০মে ২০১২

ধর্মের কল ~ বরুণ বন্দোপাধ্যায়


সোমবার, ৭ মে, ২০১২

নয়া গণতন্ত্র ~ অনামিকা মিত্র

মাকে তাড়াব, মাটি বেচব, মানুষ করব জবাই।
এই রকমের প্ল্যান এঁটেছি তৃণমূলের সবাই।

সখ যা কিছু রাজ্যবাসীর পকেট কেটে মেটাই।
রাজনৈতিক কর্মসূচি জন্মাবধি এ'টাই।

জোট বেঁধেছি, কেন্দ্রে কিন্তু গুটিকয়েক গাধা
যা কিছু চাই, চেঁচিয়ে বলে ... সাংবিধানিক বাধা।

সব ব্যাটাকে বুঝিয়ে দেব আমিই সে সংবিধান ...
মিথ্যেকথার আতশবাজি ... গণতান্ত্রিক ভান।

গণতন্ত্র খুবই ভালো, যতক্ষণ তা' জেতায়,
স্কুল কলেজে ... পঞ্চায়েতে ... হোথায় এবং হেথায়।

গণতান্ত্রিক আগুন পোড়ায় বিরোধী সব পড়শি।
বিদ্দ্বজ্জন গাঁথতে লাগে গণতান্ত্রিক বঁড়শি!

গণ্তান্ত্রিক পুলিশ চেনে হাজত এবং জেল
মহান গণতন্ত্র চেনে ফরওয়ার্ডেড মেল!

এবং গণতন্ত্র খারাপ যখন নোনাডাঙা ...
গণতান্ত্রিক বুলেট জানে রক্ত কত রাঙা!

এমনতর গণতন্ত্র করবি তোরা সহ্য।
বুঝতে হবে আমি খাদক এবং তোরা ভোজ্য।

গণতান্ত্রিক খাল কেটেছিস, তাই এসেছি কুমির।
এ পাঁচবছর আমিই মালিক তোদের জন্মভূমির!

মাকে পেটাব। মাটি লোপাট। মানুষ হবে জবাই।
এ'টাই নয়া গণতন্ত্র, বুঝলি বাছা সবাই?

তুই বরঞ্চ ~ অনামিকা মিত্র

এঁটো কাঁটার বখরা চেয়ে দৌড়ে গেছি দিল্লি।
আমিই তো সেই ভাঁড়ার ঘরের ছিঁচকে লোভী বিল্লি।
মনমোহনটা বেয়াক্কেলে
লাভ হল না এ ব্ল্যাকমেলে
(এখনও চার বছর হাতে ... আস্তে না হয় গিললি!)

আস্তে খাবো? আস্ত খাবো ... পশ্চিমবঙ্গকে
গ্রাম ও শহর সরষের ফুল দেখবে নিজের চোখে
আমার দামাল সৈন্যগুলো
সব কটা যে বেজায় হুলো
একবছরেই পাস নি কি টের, দন্তে এবং নখে!

তোদের জন্য চাকরি দিলাম এই তো কয়েক লক্ষ।
পাস নি বুঝি? নাদান তোরা! ... দুঃখে ফাটে বক্ষ!
কথার কথা ... বক্তৃতাতে ...
দোষ কেন ভাই ধরিস তাতে
আসল কথা ... ডলার এবং চিটফান্ডের সখ্য।

মাইকে বলা মিথ্যে কথাই সবার চাইতে দামী
তাই তো মিছিল ... ব্রিগেড হলে মধ্যমণি আমি
অন্য যারা পালের গোদা
পার্থ মদন সুব্রতদা
সবাই জানে শিল্প শুধুই চুরি ও ছ্যাঁচরামি।

শিল্পায়নের গোড়ায়গলদ, শুকনো আগায় জল দে।
কেস জন্ডিস। আমার দু'চোখ লোভের আঁচে হলদে।
হন্যে হয়ে প্যাকেজ খুঁজি ...
পাথর পুঁতে বানাই পুঁজি
তুই বরঞ্চ বাঁধ গে বিড়ি কিম্বা চায়ের স্টল দে!

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১২

হাসি নিয়ে থাকো হাসিমুখে থাকো... ~ কবীর সুমন

হাসি নিয়ে থাকো
হাসিমুখে থাকো...

শান দাও হাসিতে, বারানসী কাশীতে , কলকাতাতেও
বঙ্গ রঙ্গ হোক, হেসে নিক সব লোকো যন্ত্রণাতেও
হাসি থাক শেষ কাঠে, যে কোনো শ্মাশানঘাটে চোখ বুঝে শুয়ে
কবরেও হাসি পাক, মরে গিয়ে হাসি পাক সুকুমার ছুঁয়ে।

ফুলসজ্জ্বায় হাসি, আদরের প্রত্যাশী, হাসি সঙ্গম
হাসিতে লজ্জ্বা ভাঙা, হাসিতে শরম রাঙা প্রেম অনুপম।

হাসি হোক মুখে ভাত, হাসিতে ধারাপাত চার একে চার
অবোধ শিশুও জানে ছোট্টো হাসির মানে, কোন্‌ হাসি কার
হাসিতে খরচ নেই, হাসি তো এমনিতেই মুখে এসে যায়
দাঁড়াও না নেতামনি, হাসির পরশমণি আছে আয়নায়।

আয়নায় মুখ দেখো, একটু হাসতে শেখো, স্বাভাবিক হাসি
খোঁচা দেওয়া হাসি নয়, তাতে সন্দেহ হয়, বুঝি দিবে ফাঁসি
আমি আছি ফেসবুকে, হাসি নিয়ে আছি সুখে, হাসি নিয়ে গাই
আমারও আসবে দিন, আপাতত হু চি মিন, হাসিটা শানাই...

কবীর সুমন



HASHI NIYE THAKO Posted on April 15, 2012 by Kabir Suman

রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১২

আইন ভেঙেছিস সাইবারে ~ অনামিকা

হয়তো তোদের ভাতের থালায় রোজদিনই কেউ ছাই বাড়ে
ফেসবুকে সেই সত্যি জানাস? ক্রাইম করেছিস সাইবারে!

ইন্টারনেট চক্রী যারা, সকাল এবং রাত জেগে
জানিস নাকি সবার সেরা হিটলার এই রাজ্যে কে।

সেইজন্যেই বুঝতে পারি কী কাণ্ড হয় পার্কস্ট্রিটে
পুলিশ লাঠির নিখুঁত বাদ্যি কোথায় এবং কার পিঠে

ইচ্ছে আমার শেষ করে দিই সকল ষড়যন্ত্রীকে।
যেমন দিলাম দিনেশ এবং যেমন দময়ন্তীকে।

বিরুদ্ধমত? আইন ভেঙেছিস। করিস না আর ভরসাটা?
সাইবার আইন লেলিয়ে দেব। চামড়াতে দ্যাখ দেয় কাঁটা।

রক্ত যখন ছিটিয়েছিলাম বুদ্ধদেবের মুখ জুড়ে
তখন কি আর জানতাম এই দুঃখের দিন নয দূরে।

শিল্প বোঝেন শিল্প আঁকেন যোগেন শুভাপ্রসন্ন।
আমরা এখন কুর্সিতে ভাই। আঁকবি আমায়? কী জন্য?

শায়েস্তা ঠিক করব তাদের বলবে যারাই "কী মন্দা !"
পূর্ণেন্দু আইনটা জানেন, সবটা জানেন মদনদা'।

আমার পোষ্য আমজনতার চোয়ালপেশীর জোর কত
লেলিয়ে দিলেই টের পাবি যে সন্দেহ নেই অন্তত।

ভাত যোগানো কঠিন বড়ই। বিক্ষোভও খুব তাই বাড়ে।
নেট খুলে তুই মুখ খুলেছিস? আইন ভেঙেছিস সাইবারে !


পিটিশন

সদাই মরে ত্রাসে, এই বুঝি কেউ হাসে ~ অনিন্দিতা


সাবধান, সাবধান, চোদ্দোশ উনিশে
হা হা করে হাসলেই ধরে নেবে পুলিশে। 
হাসি যদি একান্ত চেপে রাখা নাই যায়,
অনুমতি নিয়ে হেসো ঠিক রাত বারোটায়। 
হাসা, ভালোবাসা বাদ, কাজ নেই রঙ্গে 
পরিবর্তন এলো পশ্চিমবঙ্গে !!! 




কার্টুন ~ দেবায়ুধ চ্যাটার্জী

এর চেয়ে সহজ কিছু এখনো আসেনি পৃথিবীতে 
একটা কার্টুন পারে রাষ্ট্রের মুখোশ খুলে দিতে...।।

Online Cartoon Exhibition



শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

রসিক মহাপাত্র ~ দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য্য


পরিপাটি কেশ 
অম্বিকেশ
রসিক ছিলেন বটে
হঠাৎ করে পুড়ল কপাল
দিদি উঠলেন চটে
ছবি নিয়ে রসিকতাটাই
কাল হল তার  শেষে
তবুও আজ বঙ্গ সমাজ 
রঙ্গে চলে হেসে 
বঙ্গ জুরে রঙ্গ আনে
রসায়নের ছাত্র 
সবাই তাকে চিনবে এবার
রসিক মহাপাত্র!


এ কোন সকাল ~ সৌমেন কুমার

বড্ড ভয় করছে;
বড়ো ভয় করছে
মধ্যরাতে অমাবস্যার নিস্তব্ধতা ভেঙে,
কড়া নড়ে উঠবে না তো ?
শান্তির ওম, গরাদ ঘরের শীতলতায় বদলে যাবে না তো?

......না লিখে কলমের কালি শুকিয়ে গেছে
বাকরুদ্ধতায় অসারতা গ্রাস করেছে জিহবা,
ছবি আঁকিনা বহু দিন - হয়ত বা বর্নান্ধতা সমাগত
রঙ খুঁজে পায় না তুলি, তুলি খুঁজে ফেরে ক্যানভাস !
দিগন্ত বিস্তৃত মানবতার হাহাকার - মানবেরই খোঁজে
খোয়াইয়ের স্নিগ্ধতায় প্রেম খুঁজে ফেরে আশ্রয়,
মধ্যরাতের স্বপ্নে ভারী বুটের শব্দ ফিরে ফিরে আসে
হাজার বছরের অভ্যাস, পূর্ব দিগন্তে ফিরে আসে সূর্য।

তবু এ কোন সকাল?
মায়াবী আলো নেই, শিশিরের স্নিগ্ধতা নেই,
ময়দানে কুয়াশা নেই, কুয়াশা ঢাকা ভিক্টোরিয়া নেই।
এক্কাগাড়ি ছুটে চলেছে, ঠুং ঠুং শব্দ নেই;
মিছিল নেই, প্রতিবাদ নেই, মোহরকুঞ্জে বিতর্ক নেই;
নন্দিনীর আর্তি চাপা পড়েছে রাজার দামামায়।

এ কোন সকাল - নিস্তব্ধ শীতলতা
বড়ো ভয়াল নিস্তব্ধতা ,
বড় আতঙ্কে রয়েছি রঞ্জন - বড় আতঙ্কে...
এসো রঞ্জন, বসন্তের আগমন বার্তা নিয়ে এসো
বিশুর দল জাগিয়ে রাখো নন্দিনীকে;
রঞ্জন যে আসবে - শুরু হবে এক নতুন জয়যাত্রা।






অটোকার্টুন ~ সোমনাথ রায়

তৃণমূলে সরকার চৈত্রের শেষ
কার্টুনে ভরে দ্যায় বাংলা ও দেশ
সুভাষিত মমতার মোক্ষম জোক
ফেসবুকে নীলসাদা পুলিশের চোখ
... মাঝরাতে কড়া নাড়ে, ও অবনী, বাড়ি?
কমেডির মহড়ায় কিছু তাড়াতাড়ি
চিত্রনাট্যে আছে লক আপে শয়ান
প্রতিদিন পড়ে যাবে দিদি ভগবান-
সভাসদ পারিষদ দশমুখে স্তোক
ক্ষমতার পূর্ণতা প্রোমোটড হোক
আর কোনও কৌতুকই নেই দরকার
অটোকার্টুন, নিচে সই- সরকার



শুক্রবার, ৬ এপ্রিল, ২০১২

মোমবাতি সুশীল ~ সৌমিক দাশগুপ্ত

ধুর শালা, লাভ আছে এঁদো নেড়ী পুষিলে ?
ইনভেস্ট করা ভালো মোমবাতি সুশীলে
আরামসে খাবে দাবে, ন্যাজ নেড়ে আহ্লাদ
"ভুলো লুঃ" বললেই, তেড়ে গিয়ে ভীমনাদ
কিছু মাল কস্টলি, কিছু মাল ফোকটাই
কিছু মাল দাড়ি রাখে, কিছু 'স্মার্ট', নেকটাই
কেউ কেউ আঁতু ছানা, জামরঙ্গা লিপস্টিক
কোন শালা নাটুকে - (হায় হায় ! ধিক ধিক !!!)
ক্যামেরার সামনেতে মুখখানা 'উচ্ছে'
অলওয়েজ ক্যান্ডেল, গুঁজে রাখে গুহ্যে।
একটাই প্রবলেম, বলিয়াছে 'প্রতিদিন'
এঁদো নেড়ী চিরকাল, সুশীলরা কিছুদিন

বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

পরিবর্তন ~ অমিতাদিত্য সান্যাল

তোমার জন্য রইল আমার সস্রদ্ধ প্রণাম
দিবা রাত্রি লইব আমি তোমার মহানাম।
কেউ বলল শিলাদিদি কেউ বা বলে মিথ্যেরানি
দেশের তুমি হাল ফেরাবে জানি শুধু আমরা জানি।
দীনেশ মুকুল বেচা মদন যেথায় যত বন্ধু সজন
বাংলা টাকে পালটে দিতে লড়াই চলছে মরন পণ।
উত্তর টা সুইজারল্যান্ড ব্রিটেন হল কলকাতা
লাল পার্টি আর কাগজ গুলো হিংসে করে বলছে যাতা ।
রোশন গুরুং বগল দাবা মাও এর মুখে বসিয়ে থাবা
ঘোমটা টেনে পোষণ করে কলকাতা কে করলে কাবা।
রাজপথের ওই নতুন বাতি কি ছরাল তোমার খ্যাতি ?
ভেবে দেখ ও দিদিভাই নেশার ঘোরে পুশলে হাতি।
চকচকে ওই আলোর নিচে খিদের জ্বালায় করুন মুখ
তোমার কাছে ভিক্ষে করে দুটি ভাতের টুকরো সুখ।
'বেঙ্গল লিড'' আশিহাজার গরম গরম টাকার বাজার
ভাঁড়ার যদি শুন্য থাকে কি কমিশন কেই বা সাচার ?
ছুরি ছিনতাই রাহাজানি এক লাফে তো দিগুন হল
দলের ভেতর সবাই রাজা কালু পোঁচা শিবু নেলো।
দাদার গালে মেরে চাটি শাহরুখ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর
রাজ্য সভার গদির বেলায় নির্লজ্জ চাটুকার ।
তোমার কাছে অনেক আশায় আনল তোমায় জনগন
তোমার ঠ্যালায় কাঁপছে কেমন সনিয়া প্রনব মনমোহন ।
তুমি স্থিতি তুমি নীতি তুমি ছাড়া সবাই বাদ
কিছু দিনেই ল্যাংটো হব ইনক্লাব জিন্দাবাদ। —

রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১২

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও ~ সম্বুদ্ধ আচার্য্য

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
যেটুকু ঘর আটকে ছিল-
এই আগুনে পুড়িয়ে দাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
কখন থেকে মাছের কাঁটা-
আটকে গলায়? উগরিয়ে দাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
মরবে যারা মরুক শালা,
ওদের আবার প্রানের কি দাম?
আমরা আছি, পড়িয়ে টুপি,
জয়ধ্বজা শূন্যে উড়াও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
এই তো ছিল হাজার মানুষ,
এই তো ফাঁকা, ম্যাজিক দেখাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
কান্না ওদের ভাওতাবাজি,
নীল-সাদা তে শহর সাজাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
থাকবে ওরা গাছের নিচে,
রেললাইনে, খালের ধারে,
আমরা বসি অট্টালিকায়,
দেখলে ওদের কেলিয়ে ভাগাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
মধ্যবিত্ত বিবেক জাগে?
ওসব ছেড়ে আখের গুছাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও,
দেশের অভিশাপ ওগুলো,
ওদের মরে যাওয়াই ভালো,
সাজবে শহর, নাচবে শহর,
আমরা বসে গুনব টাকা.
ছোটলোকের প্রাণ ওগুলো,
জাগার আগে ই জ্বালিয়ে দাও.

বস্তি উধাও, বস্তি উধাও.

রবিবার, ২৫ মার্চ, ২০১২

আহ বাজেট বাহ বাজেট ~ দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়

ক্ষতিপূরণ দিয়েছি আগেও
দেবো আবার মরলে,
ঢালাও চোলাই বিক্রি হবে
বাংলার দাম বাড়লে। 
ফল সব্জি মাছ মশলা 
রোজ তুমি যা খাও, 
ভিনরাজ্যের হলেই তাতে
ট্যাক্সটি তুমি দাও। 
ভাঁড়ার ঘরে মা-ভবানী 
তবুও ওড়াই ফানুস
চাপ দিওনা বস তোমরা - 
মা, মাটি আর মানুষ! 

মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১২

ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত ~ বাসব বসাক

শোনো শোনো শোনো সবে শোনো দিয়া মন

ব্রাত্যজনের রুদ্ধগীতি করিব বর্ণন -

ছিলেন আগুনখেকো বুদ্ধিজীবী, পরিবর্তনকামী

মন্দলোকে বলতো তখন তৃণ- অনুগামী

দিদির তরে কাঁন্দেরে প্রাণ আকুলি-বিকুলি

তাই; সময়কালে ঘোমটা খুলে দাগী-তৃণমূলী

বদল-তুতো দিদি তাহার, বুদ্ধিজীবী ভ্রাতা

জিতিয়ে ভোটে বানিয়ে দিলেন শিক্ষা লোকের ত্রাতা।

তখতে বসেই করেন জারি, নিত্যনব আইন

বিশ্ববিদ্যালয়-কমিটি, ব্রাত্য ছাত্ররাই

দলতন্ত্র নিকাশিতে নতুন দাওয়াই।

মেন্টর গ্রুপ আলো করে জ্ঞানের যতেক ভান্ড

কিবারূপ, মার্জিত, আহা কি-আনন্দ,

বাহুবলী ভ্রাতা সকল হইলেন রিক্রুট

ডান্ডা হাতে উপরে দিলেন দলতন্ত্রের রুট। 

কলেজে কলেজে আজ প্রসারিত শান্তি

মন্ত্রী মহদয়ের দেখ উদ্ভাসিত কান্তি -

এমনি করেই চলছিল বেশ সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা

রাত্রিকালে কোথায় যান সেসব প্রশ্ন বন্ধ্যা।

হটাৎ করে কি যে হোল - উঠল চোঁয়া ঢেঁকুর

এমনি ঢেঁকুর ক্যামনে ওঠে জানা মাতাল ফেকুর।

মুখ ফস্কে বলে দিলেন - গোয়েন্দা নই আমি

ধর্মঘটের অধিকার আছে সবার মানি।

যেই না বলা এমনতর বে-আক্কেলে কথা

রেগে আগুন তেলে বেগুন হল দিদির মাথা

ভালোবাসি তা বলে এই সৃষ্টিছাড়া অনাচার! 

হ নিল ডাউন, বলতি বনধ, কেড়েই নেব ও চেয়ার ! 

দিদির হাতের কানমলা তার লাগলো বড় মিঠে 

আগুন-খেকোর যত আগুন গুহ্য দিয়ে ছোটে 

চেয়ার গেলে ছলা-কলার কি আর বল থাকে

তাইতো তিনি লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়েছেন ঠোঁটে!

দোর লাগিয়ে ঘরের কোনে গান ধরেছেন - ভজন 

এমন আগুন খেকো প্রতিবাদী দেখেছে আর কজন!